শারীরবিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিশ্ব বিখ্যাত অঙ্কন ভিত্রুভিয়ানো মানব, c. ১৪৮৭। এটা প্রায়ই শারীরবৃত্ত বিজ্ঞান সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

শারীরবিদ্যা (ইংরেজি: Physiology) (/ˌfɪziˈɒləi/; প্রাচীন গ্রিক থেকে φύσις (physis) যার অর্থ "প্রকৃতি, উৎপত্তি", এবং -λογία (-logia) যা অর্থ "গবেষণা"[১]) একটি বিশুদ্ধ প্রাণিবিজ্ঞানের প্রধান শাখা। এ শাখায় প্রাণিদেহের পুষ্টি, শ্বসন, ক্ষরণ, রেচন, জনন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী আলোচনা করা হয়।[২] প্রত্যেক জীবের তার নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। জীবের শরীরের কার্যপ্রণালী নিয়ে শারীরবিদ্যায় আলোচনা করা হয়। রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমি কর্তৃক ১৯০১ সাল থেকে শারীরবিদ্যায় ভূষিত সর্বোচ্চ সম্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

৪২০ খ্রিস্টপূর্বে হিপোক্রেটিসের সময়কালে মানব শারীরবিদ্যা, গবেষণা ছাড়াও ঔষধের জনক হিসেবে পরিচিত ছিলো।[৩] প্রাচীন গ্রীসে এরিস্টটলের সমালোচনা এবং কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ক এবং চিহ্নিত কার্যকারিতার উপরে জোর দেওয়ার মধ্য দিয়েই শারীরবিদ্যা ধারনার শুরু হয়। যখন ক্লডিয়াস গ্যালেনাসের (১২৬-১৯৯ খ্রিস্টাব্দ), গ্যালেন নামে পরিচিত, শরীরের কার্যকারিতা অনুসন্ধানের পরীক্ষার ব্যবহারই ছিলো প্রথম। গ্যালেন পরীক্ষামূলক শারীরবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।[৪]

জাঁ ফার্নেল (Jean Fernel), একজন ফরাসি চিকিত্সক, ১৫২৫ সালে "শারীরবিদ্যা" ("physiology") শব্দটির পরিচল দেন।

উনিশ শতকে, শারীরবৃত্তীয় জ্ঞান দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষ করে ১৮৩৮ সালে জার্মান জীববিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ান এবং মাথিয়াস শ্লেইডেনের কোষ তত্ত্বের আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যে সকল জীবিত বস্তুই এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত এবং সকল কোষই পূর্বে অস্তিত্বশীল অন্য কোন কোষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

বিংশ শতকে জীববিজ্ঞানীরা আগ্রহী হয়ে ওঠেন এ বিষয়ে যে, তুলনামূলক শারীরবিদ্যা এবং পরিবেশ শারীরবিদ্যার ক্ষেত্রে কিভাবে জীব কার্যাবলী মানব কার্যাবলী থেকে ভিন্ন।[৫] এই ক্ষেত্রের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি হলেন, Knut Schmidt-Nielsen এবং George Bartholomew। অতি সম্প্রতি, বিবর্তনমূলক শারীরবিদ্যা একটি স্বতন্ত্র উপবিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ধরণ[সম্পাদনা]

সাধারণত শারীরবিদ্যা ২ ধরনের; একটি হচ্ছে প্রাণি শারীরবিদ্যা অপরটি হচ্ছে উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা। প্রাণী শারীরবিদ্যায় মানবদেহের শারীরবিদ্যাই বিশদ বর্ণনা আছে। এছাড়াও অনেক রকম শারীরবিদ্যা রয়েছে যেমন- ভাইরাল শারীরবিদ্যা, ব্যাকটেরিয়াল শারীরবিদ্যা, কোষ শারীরবিদ্যা এবং আরো অনেক বিভাগ।[৬]

মানবদেহের শারীরবিদ্যা[সম্পাদনা]

মানবদেহের শারীরবিদ্যায় মানবদেহের নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং দেহের বিভিন্ন কার্যপ্রণালীর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটা এক ধরণের বিজ্ঞান যা মানুষের, যান্ত্রিক, শারীরিক এবং জৈবরাসায়নিক কর্ম, তাদের অঙ্গ, এবং তারা যে কোষের মধ্যে গঠিত সে বিষয়ে আলোচনা করে। শারীরবৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর প্রধান স্তর হলো, অঙ্গ স্তর এবং ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবস্থা। অন্তঃস্রাবী এবং স্নায়বিক ব্যবস্থা প্রাণীদের মধ্যে কার্যকর শ্বসন এবং সংক্রমণ সংকেত এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। হোমিওস্টয়াটিক উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয় প্রাণীদের সঙ্গে একটি প্রধান দিক।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "শারীরবিদ্যা"Online Etymology Dictionary 
  2. উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান প্রাণিবিজ্ঞান, লেখক: গাজী আজমল, গাজী আসমত
  3. "Physiology"Science Clarified। Advameg, Inc.। সংগৃহীত ২০১০-০৮-২৯ 
  4. Fell, C.; Pearson, F. (November ২০০৭)। "Historical Perspectives of Thoracic Anatomy"Thoracic Surgery Clinics 17 (4): 443–8। ডিওআই:10.1016/j.thorsurg.2006.12.001  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  5. Feder, ME; Bennett, AF; WW, Burggren; Huey, RB (১৯৮৭)। New directions in ecological physiology। New York: Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-0-521-34938-3 
  6. অনুবাদকৃত হয়েছে Text Book of Medical Physiology, Guyton & Hallথেকে

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]