নিষেক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(নিষেকক্রিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)

নিষেকক্রিয়া (ইংরেজি: Fertilisation) হল গ্যামিটদ্বয়ের মিলনের মাধ্যমে একই প্রজাতির নতুন একটি জীব উৎপাদন। প্রাণীর ক্ষেত্রে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয় এবং প্রকারান্তরে ভ্রুণ তৈরি করে।[১] প্রাণীর প্রজাতির উপর নির্ভর করে নিষেক স্ত্রী-প্রজাতির দেহের ভিতরে অন্তঃনিষেক প্রকিয়ায় বা দেহের বাইরে বহিঃনিষেক প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।নতুন প্রাণ তৈরি হবার সম্পূর্ণ এ প্রক্রিয়াকে প্রোক্রিয়েশন এবং এর জন্য প্রজাতিসমূহের কার্যাবলীকে প্রজনন বলে।

নিষেক ক্রিয়া সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি:[সম্পাদনা]

  1. অধিকাংশ প্রানীর নিষেক কোন না কোন জলীয় মাধ্যমে সংঘটিত হয়। স্খলিত বা নিষিক্ত এই জলীয় মাধ্যমে সন্তরণ করে ডিম্বানুর সংস্পর্শে আসে। স্বাদু বা সামুদ্রিক পানি কিংবা দেহের অভ্যন্তরীন কোন দেহতরল এই জলীয় মাধ্যমরুপে কাজ করে।
  2. জননকোষের জীবনকাল সীমিত।এজন্য শুক্রানু বা ডিম্বানু নির্গমনের পর অতি দ্রুত নিষেক সংগঠন আবশ্যক। মাছ,উভচর ও অন্যান্য জলজ অমেরুদন্ডী প্রানীর ডিম্বানু বিমুক্ত হবার কয়েক মিনিটের মধ্যে নিষিক্ত হওয়া বাঞ্চনীয়। অন্যথায় ডিম্বানু নষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রী প্রানীর দেহের অভ্যন্তরে নিষেক ঘটলে সেক্ষেত্রে দেহের মধ্যে ডিম্বানুর আয়ুস্কাল বেশি হয়। যেমন: স্ত্রীলোকের ডিম্বানু নির্গমনের পর প্রায় ২৪ ঘন্টা টিকে থাকে। শুক্রানুর আয়ুস্কালও সংক্ষিপ্ত। স্ত্রী জনন নালীতে মানুষের শুক্রানু ২৪ ঘন্টা সক্রিয় থাকে। তবে বাঁদুরে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। বাদুরের স্ত্রীজনন নালীতে শুক্রানুগুলো সমগ্র শীতকালব্যাপী (শীত নিদ্রার সময়) বেঁচে থাকে।
  3. নিষেক নিশ্চিত করার জন্য একই সময়ে ডিম্বানুর তুলনায় প্রচুর সংখ্যক শুক্রানুর স্খলন প্রয়োজন। যেমন: প্রতিবার নিক্ষেপনে বাঁদুরে ০.০৫ মিলি লিটার, ইঁদুরে ০.২ মিলি লিটার এবং শুকরে ৫০০ মিলি লিটার বীর্যরস ক্ষরিত হয়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Fertilization"। Merriam-Webster। সংগৃহীত ২০১৩-১১-০৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Animalbirth টেমপ্লেট:Embryology