যৌনসঙ্গম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এই নিবন্ধটি প্রাথমিকভাবে মানুষের যৌনসঙ্গম সম্পর্কিত। অন্যান্য প্রাণীর যৌনসঙ্গম সম্পর্কে জানতে, দেখুন প্রাণী যৌনাচার
মিশনারি আসনে যৌনসঙ্গম, সবচেয়ে প্রচলিত মানব যৌনাসন,[১][২] এদুয়ার্দ-অঁরি আভরিল কর্তৃক অঙ্কিত

যৌনসঙ্গম, বা মৈথুন বা রতি; প্রধানত একটি পুরুষের জননাঙ্গ বা শিশ্ন সাধারণত খাড়াভাবে, যৌনানন্দ লাভ বা প্রজনন অথবা উভয় উদ্দেশ্যে একটি নারীর জননাঙ্গ বা যোনির মধ্যে সন্নিবেশিত বা বিদ্ধ করাকে বোঝায়।[৩] যা যৌন সংসর্গ বা যৌন সহবাস হিসাবেও পরিচিত।[২][৪] অন্তর্ভেদী যৌনসঙ্গমের অন্যান্য রূপের মধ্যে রয়েছে পায়ুপথে শিশ্নের অনুপ্রবেশ (পায়ুকাম), মুখগহব্বরে শিশ্নের অনুপ্রবেশ বা নারী যৌনাঙ্গে মৌখিক অনুপ্রবেশ (মৌখিক সঙ্গম), আঙ্গুলের সাহায্যে যৌন অনুপ্রবেশ (অঙ্গুলিসঞ্চালন) এবং স্ট্রেপ-অন-কৃত্রিম শিশ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ।[৫][৬][৭] এই সকল কার্যক্রম মূলত দুই বা ততোধিকের মধ্যেকার শারীরিক অন্তরঙ্গতা জনিত এবং সাধারণত শারীরিক বা মানসিক পরিতোষ লাভের জন্য সাধারণত মানব বন্ধনে অবদান রাখতে শুধুমাত্র মানবজাতি কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে থাকে।[৫][৮]

সঙ্গম শেষে পুরুষের যখন রাগমোচন বা অরগ্যাজম ঘটে তখন তার জননাঙ্গ থেকে বীর্য নিঃসৃত হয়। এর ফলে নারীর গর্ভসঞ্চার হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। [৯][১০][১১] মানুষের ক্ষেত্রে মৈথুন সম্ভাব্য সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ব্যবহার, এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি আসতে পারে। অনেকের জন্য এটাই আনন্দ ও সন্তুষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম এবং প্রেম ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। মৈথুনের এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ আনন্দ লাভ হয়ে থাকে যাকে চরমানন্দ বা রাগমোচন (ইংরেজিতে Orgasm) বলা হয়। রাগমোচন কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে আনন্দের সাথে মিশে থাকে দেহ ও মনের এক ধরণের নিরুদ্বেগ শৈথিল্য। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যস্খলনের সময়ই রাগমোচন লাভ হয়, এর পাশাপাশি পেশীর ক্রিয়ার কারণে তার শিশ্ন কয়েকবার কেঁপে ওঠে এবং অণ্ডকোষ শক্ত হয়ে একটু উপরে উঠে আসে। অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই রাগমোচনের অব্যবহিত পরেই পুনর্বার মৈথুন করা সম্ভব না, কেননা বীর্যপাতের সঙ্গে সঙ্গে শিশ্নের উত্থান রহিত হয়ে যায়। শিশ্নের পুনরুত্থান তথা সঙ্গমশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কিছুটা সময় লাগে। স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইউটেরিন ও যোনির দেয়ালের পেশীগুলোর মুহুর্মুহু সংকোচনের মাধ্যমে রাগমোচন ঘটে। এটা ক্ষেত্রবিশেষে একসাথে কয়েকবার হতে পারে আবার সামান্য সময়ের ব্যবধানে হতে পারে। অনেক স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুরো দেহব্যাপী অনেকক্ষণের জন্য রাগমোচন ঘটতে পারে। পুরুষের চেয়ে নারীর রাগমোচন অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।[১২][১৩]

