আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
Amir Khasru Mahmud Chowdhury.jpg
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১০ অক্টোবর ২০০১ – ২৫ মার্চ ২০০৪
পূর্বসূরীআব্দুল জলিল
উত্তরসূরীফারুক খান
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯৪৯
পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
পেশারাজনীতিবিদ

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সাবেক মন্ত্রী। তিনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

আমীর খসরু ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মাতার নাম মেহেরুন্নেসা বেগম চৌধুরী।[২][৩] মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইনপরিষদ নির্বাচনে ডবলমুরিং-সীতাকুন্ড আসন থেকে জয়লাভ করেন এবং যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে গণযোগাযোগ মন্ত্রী ও পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। আমীর খসরুর দাদার নাম খাদেম আলী চৌধুরী এবং দাদির নাম আলফুন নেছা।

আমীর খসরু ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। তারপর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে হিসাব বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষাজীবন শেষ করে তার পিতার ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া খসরু চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন।[৪] একই আসন থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।[৪] ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচন করেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এম. আবদুল লতিফের কাছে পরাজিত হন।[৫]

২০০১ সালের নির্বাচনে তার নিজ দল বিএনপি সরকার গঠন করলে একই বছরের ১০ অক্টোবর তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৬] বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বিএনপির চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাখার সভাপতির দায়িত্বে আছেন। আমীর খসরু ২০১৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন লাভ করেন।[৭]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যাক্তিগত জীবনে আমীর খসরু, তাহেরা আলমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[৩] এই দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জাতীয় স্থায়ী কমিটি ২০১৬ –"বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি। ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসে ২০১৮ 
  2. প্রথম আলো (১৫ মার্চ ২০১৬)। "মাহমুদুন্নবী চৌধুরী"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসে ২০১৮ 
  3. http://119.40.90.133/asset/internal_disclosure/candidate_disclosure_9th.php?type=partyfull&lang=bn
  4. "চট্টগ্রাম-৮"প্রথম আলো। ১০ নভে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসে ২০১৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "চট্টগ্রাম-১০"প্রথম আলো। ১০ নভে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসে ২০১৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. https://mincom.gov.bd/site/page/e7d40c6f-1591-425d-a174-6dfca4dbfba1/%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9
  7. "২০৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি - - জাতীয় - - জনকন্ঠ"জনকন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসে ২০১৮