বিষয়বস্তুতে চলুন

অনুরাগ বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অনুরাগ বসু
অনুরাগ বসু
জন্ম (1974-05-08) ৮ মে ১৯৭৪ (বয়স ৫২)
মাতৃশিক্ষায়তনমুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া
পেশাচলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার
কর্মজীবন১৯৯৩-বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কর্ম
লাইফ ইন আ... মেট্রো (২০০৭)
বর্ফী! (২০১২)
পিতা-মাতাসুব্রত বসু (পিতা)
দীপশিখা বসু (মাতা)
পুরস্কারপূর্ণ তালিকা

অনুরাগ বসু (জন্মঃ ৮ মে, ১৯৭৪) হলেন একজন ভারতীয় টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, ও চিত্রনাট্যকার। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন ২০০৩ সালে কুচ তো হ্যায় দিয়ে। বসু মূলত তার চলচ্চিত্রে কামনা ও পরকীয়া বিষয়ক গল্প উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচিত হন। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চলচ্চিত্র হল মার্ডার (২০০৪), গ্যাংস্টার (২০০৬), লাইফ ইন আ... মেট্রো (২০০৭), কাইটস (২০১০), বর্ফী! (২০১২), ও জগ্‌গা জাসুস (২০১৭)। বসু তার পরিচালিত লুডো (২০২০) চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রাহক হিসেবেও কাজ করেন।

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

অনুরাগ ১৯৭৪ সালে ৮ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ছত্রিশগড়ের ভিলাই শহরে এক বাঙালি কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সুব্রত বসু ও মাতা দীপশিখা বসু ছিলেন পুরস্কার বিজয়ী মঞ্চঅভিনয়শিল্পী। বসুর তাদের তার বাবার মঞ্চদল অভিযান-এ অভিনয় করতে দেখে বড়ো হয়েছে।[] বসু ছত্রিশগড়ের ভিলাই শহরের বিএসপি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি তার শৈশবের কিছু সময় দক্ষিণ কোলকাতার গড়িয়ায় কাটান। তিনি যবলপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু কিছু দিন পর তা ছেড়ে দেন। পরে তিনি মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় চিত্রগ্রহণ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি তারা টেলিভিশন ধারাবাহিকে রমন কুমারের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

অনুরাগ বসুর চলচ্চিত্র পরিচালনায় অভিষেক হয় ২০০৩ সালের কুচ তো হ্যায় চলচ্চিত্র দিয়ে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তুষার কাপুর, এশা দেওল, ও অনিতা হাসানন্দিনী। ছবিটি প্রযোজনা করেন একতা কাপুর। অনুরাগ এর পূর্বে একতার সাথে কোশিশ …এক আশা ধারাবাহিকে কাজ করেন। অনুরাগ নির্মাণের মাঝামাঝি কাজটি ছেড়ে দেন এবং পরে তা পরিচালনা করেন অনিল ভি কুমার। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে[] এবং সমালোচকদের দৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়।[]

পরবর্তীতে তিনি মহেশ ভাটের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিশেষ ফিল্মসে যোগ দেন এবং তার পরবর্তী তিনটি চলচ্চিত পরিচালনা করেন। প্রথম চলচ্চিত্রটি হল জন আব্রাহামতারা শর্মা অভিনীত রহস্য-নাট্যধর্মী সায়া। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এবং দুর্বল চিত্রনাট্যের জন্য নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করে।[] দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটি হল মার্ডার (২০০৪)। ছবিতে পরকীয়া ও যৌন দৃশ্য ছিল যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে অস্বাভাবিক ছিল। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন ছবিটিকে এ ছাড়পত্র দিলেও ছবিটি মল্লিকা শেরাওয়াত, ইমরান হাশমী, ও অস্মিত পটেলের অভিনয়ের জন্য সমাদৃত হয়।[] একই বছর তুমসা নহী দেখা নির্মাণকালে তিনি লুকেমিয়ায় আক্রান্ত হন।[] তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের বিছানা থেকেই তার পরিচালনার কাজ করে যান। তিনি ডিক্টেফোনের মাধ্যমে ক্যামেরার এঙ্গেল ও চিত্রনাট্য পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা দেন এবং মহেশ ভাট ও মোহিত সুরি ছবিটির কাজ সম্পন্ন করেন। পরে তাকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

বসুর পরবর্তী চলচ্চিত্র গ্যাংস্টার (২০০৬)।[] এতে অভিনয় করেন ইমরান হাশমীকঙ্গনা রানাওয়াত এবং গানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন প্রিতম চক্রবর্তী। প্রিতম পরে তার লাইফ ইন আ... মেট্রো চলচ্চিত্রের গানেরও সুর করেন। লাইফ ইন আ... মেট্রো চলচ্চিত্রের জন্য বসু ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১০ সালে তিনি রাকেশ রোশন প্রযোজিত কাইটস চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন হৃতিক রোশন, বারবারা মরিকঙ্গনা রানাওয়াত[]

Two women in dresses and three casually-dressed men, standing
বর্ফী! চলচ্চিত্রের উদ্বোধনে অনুরাগ বসু, রণবীর কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ইলিয়ানা ডিক্রুজ, ও সিদ্ধার্থ রায় কাপুর।

