রনি ইরানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রনি ইরানী
Ronnie Irani.jpg
২০০৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রনি ইরানী
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরোনাল্ড চার্লস ইরানী
জন্ম (1971-10-26) ২৬ অক্টোবর ১৯৭১ (বয়স ৪৮)
লেই, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামরেজি
উচ্চতা৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৭৭)
৬ জুন ১৯৯৬ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২২ আগস্ট ১৯৯৯ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৭)
২৩ মে ১৯৯৬ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ বনাম ভারত
ওডিআই শার্ট নং১৫
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯০ - ১৯৯৩ল্যাঙ্কাশায়ার
১৯৯৪ - ২০০৭এসেক্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩১ ২৩২ ৩১৫
রানের সংখ্যা ৮৬ ৩৬০ ১৩,৪৭২ ৭,৭৩৩
ব্যাটিং গড় ১৭.২০ ১৪.৪০ ৪১.৫৮ ৩০.৯৩
১০০/৫০ ০/০ ০/১ ২৮/৭২ ৭/৪৬
সর্বোচ্চ রান ৪১ ৫৩ ২১৮ ১৫৮*
বল করেছে ১৯২ ১,২৮৩ ২০,৩৮৯ ১০,৪৫৩
উইকেট ২৪ ৩৩৯ ৩০৯
বোলিং গড় ৩৭.৩৩ ৪১.২০ ২৯.৫১ ২৫.২২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/২২ ৫/২৬ ৬/৭১ ৫/২৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ৬/– ৭৯/– ৮৩/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৮ মে ২০২০

রোনাল্ড চার্লস রনি ইরানী (ইংরেজি: Ronnie Irani; জন্ম: ২৬ অক্টোবর, ১৯৭১) ল্যাঙ্কাশায়ারের লেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন ‘রেজি’ ডাকনামে পরিচিত রনি ইরানী

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

জিমি ইরানী তার পিতা ছিলেন। ১৯৬১ সালে বোম্বে থেকে বোল্টনে আসেন ও গ্রীষ্মকালে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। ঐ গ্রীষ্মে ষোড়শী ল্যাঙ্কাশায়ারীয় অ্যানি মেইনের সাথে পরিচিত হন। অতঃপর বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে ও রনি’র জন্ম হয়। উদ্যমী, সফল ও স্বার্থক ক্লাব ক্রিকেটার হিসেবে জিমি ইরানী ডেইজি হিলে বোল্টন অ্যাসোসিয়েশনে খেলতেন। রনি’র শৈশবকালে ঐ দলে ফারুক ইঞ্জিনিয়ারজাভেদ মিয়াঁদাদের ন্যায় তারকা ব্যাটসম্যানদেরকে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হতো।[১]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রনি ইরানী’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় এসেক্স দলে অতিবাহিত করেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই বছর দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ইরানী বংশোদ্ভূত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে পার্সী জরোস্ত্রুত্রমতবাদের অধিকারী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন।

১৯৯০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে শুরু করেন। এরপর, ১৯৯৪ সালে এসেক্সের পথে ধাবিত হন।[২] এসেক্সে থাকাকালীন তিনি কাল্ট মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।[৩] পরবর্তীতে, ২০০০ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।[৪] এ দায়িত্বে থাকাকালে অ্যালাস্টেয়ার কুক, উইল জেফারসন ও রবিন্দার বোপারা’র ন্যায় উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের উত্থানে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। দলকে দুইটি বড় ধরনের একদিনের শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন। পেশাদারী পর্যায়ে ২০০০০-এর অধিক রান তুলেন। পাশাপাশি, সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৬৫০-এর অধিক উইকেট পান।

২০০৫ সালের শুরুতে গ্রাহাম গুচকে ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করা হলে অধিনায়কের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।[৩] জুন, ২০০৭ সালে এসেক্সের সাথে নতুন করে চুক্তি নবায়ণের প্রস্তাবনা নাকচ করে দেন ও ২০০৭ সাল শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ঐ মাস শেষে অবসর নেন তিনি।[৫]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে ও একত্রিশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন রনি ইরানী। মাত্র তিনটি টেস্টে অংশ নিয়ে মিশ্র সফলতা পান। তবে, একদিনের আন্তর্জাতিকে তিনি অধিকতর সফল ছিলেন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২০০২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অল-রাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ফ্যান্স সিরিজের সেরা খেলোয়াড় পুরস্কার লাভ করেন। তিনদেশীয় ঐ প্রতিযোগিতায় ১৬৯ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৮ উইকেট পেয়েছিলেন রনি ইরানী। ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় দুইটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তাকে দলের বাইরে রাখা হয়।

অবসর[সম্পাদনা]

