২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন
Students Blocked Road for safe road.jpg
উত্তরায় ছাত্রদের রাস্তা অবরোধ, ২ আগস্ট ২০১৮
তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৮ (২০১৮-০৭-২৯) - ৮ আগস্ট ২০১৮ (2018-08-08)
অবস্থান বাংলাদেশ
কারণ চালকের বেপরোয়া বাসচালনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু
লক্ষ্যসমূহ নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, সড়ক-নিরাপত্তায় কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ, এবং ট্রাফিক আইনভঙ্গকারী চালকদের শাস্তি
প্রক্রিয়াসমূহ * মানববন্ধন[১]
  • মিছিল
  • রাস্তা অবরোধ[২]
  • গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা
  • রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
  • অনলাইন কার্যক্রম
ফলাফল নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন, ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা, চালকদের নিয়োগ ও বেতন স্কিম পরিবর্তন
নাগরিক সংঘাতের দলসমূহ
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পরিবহণশ্রমিক ও চালক
ক্ষয়ক্ষতি
আঘাত১৫০[৩]
গ্রেপ্তার৯৯

২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন বাংলাদেশে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত সংঘটিত একটি আন্দোলন বা গণবিক্ষোভ।[৩] ঢাকায় ২৯ জুলাই সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থীর সহপাঠিদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়ে।[৪][৫][১]

শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও অবরোধ করতে চাইলেও আন্দোলনের তৃতীয় দিন ৩১ জুলাই থেকেই পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে;[৬][৭] পুলিশের পাশাপাশি সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগ বলে ধারণাকৃত অনেক যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। সরকার প্রচুর সংখ্যক আন্দোলনকারীকে এবং আন্দোলন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (আল জাজিরা) সাক্ষাৎকার দেয়ায় একজন আলোকচিত্রীকে গ্রেপ্তার করে।[৮] বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।[৯][১০][১১] এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থা দেশে ও বহির্বিশ্বে তীব্রভাবে নিন্দিত হয়।[১২][১৩][১৪]

পরবর্তীতে ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রীসভা একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করে যেটাতে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়;[১৫] যদিও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া চালিয়ে হত্যাতেও মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। ৮ আগস্টের মধ্যে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সূত্রে বলা হয় যে নয় দিনের আন্দোলন থেমে গিয়েছে।[১৬][১৭][১৮]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ, রাজধানী ঢাকার বাস সার্ভিসগুলোতে যা আরো বেশি। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮-র জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৫ হাজার মানুষ এবং আহত প্রায় ৬২ হাজার।[১৯] বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণা অনুযায়ী, এসব সড়ক দুর্ঘটনার ৫৩% ঘটে গাড়ির অতিরিক্ত গতির কারণে; ৩৭% চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে এবং আর ১০% গাড়ির ত্রুটি ও পরিবেশের কারণে।[২০]

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২০১৮ সালে দেশে চলমান বৈধ গাড়ির সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪২ হাজার, কিন্তু বৈধ লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ২৬ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ গাড়ি লাইসেন্সবিহীন চালক দ্বারা চালিত হয়। উপরন্তু দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার।[২০] এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে থাকে। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে সাম্প্রতিক একাধিক দুর্ঘটনার ফল বলে মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ[সম্পাদনা]

সূত্রপাত[সম্পাদনা]

২৯ জুলাই ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল এবং একটি বাস থামলে সেটাতে ওঠার চেষ্টা করে। সেসময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস বেশি-যাত্রী-পাওয়ার-জন্যে প্রতিযোগিতা করতে করতে অতিরিক্ত গতিতে এগিয়ে আসে, যারমধ্যে একটি বাস বেপরোয়াভাবে প্রথম বাসের পাশে ফুটপাথে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়, নিহত হয় ২ শিক্ষার্থী এবং আরো ১২ জন গুরুতর আহত।[২১] সহপাঠীদের এরূপ মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

কয়েক ঘন্টা পরে, সাংবাদিকরা এই ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, "ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী...আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে?"[২২] তাঁর বক্তব্য দেশব্যাপী অত্যন্ত সমালোচিত হয় এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা তার ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি তোলে।[২৩]

বিক্ষোভ[সম্পাদনা]

