যৌনসঙ্গম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মিশনারি আসনে যৌনসঙ্গম, সবচেয়ে প্রচলিত মানব যৌনাসন,[১][২] এদুয়ার্দ-অঁরি আভরিল কর্তৃক অঙ্কিত।

যৌনসঙ্গম একটি জৈবিক প্রক্রিয়া দ্বারা প্রধানত একটি পুরুষের শিশ্ন একটি নারীর যোনিপথে প্রবিষ্টকরণপূর্বক অঙ্গসঞ্চালনকে বোঝায়। এ প্রক্রিয়ায় নর-নারীর যৌনউত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং পুরুষের বীযর্পাত ঘটে। যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে যোনীতে নিক্ষিপ্ত বীর্য নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং তদ্দ্বারা নারীতে গর্ভসঞ্চার হতে পারে। যৌনসুখ লাভ বা প্রজনন বা উভয়বিধ উদ্দেশ্যে নর-নারী যৌনসঙ্গমে প্রবৃত্ত হয়। বাংলায় যৌনসঙ্গম শব্দটির বিভিন্ন প্রতিশব্দ হল: যৌনমিলন, সঙ্গম, মৈথুন, রতিক্রিয়া, রতিমিলন; যৌন সংসর্গ, যৌন সহবাস, সহবাস ইত্যাদি।

পুরুষ তার লিঙ্গ নারীর যোনিতে প্রবিষ্ট করে বীর্যপাত করবে এটিই স্বাভাবিক হলেও কিছু বিকল্প পন্থা ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অন্তর্ভেদী যৌনসঙ্গমের অন্যান্য পন্থার মধ্যে রয়েছে পায়ুপথে শিশ্নের অনুপ্রবেশ যা পায়ুকাম নামে অভিহিত এবং মুখগহব্বরে শিশ্নের অনুপ্রবেশ যা ঔপরিষ্টিক বা মুখমেহন নামে অভিহিত। যৌনসঙ্গমে যোনি-মুখ বা শিশ্ন-মুখের সংযোগ মূলতঃ শৃঙ্গারের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যোনিতে আঙ্গুল চালনা (অঙ্গুলিসঞ্চালন) এবং স্ট্রেপ-অন-কৃত্রিম শিশ্ন ব্যবহারের মাধ্যমেও যোনিতে অনুপ্রবেশ সম্ভব।[৩][৪][৫] এই সকল কার্যক্রম মূলত মানবজাতি কর্তৃক দুই বা ততোধিকের মধ্যেকার শারীরিকমানসিক অন্তরঙ্গতা জনিত পরিতোষ লাভের জন্য এবং সাধারণত মানব বন্ধনে ভূমিকা রাখতে সম্পাদিত হয়ে থাকে।[৩][৬]

মানুষের ক্ষেত্রে মৈথুন সম্ভাব্য সবচেয়ে অন্তরঙ্গ মিলন বা মিথস্ক্রিয়া; কেননা এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি আসে। অনেকের জন্য এটাই আনন্দ ও দৈহিক সুখের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম এবং প্রেমভালোবাসার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ। মৈথুনের এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ আনন্দ লাভ হয়ে থাকে যাকে চরমানন্দ বা রাগমোচন (ইংরেজিতে Orgasm) বলা হয়। চরমানন্দের সময় পুরুষের বীর্যস্খলন ঘটে। পুরুষের চেয়ে নারীর রাগমোচন অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়। নারীর ক্ষেত্রে রাগমোচন কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে আনন্দের সাথে মিশে থাকে দেহ ও মনের এক ধরণের নিরুদ্বেগ শৈথিল্য।[৭][৮]

