বিষয়বস্তুতে চলুন

২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০
২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০-এর লোগো
তারিখ১১ সেপ্টেম্বর – ২৪ সেপ্টেম্বর
তত্ত্বাবধায়কআন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল
ক্রিকেটের ধরনটুয়েন্টি২০ ইন্টারন্যাশনাল
প্রতিযোগিতার ধরনগ্রুপ পর্ব ও নকআউট
আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা
বিজয়ী ভারত (১ম শিরোপা)
রানার-আপ পাকিস্তান
অংশগ্রহণকারী দলসংখ্যা১২ (১৬ প্রতিযোগী দলের মধ্য থেকে)
খেলার সংখ্যা২৭
প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়পাকিস্তান শহীদ আফ্রিদি
সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীঅস্ট্রেলিয়া ম্যাথু হেইডেন (২৬৫)
সর্বাধিক উইকেটধারীপাকিস্তান উমর গুল (১৩)
আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০

২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ ১ম আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক টুয়েন্টি২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর-২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয়। তের দিনের এ প্রতিযোগিতায় মোট বারটি দল অংশ নেয়। এসব দলের মধ্যে দশটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ আর বাকি দু'টি দল কেনিয়াস্কটল্যান্ড ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ বিভাগ এক-এর ফাইনালিস্ট। এতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়।[]

নিয়ম-কানুন

[সম্পাদনা]
আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ ২০০৭, বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ

গ্রুপ পর্ব এবং সুপার এইটে ফলাফল নির্ধারণের জন্যে নিম্নবর্ণিত পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে:

ফলাফল পয়েন্ট
জয়২ পয়েন্ট
ফলাফল না হলে১ পয়েন্ট
পরাজয়০ পয়েন্ট

যদি টাই হয়, তাহলে বোল-আউটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। এ প্রক্রিয়াটি প্রতিযোগিতার সবগুলো খেলার জন্যেই প্রযোজ্য হবে।[] পুরো প্রতিযোগিতায় একটি খেলার ফলাফল নির্ধারিত হয় বোল-আউটের মাধ্যমে। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ম্যাচটি হয়েছিল গ্রুপ ডি-এর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।(স্কোরকার্ড)

প্রত্যেক গ্রুপ ও সুপার এইট পর্বে দলের শীর্ষস্থান নির্ধারণে নিম্নবর্ণিত শর্তাদি রাখা হয়েছে:[]

  1. সর্বোচ্চসংখ্যক পয়েন্ট সংগ্রহ
  2. সমান হলে, সর্বাধিক জয়
  3. তারপরও সমান হলে, সর্বোচ্চ নেট রান রেট
  4. তারপরও সমান হলে, সর্বনিম্ন বোলিং স্ট্রাইক রেট
  5. তারপরও সমান হলে, একে-অপরের বিরুদ্ধে জয়-পরাজয়ের হিসাব।

গ্রুপ পর্ব

[সম্পাদনা]

গ্রুপ এ

[সম্পাদনা]
দল সিড পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 দক্ষিণ আফ্রিকা এ১+০.৯৭৪
 বাংলাদেশ এ৩+০.১৪৯
 ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ২১.২৩৩
১১ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ 
২০৫/৬ (২০ ওভার)
 দক্ষিণ আফ্রিকা
২০৮/২ (১৭.৪ ওভার)
ক্রিস গেইল ১১৭ (৫৭)
যোহন ফন দার ওয়াথ ২/৩৩ (৪ ওভার)
  • ক্রিস গেইল প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে সেঞ্চুরি করেন। এছাড়াও তিনি টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক ১০ ছক্কা হাঁকান।
  • টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে ক্রিস গেইল ও ডেভন স্মিথ সর্বোচ্চ ১৪৫ রান করেন।
  • টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের অতিরিক্ত রান প্রদানের রেকর্ড ভাঙ্গে। ৪ লেগ-বাই, ২৩ ওয়াইড ও একটি নো-বল দিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান প্রদান করে।

১৩ সেপ্টেম্বর
১০:০০
(স্কোরকার্ড)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ 
১৬৪/৮ (২০ ওভার)
 বাংলাদেশ
১৬৫/৪ (১৮ ওভার)
  • খেলার ফলাফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ সুপার এইট পর্বে উত্তীর্ণ হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
বাংলাদেশ 
১৪৪ (১৯.৩ ওভার)
 দক্ষিণ আফ্রিকা
১৪৬/৩ (১৮.৫ ওভার)
আফতাব আহমেদ ৩৬ (১৪)
শন পোলক ৩/৪০ (৩.৩)