২০০৩ সালের পূর্ব-পর্যন্ত প্রকৃত অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন রনি ইরানী। তবে, ঐ বছর তার হাঁটুর আঘাতের ফলে বোলিং করা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। জার্মানিতে হাঁটুর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ২০০৩ মৌসুমে বোলিং করা থেকে বিরত থাকেন। এরপর থেকে তিনি শুধুই ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতের ফলে জুন, ২০০৭ সালে তাকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হয়।

২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়নশীপে ৫৯ গড়ে রান তুলেন। ২০০৭ সালে ব্যক্তিগত সেরা ২১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০০৭ সাল শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর টকস্পোর্টে যুক্ত হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে যৌথভাবে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন। কথোপকথনভিত্তিক এ অনুষ্ঠানে চিকেন ডাকনামে আখ্যায়িত হন। অনুষ্ঠানে ইরানী’র যুক্ত হবার ফলে শ্রোতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মে, ২০০৮ সালে ১.২ শ্রোতা অনুষ্ঠান শোনে। এছাড়াও, একই সময়ে বিবিসি কুইজ অনুষ্ঠান এ কোশ্চেন অব স্পোর্টে অংশ নিয়েছিলেন।[৬]

২০০৯ সালে রনি ইরানী তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ নো বাউন্ডারিজ প্রকাশ করেন।[৭] এছাড়াও, তিনি তারকা কনসোর্টিয়ামে রেডিও টু ডিজে ক্রিস ইভান্সের সাথে যুক্ত থেকে পল গ্যাসকোয়েনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা করেন।[৮]

প্রশাসনে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে এসেক্সের ক্রিকেট কমিটি চেয়ারম্যান হন ও ক্লাবের উত্তরণে তার দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেন।[৯] ইরানী মন্তব্য করেন যে, আমরা এখনও প্রতিভাবান ও নিক ব্রাউন, টম ওয়েস্টলি এবং জ্যামি পোর্টারের ন্যায় উঠতি তরুণ খেলোয়াড়দের পেয়ে আনন্দিত। আমরা পূর্বের বছরগুলো যেভাবে অগ্রসর হয়েছি ঠিক সেভাবেই ঐ ধারায় নিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকের কাছে যেতে হবে ও ট্রফি বিজয়ের চেষ্টা চালাতে হবে।[১০]

বেশ কয়েকমাস সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর ইরানী মন্তব্য করেন যে, আমি প্রকৃত অর্থেই এ সময়টি উপভোগ করেছি। আমি এসেক্স ক্রিকেট ক্লাবকে ভালোবাসি ও এখানে কাজ করে আনন্দ পাওয়া যায়। লোকেরা জানে ও ক্রিকেটকে বেশ ভালোবাসে। তারা সর্বদাই দলের সাথে আছে। ক্লাবের অংশ হিসেবে সুন্দর সময় পার করেছি ও একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। আমরা জয় কি জিনিস তার চেয়েও বেশী জানি।[১১] এসেক্সের দায়িত্ব পালনকালে রনি ইরানী অর্থোসোলের সহঃপ্রতিষ্ঠাতা/উদ্যোক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। [১২]

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দীর্ঘদিনের সমর্থক তিনি। শৈশবকালে তার পিতা ঐ দলে খেলতেন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Irani, Ronnie (২০১০)। No Boundaries – Passion and Pain On and Off the Pitch (E-book)। John Blake Publishing Ltd। আইএসবিএন 9781843582199। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  2. "Teams Ronnie Irani played for"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  3. "Player Profile: Ronnie Irani"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  4. "Player Profile: Ronnie Irani"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  5. "Injury forces Irani's retirement"। BBC Sport। ২১ জুন ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  6. "Ronnie Irani"। IMDb। 
  7. https://www.amazon.co.uk/No-Boundaries-Ronnie-Irani/dp/1844548619
  8. https://www.standard.co.uk/news/celebritynews/chris-evans-and-ronnie-irani-help-gazza-get-treatment-8480969.html
  9. "Essex: Ronnie Irani wants 'massive' improvement"। BBC। 
  10. "Ronnie Irani wants Essex CC talent to shine"। Essex Chronicle। ৭ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  11. "BIG Interview: Essex chairman Ronnie Irani lifts the lid on his vision for the club"। Echo News। 
  12. "The OrthoSole Story"। OrthoSole। 
  13. "Q&A: Ronnie Irani"ManUtd.com 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
গ্রাহাম বিক্রফট
টকস্পোর্ট প্রাতঃরাশকালীন কথোপকথন সঞ্চালক

সঙ্গে অ্যালেন ব্রাজিল
২০০৭ - ২০১৩

উত্তরসূরী
নীল ওয়ারনক