সংজ্ঞা, অর্থ এবং ব্যাপকতা[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গম শব্দটি বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে, তাছাড়া এটার বিভিন্ন নাম, উপনাম এবং বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থানীয় নামও আছে। ইংরেজি শব্দ coitus ল্যাটিন শব্দ coitio অথবা coire থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে 'একসাথে আসা' বা 'একসাথে যোগদান করা' অথবা 'একসাথে যাওয়া', এবং শব্দদুটি প্রাচীন ল্যাটিন ভাষায় ব্যবহৃত হত বিভিন্ন প্রকারের যৌনকর্ম বোঝাতে, তবে মূলত শিশ্নের যোনিতে অনুপ্রবেশ বোঝাতেই শব্দদুটি ব্যবহৃত হত।[৯] এই কাজটিকে মাঝেমধ্যেই যোনিজ মিলন বা যোনিজ অন্তর্ভেদীকরণ বলা হয়ে থাকে।[১০] যোনিজ মিলন শব্দটি শুধু শিশ্নগ্রহণের ক্ষেত্রেই নয় সমকামিনীদের স্ট্র্যাপ-অন ডিলডো ব্যবহারও বোঝাতে পারে কারণ ওখানেও যোনির ভেতরে শিশ্নের অনুরূপ একটি জিনিশ ঢুকে থাকে।[১১][১২] বাংলা মৈথুন শব্দটি মূলত মানবদের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় সেটি হতে পারে বিষমকামিতা বা সমকামিতা[১৩] কিংবা বাচ্চা জন্মদানের ক্ষেত্রে বা এমনি যৌনতার ক্ষেত্রে।[১৩][১৪][১৫]

যদিও মানবসভ্যতায় অনেক আগে থেকেই 'যৌনসঙ্গম' বলতে নারী-পুরুষের যোনি-শিশ্ন এর মিলন বোঝায়,[১৬] কিন্তু তারপরেও যৌনসঙ্গম বলতে নগ্ন হয়ে নারী-পুরুষের বা নারী-নারীর বা দু'জন পুরুষের চুম্বন বা লেহন বা মর্দনও বোঝাতে পারে (অন্তর্ভেদী কাজ ছাড়াই), যদিও এটি আধুনিক ধ্যান-ধ্যারণা।[১৭][১৮] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌনসঙ্গম সম্বন্ধে বলে যে, "এর কোনো চূড়ান্ত সংজ্ঞা বা অর্থ নেই কারণ আজকাল আর শব্দটি বাচ্চা জন্মদানের জন্য ব্যবহৃত হয়না।"[১৭] অন্যদিকে একসাথে ঘুমানো বা শুয়ে থাকাও একপ্রকারের যৌনসঙ্গমের ইঙ্গিত বোঝায়।[১৯][২০][২১]

যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ ছাড়া আজকাল পায়ুকাম, মুখমৈথুন এবং অন্যান্য সব অভেদক যৌনকর্ম 'যৌনসঙ্গম' হিসেবে বিবেচিত হয়।[২২] যোনি-শিশ্নের মিলন ছাড়া অন্যান্য যৌনসঙ্গমগুলোকে বাহ্যিক যৌনসঙ্গম বলা যেতে পারে।[২৩] যোনি-শিশ্নের মিলনে সতীত্বের হরণ হয় বিধায় ওটিকে সতীত্বছেদক যৌনতাও বলা হয়, অপরদিকে পায়ুকাম বা অন্য কোনো অভেদক যৌনসঙ্গমকে এরূপ বলা হয়না।[২৩] তারপরেও বিশ্বের সব দেশেই এখনো 'যৌনসঙ্গম' বলতে প্রধানত 'শিশ্ন-যোনির মিলন'ই বুঝানো হয়, এটাকে সত্যিকারের বা 'প্রকৃত' যৌনসঙ্গমও বলা হয়।[১৮][২৪][২৫]

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

কয়েশন অব এ হেমিসেক্টেড ম্যান অ্যান্ড ওম্যান (আনুমানিক. ১৪৯২) হল চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কর্তৃক অঙ্কিত একটি চিত্রকর্ম, যেখানে সঙ্গমের সময় মানব দেহাভ্যন্তরে কি ঘটে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

যৌনসঙ্গম মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা সমূহের একটি। তবে যৌনসঙ্গম ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন এবং আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। [২৬][২৭] একজন পুরুষ একজন নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে আগ্রহী হয়। একই ভাবে একজন নারী একজন পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে ইচ্ছুক হয়। নারী-পুরুষের পারস্পরিক আসক্তি যৌনসঙ্গমে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে এবং যৌনসুখের সৃষ্টি হয়। যৌনসুখ লাভের আকাঙ্ক্ষা নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা। যৌনসুখ লাভের এ প্রক্রিয়ার পরিণতিতে নারীর গর্ভধারণ করতে এবং সন্তান দিতে সক্ষম হয়। সন্তানের জন্ম দিতে বা বংশ বিস্তারে (অর্থাৎ প্রজননে) আগ্রহী নারী ও পুরুষ সাধারণতঃ বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয় কেননা বিবাহ যৌনসঙ্গমের ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনী অনুমোদন প্রদান করে। [২৮][২৯][৩০]