গ্রুপ বি

[সম্পাদনা]
দল সিড পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 অস্ট্রেলিয়া বি১+০.৯৮৭
 ইংল্যান্ড বি২+০.২০৯
 জিম্বাবুয়ে বি৩১.১৯৬


১৪ সেপ্টেম্বর
১৪:০০
(স্কোরকার্ড)
ইংল্যান্ড 
১৩৫ (২০ ওভার)
 অস্ট্রেলিয়া
১৩৬/২ (১৪.৫ ওভার)
  • খেলার ফলাফলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সুপার এইট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

গ্রুপ সি

[সম্পাদনা]
দল সিড পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 শ্রীলঙ্কা সি২+৪.৭২১
 নিউজিল্যান্ড সি১+২.৩৯৬
 কেনিয়া সি৩৮.০৪৭
১২ সেপ্টেম্বর
১০:০০
(স্কোরকার্ড)
কেনিয়া 
৭৩ (১৬.৫ ওভার)
 নিউজিল্যান্ড
৭৪/১ (৭.৪ ওভার)
  • কেনিয়া’র ৭৩ রানে অল-আউট টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

১৪ সেপ্টেম্বর
১০:০০
(স্কোরকার্ড)
শ্রীলঙ্কা 
২৬০/৬ (২০ ওভার)
 কেনিয়া
৮৮ (১৯.৩ ওভার)
  • শীর্ষস্থানীয় টুয়েন্টি২০ খেলায় শ্রীলঙ্কা’র ৬ উইকেটে ২৬০ রান সংগ্রহ দলগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়াও তারা সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ে।
  • খেলার ফলাফলে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড সুপার এইট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

গ্রুপ ডি

[সম্পাদনা]
দল সিড পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 ভারত ডি২  ০.০০০
 পাকিস্তান ডি১+১.২৭৫
 স্কটল্যান্ড ডি৩২.৫৫০
১২ সেপ্টেম্বর
১৪:০০
(স্কোরকার্ড)
পাকিস্তান 
১৭১/৯ (২০ ওভার)
 স্কটল্যান্ড
১২০ (১৯.৫ ওভার)

১৩ সেপ্টেম্বর
১৮:০০

১৪ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
ভারত 
১৪১/৯ (২০ ওভার)
 পাকিস্তান
১৪১/৭ (২০ ওভার)
খেলা টাই,  ভারত বোল-আউটে জয়ী (৩-০, ভারত X X X, পাকিস্তান O O O)
কিংসমিড, ডারবান
আম্পায়ার: বিলি ডকট্রোভ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও সাইমন টাওফেল (অস্ট্রেলিয়া)
ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়: মোহাম্মাদ আসিফ (পাকিস্তান)
  • টাই হবার পর বোল-আউটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। ভারত বোল-আউটে জয়ী হয়ে সুপার এইট পর্বে উত্তীর্ণ হয়।

সুপার এইট

[সম্পাদনা]

গ্রুপ ই

[সম্পাদনা]
দল পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 ভারত +০.৭৫০
 নিউজিল্যান্ড +০.০৫০
 দক্ষিণ আফ্রিকা ০.১১৬
 ইংল্যান্ড ০.৭০০

১৬ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
দক্ষিণ আফ্রিকা 
১৫৪/৮ (২০ ওভার)
 ইংল্যান্ড
১৩৫/৭ (২০ ওভার)

১৮ সেপ্টেম্বর
১০:০০
(স্কোরকার্ড)
নিউজিল্যান্ড 
১৬৪/৯ (২০ ওভার)
 ইংল্যান্ড
১৫৯/৮ (২০ ওভার)

১৯ সেপ্টেম্বর
১৪:০০
(স্কোরকার্ড)
নিউজিল্যান্ড 
১৫৩/৮ (২০ ওভার)
 দক্ষিণ আফ্রিকা
১৫৮/৪ (১৯.১ ওভার)
  • খেলার ফলাফলে ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় ও সেমি-ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।

১৯ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
ভারত 
২১৮/৪ (২০ ওভার)
 ইংল্যান্ড
২০০/৬ (২০ ওভার)
  • যুবরাজ সিং টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে মাত্র ১২ বলে দ্রুততম অর্ধ-শতক করেন। পূর্বতন সেরা ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের, ২০ বলে। ক্রিকেটে সকল স্তরে চতুর্থ এবং টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকান।
  • প্রতিযোগিতায় কোন টেস্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় রান।