২০১২ সালে রণবীর কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াইলিয়ানা ডিক্রুজকে নিয়ে নির্মাণ করেন বর্ফী!। ছবিটি ইতিবাচক সমালোচনা লাভ করে এবং বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হয়,[১০] ও তাইপেই ও মরক্কো চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়। ছবিটি সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে একাডেমি পুরস্কারের জন্য ভারতীয় নিবেদন হিসেবে নির্বাচিত হয় কিন্তু কয়েকটি হলিউড চলচ্চিত্র থেকে কাহিনী ও দৃশ্য গ্রহণ করায় সমালোচিত হয়। ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ৫৮৬ মিলিয়ন রূপী আয় করে বক্স অফিসে হিট হয়[১১] এবং ২০১২ সালে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে।[১২] এই চলচ্চিত্রে জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে আইফা পুরস্কার, স্ক্রিন পুরস্কারজি সিনে পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

অনুরাগ বসু তিনা বসুকে বিয়ে করেন। তাদের দুই কন্যা, ঈশানা (জন্ম ২০০৪) ও অহনা (জন্ম ২০০৭)।

চলচ্চিত্রের তালিকা

[সম্পাদনা]
বছর চলচ্চিত্র ভূমিকা টীকা
পরিচালক প্রযোজক চিত্রনাট্যকার
২০০৩ কুচ তো হ্যায় Green tick Red X Red X
সায়া Green tick Red X Red X
২০০৪ মার্ডার Green tick Red X Green tick
তুমসা নহী দেখা Green tick Red X Red X
২০০৬ গ্যাংস্টার Green tick Red X Green tick
২০০৭ লাইফ ইন আ... মেট্রো Green tick Red X Green tick বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য
বিজয়ী: আইফা পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য
২০১০ কাইটস Green tick Red X Green tick
২০১২ বর্ফী! Green tick Red X Green tick বিজয়ী: আইফা পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ পরিচালক, কাহিনী ও চিত্রনাট্য
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জন্য স্ক্রিন পুরস্কার
বিজয়ী: জি সিনে পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ পরিচালক
২০১৭ জাগ্‌গা জাসুস Green tick Green tick Green tick

টেলিভিশন

[সম্পাদনা]
  • তারা (১৯৯৬)
  • স্যাটারডে সাসপেন্স (১৯৯৮)
  • আজীব দাস্তান (১৯৯৮)
  • স্টার বেস্ট সেলারস (১৯৯৯)
  • এক্স-জোন (১৯৯৯)
  • কোশিশ ...এক আশা (২০০০)
  • কিউ কি সান্স ভী কভি বহু থী
  • কাহানী ঘর ঘর কী (২০০০)
  • মানজিলেঁ আপনি আপনি (২০০১)
  • মিত (২০০২)
  • থ্রিলার অ্যাট টেন (২০০৫-২০০৬)
  • লাভ স্টোরি (২০০৭)
  • কে হবে বিগেস্ট ফ্যান (২০১০)
  • রূহ

পুরস্কার ও মনোনয়ন তালিকা

[সম্পাদনা]
পুরস্কার বছর পুরস্কারের বিভাগ মনোনীত চলচ্চিত্র ফলাফল
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ২০০৮ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য লাইফ ইন আ... মেট্রো বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পরিচালক মনোনীত
২০১৩ শ্রেষ্ঠ পরিচালক বর্ফী! মনোনীত
আইফা পুরস্কার ২০০৫ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য মার্ডার মনোনীত
২০০৭ শ্রেষ্ঠ কাহিনী গ্যাংস্টার মনোনীত
২০০৮ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য লাইফ ইন আ... মেট্রো বিজয়ী
২০১২ শ্রেষ্ঠ পরিচালক বর্ফী! বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ কাহিনী বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য বিজয়ী
জি সিনে পুরস্কার ২০০৮ শ্রেষ্ঠ পরিচালক লাইফ ইন আ... মেট্রো বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য মনোনীত

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Yadav, Ekta (১ মে ২০১৩)। "I blame myself for my father's death: Anurag Basu"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১৭
  2. Gupta, Priya (২২ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "I am scared to leave my daughter alone now: Anurag Basu"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১৭
  3. "Kucch To Hai Box Office collections"। Bollywoodhungama.com। ২০০৩। ২৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  4. Adarsh, Taran (২৪ জানুয়ারি ২০০৩)। "Kucch To Hai review"। Bollywoodhungama.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  5. Adarsh, Taran (৪ জুলাই ২০০৩)। "Saaya review"। Bollywoodhungama.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  6. Adarsh, Taran (১ এপ্রিল ২০০৪)। "Murder review"। Bollywoodhungama.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  7. "What they don't tell you about cancer"Times of India। ১০ জুন ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  8. "Could Gangster be another Murder?"। Rediff.com। ৫ এপ্রিল ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  9. Thakkar, Mehul S (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "Never lost confidence after the Kites debacle: Anurag Basu"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  10. "Ranbir-Priyanka's BARFI! receives standing ovation at Busan Film Festival"। Yahoo! News India। ১২ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  11. "Barfi! Box Office Collection"বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭
  12. "The Front Row: Bollywood's Magic Number"The Wall Street Journal (India)। ১৬ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]