প্রজনন প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

পৃথিবীর সকল প্রাণীই তার প্রজনন কর্ম সম্পাদন করে। প্রজননের ফল হচ্ছে শারিরিক সুখ এবং বংশ বৃদ্ধি করা। যৌনক্রিয়ার কেন্দ্রীয় অংশ হলো "যৌনসঙ্গম" বা স্ত্রী-অঙ্গে পুরুষাঙ্গের প্রবেশ এবং বীর্যপাত। এই প্রজনন প্রক্রিয়ার ফল স্বরুপ প্রাণী তার বংশ বিস্তার করে থাকে। বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্নভাবে তার প্রজনন চালিয়ে থাকে। যেমন মানুষ তার প্রজনন চালায় স্বীয় নারী/পুরুষ দ্বারা। প্রজননের উদ্দেশ্যে সঙ্গম করলে স্ত্রীর যোনীর ভেতর শিশ্ন থাকা অবস্থায়ই পুরুষের বীর্যস্খলন করতে হয়। এতে বীর্যের মধ্যে থাকা শুক্রাণু স্ত্রীর দেহে ইতিমধ্যে থাকা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের (নিষেকের) মাধ্যমে সৃষ্ট জাইগোটই সন্তান উৎপাদনের পথে প্রথম ধাপ। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদেহের ভেতরেই সন্তান বেড়ে ওঠে এবং একসময় তার যোনীপথ দিয়েই সন্তানকে বের করে আনা যায়। তবে মাছের মত প্রাণীদের ক্ষেত্রে স্ত্রী ডিমটি আগেই বের করে দেয় যা ফুটে এক সময় বাচ্চা বের হয়। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীই যৌনসঙ্গম করে থাকে।[৩১][৩২][৩৩]

শারীরিক সুখ[সম্পাদনা]

ওম্যান অন টপ সহবাস, এদুয়ার্দ-অঁরি আভরিল কর্তৃক অঙ্কিত।

মানুষ বিভিন্নভাবে যৌনসুখ পেতে পারে। তবে যৌনসুখের প্রধান অবলম্বন আরেকটি দেহ। একজন মেয়ে বা ছেলে তার বিপরিত জনকে দিয়েই সাধারণত: শারীরীক সুখ লাভ করে। শারীরীক সুখ বলতে এখানে শুধুই দেহভিত্তিক লালসা বা আনন্দকে বুঝিয়েছে। এক্ষেত্রে মানুষ চরম সুখ পেয়ে থাকে।[৩৪]

যৌনসঙ্গমের বিভিন্ন পর্যায়[সম্পাদনা]

মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো মানুষের ক্ষেত্রেও সাধারণত প্রথমে পুরুষ এবং স্ত্রী পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং কামাসক্ত হয়। এরপর পুরুষ ও নারী বিবস্ত্র হয়ে নিকটবর্তী হয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করে এবং পুরুষ তার সঙ্গিনীকে বিভিন্নভাবে আলিঙ্গন করে। পুরুষ এবং স্ত্রী পরস্পরের কামোদ্দীপক অঙ্গগুলি স্পর্শ করে যৌন বাসনাকে বর্ধিত করে। এরপর পুরুষ তার শিশ্নটি (পুং জননাঙ্গ) স্ত্রীর যোনিপথে প্রবেশ করিয়ে অঙ্গচালনা করে। অঙ্গচালনার এক পর্যায়ে পুরুষের বীর্যস্খলন হয়। এই ভাবে পুরুষ স্ত্রীযৌনাঙ্গে বীর্যদান করে। এই বীর্যের মধ্যে থাকে শুক্রানু যেটি স্ত্রী শরীরে ডিম্বানুর সঙ্গে মিলিত হয়ে নিষিক্ত হয় এবং এর ফলে স্ত্রীর গর্ভসঞ্চার হয়।

