জাযাকাল্লাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

"জাযাকাল্লাহু" অথবা "জাযাকাল্লাহু খায়রান" এমন একটি মূল্যবান তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য; যার অনেকগুলো সুুুন্দর সুুুুুন্দর অর্থ রয়েছে। তবে এই পুুুন্যবান বাক্যের প্রধান/মূল অর্থ হলোঃ- "আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার/প্রতিদান দিন"। 'জাযাকাল্লাহু' উক্তিটি অসমাপ্ত, কারণ এতে আছে 'আল্লাহ' (অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা) এবং 'জাযাকা' অর্থাৎ পুরস্কার প্রদান করা, কিন্তু এতে 'খায়রান' অন্তর্ভুক্ত নেই যার অর্থ হল 'উত্তম'। "জাযাকাল্লাহু খায়রান" বললে কি পুরস্কারের/ প্রতিদানের কথা বলা হল তার অনুমান দরকার পড়ে না কারণ 'খায়রান' শব্দটি দ্বারা এটা নির্দিষ্ট হয়ে যায়। যদিও ধন্যবাদ জানানোর পরিচিত আরবি শব্দটি হল 'শুকরান', "জাযাকাল্লাহু খায়রান" বাক্যটি মুসলিমরা ব্যবহার করে এই বিশ্বাসে যে, একজন মানুষ অন্যজনকে পর্যাপ্ত বিনিময় দান করতে পারে না, বরং আল্লাহই সর্বোত্তম পুরস্কার/ প্রতিদান দান করতে সক্ষম। উপকার বড় হোক আর ছোট হোক ; উপকারকারীর জন্য দোয়া করতে রাসুলুল্লাহ (স.) শিখিয়ে গিয়েছেন। "জাযাকাল্লাহু খায়রান" এর জবাবে 'ওয়ায়িইইয়াক' (একজনকে), বা 'ওয়ায়িইয়াকুম' (একের অধিককে) ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ 'এবং আপনার/ আপনাদের প্রতিও) তবে বেশি প্রচলিত জবাব হল: "ওয়া'আনতুম ফাজাযাকুমুল্লাহু খায়রান", যার অর্থ "এবং আপনাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন"।

সতর্কতাঃ আমরা কখনো শুধুমাত্র 'জাযাকাল্লাহু' বলবো না কেননা এর দ্বারা প্রতিদান ভালোও হতে পারে আবার মন্দও হতে পারে।

সর্বোপরি, " জাযাকাল্লাহু খায়রান" এমন একটি বাক্য যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সব রকম কল্যাণ দান করেন। কারণ 'খাইরান' দ্বারা অসংখ্য বা অগণিত কল্যাণকে বুঝানো হয়। যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আল-সাহিহা ৩০৯৬, আল-তা'লিকাতুল হিসান আল সাহিহ ইবন হিব্বান ৬২৩১