“স্কুলড্রেসে রক্ত কেন?”
“স্কুলড্রেসে রক্ত কেন?” লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে একজন শিশু।

২৯ জুলাই দুর্ঘটনার পর শহীদ রমিজউদ্দিন ও নিকটবর্তী অন্যান্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দোষী বাসচালকের বিচারের দাবিতে বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং সড়কের অন্যান্য বাস ভাঙচুর করে। পরদিন উত্তরার পাশাপাশি সাইন্সল্যাবেও সেখানকার কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ এবং তারা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ ও ৯ দফা দাবি বাস্থবায়নের তোলে। ৩১ জুলাই, আন্দোলনের তৃতীয় দিন, বিমানবন্দর এলাকায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ প্রথমে বাধা প্রদান করে ও পরে জলকামান, সাঁজোয়া যানসহ তাদের ধাওয়া দেয় এবং লাঠিপেটা করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাস ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে; তবে অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলবাস, হজযাত্রী-বহনকারী গাড়ি ও প্রাইভেট কারকে যেতে দেয়।

এরপর ১ আগস্ট থেকে আন্দোলন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।[২৪] আন্দোলনকারী ছাত্ররা, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৯, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গাড়ি আটকে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা তা চেক করে।[৫][২৫][২৬] নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোও আন্দোলনের সাথে সংহতি জানান।[২৭][২৮] ২ আগস্ট সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেও[২৯] ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, নোয়াখালি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ,[৩০] বান্দরবান,[৩১]  মৌলভিবাজার, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি প্রধান প্রধান জেলাগুলোতে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে। তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে লাইসেন্স চেকের পাশাপাশি রাস্তায় পথচারী-যাত্রীদের ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করে এবং গাড়িগুলো লেন অনুসারে পরিচালনা করে এবং অ্যাম্বুলেন্স/অগ্নিনির্বাপক-গাড়ির জন্য ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করে। ঢাকায় মিরপুর ১৪-তে পুলিশ ও কিছু যুবক লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা করে এবং ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে বাধা দেয়।[note ১]

ছাত্ররা রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে।

৩ আগস্ট বাংলাদেশী চলচ্চিত্রাভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।[৩২] সেদিন ৩৯তম বিসিএস-এর পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ না করে কেবল মানববন্ধন করে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সাহায্য করে। দুপুরে ঢাকায় বাসচাপায় এক মোটরবাইক-আরোহী নিহত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আবার ফুঁসে ওঠে বাস ভাঙচুর করে।

৪ আগস্ট জিগাতলায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগযুবলীগের কর্মী এবং পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে প্রায় শখানেক ছাত্রছাত্রী আহত হয়।[note ২][৩৩] এছাড়া নোয়াখালি ও ফেনীতেও আন্দোলনরত কয়েকশো শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে।

৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও প্রধানত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মিছিল করার সময় পুলিশ ও সরকার-সমর্থক যুবকদের হামলায় প্রায় অর্ধশত ছাত্র ও সাংবাদিক আহত হন।[৩৪][৩৫] ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারঅধিক শিক্ষার্থী সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন[৩৬] এবং রাতে মশাল মিছিল করে সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন - কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা, পরিবহন শ্রমিকদের কর্মঘন্টা ও বেতন নির্ধারণ, নৌমন্ত্রীর অপসারণ, 'জাবালে নূর'-এর রোড পারমিট বাতিল, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড, জাতির কাছে ভুল স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।[৩৭]

৬ আগস্ট নর্থ সাউথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইস্ট ওয়েস্ট, চট্টগ্রামখুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে। ঢাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে; অন্যূন ৪০ ছাত্র আহত ও শতাধিক জনকে আটক করা হয়, তন্মধ্যে ২২ জনকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।[note ৩][৩৮][৩৯] ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ডিএসও সংগঠনের কর্মীরা আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করে। আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটিতে নিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ ১১ জনকে আটক করে।[৪০]

৭ আগস্ট শতশত সাংবাদিক আন্দোলনরত ছাত্র ও সংবাদ-সংগ্রহকারী সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন করে।[৪১] ৮ আগস্ট ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গ্রেপ্তারকৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি চেয়ে ক্লাস বর্জন করে। এছাড়া এরপর আর কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।

৯ দফা দাবী[সম্পাদনা]

শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তার জন্যে সরকারের কাছে ৯টি দাবি তুলে ধরে:[৪২][৪৩]

  1. গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
  2. দুর্ঘটনার পর করা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
  3. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
  4. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিডব্রেকার দিতে হবে।
  5. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
  6. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।
  7. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
  8. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না।
  9. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাবিগুলো যৌক্তিক এবং এগুলো প্রকৃতপক্ষে তাদের অধিকার। তবে ৬ নং দফা অনুসারে যেকোনো স্থানে সিগন্যাল দিয়ে বাস থামালে আরো যানজট বাড়াতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষার্থীরা বলে তারা এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস স্টপেজে বাস থামানোর কথাই বুঝিয়েছে।

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ধরপাকড়[সম্পাদনা]

আন্দোলন চলাকালীন সরকারের সমর্থকগণ, যারা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে এবং প্রায় ১১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন সাংবাদিক আহত হন।[৪][৪৪][৪৫]

৩ আগস্ট ধানমন্ডিতে আন্দোলনের ভিডিও ধারণ করায় কিছু দুর্বৃত্ত অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয় ডটকমের সাংবাদিক প্রদীপ দাসকে মারধোর করে এবং পরে প্রিয় ডটকমের অফিসে ভাঙচুর করে।[৪৬][৪৭]

৪ আগস্ট ছাত্রলীগ কর্মীরা দ্য ডেইলি স্টার সংবাদপত্রের ৩ জন সাংবাদিককে পেটায় এবং একজন নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি করে।[৪৮] স্থানীয় অন্যান্য সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন যে তাদের ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে,[৪৯] মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে[৪৮] এবং চলমান সহিংসতার ভিডিও ফোন থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে।[৫০]

পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ব্যাটন ব্যবহার করে এবং অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়।[৫১][৫২] তবে পুলিশ এবং সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।[৫১] আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষনেতা বলেন যে কিছু সন্ত্রাসী স্কুল ইউনিফর্ম পরে সহিংস কাজ করছে; তবে তিনি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন।[৫২]

৪ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেল-আরোহী একদল সশস্ত্র লোক বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা করে; তবে কেউ হতাহত হননি।[৫৩] এরপর তারা নাগরিক সংগঠন 'সুজন'-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতেও আক্রমণ করে।

৫ আগস্ট পুলিশ ও তাদের সাথে হেলমেট-পরা ছাত্রলীগের যুবকেরা হাজারখানেক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে।[৫৪] যুবকদের হাতে অন্তত ৬ জন ফটোজার্নালিস্ট আহত হন, যাদের মধ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দৈনিক বণিক বার্তা ও যুগান্তরের ফটোজার্নালিস্ট এবং একজন ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট ছিলেন।[৫৫][৫৩] আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করেনি।[৫৫][৫৬] হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয়।[৫৭]

আল জাজিরাতে আন্দোলন নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫ আগস্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম চলমান আন্দোলন সম্পর্কে  আল জাজিরাতে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর সেদিন রাতে সাদাপোশাকের পুলিশ তাকে আটক করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়;[৫৮][৫৯][৬০] পরদিন তাকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় "গণমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের" অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। শহিদুল আদালতে বলেন যে তাকে রিমান্ডে মারধোর করা হয়েছে।[৬১][৬২] আদালত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন।[৬৩][৬৪] ৮ আগস্ট শহিদুলকে হাসপাতালে চেকআপ করিয়ে এনে[৬৫] আবার পুলিশ হেফাজতে কারাগারে নেয়া হয়।[৬৬]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

সরকার ও কর্তৃপক্ষ[সম্পাদনা]

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ২ আগস্ট এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের রাস্তায় আন্দোলন বন্ধ করে স্কুলে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন।[৬৭] তার আগেরদিন 1 আগস্ট তিনি বলেন যে, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে এবং তারা যেন ফিরে যায়। তবে শিক্ষার্থীরা জানায় দাবি বাস্তবায়ন শুরু হলে তবেই তারা ফিরবে।

২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।[৫][৬৮][২৬] শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।[২৯] ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ২৯ ব্যক্তি ও নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে আন্দোলন সম্পর্কিত খবর ও মিডিয়া প্রচারের অভিযোগে মামলা করে।[৬৯] বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভি ছাত্র আন্দোলনের খবর ও ভিডিও সম্প্রচারের পর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।[৭০]