শৃঙ্গার[সম্পাদনা]

যোনীতে লিঙ্গ প্রবিষ্টকরণের পূর্বে কামোদ্দীপক কার্যকলাপকে বলা হয় শৃঙ্গার বা পূর্বরাগ। আলিঙ্গন, চুম্বন, অঙ্গমর্দন, লেহন, দংশন প্রভৃতি স্বাভাবিক শৃঙ্গার হিসেবে পরিগণিত। বাৎসায়নের কামসূত্রে ৬৪টি কলার কথা উল্লিখিত আছে যা শৃঙ্গারের অন্তর্ভূত। এছাড়া মুখমৈথুন বা মুখে শিশ্ন প্রবিষ্টকরণ, যোনী বা পায়ুপথে আঙ্গুলি চালনা ইত্যাদিও শৃঙ্গারের অন্তর্ভূত।

আসন[সম্পাদনা]

নারী ও পুরুষের যৌনসঙ্গম। বাৎসায়নের কামসূত্র গ্রন্থে বর্ণীত একটি আসন চিত্রায়িত হয়েছে এখানে

যৌনসঙ্গম কালে নারী-পুরুষের পারস্পরিক অবস্থানকে বলা হয় আসন ।[৩৫]

প্রবিষ্টকরণ ও অঙ্গচালনা[সম্পাদনা]

প্রবিষ্টকরণের জন্য প্রয়োজন পুরুষের দৃঢ়ভাবে উত্থিত পুরুষাঙ্গ বা লিঙ্গ। প্রবিষ্টকরণের সুবিধার্থে উত্তেজিত লিঙ্গাগ্র থেকে কামরস নির্গত হয়। একইভাবে নারীরে যোনী অভ্যন্তরে পিচ্ছিলকারক ক্ষরণ হয়। বারবার অঙ্গ চালনা অর্থাৎ যোনী অভ্যন্তরে পুরুষাঙ্গের পুনঃপৌণিক যাতায়াতের মাঝে ঘর্ষণক্রমে তীব্রসুখানুভূতির সৃষ্টি হয়। এক সময় রাগমোচন হয় বা চরমানন্দ লাভ হয়। এসময়ের পুরুষের বীর্যস্খলন ঘটে।

চরমানন্দ বা রাগমোচন[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গমের শেষ পরিণতি চরমানন্দ লাভ। এই অবস্থাকে বলা হয় রাগমোচন (অরগাজম)। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যপাতের মাধ্যমে রাগমোচন তথা চরমানন্দ লাভ হয়। স্ত্রীর ক্ষেত্রে বীর্যপাতের ন্যায় বিশেষ ক্ষরণ বা নিঃসরণ হয়।[৩৬][৩৭] পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যস্খলনের সময়ই রাগমোচন লাভ হয়, এর পাশাপাশি পেশীর ক্রিয়ার কারণে তার শিশ্ন কয়েকবার কম্পিত হয় এবং অণ্ডকোষ শক্ত হয়ে কিঞ্চিৎ উপরে উঠে আসে। অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই রাগমোচনের অব্যবহিত পরেই পুনর্বার মৈথুন করা সম্ভব না, কেননা বীর্যপাতের সঙ্গে সঙ্গে শিশ্নের উত্থান রহিত হয়ে যায়। শিশ্নের পুনরুত্থান তথা সঙ্গমশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কিছুটা সময় লাগে। স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইউটেরিন ও যোনির দেয়ালের পেশীগুলোর মুহুর্মুহু সংকোচনের মাধ্যমে রাগমোচন ঘটে। এটা ক্ষেত্রবিশেষে একসাথে কয়েকবার হতে পারে আবার সামান্য সময়ের ব্যবধানে হতে পারে। অনেক স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুরো দেহব্যাপী অনেকক্ষণের জন্য রাগমোচন ঘটতে পারে।

গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গম কালে স্ত্রী যোনিতে পুরুষের বীর্য নিক্ষেপের ফলে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা থাকে। এই সম্ভাবনা দূরীকরণের জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যেমন কনডম, জন্ম নিরোধক বড়ি ইত্যাদি। প্রজননের ইচ্ছা না থাকলে, পুরুষ স্ত্রীর যোনির ভেতর বীর্য প্রবেশ করতে দেয় না। এর নানাবিধ উপায় রয়েছে: যেমন, বীর্যস্খলনের ঠিক আগে আগে শিশ্ন স্ত্রীর জননাঙ্গ থেকে বের করে আনা। তবে মানুষ কেবল আনন্দ ও সুখের জন্য যৌনসঙ্গমের আরও কিছু উপায় উদ্ভাবন করেছে, যেমন, পুরুষের জননাঙ্গে কনডম ব্যবহার, যাতে যোনীর ভেতর শিশ্ন থাকা অবস্থায় রাগমোচন ঘটলেও বীর্য স্ত্রীযোনিতে মিশতে না পারে। তাছাড়া স্ত্রী যদি নিয়মিত জন্মনিরোধক বড়ি বা পিল গ্রহণ করে তাহলে তার যোনিতে বীর্য মিশলেও সন্তানের জন্ম হয় না।

সমকামিতা[সম্পাদনা]

একজন নারী বা পুরুষ যদি তার সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি রোমান্টিক কিংবা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তাহলে সেটাকে সমকামিতা বলা হয়।[৩৮]

অন্যান্য প্রাণী[সম্পাদনা]

কেনিয়ার মাসাইমারা জাতীয় উদ্যানে সিংহের যৌনসঙ্গম
মিলনরত অবস্থায় হাউজফ্লাই

জীববিজ্ঞান-এর পরিভাষায়, যৌনমিলন বলতে প্রায়শই নারীদেহে পুরুষের শুক্রাণু প্রদানের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়, বিশেষত সরাসরি নারীর প্রজনন এলাকায় শুক্রাণু পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া। [৩৯][৪০] মাকড়াসাদের পৃথক নারী ও পুরুষ যৌনতা রয়েছে। মিলনের পূর্বে, পুরুষ মাকড়সা একটি ছোট জাল বুনে তাতে বীর্যপাত করে, এবং এরপর তা তার বৃহৎ পেডিপাল্পের সংরক্ষণ থলিতে জমা করে, সেখান থেকেই সে তার শুক্রাণু নারী মাকড়সার জননাঙ্গে স্থানান্তর করে। নারী মাকড়সা অনির্দিষ্টকালের জন্য শুক্রাণু সংরক্ষণ করতে পারে।[৪১]

পানিতে বসবাসকারী বহু প্রাণী বহিঃনিষেক প্রক্রিয়ায় নিষেক ঘটায়, অন্যদিকে অরডোভিসিয়ান যুগের পরবর্তী সময়ের উন্নত প্রাণীদের ক্ষেত্রে কোন তরল মাধ্যমে গ্যামেট রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে অন্তঃনিষেক প্রক্রিয়া বিস্তার-লাভ করেছে। সরীসৃপ, কিছু মাছ এবং অধিকাংশ পাখিসহ বহু মেরুদণ্ডী প্রাণী ক্লোয়াকা নামক অবসারনী ছিদ্র বা জননছিদ্রের মাধ্যমে অন্তঃনিষেক ঘটায়, যেখানে স্তন্যপায়ীরা তা ঘটায় জরায়ুপথের মাধ্যমে, এবং বহু আদিম মেরুদণ্ডী বহিঃনিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যৌন প্রজনন করে থাকে।[৪২][৪৩]

আদি পতঙ্গদের ক্ষেত্রে, পুরুষ প্রাণী নির্দিষ্ট স্থানে স্পারমাটোজোয়া জমা করে, নারী প্রজাতির সঙ্গে অন্তরঙ্গতার ফলে নারী প্রাণী তার প্রজননপথে সেই স্পার্ম নিয়ে নেয়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এখানে কোন মিলন ঘটে না।[৪৪][৪৫]

