বিষয়বস্তুতে চলুন

যৌনাসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হিন্দু মন্দিরগুলোতে কাম-সম্পর্কিত শিল্পকর্মের উপস্থিতি সাধারণ একটি ঘটনা। এখানে বিভিন্ন যৌনাসন প্রদর্শিত হচ্ছে। উপরে: মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, কর্নাটক, ছত্তিসগড়, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও নেপালে অবস্থিত ৬ষ্ঠ থেকে ১৪শ শতকের মন্দির।

যৌনাসন বা যৌনাবস্থান এমন ধরনের শারীরিক আসন বা অবস্থানসমূহ যা মানুষ যৌনসঙ্গমের বা অন্যান্য যৌন ক্রিয়াকলাপ কালীন গ্রহণ করে থাকে। যৌন ক্রিয়াকলাপ সাধারণত অংশগ্রহণকারীদের ক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য অবলম্বনকৃত অবস্থানসমূহ বর্ণনা করে থাকে। যদিও যৌনসঙ্গম সাধারণত একজন কর্তৃক অন্যজনের শরীরে প্রবেশের মধ্যে জড়িত, এবং যৌনাবস্থান সাধারণত অন্তর্ভেদী বা অনাভেদী যৌনক্রিয়ায় জড়িত।

সাধারণত তিন ধরনের যৌনসঙ্গম অনুশীলন করা হয়: যোনি সংসর্গ (যোনি প্রবেশ জড়িত), পায়ুসঙ্গম এবং মুখমৈথুন (বিশেষত মুখের সাহায্যে যৌনাঙ্গে উদ্দীপনা)। যৌনক্রিয়ায় যৌনাঙ্গে উদ্দীপনার অন্যান্য রূপগুলির মধ্যে রয়েছে একক বা পারস্পরিক হস্তমৈথুন, যা আঙুল বা হাত ব্যবহার করে বা কোনও ডিলডো বা ভাইব্রেটারের মতো ডিভাইস (যৌনখেলনা) দ্বারা ঘষতে বা প্রবেশ করতে পারে। এই সমস্ত ক্রিয়ায় পায়ুঘটিত হতে পারে। এমন অনেক যৌনাবস্থান রয়েছে যা অংশগ্রহণকারীরা গ্রহণ করতে পারে; কিছু লেখক যুক্তি দেখিয়েছেন যে যৌনাবস্থানের সংখ্যা মূলত সীমাহীন।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
শুঙ্গ যুগের একটি প্রেমের দৃশ্যের ভাস্কর্য (খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দী)

যৌন সারগ্রন্থগুলি সাধারণত যৌনাবস্থানের নির্দেশিকা উপস্থাপন করে, যার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। গ্রিকো-রোমান যুগে সামোসের ফিলাইনিয়দের রচিত একটি যৌন সারগ্রন্থে লিখেছিলেন, সম্ভবত হেলেনিস্টিক কালের (খ্রিস্টপূর্ব ৩য়–১ম শতাব্দী) একটি হেইতেরা (সৌজন্যে)।[] ধারণানুসারে ১ম থেকে ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে রচিত বাৎস্যায়নের কামসূত্র যৌন সারগ্রন্থ হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছে। বিভিন্ন যৌনাবস্থানের ফলে যৌন প্রবেশের গভীরতা এবং প্রবেশের দিক থেকে পার্থক্য দেখা দেয়। অনেকেই যৌনাবস্থানগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করেছে। আলফ্রেড কিনসে ছয়টি প্রাথমিক অবস্থানকে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন,[] প্রাথমিকভাবে পরিচিত ইউরোপীয় মধ্যযুগীয় লিপিতে যৌনাসন স্প্যাকুলাম আল ফোডেরি হিসেবে প্রকাশ করে, যা প্রায়ই "দ্য মিরর অব কোইটাস" বা "মৈথুনের আয়না" অথবা আক্ষরিক অর্থে "সঙ্গমকারীর আয়না" হিসেবে পরিচিত; যেটি ১৯৭০ সালে আবিষ্কৃত একটি ১৫ শতকের কাতালান লিপি।[][]

অন্তর্ভেদী ক্রিয়া

[সম্পাদনা]

এই আসনগুলি ভগাঙ্কুর, পায়ুপথ বা মুখের ভেতরে উত্থিত বস্তুর (যেমন, শিশ্ন, বন্ধনীযুক্ত কৃত্রিম শিশ্ন, প্লাগ বা অন্যান্য নীরন্ধ্র বস্তুসমূহ) অন্তর্নিবেশের সাথে জড়িত।