৩ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বাসদুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে অনুদান এবং শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজকে ৫টি স্কুলবাস দেয়া হয়।[৭১]

৪ আগস্ট সরকার ২৪ ঘন্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট অ্যাকসেস বন্ধ রাখে।[৪৯] ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদেরকে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে ১.২৮ কিলোবাইট/সেকেন্ড করার আদেশ দেয়া হয় যাতে ইন্টারনেটে কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড না করা যায়।[৭২]  তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন ফেসবুক রাষ্ট্রকে বিপন্ন করলে রাষ্ট্রকে বাঁচাতে এরূপ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা "সীমা অতিক্রম করলে" পুলিশ "কঠোর ব্যবস্থা" নেবে।[৭৩]

৫ আগস্ট কতৃপক্ষ আবার মোবাইলের ৩জি৪জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখে, ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাময়িক ব্ল্যাকআউট সৃষ্টি হয়।[৭৪]

৬ আগস্ট, মন্ত্রীসভায় নতুন ট্রাফিক আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়, যেটাতে মোটরযান দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ হত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে হত্যা করলে সর্বোচ্চ 5 বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।[৭৫][৭৬]

৮ আগস্ট বাসমালিকেরা চালকদের মাসিক চুক্তিতে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘোষণা দেন এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানান। তারা বলেন, চালকরা বেপরোয়াভাবে চালায় যাতে বেশি ট্রিপ দিয়ে বাড়তি টাকা আয় করতে পারে। সুতরাং তাদেরকে মাসিক বেতন দেয়া হলে এই বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মানসিকতার পরিবর্তন হবে।[৭৭]

অন্যান্য ক্ষেত্র[সম্পাদনা]

১ আগস্ট বাস-ট্রাকচালক ও হেলপার তথা পরিবহণ-শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের দ্বারা গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে; টঙ্গীতে এক ছাত্র তাদের মারপিটের শিকার হয়। শ্রমিকরা ২-৫ আগস্ট অঘোষিত ধর্মঘট করে দেশের সকল দূরপাল্লার বাস এবং অনেকাংশে অন্তঃনগর বাস পরিষেবাও বন্ধ রাখে। পরিবহণমালিক সমিতি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে সমর্থন জ্ঞাপন করলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা না পাওয়া পর্যন্ত বাস চলবে না বলে জানায়; পরে ৬ আগস্ট থেকে আবার বাস চলাচল শুরু হয়। সেদিন মন্ত্রীসভায় নতুন সড়ক পরিবহণ আইন অনুমোদন হলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করে।

নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ সাধারণভাবে আন্দোলন সমর্থন করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নামেন। অনেক অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে আসেন। ৩ আগস্ট সড়কমন্ত্রী এবং পরদিন ডিএমপি কমিশনার জানান যারা খাবার সরবরাহ করেছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা আন্দোলন সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়ে ছাত্রদের ঘরে ফেরার আহ্বান করেন।[৭৮] বিরোধীদল জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছাত্রলীগের হামলাকে "দুঃখজনক" বলে অভিহিত করেন এবং খুনি চালকের মৃত্যুদণ্ড চান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় নৌমন্ত্রীর এবং পরে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। ৪ আগস্ট বিএনপির নেতা আমীর খসরু এক বিএনপি কর্মীকে আন্দোলনে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়ার অডিও ফোনালাপ প্রাকাশিত হয় যেটাকে সরকার "ষড়যন্ত্র" বলে অভিহিত করে এবং তিন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা ও সেই কর্মী ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোট (সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ ও অন্যান্য দল) নৌমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করে এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে ৪ আগস্ট সংহতি সমাবেশ করে।[৭৯][৮০] এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,[৮১] কোটা সংস্কার আন্দোলন কমিটি, বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোসহ[৮২] অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানায়, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানায়। মানবাধিকার কমিশন, গণফোরাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনগুলোও অনুরূপ সংহতি প্রকাশ করে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনেক অভিনেতা, নাট্যকার ও সংগীতশিল্পীরা আন্দোলনে সমর্থন জানান এবং কোনো কোনো স্থানে তারাও ছাত্রদের সাথে সড়কে অবস্থান নেন। এস আই টুটুল, কোনালসহ আরো গায়কেরা পথে নেমে ছাত্রদের 'চল চল চল' গেয়ে শোনান। আন্দোলনের সমর্থনে বেশ কিছু গানও লেখা হয়।