বনবো, সিপ্পাঞ্জি, ডলফিন হল সেসব প্রজাতি যেগুলো বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনসঙ্গমে অংশ নেয়ার জন্য সুপরিচিত, এমনকি নারী প্রাণীটি যদি প্রজননের জন্য সঙ্গম দশায় না থাকে তবুও। এসব প্রজাতিকে সমলিঙ্গীয় যৌন আচরণে অংশ নিতেও দেখা যায়।[৪৬] লক্ষণীয়ভাবে, এ সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গমের আচরণ প্রজননের চাহিদার ব্যাপ্তি অতিক্রম করে আনুসাঙ্গিক সামাজিক কার্যক্রম (সম্পর্ক) ব্যবস্থাপনার জন্য বিবর্তিত হয়েছে।[৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Keath Roberts (২০০৬)। Sex (ইংরেজি ভাষায়)। Lotus Press। পৃ: ১৪৫। আইএসবিএন 8189093592। সংগৃহীত আগস্ট ১৭, ২০১২ 
  2. Wayne Weiten, Margaret A. Lloyd, Dana S. Dunn, Elizabeth Yost Hammer (২০০৮)। Psychology Applied to Modern Life: Adjustment in the 21st Century (ইংরেজি ভাষায়)। Cengage Learning। পৃ: 422–423। আইএসবিএন 0495553395। সংগৃহীত জানুয়ারি ৫, ২০১২ 
  3. "Sexual Intercourse" (ইংরেজি ভাষায়)। Discovery.comআসল থেকে ২০০৮-০৮-২২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১২ 
  4. Nilamadhab Kar, Gopal Chandra Kar (২০০৫)। Comprehensive Textbook of Sexual Medicine (ইংরেজি ভাষায়)। Jaypee Brothers Publishers। পৃ: 107–112। আইএসবিএন 8180614050। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৪, ২০১২ 
  5. Virginia Rutter, Pepper Schwartz (২০১১)। The Gender of Sexuality: Exploring Sexual Possibilities (ইংরেজি ভাষায়)। Rowman & Littlefield Publishers। পৃ: ৭৬। আইএসবিএন 0742570053 
  6. Diamond, Jared (১৯৯১)। The Rise and Fall of the Third Chimpanzee (ইংরেজি ভাষায়)। Radius। পৃ: 360 pages। আইএসবিএন 0091742684 
  7. Sexual Intercourse, Sexual Health Center, Discovery Health
  8. http://www.sexuality.org/l/transgen/tsorg.html
  9. See page 302 for orgasm information, and pages 285–286 for definitions, prevalence and length of sexual intercourse. Janell L. Carroll (২০১২)। Discovery Series: Human Sexuality (ইংরেজি ভাষায়) (1st সংস্করণ)। Cengage Learning। পৃ: 656 pages। আইএসবিএন 1111841896। সংগৃহীত আগস্ট ২৫, ২০১৩ 
  10. Harvey B. Milkman; Kenneth W. Wanberg (২০০৪)। Pathways to Self-Discovery and Change: Criminal Conduct and Substance Abuse Treatment for Adolescents (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE। পৃ: 254–255। আইএসবিএন 1412906148। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৩ 
  11. Human Kinetics (২০০৯)। Health and Wellness for Life (ইংরেজি ভাষায়)। Human Kinetics। পৃ: ২০৭। আইএসবিএন 0736068503। সংগৃহীত অক্টোবর ১১, ২০১৩ 
  12. Edward M. Barrows (২০১১)। Animal Behavior Desk Reference: A Dictionary of Animal Behavior, Ecology, and Evolution (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ: 122–124। আইএসবিএন 1439836515। সংগৃহীত আগস্ট ২৫, ২০১৩ 
  13. "Copulation" (ইংরেজি ভাষায়)। Dorland's Medical Dictionary for Health Consumers, 2007/TheFreeDictionary.com for various dictionary definitions। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১২ 
  14. "Copulation" (ইংরেজি ভাষায়)। The American Heritage Dictionary of the English Language, Fifth Edition। ২০১১। সংগৃহীত আগস্ট ২৩, ২০১৩ 
  15. "Defining sexual health: Report of a technical consultation on sexual health" (ইংরেজি ভাষায়)। World Health Organization। জানুয়ারি ২০০২। পৃ: ৪। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৫, ২০১২ 
  16. Cox, Lauren (মার্চ ৮, ২০১০)। "Study: Adults Can't Agree What 'Sex' Means" (ইংরেজি ভাষায়)। ABC.com। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৫, ২০১২ 
