ড্যারেন ম্যাডি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ড্যারেন ম্যাডি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামড্যারেন লি ম্যাডি
জন্ম (1974-05-23) ২৩ মে ১৯৭৪ (বয়স ৪৬)
লিচেস্টার, ইংল্যান্ড
ডাকনামরোস্টার, ডাজ মাজ, ড্যাজ্জা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৯৭)
১৯ আগস্ট ১৯৯৯ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৮ জানুয়ারি ২০০০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৫০)
২১ মে ১৯৯৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ ওডিআই২০ ফেব্রুয়ারি ২০০০ বনাম জিম্বাবুয়ে
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ৩০)
১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ টি২০আই১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বনাম ভারত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৩ - ২০০৬লিচেস্টারশায়ার
২০০৭ - ২০১৩ওয়ারউইকশায়ার (দল নং ৪৩)
২০০৭/০৮কলকাতা টাইগার্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৮২ ৩৬০
রানের সংখ্যা ৪৬ ১১৩ ১৩,৬৪৪ ৯,০০৯
ব্যাটিং গড় ১১.৫০ ১৮.৮৩ ৩২.০২ ৩০.৭৪
১০০/৫০ ০/০ ০/১ ২৭/৬২ ১১/৫২
সর্বোচ্চ রান ২৪ ৫৩ ২২৯* ১৬৭*
বল করেছে ৮৪ ১৫,৩৭৮ ৭,৩৩১
উইকেট ২৫২ ২১৯
বোলিং গড় ৩১.৩৪ ২৮.৮৪
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৩৭ ৪/১৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– ১/– ২৮৯/– ১৪২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৮ এপ্রিল ২০২০

ড্যারেন লি ম্যাডি (ইংরেজি: Darren Maddy; জন্ম: ২৩ মে, ১৯৭৪) লিচেস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ও সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন ‘রোস্টার’ বা ‘ড্যাজ্জা’ ডাকনামে পরিচিত ড্যারেন ম্যাডি

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

থার্মাস্টনের রাউন্ডহিল ও সিস্টনের রেক ভ্যালিতে অধ্যয়ন করেন। ১৯৭৪ সালে লিচেস্টারের জন্মগ্রহণকারী ড্যারেন ম্যাডি রেক ভ্যালি কলেজে পড়াশুনো করেছেন।[১][২] ১৭ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগ করে লিচেস্টারশায়ারে যুক্ত হন।[৩]

১৯৯৩ সালের শেষদিকে বড়দের দলে খেলার সুযোগ পান। গ্রেস রোডে প্রতিপক্ষীয় ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে একদিনের খেলায় অংশ নেন তিনি। পরবর্তী মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ সময়কালে নিয়মিতভাবে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলতে থাকেন। ১৯৯৬ সালে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে দলের সদস্যরূপে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ এবং ২০০৪ ও ২০০৬ সালে টুয়েন্টি২০ কাপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।[১][২][৪]

১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রায় বিশ বছর কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ড্যারেন ম্যাডি। বেশ পরিশ্রমী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৯৭ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালে লিচেস্টারশায়ারের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। কেনিয়ায় ইংল্যান্ড এ দলের সদস্যরূপে গমন করেন। এ সফরেই নিজস্ব সর্বোচ্চ দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন। তবে, টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটের নাটকীয় আবির্ভাবের পূর্বে তার খেলোয়াড়ী জীবন অনেকাংশেই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল।

খাঁটিমানের একদিনের খেলোয়াড় ড্যারেন ম্যাডি ক্ষুদে ঘরানায় অংশ নিয়ে প্রাণ ফিরে পান। ২০০৬ সাল শেষে বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০০৪ ও ২০০৬ সালের ট্রফি বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য তিনি। তার বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের মান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি। একদিনের খেলায় পরিস্ফূটিত হলেও চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় এর বিরূপ প্রভাব ফেলে ও এক পর্যায়ে দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

দল-বদল[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। এরপর, ঐ মৌসুম শেষে ক্লাব ত্যাগ করে ওয়ারউইকশায়ারে চলে যান।[১][২]