আন্তর্জাতিক[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনে শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।[৯] ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার নিন্দা জানায়।.[৮৩] তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জাতিসংঘের বিবৃতিকে "অনভিপ্রেত" এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে "নাক গলানোর চেষ্টা" করছে বলে মন্তব্য করেন।

লন্ডনভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থা সরকারকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান করে।[৮৪] বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং শিক্ষার্থীদের সমাবেশ করার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা খর্বকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।[৮৫] এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে সমাজকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি, আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ এবং তাদের ওপর হামলার তদন্ত দাবি করে।[৮৬] লেখক ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল শহিদুলের তাৎক্ষণিক মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেয়।[৮৭] ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়, কানাডীয় লেখক নাওমি ক্লেইন, মার্কিন লেখক-দার্শনিক নোয়াম চমস্কি এবং ভারতীয় বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদ প্রমুখ অবিলম্বে শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন।[৮৮] রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার্স সরকারকে আহ্বান জানায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।[৮৯] সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালসট্রোম ঢাকায় সহিংস পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানান এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান করেন। ৭ আগস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে এবং সেসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করে।[১০] নিউইয়র্ক-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর "বেআইনীভাবে আক্রমণ" এবং "শান্তিপূর্ণ সমালোচনার" কারণে লোকজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা জানায়।[৯০]

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, এস্তোনিয়া ও তাইওয়ানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আন্দোলনের সমর্থনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

ফলাফল[সম্পাদনা]

আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ ৫-১৪ আগস্ট দশদিনব্যাপী সড়ক-নিরাপত্তামূলক "ট্রাফিক সপ্তাহ" ঘোষণা করে এবং এসময়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে লাখখানেক মামলার পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনে সহায়তা, সহিংসতা, উসকানি, খাবার সরবরাহ, গাড়ি ভাঙচুর, অপপ্রচার প্রভৃতি অভিযোগে ৫১টি মামলায় শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীসহ ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।[৯১]

৯ আগস্ট নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির না দেয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।[৯২] অন্যদিকে ছাত্রলীগের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এক ছাত্রকে ফেসবুক পোস্টে অপপ্রচারের অভিযোগে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।[৯৩]

