প্রজনন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাথরকুচি গাছের অযৌন প্রজনন

প্রজনন (বা জনন) হল একটি জৈব প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন জীবের পূর্বপূরুষ বা পিতামাতা থেকে সন্তান অর্থাৎ একই প্রজাতির নতুন বংশধর জীব উৎপন্ন হয়| প্রজনন হল সকল পরিচিত জীবের মৌলিক বৈশিষ্ট; প্রজননের ফলেই প্রতিটি জীবের অস্তিত্ব টিকে থাকে| প্রজননের জ্ঞাত প্রক্রিয়াগুলোকে বিস্তৃতভাবে দুইটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়, অযৌন এবং যৌন|

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

  • অযৌন প্রজনন: অযৌন প্রজনন[১] প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির কোন জীব একই প্রজাতির অপর একটি জীবের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই প্রজনন করতে সক্ষম হয়| একটি এককোষী ব্যাকটেরিয়া বিভাজিত হয়ে দুটি নতুন ব্যাকটেরিয়া কোষ উৎপন্ন হওয়া অযৌন প্রজননের একটি উদাহরণ| তবে অযৌন প্রজনন শুধু এককোষী জীবেই সীমাবদ্ধ নয়| অধিকাংশ উদ্ভিদই অযৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করতে পারে এবং মাইকোসেপাস স্মিথি নামক প্রজাতির পিঁপড়া অযৌন প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ প্রজনন ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হয়।এ্যামিবার দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়া অযৌন প্রজননের একটি উদাহরণ, এছাড়া জেলীফিশ এবং কিছু পতঙ্গ নিষেক ব্যতিরেকেই অসংখ্য ডিম পাড়তে পারে যা অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
হোভারফ্লাই মাছির যৌন প্রজনন
  • যৌন প্রজনন: যৌন প্রজননের জন্য একই প্রজাতির পরস্পর বিপরীত লিঙ্গের দু'টি জীবের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন হয়| এছাড়া, ক্লোনিং পদ্ধতিতেও জীবের বংশবিস্তার ঘটানো যায়|[২][৩] অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণিই এ প্রক্রিয়ায় প্রজননকর্ম সম্পাদন করে। এ ক্ষেত্রে পৃথক দুটি লিঙ্গের প্রাণিদেহে প্রজননের জন্য মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় দুটি পৃথক ধরনের কোষ উৎপাদন প্রক্রিয়া ঘটে, পুংদেহে উৎপাদিত কোষকে শুক্রাণু এবং স্ত্রীদেহে উৎপাদিত কোষকে ডিম্বাণু বা ডিম্ব বলে| এই দুটি কোষ পরস্পর সম্মিলিত হয়ে নিষিক্ত হয় এবং তা থেকে জাইগোট বা গ্যামেট সৃষ্টি হয়| এই জাইগোটই পরবর্তীকালে নতুন সন্তান হিসেবে আবির্ভূত হয়| যে সকল প্রাণী একই দেহে পুং ও স্ত্রী উভয় প্রকারের জনন কোষ উৎপন্ন করে তাদের হারমাফ্রোডাইট বলে। উদ্ভিদ জগতে এটি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, অধিকাংশ প্রজাতির শামুক এবং প্রায় সকল প্রজাতির উদ্ভিদ প্রজাতি হল হারমাফ্রোডাইট।
  • এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাঝে যৌন ও অযৌন উভয়প্রকার প্রজনন দেখা যায়।

তুলনামূলক উপযোগিতা[সম্পাদনা]

যৌন প্রজননের তুলনায় অযৌন প্রজনন অধিকতর সহজ, কিন্তু এক্ষেত্রে সুবিধা ও অসুবিধা উভয় বিদ্যমান রয়েছে:

  • অযৌন পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া একটি জীব শুধুমাত্র তার মাতৃদেহের জিন বহন করে।
  • যৌন পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া জীব জিনগতভাবে তাঁর পিতামাতা থেকে কিছুটা আলাদা হয়, তারা পিতামাতা উভয়ের কাছ থেকে জিনগত বৈশিষ্ট্য লাভ করে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Halliday, Tim R.; Kraig Adler (eds.) (১৯৮৬)। Reptiles & Amphibians। Torstar Books। পৃ: 101। আইএসবিএন 0-920269-81-8  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. S. P. Otto and D. B. Goldstein. "Recombination and the Evolution of Diploidy". Genetics. Vol 131 (1992): 745-751.
  3. Bernstein H, Hopf FA, Michod RE. (1987) The molecular basis of the evolution of sex. Adv Genet. 24:323-370. Review. PMID 3324702

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Tobler, M. & Schlupp,I. (2005) Parasites in sexual and asexual mollies (Poecilia, Poeciliidae, Teleostei): a case for the Red Queen? Biol. Lett. 1 (2): 166-168.
  • Zimmer, Carl. Parasite Rex: Inside the Bizarre World of Nature's Most Dangerous Creatures, New York: Touchstone, 2001.
  • "Allogamy, cross-fertilization, cross-pollination, hybridization"। GardenWeb Glossary of Botanical Terms (2.1 সংস্করণ)। ২০০২। 
  • "Allogamy"। Stedman's Online Medical Dictionary (27 সংস্করণ)। ২০০৪। 

উপরন্তু পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]