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

নারী ও পুরুষের যৌনসঙ্গম। বাৎসায়নের কামসূত্র গ্রন্থে বর্ণীত একটি আসন চিত্রায়িত হয়েছে এখানে

প্রজনন প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

পৃথিবীর সকল প্রাণীই তার প্রজনন কর্ম সম্পাদন করে। প্রজননের ফল হচ্ছে শারিরিক সুখ এবং বংশ বৃদ্ধি করা। যৌনক্রিয়ার কেন্দ্রীয় অংশ হলো "যৌনসঙ্গম" বা স্ত্রী-অঙ্গে পুরুষাঙ্গের প্রবেশ এবং বীর্যপাত। এই প্রজনন প্রক্রিয়ার ফল স্বরুপ প্রাণী তার বংশ বিস্তার করে থাকে। বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্নভাবে তার প্রজনন চালিয়ে থাকে। যেমন মানুষ তার প্রজনন চালায় স্বীয় নারী/পুরুষ দ্বারা। মানুষের প্রজনন প্রক্রিয়াটা সকল প্রাণী থেকে ভিন্ন। প্রজননের উদ্দেশ্যে সঙ্গম করলে স্ত্রীর যোনীর ভেতর শিশ্ন থাকা অবস্থায়ই পুরুষের বীর্যস্খলন করতে হয়। এতে বীর্যের মধ্যে থাকা শুক্রাণু স্ত্রীর দেহে ইতিমধ্যে থাকা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের মাধ্যমে সৃষ্ট জাইগোটই সন্তান উৎপাদনের পথে প্রথম ধাপ। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদেহের ভেতরেই সন্তান বেড়ে ওঠে এবং একসময় তার যোনীপথ দিয়েই সন্তানকে বের করে আনা যায়। তবে মাছের মত প্রাণীদের ক্ষেত্রে স্ত্রী ডিমটি আগেই বের করে দেয় যা ফুটে এক সময় বাচ্চা বের হয়। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীই যৌনসঙ্গম করে থাকে।[১৪][১৫][১৬]

শারীরিক সুখ[সম্পাদনা]

মানুষ বিভিন্নভাবে যৌনসুখ পেতে পারে। তবে যৌনসুখের প্রধান অবলম্বন আরেকটি দেহ। একজন মেয়ে বা ছেলে তার বিপরিত জনকে দিয়েই সাধারণত: শারীরীক সুখ লাভ করে। শারীরীক সুখ বলতে এখানে শুধুই দেহভিত্তিক লালসা বা আনন্দকে বুঝিয়েছে। এক্ষেত্রে মানুষ চরম সুখ পেয়ে থাকে।[১৭]

যৌনসঙ্গমের বিভিন্ন পর্যায়[সম্পাদনা]

মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো মানুষের ক্ষেত্রেও সাধারণত প্রথমে পুরুষ এবং স্ত্রী পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং কামাসক্ত হয়। এরপর পুরুষ ও নারী বিবস্ত্র হয়ে নিকটবর্তী হয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করে এবং পুরুষটি তার সঙ্গিনীকে বিভিন্নভাবে আলিঙ্গন করে। পুরুষ এবং স্ত্রী পরস্পরের কামোদ্দীপক অঙ্গগুলি স্পর্শ করে যৌন বাসনাকে বর্ধিত করে। এরপর পুরুষটি তার শিশ্নটি (পুং জননাঙ্গ) স্ত্রীটির যোনিপথে প্রবেশ করিয়ে অঙ্গচালনা করে। অঙ্গচালনার এক পর্যায়ে পুরুষের বীর্যস্খলন হয়। এই ভাবে পুরুষ স্ত্রীযৌনাঙ্গে বীর্যদান করে। এই বীর্যের মধ্যে থাকে শুক্রানু যেটি স্ত্রী শরীরে ডিম্বানুর সঙ্গে মিলিত হয় এবং ফলে স্ত্রীর গর্ভসঞ্চার হয়।

শৃঙ্গার[সম্পাদনা]