সম্মুখ অন্তর্ভেদে নিবিষ্টকারী উপরে

[সম্পাদনা]
মিশনারি, সর্বাধিক প্রচলিত যৌনাসন।[][]

সর্বাধিক প্রচলিত যৌনাসন হল মিশনারি আসন। এই আসনে, সঙ্গীরা একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এতে গ্রহণকারী সঙ্গী চিৎ অবস্থায় পা ছাড়িয়ে শায়িত থাকে এবং নিবিষ্টকারী সঙ্গী তার উপর। এই আসন এবং নিম্নলিখিত বৈচিত্র যোনিসঙ্গম বা পায়ুসঙ্গমের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।

পশ্চাৎ সন্নিবেশ

[সম্পাদনা]

গ্রহণকারী উপরে

[সম্পাদনা]

নারী উপরে পুরুষ নিচে

বসা এবং হাঁটু গাঁড়া

[সম্পাদনা]

এই অবস্থানের অধিকাংশ যোনি এবং মলদ্বার উভয় পথে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • প্রথম সঙ্গীটি একটি তক্তার উপর পা প্রসারিত করে বসে। দ্বিতীয় সঙ্গীটি তার উপরে বসবে পা দু'দিকে ছড়িয়ে দিয়ে। যদি তাদের পা অতিক্রম করে তবে তাকে "পদ্মাসন" বলা হয়। এই অবস্থানে, অংশীদার একে অপরের সাথে সাঁতার কাটার ভঙ্গিমায় আনন্দ এবং প্রচণ্ড উত্তেজনা সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারেন।

দণ্ডায়মান

[সম্পাদনা]

পায়ুসঙ্গম

[সম্পাদনা]
নারীর পায়ুতে শিশ্ন প্রবেশ

পায়ুসঙ্গমকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যৌনক্রিয়া বলা হয় পায়ুপথের সহজনশ্বরতার জন্য। পায়ুপথে যোনিপথের মত পিচ্ছিলতা না থাকায় পায়ুপথের টিস্যু সহজে ছিঁড়ে যায়, বিশেষ করে তখন যখন পায়ুপথে লুব্রিক্যান্ট না ব্যবহার করা হয়।‹› কনডম ছাড়া পায়ুসঙ্গম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং সেইজন্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাসমূহ যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পায়ুসঙ্গম করার ক্ষেত্রে নিরাপদ যৌনতা অবলম্বন করতে বলে।

কম প্রচলিত

[সম্পাদনা]


গর্ভধারণের সম্ভাবনা

[সম্পাদনা]

গর্ভধারণ হলো কোন যৌনতার সম্ভাব্য পরিণতি যেখানে শুক্রাণু কোষের সাথে যোগাযোগ করে (বিশেষ করে যোনি যৌন)। যাইহোক, যেকোন আসনের মাধ্যমেই গর্ভধারণ হতে পারে যেখানে তরল শুক্রাণু যোনির নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রবেশ করে। যদিও কিছু যৌন অভ্যাস অন্যগুলোর চেয়ে গর্ভাবস্থার জন্য সহজ আবার কোনোটি গর্ভনিরোধকের জন্য নিরাপদ।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sanders, E.; Thumiger, C.; Carey, C.; Lowe, N. (২০১৩)। Erôs in Ancient Greece। OUP Oxford। পৃ. ২৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯৬০৫৫০৭। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  2. 6 Positions For Sexual Intercourse - In Order Of Popularity - Sex, Love And Marriage - Book of Lists - Canongate Home
  3. সলোমন ১৯৮৬
  4. সলোমন ১৯৯০
  5. Keath Roberts (২০০৬)। Sex। Lotus Press। পৃ. ১৪৫। আইএসবিএন ৮১৮৯০৯৩৫৯২। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১২
  6. Wayne Weiten; Margaret A. Lloyd; Dana S. Dunn; Elizabeth Yost Hammer (২০০৮)। Psychology Applied to Modern Life: Adjustment in the 21st CenturyCengage Learning। পৃ. ৪২৩। আইএসবিএন ০৪৯৫৫৫৩৩৯৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১২

সূত্র

[সম্পাদনা]

সলোমন, মাইকেল আর., সম্পাদক (১৯৮৬)। Text and Concordance of Speculum al foderi, Biblioteca Nacional MS. 3356আইএসবিএন ০৯৪২২৬০৬০০ সলোমন, মাইকেল আর., সম্পাদক (১৯৯)। The Mirror of coitus : a translation and edition of the fifteenth-century Speculum al foderi (স্প্যানিয় ভাষায়)। আইএসবিএন ০-৯৪০৬৩৯-৪৮-৩ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিক
আধুনিক

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে যৌনাসন সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।