হামিদুজ্জামান খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হামিদুজ্জামান খান
Hamiduzzam Khan.png
জন্ম১৯৪৬
জাতীয়তাবাংলাদেশী
যেখানের শিক্ষার্থীঢাকা আর্ট কলেজ
পুরস্কারএকুশে পদক (২০০৬)
উল্লেখযোগ্য নকশাসংশপ্তক

হামিদুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী ভাস্কর। তাঁর নকশাকৃত অন্যতম ভাস্কর্য হল সংশপ্তক। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ আর্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক।[১] ভাস্কর্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

হামিদুজ্জামান ১৯৪৬ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারত অধীনস্ত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) কিশোরগঞ্জ জেলায় সহশ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সায়েমউদ্দিন খান ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং মাতা রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী।[২] হামিদ তার তিন ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার এক ভাই ছোটবেলায় মারা যায়। হামিদ প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন তার নিজ গ্রামের সহশ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং পরে বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে মেট্রিক পাস করেন। বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে নীরদচন্দ্র চৌধুরীর ভাইয়ের পুত্র তাঁর সহপাঠী ছিলেন। ছেলেবেলা থেকেই তিনি স্কেচ করতেন। এসময় তিনি তার দাদার একটি ছবি এঁকেছিলেন যা তার দাদার মুখের আকৃতির সাথে মিলে যায়।[৩]

মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ভৈরব কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু এই ধরনের পড়াশোনা তার ভালো লাগত না। তাই তিনি পড়াশুনা ছেড়ে সিলেট চলে যান। পরে তার এলাকার পোস্টমাস্টার তার বাবাকে তার আর্ট কলেজে পড়ার আগ্রহের কথা জানান। তার বাবা তাকে নিয়ে যান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের বাসায়। তিনি তাকে আর্ট কলেজে ভর্তি করতে সাহায্য করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ভাস্কর্য বিষয়ে ১৯৬৯ সালে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে, ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালে বারোদায় পড়াশুনা করেন। বারোদায় পড়াকালীন বোম্বের এক প্রদর্শনীতে তার ভাস্কর্য প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনকে আকৃষ্ট করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বারোদা মহারাজা সাহজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার্নশিপ করেন।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

হামিদুজ্জামান ১৯৭০ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। চিত্রশিল্পী আব্দুর রাজ্জাক এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গীর নির্মাণের সময় আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।[৩] ১৯৭৬ সালে তিনি ৭১ স্মরণে ব্রোঞ্জের 'দরজা' নির্মাণ করেন। এই ভাস্কর্যটি প্রদর্শনীর জন্য তিনি সেবছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।[৪]

তিনি ১৯৮১ সালে বঙ্গভবনে 'পাখি পরিবার', ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমিতে 'মুক্তিযোদ্ধা', ১৯৮৮ সালে আশুগঞ্জ জিয়া সারকারখানায় 'জাগ্রত বাংলা',[৪] এবং ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল অলিম্পিক পার্কে 'স্টেপস' (সিঁড়ি) নির্মাণ করেন।[৫] ১৯৯০ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশপ্তক ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এই ভাস্কর্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে ব্রোঞ্জের মূর্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য কাজী সালেহ আহম্মেদ।[৬]

তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে, যেমন ১৯৮১ সালে সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে 'হামলা', ২০০১ সালে ঢাকা সেনানিবাসে 'বিজয় কথন', ২০০৪ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে 'মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য' ও ময়মনসিংহে ময়মনসিংহ সেনানিবাসে 'বিজয়গাঁথা' ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় ভাস্কর্য উদ্যানে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকার ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে 'ইলিশ মাছ', ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রে 'শান্তির পায়রা', ২০০৯ সালে বারিধারায় 'পাখি' ভাস্কর্য নির্মাণ করেন।[৪] এছাড়া তিনি ২০০৫ সালে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে এবং ২০০৬ সালে আগারগাওয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে 'আর্টিয়াম' ঝুলন্ত ভাস্কর্যও নির্মাণ করেছেন।[৩]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • ভাস্কর্যে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে একুশে পদক
  • ১৯৭৬ সালে জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারের প্রথম পুরস্কার।[৪]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Hamiduzzaman Khan"Dhaka Art Center। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  2. সালাহ্উদ্দিন, শিমুল (২ এপ্রিল ২০১৬)। "ম্যাটিরিয়ালটা কী বলে তা বুঝতে চাই : ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান"এনটিভি অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  3. "বহুমাত্রিক শিল্পী হামিদুজ্জামান খান"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ৩১ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  4. "পাথরের শৈল্পিক রূপকার ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান : আবুল কালাম আজাদ"ভোরের কাগজ। ৭ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  5. "The Steps (여정) - Olympic Park - Seoul, Korea"Waymarking.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  6. "মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্মিত জাবির 'সংসপ্তক'"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