দ্য কিস, রঁদ্যা সৃষ্ট ভাস্কর্য, ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ

যোনীতে লিঙ্গ প্রবিষ্টকরণের পূর্বে কামোদ্দীপক কার্যকলাপকে বলা হয় শৃঙ্গার। আলিঙ্গন, চুম্বন, অঙ্গমর্দন, লেহন, দংশন প্রভৃতি স্বাভাবিক শৃঙ্গার হিসেবে পরিগণিত। বাৎসায়নের কামসূত্রে ৬৪টি কলার কথা উল্লিখিত আছে যা শৃঙ্গারের অন্তর্ভূত। এছাড়া মুখমৈথুন বা মুখে শিশ্ন প্রবিষ্টকরণ, যোনী বা পায়ুপথে আঙ্গুলি চালনা ইত্যাদিও শৃঙ্গারের অন্তর্ভূত।

আসন[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গম কালে নারী-পুরুষের পারস্পরিক অবস্থানকে বলা হয় আসন ।[১৮]

চরমানন্দ বা রাগমোচন[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গমের শেষ পরিণতি চরমানন্দ লাভ। এই অবস্থাকে বলা হয় রাগমোচন (অরগাজম)। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যপাতের মাধ্যমে রাগমোচন তথা চরমানন্দ লাভ হয়। স্ত্রীর ক্ষেত্রে বীর্যপাতের ন্যায় বিশেষ ক্ষরণ বা নিঃসরণ হয় [১৯][২০]

গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ[সম্পাদনা]

যৌনসঙ্গম কালে স্ত্রী যোনিতে পুরুষের বীর্য নিক্ষেপের ফলে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা থাকে। এই সম্ভাবনা দূরীকরণের জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যেমন কনডম, জন্ম নিরোধক বড়ি ইত্যাদি। প্রজননের ইচ্ছা না থাকলে, পুরুষ স্ত্রীর যোনির ভেতর বীর্য প্রবেশ করতে দেয় না। এর নানাবিধ উপায় রয়েছে: যেমন, বীর্যস্খলনের ঠিক আগে আগে শিশ্ন স্ত্রীর জননাঙ্গ থেকে বের করে আনা। তবে মানুষ কেবল আনন্দ ও সুখের জন্য যৌনসঙ্গমের আরও কিছু উপায় উদ্ভাবন করেছে, যেমন, পুরুষের জননাঙ্গে কনডম ব্যবহার, যাতে যোনীর ভেতর শিশ্ন থাকা অবস্থায় রাগমোচন ঘটলেও বীর্য স্ত্রীযোনিতে মিশতে না পারে। তাছাড়া স্ত্রী যদি নিয়মিত জন্মনিরোধক বড়ি বা পিল গ্রহণ করে তাহলে তার যোনিতে বীর্য মিশলেও সন্তানের জন্ম হয় না।