  17. "Fuck" (ইংরেজি ভাষায়)। Merriam-Webster। সংগৃহীত মার্চ ৩০, ২০১৩ 
  18. "Shag" (ইংরেজি ভাষায়)। Merriam-Webster। সংগৃহীত মার্চ ৩০, ২০১৩ 
  19. "Sleep together" (ইংরেজি ভাষায়)। TheFreeDictionary.com। সংগৃহীত মার্চ ৩০, ২০১৩ 
  20. Michael R Kauth (২০০০)। True Nature: A Theory of Sexual Attraction (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃ: ৭৪। আইএসবিএন 0306463903। সংগৃহীত আগস্ট ৩০, ২০১২ 
  21. Jayson, Sharon (অক্টোবর ১৯, ২০০৫)। "'Technical virginity' becomes part of teens' equation" (ইংরেজি ভাষায়)। USA Today। সংগৃহীত আগস্ট ৭, ২০০৯ 
  22. George P. Murdock. "On the universals of culture". In: Linton (ed), The Science of Man in the World Crisis (1945).
  23. Gary Laderman (৪ নভেম্বর ২০১৩)। "Some Thoughts on Religion and Sexuality"huffingtonpost.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  24. Louis and Melissa McBurney (২০০৮)। "Christian Sex Rules:A guide to what's allowed in the bedroom"todayschristianwoman.com (ইংরেজি ভাষায়)। 
  25. "Judaism and Sexuality"myjewishlearning.com (ইংরেজি ভাষায়)। 
  26. "Sexual Etiquette in Islam"al-islam.org (ইংরেজি ভাষায়)। 
  27. Sexual Intercourse, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
  28. http://www.askmen.com/dating/vanessa/28_love_secrets.html
  29. http://everydayfeminism.com/2012/11/top-5-questions-about-the-female-orgasm-answered/
  30. http://health.howstuffworks.com/sexual-health/sexuality/anal-sex-dictionary.htm
  31. http://www.menshealth.com/health/your-dirty-sexy-belly-button
  32. /http://www.everydayhealth.com/sexual-health/dr-laura-berman-truth-about-female-ejaculation.aspx
  33. http://www.luckymojo.com/tkclitoris.html
  34. "Sexual orientation, homosexuality and bisexuality" (ইংরেজি ভাষায়)। American Psychological Associationআসল থেকে আগস্ট ৮, ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত আগস্ট ১০, ২০১৩ 
  35. Michael Kent (২০০০)। Advanced biology (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ: 250–253। আইএসবিএন 0199141959। সংগৃহীত ২০১৫-১০-২১ 
  36. "Copulation" (ইংরেজি ভাষায়)। Dorland's Medical Dictionary for Health Consumers, 2007/TheFreeDictionary.com for various dictionary definitions। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১২ 
  37. Ruppert, E.E., Fox, R.S., and Barnes, R.D. (২০০৪)। "Chelicerata: Araneae"। Invertebrate Zoology (ইংরেজি ভাষায়) (7 সংস্করণ)। Brooks/Cole। পৃ: 571–584। আইএসবিএন 0-03-025982-7 
  38. Cecie Starr, Christine Evers, Lisa Starr (২০১০)। Cengage Advantage Books: Biology: A Human Emphasis (ইংরেজি ভাষায়)। Cengage Learning। পৃ: 630–631। আইএসবিএন 1133170056। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৯, ২০১০ 
  39. Edward J. Denecke, Jr. (২০০৬)। New York State Grade 8 Intermediate Level Science Test (ইংরেজি ভাষায়)। Barron's Educational Series। পৃ: ১০৫। আইএসবিএন 0764134337। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৯, ২০১৪ 
  40. M. Yadav (২০০৩)। Breeding in Insects (ইংরেজি ভাষায়)। Discovery Publishing House। পৃ: ৫৯। আইএসবিএন 817141737X। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৯, ২০১৪ 
  41. Franz Engelmann (২০১৩)। The Physiology of Insect Reproduction: International Series of Monographs in Pure and Applied Biology: Zoology (ইংরেজি ভাষায়)। Elsevier। পৃ: 58–59। আইএসবিএন 1483186539। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৯, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]