২০০৬ সাল শেষে লিচেস্টারশায়ারে তার স্থান দোলাচলে দুলতে থাকলে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হন। এক খেলা পর অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক পদত্যাগ করলে অধিনায়কের দায়িত্বভার তার উপর বর্তায়। ওয়ারউইকশায়ারে মাত্র এক খেলায় অংশগ্রহণের পর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা হিথ স্ট্রিকের পদত্যাগের কারণে তিনি এ দায়িত্ব পান। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি।[৫][৬] পরবর্তীতে, ইয়ান ওয়েস্টউড তার স্থলাভিষিক্ত হন।

২০০৮ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় বিভাগে ওয়ারউইকশায়ারের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ২০১২ সালে দলকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়সহ ২০১০ সালে ইয়র্কশায়ার ব্যাংক ৪০ প্রতিযোগিতায় ওয়ারউইকশায়ার শিরোপা জয় করে।[৭] ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাউন্টিতে খেলেন। ঐ মৌসুম শেষে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন তিনি।[৪][৭]

সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে তেরো হাজারের অধিক রান তুলেন ও আড়াই শতাধিক উইকেট পান তিনি। এছাড়াও, ঘরোয়া একদিনের কাউন্টি ক্রিকেটে নয় হাজারের অধিক রানের পাশাপাশি ২২০ উইকেট লাভ করেছেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে ১,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[৭] ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর সোলিহাল স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্ট, আটটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিক ও চারটিমাত্র টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ড্যারেন ম্যাডি। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়।

টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে ড্যারেন ম্যাডি’র। মে, ১৯৯৮ সালে ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এরপর, আগস্ট, ১৯৯৯ সালে একই মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার।[১][৪][৭] এক কথায় তার টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ সংক্ষিপ্তকালীন ও বিশেষভাবে সফল ছিল না।[১] তবে, ২০০০ সালের শুরুতে নিজস্ব সর্বশেষ ওডিআইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজস্ব শেষ ওডিআইয়ে ৫৩ রান তুলে স্বীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। উইজডেনে তার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর বাস্তবায়নে তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।[৮][৯]

দলে প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

সাত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে থাকার পর বিস্ময়করভাবে ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক দলে তাকে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় তাকে মূলতঃ টি২০ খেলায় অভিজ্ঞ হিসেবে দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে উপস্থাপিত হয়েছিলেন। এ প্রতিযোগিতায় তিনি চারটি খেলায় অংশ নেন। একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংসসহ তিনটি উইকেট লাভ করেন। এ উইকেটগুলোই তার আন্তর্জাতিক খেলায় একমাত্র সাফল্য ছিল।[৭][১০][১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Darren Maddy, CricInfo. Retrieved 11 January 2019.
  2. Darren Maddy, CricketArchive. Retrieved 11 January 2019.
  3. Halford B (2013) Former Warwickshire all-rounder Darren Maddy takes guard for a new career, Birmingham Post, 28 November 2013. Retrieved 11 January 2019.
  4. Darren Maddy: Ex-Warwickshire skipper to retire at end of season, BBC Sport, 2 July 2013. Retrieved 11 January 2018.
  5. Streak resigns as Bears captain, BBC Sport, 24 April 2007. Retrieved 11 January 2019.
  6. Westwood to skipper Warwickshire, BBC Sport, 21 November 2008. Retrieved 11 January 2019.
  7. Darren Maddy to retire from cricket at end of the season, The Guardian, 2 July 2013. Retrieved 11 January 2019.
  8. England in South Africa and Zimbabwe, 1999–2000, Wisden Cricketers' Almanack, 2001. Retrieved 11 January 2019.
  9. Third One Day International, Zimbabwe v England 1999–2000], Wisden Cricketers' Almanack, 2001. Retrieved 11 January 2019.
  10. England name Twenty20 specialists, BBC Sport, 6 August 2007. Retrieved 11 January 2019.
  11. England facing exit after defeat, BBC Sport, 18 September 2007. Retrieved 11 January 2019.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]