অন্যান্য প্রাণী[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Keath Roberts (২০০৬)। Sex। Lotus Press। পৃ: ১৪৫। আইএসবিএন 8189093592। সংগৃহীত আগস্ট ১৭, ২০১২ 
  2. ২.০ ২.১ Wayne Weiten, Margaret A. Lloyd, Dana S. Dunn, Elizabeth Yost Hammer (২০০৮)। Psychology Applied to Modern Life: Adjustment in the 21st CenturyCengage Learning। পৃ: 422–423। আইএসবিএন 0495553395। সংগৃহীত জানুয়ারি ৫, ২০১২। "Vaginal intercourse, known more technically as coitus, involves inserting the penis into the vagina and (typically) pelvic thrusting. ... The man-above, or "missionary," position is the most common [sex position]." 
  3. Sexual intercourse most commonly means penile-vaginal penetration for sexual pleasure and/or sexual reproduction; dictionary sources state that it especially means this, and scholarly sources over the years agree. See, for example;
    • "Sexual intercourse"Merriam-Webster। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৫, ২০১৪ 
    • "Sexual intercourse"Collins English Dictionary। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৫, ২০১২ 
    • Richard M. Lerner, Laurence Steinberg (২০০৪)। Handbook of Adolescent PsychologyJohn Wiley & Sons। পৃ: 193–196। আইএসবিএন 0471690449। সংগৃহীত এপ্রিল ২৯, ২০১৩। "When researchers use the term sex, they nearly always mean sexual intercourse – more specifically, penile-vaginal intercourse... The widespread, unquestioned equation of penile-vaginal intercourse with sex reflects a failure to examine systematically 'whether the respondent's understanding of the question matches what the researcher had in mind.'" 
    • Fedwa Malti-Douglas (২০০৭)। Encyclopedia of Sex and Gender: A-CMacmillan Reference। পৃ: ৩০৮। আইএসবিএন 0028659619। "Sexual intercourse. [T]he term coitus indicates a specific act of sexual intercourse that also is known as coition or copulation. This 'coming together' is generally understood in heteronormative terms as the penetration of a woman's vagina by a man's penis." 
    • Irving B. Weiner, W. Edward Craighead (২০১০)। The Corsini Encyclopedia of Psychology, Volume 4John Wiley & Sons। পৃ: ১৫৭৭। আইএসবিএন 0470170239। সংগৃহীত আগস্ট ২১, ২০১৩। "Human sexual intercourse, or coitus, is one of the most common sexual outlets among adults. Sexual intercourse generally refers to penile penetration of the vagina..." 
    • Clint E. Bruess, Elizabeth Schroeder (২০১৩)। Sexuality Education Theory and PracticeJones & Bartlett Publishers। পৃ: ১৫২। আইএসবিএন 1449649289। সংগৃহীত ডিসেম্বর ৫, ২০১৪। "Vaginal sex is defined as when a penis or sex toy is inserted into a vagina for pleasure. In many cultures around the world, vaginal sex is what is usually implied when people refer to 'having sex' or 'sexual intercourse.' It is the most frequently studied behavior and is often the focus of sexuality education programming for youth." 
  4. Sandra Alters, Wendy Schiff (২০১২)। Essential Concepts for Healthy LivingJones & Bartlett Publishers। পৃ: 180–181। আইএসবিএন 1449630626। সংগৃহীত আগস্ট ৩১, ২০১৩। "Most heterosexuals are familiar with the notion of 'having sex' or sexual intercourse as vaginal sex, the insertion of a penis into a vagina. Vaginal sex, or coitus, is the most common and popular form of intimate sexual activity between partners." 
  5. ৫.০ ৫.১ "Sexual Intercourse"Discovery.comআসল থেকে ২০০৮-০৮-২২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১২ 
  6. Nilamadhab Kar, Gopal Chandra Kar (২০০৫)। Comprehensive Textbook of Sexual MedicineJaypee Brothers Publishers। পৃ: 107–112। আইএসবিএন 8180614050। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ৪, ২০১২ 
  7. Virginia Rutter, Pepper Schwartz (২০১১)। The Gender of Sexuality: Exploring Sexual PossibilitiesRowman & Littlefield Publishers। পৃ: ৭৬। আইএসবিএন 0742570053 
  8. Diamond, Jared (১৯৯১)। The Rise and Fall of the Third Chimpanzee। Radius। পৃ: 360 pages। আইএসবিএন 0091742684 
  9. http://www.goofyfootpress.com/blogs/anatomy/female-anatomy/
  10. http://www.herprivatepleasures.com/4_stages_orgasm.htm
  11. http://www.liveleak.com/view?i=4fd_1380671020
  12. Sexual Intercourse, Sexual Health Center, Discovery Health
  13. http://www.sexuality.org/l/transgen/tsorg.html
  14. Sexual Intercourse, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
  15. http://www.askmen.com/dating/vanessa/28_love_secrets.html
  16. http://everydayfeminism.com/2012/11/top-5-questions-about-the-female-orgasm-answered/
  17. http://health.howstuffworks.com/sexual-health/sexuality/anal-sex-dictionary.htm
  18. http://www.menshealth.com/health/your-dirty-sexy-belly-button
  19. /http://www.everydayhealth.com/sexual-health/dr-laura-berman-truth-about-female-ejaculation.aspx
  20. http://www.luckymojo.com/tkclitoris.html

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]