২০ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
ভারত 
১৫৩/৫ (২০ ওভার)
 দক্ষিণ আফ্রিকা
১১৬/৯ (২০ ওভার)
রোহিত শর্মা ৫০ (৪০)
শন পোলক ২/১৭ (৪)
  • তিন দলে পয়েন্ট সমান থাকায় উচ্চ নেট রান রেটের কারণে নিউজিল্যান্ড ও ভারত সেমি-ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা খেলার ফলাফলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়।

গ্রুপ এফ

[সম্পাদনা]
দল পয়েন্ট ম্যাচ জয় পরাজয় ফলাফল হয়নি নেট রান রেট
 পাকিস্তান +০.৮৪৩
 অস্ট্রেলিয়া +২.২৫৬
 শ্রীলঙ্কা -০.৬৯৭
 বাংলাদেশ -২.০৩১
১৬ সেপ্টেম্বর
১৪:০০
(স্কোরকার্ড)
বাংলাদেশ 
১২৩/৮ (২০ ওভার)
 অস্ট্রেলিয়া
১২৪/১ (১৩.৫ ওভার)



১৮ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
শ্রীলঙ্কা 
১৪৭/৫ (২০ ওভার)
 বাংলাদেশ
৮৩ (১৫.৫ ওভার)
  • খেলার ফলাফলে পাকিস্তান সেমি-ফাইনালে উত্তীর্ণ।
  • বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়।

২০ সেপ্টেম্বর
১০:০০
(স্কোরকার্ড)
শ্রীলঙ্কা 
১০১ (১৯.৩ ওভার)
 অস্ট্রেলিয়া
১০২/০ (১০.২ ওভার)
  • খেলার ফলাফলে অস্ট্রেলিয়া সেমি-ফাইনালে উত্তীর্ণ।
  • শ্রীলঙ্কা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়।
  • প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম কোন দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

নক-আউট পর্ব

[সম্পাদনা]
 
সেমি-ফাইনালফাইনাল
 
      
 
২২ সেপ্টেম্বর - নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, কেপ টাউন
 
 
 নিউজিল্যান্ড১৪৩/৮
 
২৪ সেপ্টেম্বর - ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, জোহানেসবার্গ
 
 পাকিস্তান ১৪৭/৪
 
 পাকিস্তান১৫২/১০
 
২২ সেপ্টেম্বর - কিংসমিড, ডারবান
 
 ভারত১৫৭/৫
 
 ভারত ১৮৮/৫
 
 
 অস্ট্রেলিয়া১৭৩/৭
 

সেমি-ফাইনাল

[সম্পাদনা]
২২ সেপ্টেম্বর
১৩:০০
(স্কোরকার্ড)
নিউজিল্যান্ড 
১৪৩/৮ (২০ ওভার)
 পাকিস্তান
১৪৭/৪ (১৮.৫ ওভার)
রস টেলর ৩৭* (২৩)
উমর গুল ৩/১৫ (৪)

২২ সেপ্টেম্বর
১৮:০০
(স্কোরকার্ড)
ভারত 
১৮৮/৫ (২০ ওভার)
 অস্ট্রেলিয়া
১৭৩/৭ (২০ ওভার)
  • ভারতের যুবরাজ সিং প্রতিযোগিতায় ১১৯ মিটারের সর্বাধিক দূরত্বে ছক্কা হাঁকান।

ফাইনাল

[সম্পাদনা]
২৪ সেপ্টেম্বর
১৪:০০
(স্কোরকার্ড)
ভারত 
১৫৭/৫ (২০ ওভার)
 পাকিস্তান
১৫২ (১৯.৩ ওভার)
গৌতম গম্ভীর ৭৫ (৫৪)
উমর গুল ২/৩৮ (৪)

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Soni, Paresh (২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "ICC World Twenty20"BBC। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭India beat Pakistan in the World Twenty20 final by five runs to clinch their first major trophy since 1983.
  2. Playing conditions ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ জুলাই ২০০৮ তারিখে, from ICC World Twenty20 homepage, retrieved 12 September 2007
  3. Final WorldTwenty20 Playing conditions ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে, from ICC World Twenty20 homepage, retrieved 12 September 2007

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]