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫০০ প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে এবং আন্দোলনকালীন নৈরাজ্যসৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫০টি প্রোফাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।[৯৪]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. বিকালে মিরপুর ১৪-তে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সাথে থাকা ইউনিফর্মবিহীন কিছু তরুণ সেখানকার পুলিশ লাইনে ঢিল ছোঁড়ে এবং গেটে ভাঙচুর করে; এরপর পুলিশ এবং তাদের সাথে লাঠিসোটা নিয়ে একদল যুবক ছাত্রদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে; এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা সেসবের ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে গেলে বাধা দেয়।
  2. ৪ আগস্ট সকাল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা জিগাতলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। দুপুরে খবর ছড়ায় যে সেখানে তারা ছাত্রছাত্রীদের ওপর আক্রমণ করেছে এবং কয়েকজনকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও খুন করেছে; এ খবরে অন্যান্য স্থান বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা গিয়ে সেখানে জড়ো হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা, যাদের বড় অংশ ছিল হেলমেট-পরিহিত ও লাঠি, রামদা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত, ছাত্রদের ধাওয়া দেয়, এক যুবককে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়, এবং ছাত্রদের থেকে পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি হয়। পরে পুলিশ ছাত্রদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। সন্ধ্যায় ছাত্রদের একটি দল পুলিশসহ আওয়ামী দীগ কার্যালয় ঘুরে দেখে জানায় ধর্ষণ-খুন বা চোখ তুলে ফেলার খবর অসত্য। সারাদিনে সংঘর্ষে আহত ছাত্রদের মধ্যে ৪০-৪৫ জন নিকটস্থ একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। আওয়ামী লীগ তাদের ১৭ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানায়।
  3. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ এবং ও হেলমেট-পরা যুবকেরা হামলা করে; পুলিশ জলকামান ও সাঁজোয়া যানসহ ধাওয়া করে, কয়েকশো কাঁদানে গ্যাস শেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে এবং লাঠিপেটা করে। নিকটস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে নর্থ সাউথের ৪০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেয়; কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাসচাপায় ২ শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদ : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন"ভোরের কাগজ। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  2. "নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবার চট্টগ্রামে সড়কে শিক্ষার্থীরা"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  3. "Students end protests on road safety in Bangladesh after nine days; education ministry to hold meet tomorrow"Firstpost। ৭ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৮ 
  4. "Scores injured in traffic protests in Bangladesh capital"Washington Post (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  5. "Protesting Teens Bring Bangladesh's Capital to a Standstill"Time (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  6. "Protests flare up"দ্য ডেইলি স্টার। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  7. "'কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কেন লাঠিচার্জ?'"কালের কণ্ঠ। ৩১ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  8. Deutsche Welle। "Bangladesh arrests top photographer amid student protests"DW.COM (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  9. "UN concerned for students' safety as safe-road protests simmer in Bangladesh"। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  10. "Stop unlawful action against protestors: EU"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৭ 
  11. "Celebrities join students for the protests"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  12. "Students sued, not attackers"। ৮ আগস্ট ২০১৮। 
  13. "How dare you hit my child!"। ৬ আগস্ট ২০১৮। 
  14. "Bangladesh criticised for student and media crackdown"www.aljazeera.com 
  15. "Cabinet approves Road Transport Act"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  16. Hasnat, Mahadi Al (৬ আগস্ট ২০১৮)। "Students' protest in Bangladesh nears end after series of violent events sees several journalists injured"Firstpost। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  17. https://bdnews24.com/bangladesh/2018/08/10/dhaka-traffic-chaos-returns-as-campaign-for-safe-roads-peters-out
  18. http://southasiajournal.net/bangladesh-students-started-an-enduring-movement-even-as-street-protests-end/
  19. "সড়কে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু"প্রথম আলো। ৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  20. "সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নয় লাখ ভুয়া চালক"প্রথম আলো। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  21. Manik, Julfikar Ali; Abi-Habib, Maria (৫ আগস্ট ২০১৮)। "Students Pour Into Dhaka's Streets to Demand Safer Roads"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  22. "সড়কে দুই শিক্ষার্থীর লাশ, হাসিমুখে মন্ত্রীর জবাব"প্রিয়.কম। ২৯ জুলাই ২০১৮। ৪ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  23. "Outrage over Shajahan's smile, remarks"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  24. "Protest spreads outside Dhaka"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  25. "Dhaka school students take to streets to protest against bus killings"The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  26. France-Presse, Agence (৩ আগস্ট ২০১৮)। "Teenagers bring parts of Bangladesh to a halt with bus death protests"the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  27. Independent, The। "People stand in solidarity with students' protests"People stand in solidarity with students’ protests | theindependentbd.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  28. "Guardians express solidarity with protesting students"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  29. "Schools, colleges shut tomorrow: Ministry"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  30. "চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘাতক চালকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ"বিডিমর্নিং। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  31. "বান্দরবানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা"কারেন্ট নিউজ ডট কম। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  32. "Immediately implement students' logical demands"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  33. "জিগাতলা, মিরপুরসহ সারা দেশে যা ঘটেছিল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৫ 
  34. "Journalists, including AP photographer, beaten up"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  35. "Safe Road: DU students block Shahbagh demanding Shahjahan's resignation"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  36. "শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল (ভিডিও)"দৈনিক যুগান্তর। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  37. "জাবিতে মশাল মিছিল থেকে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচী ঘোষণা"দৈনিক ইনকিলাব। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  38. News, United। "Aftabnagar, Bashundhara turn volatile amid attacks on students"unb.com.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  39. "Violence continues in Bangladesh capital as students protest"kansascity (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  40. "আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভ, ১১ শিক্ষার্থী আটক"দৈনিক যুগান্তর। ৬ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  41. "Arrest culprits in 72 hours"। ৮ আগস্ট ২০১৮। 
