খেমচাঁদ প্রকাশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খেমচাঁদ প্রকাশ
খেমচাঁদ প্রকাশ.jpg
খেমচাঁদ প্রকাশ
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম(১৯০৭-১২-১২)১২ ডিসেম্বর ১৯০৭
সুজানগড়, বিকানের রাজ্য, রাজপুতানা এজেন্সি, বৃটিশ ভারত
মৃত্যু১০ আগস্ট ১৯৪৯(1949-08-10) (বয়স ৪১)
ধরনহিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত, ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত
পেশাসুরকার, সঙ্গীত পরিচালক
কার্যকাল১৯৩৫ –১৯৪৯

খেমচাঁদ প্রকাশ (১২ ডিসেম্বর ১৯০৭–১০ আগস্ট ১৯৪৯) [১]  হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের একজন খ্যাতনামা সুরকার ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে  কে এল সায়গলের সময়ের বেশ কিছু সঙ্গীতশিল্পীদের সাহচর্যে তার যে সঙ্গীত জীবন শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতার প্রাপ্তি ঘটে লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে আরোপিত সুরের যাদুতে। তার সুরসৃষ্টিতে হিন্দি    চলচ্চিত্রে  ( আশা, জিদ্দি, মহল চলচ্চিত্রে ) লতা প্রথম সুনাম অর্জন করতে থাকেন। খেমচাঁদ প্রকাশের মৃত্যুর বহু বছর পর, খ্যাতিমান সুরকার কমল দাশগুপ্ত তাঁকে সেরা সুরকারের মর্যাদা দেন। খেমচাঁদের অনুজ বসন্ত প্রকাশও ছিলেন একজন সুরকার।

খেমচাঁদ প্রকাশের একটি মাত্র কন্যা ছিল এবং তার নাম ছিল সাবিত্রী।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

খেমচাঁদের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের রাজপুতানা এজেন্সির বিকানের রাজ্যের অধুনা রাজস্থানের চুরু জেলার সুজানগড়ে । পিতা গোবর্ধনপ্রসাদ ছিলেন তৎকালীন জয়পুর রাজদরবারের সঙ্গীতকার (ধ্রুপদ গায়ক ও কথক কেতক)। তিনি পিতার কাছেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের প্রথম  তালিম নেন। কিশোর বয়সেই খেমচাঁদ বিকানের রাজদরবারে এবং পরে নেপালের রাজদরবারে সভাগায়ক হিসাবে যোগ দেন।  সৌভাগ্যবশত তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং কলকাতা বেতারে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তারপর নিউ থিয়েটারে যোগ দিয়ে তিমিরবরণের অধীনে সঙ্গীত পরিচালনার কাজ করেন। ১৯৩৫ খিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত দেবদাস ছবিতে সুরকার তিমির বরণের সহকারী ছিলেন তিনি। [২] ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত স্ট্রিট সিঙ্গার - ছবিতে - 'লো খা লো ম্যাডাম খানা' - কমেডি গানের  গায়ক হিসাবে ছবিতে আবির্ভূতও হয়েছিলেন।

এরপর তিনি মুম্বাই চলে যান এবং ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে সুপ্রিম পিকচার্সের চলচ্চিত্র মেরি আঁখে এবং গাজী সালাউদ্দিন ছবিতে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনার কাজ করেন। রঞ্জিত মুভিটোন ফিল্ম স্টুডিওতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রথমদিকে দিওয়ালি, হোলি, পরদেশী, ফরিয়াদ, ইত্যাদির মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। খুরশিদ ছিলেন তার প্রধান গায়কা এবং দুজনে মিলে চল্লিশের দশকের প্রথম দিকে অনেক হিট গান উপহার দিয়েছিলেন। রঞ্জিত স্টুডিওতে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত তানসেন ছবিতে। "দিয়া জলাও জগমগ জগমগ", "রুমঝুম রুমঝুম চল তিহারি", "মোর বলপন কে সাথী ছৈলা ভুল জাইয়ো না", "সপ্ত সুরন তিন গ্রাম গাভো সব গুণীজন", "হাত সিনে পে জো রাখ দো তো করারা আ জায়ে" ইত্যাদি  মাতিয়ে দেওয়ায় মতো অবিস্মরণীয় গান ছিল ছবিটিতে।

পরবর্তীতে এক বেতার অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সুরকার অনিল বিশ্বাস সপ্ত সুরান তিন গ্রাম গানটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ এবং সঙ্গীত ঐতিহ্যের সঙ্গে তাল রেখে খেয়ালের পরিবর্তে ধ্রুপদ শৈলীতে কে এল সায়গল কণ্ঠে গাওয়ানোর জন্য অত্যন্ত প্রশংসা করেন।  [৩]

