২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন
Students Blocked Road for safe road.jpg
তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৮ (২০১৮-০৭-২৯) - চলমান
অবস্থান বাংলাদেশ
কারণ নিরাপদ সড়কের দাবি
লক্ষ্যসমূহ সকল সড়কে গণপরিবহণের চালক ও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও আইন মান্য করতে বাধ্য করা।
প্রক্রিয়াসমূহ * মানববন্ধন[১]
  • বিক্ষোভ[২]
  • রাস্তা অবরোধ[৩]
  • অনলাইন কার্যক্রম
নাগরিক সংঘাতের দলসমূহ
বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। বাংলাদেশ পুলিশ,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই শিক্ষার্থী আন্দোলন বাংলাদেশে সড়ক পথে হতাহতের ঘটনায় সংগঠিত একটি আন্দোলন বা বিক্ষোভ।[২][৩][৪] বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ২৯ জুলাই সংগঠিত এক সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত দুই স্কুল শিক্ষার্থীর সহপাঠিদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে।[১][৩]

আন্দোলনের সূত্রপাত[সম্পাদনা]

২৯ জুলাই রোববার দুপুরে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা রেডিসন ব্লু হোটেলের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ও অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস এলে শিক্ষার্থীরা তাতে ওঠার চেষ্টা করার সময় একই পরিবহনের আরেকটি বাস বাম পাশ দিয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির আবদুল করিম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম ওরফে মীম বাসচাপায় নিহত ও আরও ১৩ জন আহত হন।[৫] সহপাঠীদের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

কয়েক ঘন্টা পরে, সাংবাদিকরা এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানকে জিজ্ঞেস করেন এই ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া কী, তখন তিনি হাসিমুখে ভারতের একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন “ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী...আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে”।[৬] তাঁর বক্তব্য দেশব্যাপী অত্যন্ত সমালোচিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভের সৃষ্টি করে।

দাবীসমূহ[সম্পাদনা]

নিরাপদ সড়ক পথের ক্ষেত্রে ৯টি দাবি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেঃ[৭][৫]

  1. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
  2. দূর্ঘটনার পর করা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
  3. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।
  4. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।
  5. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  6. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।
  7. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
  8. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।
  9. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি[সম্পাদনা]

“স্কুলড্রেসে রক্ত কেন?”
“স্কুলড্রেসে রক্ত কেন?” লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে একজন শিশু।

আন্দোলনের পঞ্চম দিনে, ২ আগস্ট ঢাকাসহ সিলেট, চট্টগ্রাম, চাপাইনবাবগঞ্জ,[৮] বান্দরবান[৯] সারা দেশে শিক্ষার্থীরা সংহতি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে, ৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করার সময় কিছু যুবক শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে যাতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবকরা আওয়ামী যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।[১০]

আন্দোলনের সপ্তম দিনে, ৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ও মিরপুর এবং নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কয়েক’শ শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে এবং রড, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এছাড়া তারা পুলিশ-এর বিরুদ্ধে হামলাকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ করে।[১১]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনে শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।[১২] ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার নিন্দা জানায়।.[১৩] লন্ডনভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থা সরকারকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান করে।[১৪] বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং শিক্ষার্থীদের সমাবেশ করার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা খর্বকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।[১৫] এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে সমাজকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি, আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ এবং তাদের ওপর হামলার তদন্ত দাবি করে।[১৬] লেখক ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল শহিদুলের তাৎক্ষণিক মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেয়।[১৭] রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার্স সরকারকে আহ্বান জানায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।[১৮] সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালসট্রোম ঢাকায় সহিংস পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানান এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান করেন। ৭ আগস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে এবং সেসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করে।[১৯]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাসচাপায় ২ শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদ : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন"ভোরের কাগজ। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  2. "নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে অচল রাজধানী"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  3. "নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবার চট্টগ্রামে সড়কে শিক্ষার্থীরা"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  4. "নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবরোধ (দেখুন ভিডিও)"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  5. "কী আছে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিতে?"দৈনিক যুগান্তর। ১ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  6. "সড়কে দুই শিক্ষার্থীর লাশ, হাসিমুখে মন্ত্রীর জবাব"প্রিয়.কম। ২৯ জুলাই ২০১৮। ৪ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৮ 
  7. "৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৩০ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  8. "চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘাতক চালকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ"বিডিমর্নিং। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  9. "বান্দরবানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা"কারেন্ট নিউজ ডট কম। ২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৮ 
  10. "ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের উপর হামলা"dhakatribune। আগস্ট ৪, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৪, ২০১৮ 
  11. "জিগাতলা, মিরপুরসহ সারা দেশে যা ঘটেছিল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৫ 
  12. "UN concerned for students' safety as safe-road protests simmer in Bangladesh"। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  13. "Safe roads: US embassy condemns attacks on student protesters"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  14. "Save the Children asks Bangladesh govt to meet student protesters' demands"। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮ 
  15. "High Commission of Canada to Bangladesh"www.facebook.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  16. "Bangladesh: Release photographer and end violent crackdown on student protests"www.amnesty.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  17. "PEN International — Bangladesh: authorities must immediately and unconditionally release…"PEN International (ইংরেজি ভাষায়)। PEN International। ২০১৮-০৮-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৬ 
  18. "Bangladesh : plusieurs reporters attaqués, le photojournaliste Shahidul Alam détenu par la police | Reporters sans frontières"RSF (ফরাসি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৭ 
  19. "Stop unlawful action against protestors: EU"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-০৭