  42. "৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৩০ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  43. "কী আছে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিতে?"দৈনিক যুগান্তর। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  44. "115 students injured in clashes as Bangladesh teen protests turn violent"Rappler (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  45. "Dozens of students injured in Bangladesh road safety protests"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  46. "শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও করায় প্রিয়.কমের অফিসে হামলা"যুগান্তর। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  47. "শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও করায় প্রিয় ডট কমের অফিসে হামলা"নয়াদিগন্ত। ৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  48. "4 Daily Star journalists assaulted"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  49. "Bangladesh teens attacked during protest"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  50. "জিগাতলা, মিরপুরসহ সারা দেশে যা ঘটেছিল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  51. (www.dw.com), Deutsche Welle, Bangladesh students injured as police clash with road safety protesters | DW | 4 August 2018 (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  52. Alam, Julhas (৪ আগস্ট ২০১৮)। "Many injured as police, protesters clash in Bangladesh"CTVNews (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  53. "Student Protests Surge in Bangladesh Capital" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  54. "জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস"দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  55. "IGP: DB working to identify the attackers of journalists"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১৩ 
  56. "5 photojournalists hurt in 'BCL attack'"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  57. "Several hurt as AL men attack protesters"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  58. Paul, Ruma। "Bangladesh protests spur cabinet to toughen punishment for traffic..."U.S. (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  59. Safi, Michael (৬ আগস্ট ২০১৮)। "Photographer charged as police crackdown in Bangladesh intensifies"the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  60. "Arts and human rights organisations denounce arrest of Bangladeshi photographer Shahidul Alam"www.theartnewspaper.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  61. "Bangladesh arrests top photographer amid student protests"Deutsche Welle (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  62. "'Tortured in custody'"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  63. "High Court halts Shahidul Alam's remand"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮ 
  64. https://www.thedailystar.net/news/city/jail-authorities-asked-to-admit-photographer-shahidul-alam-bsmmu-for-treatment-1617196
  65. "Photographer and activist Shahidul Alam taken to hospital" 
  66. "Shahidul Alam taken back to police custody"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১০ 
  67. "PM calls upon students to return to their classes: Kamal"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  68. "Students continue street protests for fifth day"। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  69. "আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে পুলিশের মামলা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  70. "Govt warns Ekattor TV on its coverage of student protests"। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  71. "Dia's father urges students to go home"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  72. "Authorities slow mobile internet to quell student protests"। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  73. "Action if limit crossed: Home minister"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  74. AFP। "Bangladesh Cuts Mobile Internet in Road Safety Protests"VOA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  75. "Bangladesh may introduce death penalty for accidental road killings"The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  76. "Bangladesh approves new road safety law to placate protesters"Arab News (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  77. "Bus owners to put contract drivers on monthly payroll instead"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  78. "শাজাহান খান আন্দোলন উসকে দিয়েছেন"যুগান্তর। ৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  79. "শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে সড়কে নৈরাজ্য দূর করুন: বাম জোট"সমকাল। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  80. "আটক শিক্ষার্থীদের ঈদের আগেই মুক্তির দাবি"জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১৮ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  81. "সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ছাত্র ইউনিয়নের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন শুক্রবার"আরটিভি অনলাইন। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  82. "কোটা ও সড়ক আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি ৫ ইসলামি দলের"আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর। ১৯ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৮ 
  83. "Safe roads: US embassy condemns attacks on student protesters"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  84. "Save the Children asks Bangladesh govt to meet student protesters' demands"। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  85. "High Commission of Canada to Bangladesh"www.facebook.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  86. "Bangladesh: Release photographer and end violent crackdown on student protests"www.amnesty.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  87. "PEN International — Bangladesh: authorities must immediately and unconditionally release…"PEN International (ইংরেজি ভাষায়)। PEN International। ২০১৮-০৮-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  88. "Arundhati, Chomsky among others demand release of Shahidul Alam"New Age | The Outspoken Daily (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১০ 
  89. "Bangladesh : plusieurs reporters attaqués, le photojournaliste Shahidul Alam détenu par la police | Reporters sans frontières"RSF (ফরাসি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৭ 
  90. "Bangladesh criticised for student and media crackdown"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  91. "Students sued, not attackers"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৮ 
  92. "নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে"। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮ 
  93. "DU hands student to police for Facebook posts"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১০ 
  94. "DMP taking steps against 150 social media IDs"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]