জন লুইস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জন লুইস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজোনাথন লুইস
জন্ম (1975-08-26) ২৬ আগস্ট ১৯৭৫ (বয়স ৪৫)
আইলসবারি, বাকিংহামশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামলিওয়ি, জেজে
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৬৩৪)
২ জুন ২০০৬ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৮৮)
১৬ জুন ২০০৫ বনাম বাংলাদেশ
শেষ ওডিআই২ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বনাম ভারত
ওডিআই শার্ট নং১৮
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৫–২০০১গ্লুচেস্টারশায়ার
২০১২–২০১৩সারে
২০১৪সাসেক্স (জার্সি নং ৪)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ২৫১ ২৩২
রানের সংখ্যা ২৭ ৫০ ৪,৯৬৩ ১,০০০
ব্যাটিং গড় ১৩.৫০ ৮.৩৩ ১৬.৪০ ১১.৪৯
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/১৪ ০/১
সর্বোচ্চ রান ২০ ১৭ ৭১ ৫৪
বল করেছে ২৪৬ ৭১৬ ৪৪,৮৭৭ ১০,৩৭২
উইকেট ১৮ ৮৪৯ ৩০২
বোলিং গড় ৪০.৬৬ ২৭.৭৭ ২৬.২৬ ২৬.৪৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৫
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৩/৬৮ ৪/৩৬ ৮/৯৫ ৫/১৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ০/– ৬৫/– ৪৩/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

জোনাথন জন লুইস (ইংরেজি: Jon Lewis; জন্ম: ২৬ আগস্ট, ১৯৭৫) বাকিংহামশায়ারের আইলসবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। বর্তমানে তিনি সাসেক্স ক্লাবের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার, সাসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ‘লিওয়ি’ ডাকনামে পরিচিত জন লুইস

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সুইনডনে চলে আসেন। সেখানে তিনি চার্চফিল্ডস স্কুল ও সুইনডন কলেজে পড়াশুনো করেন। সুইনডন সিসি’র পক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯৯৩ সালে উইল্টশায়ারের পক্ষে মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৯৪ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে যোগদান করেন। ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশে খেলার পর ১৯৯৫ সালে পুণরায় উইল্টশায়ারের পক্ষে যুক্ত হন। একই বছর গ্লুচেস্টারশায়ারের সদস্য হন ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২০০৬ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ইংল্যান্ডের পক্ষে টুয়েন্টি২০, একদিনের আন্তর্জাতিক ও টেস্ট খেলায় অংশ নিয়েছেন।

১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জন লুইসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। থেমে থেমে চলা মিডিয়াম পেস আউট সুইঙ্গারের মাধ্যমে কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে উইকেট লাভ করতেন। তবে, ক্রমাগত ইংল্যান্ড দলের সদস্য হতে তাকে উপেক্ষার শিকারে পরিণত হতে হতো।

ব্যাট হাতে নিয়ে পুরনো ধাঁচের নিচেরসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ২০০৬ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। তবে, ক্লাবের সাফল্য তার হাত ধরে আসেনি। ২০০৮ সালের পর তিন বছর দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বেশ সফলতার সাথে তার কাউন্টি ক্রিকেটের খেলোয়াড়ী জীবন চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সময়কালে পাঁচ মৌসুমে তিনি গ্লুচেস্টারশায়ারের সাতটি ট্রফি জয়ে সহায়তা করেন। তন্মধ্যে, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে পঞ্চাশের অধিক উইকেট পেয়েছেন। ব্রিস্টলে নিজের শেষ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্ট, তেরোটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন জন লুইস। ২ জুন, ২০০৬ তারিখে নটিংহামে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ১৬ জুন, ২০০৫ তারিখে ওভালে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে লিডসে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি।

২০০৫ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আঘাতগ্রস্ত দলে তাকে যুক্ত করা হয়। সেঞ্চুরিয়নে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টেও তাকে খেলানো হয়নি। ২০০৫ সালে রোজ বোলে নিজ দেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, মাইকেল ক্লার্করিকি পন্টিংকে শূন্য রানে ফেরৎ পাঠিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তাকে ইংল্যান্ড দলের সদস্য করা হয়। তবে, সিরিজের কোনটিতেই তাকে খেলানো হয়নি। জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার প্রথম খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। নির্ধারিত চার ওভারে ৪/২৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে ১০০ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এর কয়েকদিন পর ওভালে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩/৩২ নিয়ে দলকে জয়ী করেন।

২০০৬ সালে বেশ কয়েকটি দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে, কেবলমাত্র শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক টেস্টে খেলার সৌভাগ্য হয় তার। বাদ-বাকীগুলোয় দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অবশ্য বেশ ভালোমানের বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। অবশেষে তাকে দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়।

২০০৬ সালে নিজ দেশে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ১৩-সদস্যের তালিকায় তাকে যুক্ত করা হয়।[১] ২ জুন, ২০০৬ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব চতুর্থ ও বৈধভাবে তৃতীয় বলে উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্বকারী ৬৩৪তম খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।

একদিনের আন্তর্জাতিকের শুরুটাও বেশ ভালো হয়েছিল তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন উইকেট পান। তবে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার পর তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। অবশেষে, ২০০৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে খেলার সৌভাগ্য হয় তার। এরপর ঐ মৌসুমের গ্রীষ্মকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাকে মাঠের বাইরে রাখা হয়। ৩১ বছর বয়সেও তাকে ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক দলে নিয়মিতভাবে খেলানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় সিবি সিরিজে দলের জয়ী খেলায় গোঁড়ালিতে আঘাত পান। তাসত্ত্বেও, বিশ্বকাপ দলে তাকে রাখা হলেও খেলানো হয়নি।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের ১৫-সদস্যের তালিকায় তাকে রাখা হয়। কিন্তু, প্রতিযোগিতার মাঝামাঝি সময়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। ঐ বিশ্বকাপে তিনি কোন খেলায় অংশ নেননি। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে একটিমাত্র সীমিত ওভারের খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

অবসর[সম্পাদনা]

গ্লুচেস্টারশায়ারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে তাকে সারে দলের খেলোয়াড়-কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। এরফলে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউন্টি দলটির পক্ষে ১৭ বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। সেখানে ৭৭১ উইকেট নিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় তিনি সপ্তদশ স্থানে অবস্থান করেন। এক মৌসুম পর পুণরায় দল ত্যাগ করেন। ৩৮ বছর বয়সে সাসেক্স দলে যুক্ত হন। এর এক বছর পর হোভে বোলিং কোচের দায়িত্ব পান।

২৯ জুলাই, ২০১১ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে ষোল বছর অবস্থানের পর সারে দলের পক্ষে দুই বছর মেয়াদে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সাল শেষে সারে দল ত্যাগ করে ২০১৪ সালকে ঘিরে সাসেক্স দলের সদস্য হন।[২] ২৮ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন ও সাসেক্সের বোলিং কোচ হন।[৩]

২০১৫ সালে সাসেক্স দলের সহকারী প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Late bloomers: Joe Denly joins England's list of 30-plus debutants"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "Jon Lewis: Sussex sign veteran seamer after Surrey exit"। BBC Sport। ১৫ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  3. "Jon appointed Bowling Coach at Hove"। Sussex County Cricket Club। ২৮ নভেম্বর ২০১৪। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]