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সঙ্গীত জীবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বোম্বে টকিজের জিদ্দিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি ছবিতে কিশোর কুমারকে গাওয়ালেন - "মরনে কি দুয়াঁ কিউঁ মাঙ্গু" [৪] এবং  লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে দিলেন - "চন্দা রে জা রে জা রে" সুন্দর গানটি।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সঙ্গীত জীবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বোম্বে টকিজের জিদ্দিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি ছবিতে কিশোর কুমারকে গাওয়ালেন -  "মরনে কি দুয়াঁ কিউঁ মাঙ্গু" [৫] এবং লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে দিলেন - "চন্দা রে জা রে জা রে" সুন্দর গানটি।

১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জিদ্দির পরবর্তী আরেকটি হিট ছবি ছিল মহল।  লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে 'আয়েগা আনেওয়ালা গানটি প্রথম অত্যন্ত জনপ্রিয় হয় এবং সঙ্গীত জগতে তিনি খ্যাতি ও স্থায়ী আসন লাভ করেন। মহল ছবির আগে, গানের রেকর্ডে শুধুমাত্র চরিত্রের নাম (এক্ষেত্রে - কামিনী) উল্লেখ থাকত। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানটি প্রথম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই শ্রোতাদের তরফে গায়িকার নাম জানার জন্য অজস্র ফোন কল আসতে থাকে। শেষে রেকর্ড কোম্পানিকে জিজ্ঞাসা করে অল ইন্ডিয়া রেডিও লতা মঙ্গেশকরের নাম সম্প্রচার করার ব্যবস্থা করে। হয়।[৫]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

খেমচাঁদ প্রকাশ ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১০ আগস্ট সিরোসিসের কারণে মাত্র ৪১ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন।

সুরকার হিসাবে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

  • ১৯৩৯ গাজী সালাউদ্দিন
  • ১৯৩৯ মেরি আঁখে
  • ১৯৪০ আজ কা হিন্দুস্তান
  • ১৯৪০ দিওয়ালি
  • ১৯৪০ হোলি
  • ১৯৪০ পাগল
  • ১৯৪১ বম্বাই কি সাইর
  • ১৯৪১ পরদেশী
  • ১৯৪১ পিয়াস
  • ১৯৪১ শাদি
  • ১৯৪১ ফরিয়াদ
  • ১৯৪২ খিলোনা
  • ১৯৪২ মেহমান
  • ১৯৪২ চাঁদনী
  • ১৯৪২ দুখ সুখ
  • ১৯৪৩ চিরাগ
  • ১৯৪৩ গৌরী
  • ১৯৪৩ কুরবানী
  • ১৯৪৩ তানসেন
  • ১৯৪৪ ভারতহরি
  • ১৯৪৪ মমতাজ মহল
  • ১৯৪৪ শাহেনশাহ বাবর
  • ১৯৪৫ ধন্না ভগত
  • ১৯৪৫ প্রভু কা ঘর
  • ১৯৪৭ সমাজ কো বদল ডালো
  • ১৯৪৭ সিন্দুর
  • ১৯৪৭ চলতে চলতে
  • ১৯৪৭ গাঁও
  • ১৯৪৭ মেরা সুহাগ
  • ১৯৪৮ আশা
  • ১৯৪৯ মহল
  • ১৯৪৯ রিমঝিম
  • ১৯৪৯ শাওন আয়া রে
  • ১৯৫০ জান পহচান
  • ১৯৫০ সতী নর্মদা
  • ১৯৫১ জয় শঙ্কর
  • ১৯৫১ শ্রী গণেশ জন্ম
  • ১৯৫২ তামাশা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Khemchand Prakash - IMDb (ইংরাজীতে)"। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৩-০৫ 
  2. অভীক চট্টোপাধ্যায় , সম্পাদক (২০১৯)। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আনন্দধারা । সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা। পৃষ্ঠা ৯৯। আইএসবিএন 978-93-8270-654-0 
  3. Archived at Ghostarchive and the Wayback Machine: Anil Biswas remembers Khemchand PrakashYouTube 
  4. "Birth Centenaries" (PDF)। pib.nic.in. Press Information Bureau। পৃষ্ঠা 3। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসে ২০১১ 
  5. "Birth Centenaries" (PDF)। pib.nic.in. Press Information Bureau। পৃষ্ঠা 3। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসে ২০১১