প্রাপ্তবয়স্ক

| মানবদেহের বিকাশ |
|---|
| ধারাবাহিকের অন্তর্গত |
| ধাপসমূহ |
| জৈবিক মাইলফলক |
| মনোবিজ্ঞান |
প্রাপ্তবয়স্ক (স্ত্রীলিঙ্গ: প্রাপ্তবয়স্কা) বা পূর্ণবয়স্ক (স্ত্রীলিঙ্গ: পূর্ণবয়স্কা) বলতে কোনো প্রাণীর সম্পূর্ণ বৃদ্ধির দশাকে বোঝায়।[১] "প্রাপ্তবয়স্ক" শব্দের জৈবিক তাৎপর্য এই যে প্রাণীটি যৌনভাবে পরিপক্ব এবং প্রজনন ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
মানুষদের ক্ষেত্রে "প্রাপ্তবয়স্ক" বা সাবালক (স্ত্রীলিঙ্গ: সাবালিকা) শব্দের আইনি ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। আইনশাস্ত্রে সাবালক বলতে সাবালকত্বের বয়স প্রাপ্ত ব্যক্তিদের বোঝায়, আর সুতরাং তাদের স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও দায়িত্বপূর্ণ। সাধারণত ১৮ বছর বয়সকে মানব সাবালকত্বের বয়স ধরা হয়, তবে আইনি অধিকার, রাষ্ট্র ও মানসিক বিকাশের উপর ভিত্তি করে এটি পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে কোনো ব্যক্তি জৈবিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে, কিন্তু তার বয়স বৈধ সাবালকত্বের নিচে হলে তাকে "নাবালক", "শিশু" বা "কিশোর" হিসাবে ধরা হয়। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে সাবালক হতে পারে কিন্তু তার জৈবিক প্রাপ্তবয়স্কদের মতো মানসিক পরিপক্বতা বা দায়িত্ববোধের অভাব থাকতে পারে।
বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শিশু থেকে সাবালক হওয়ার ঘটনাকে বিভিন্ন উপায়ে পালন করা হয়। যেমন, কোনো ব্যক্তি সাবালকত্বের জন্য প্রস্তুত কিনা তা যাচাই করার জন্য একাধিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
জৈবিক সাবালকত্ব
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিকভাবে ও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মূলত বয়ঃসন্ধির সূচনা ধরে কোনো ব্যক্তির সাবালকত্ব নির্ণয় করা হয়। বয়ঃসন্ধির সময় নারীদের রজঃস্রাব ও স্তনদ্বয়ের বিকাশ হয়, পুরুষদের বীর্যস্খালন ও গম্ভীর স্বরের বিকাশ হয় এবং উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে উপস্থের লোমের বিকাশ হয়।[২][৩] অতীতে কোনো ব্যক্তি সরাসরি শিশু থেকে সাবালক হয়ে যেত, আর এই উপলক্ষকে অনেকসময় কোনো পরীক্ষা বা প্রথার মাধ্যমে উদ্যাপন করা হতো।[৪] শিল্প বিপ্লবের সময় পরিবার পালন করার জন্য শিশুদের যত দ্রুত সম্ভব কর্মে প্রবেশ করত। তখন শিক্ষা বা বিদ্যালয় নিয়ে অত্যধিক গুরুত্ব ছিল না। অনেক শিশুই চাকরি পেয়ে যেত আর তাদের বর্তমান সাবালকদের মতো অভিজ্ঞ বা দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। আরও সাম্প্রতিক কালে সাবালকত্ব বলতে নিছক শারীরিক পরিপক্বতার চেয়েও অনেক কিছু বোঝায়।[৫]
শিশুভেদে বয়ঃসন্ধির বয়স ভিন্ন, তবে সাধারণত ১০-১২ বছর বয়সেই তা শুরু হয়; বালকদের ক্ষেত্রে ১১-১২ ও বালিকাদের ক্ষেত্রে ১০-১১।[৬][৭][৮] সাধারণত ১৬-১৭ বছর বয়সে বালকদের আর ১৫-১৭ বছর বয়সে বালিকাদের বয়ঃসন্ধি সম্পন্ন হয়।[৮][৯]
বৈধ সাবালকত্ব
[সম্পাদনা]আইনগতভাবে সাবালকত্ব হলো একটা চুক্তির মতো, যেখানে তার ওপর থেকে মা-বাবার চিন্তা, ভরণ পোষণের দায়িত্ব শেষ হয়, বিয়ে, ভোট দেয়া, চাকরি করা, সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়া, ক্যাসিনোতে জুয়া খেলা (যদি তা স্থানীয়ভাবে বৈধ হয়), যৌনকর্মীর কাছে যাওয়া বা নিজে যৌনকর্মী হওয়া (যদি তা স্থানীয়ভাবে বৈধ হয়), গাড়ি চালানোর অধিকার পাওয়া, পর্নোগ্রাফির মডেল হওয়া (যদি তা স্থানীয়ভাবে বৈধ হয়) ও মদ্যপান করা (যদি তা স্থানীয়ভাবে বৈধ হয়), প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থীত্ব ইত্যাদি ব্যাপার ঘটে। ভারত, চীন, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড-এ ১৮ বছর বয়সকে ধরা হয় সাবালকত্বর বয়স, তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন- স্কটল্যান্ডে ১৬ বছরকে, জাপান ও ইন্দোনেশিয়াতে ২০ বছরকে, দক্ষিণ কোরিয়াতে ১৯ বছরকে সাবালকত্বর বয়স হিসেবে দেখা হয়। নেইল পোস্টম্যানের লেখা দ্যা ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অব চাইল্ডহুড নামক গ্রন্থে আমরা দেখি যে মধ্যযুগে খ্রিস্টিয়ান চার্চ মাত্র ৭ বছর বয়সকে ধরত সাবালকত্বর বয়স হিসেবে।
সামাজিক সাবালকত্ব
[সম্পাদনা]বয়োবৃদ্ধি ও সাবালকত্বের জৈবিক ভিত্তির বিপরীতে সামাজিক বিজ্ঞানীরা সাবালকত্বের সামাজিক ভিত্তির ধারণা পেশ করে, যাকে সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষায় সোশ্যাল কনস্ট্রাকশনিজম বলে।[১০][১১]
কাল পরিবর্তনে সাবালকত্বের মানদণ্ডের পরিবর্তন সাবালকত্বের সামাজিক ভিত্তিকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাবালক হওয়া মানে শিক্ষা সম্পূর্ণ করে উৎস পরিবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে নিজের জীবিকা শুরু করা।[১২][১৩][১৪] এছাড়া বিবাহ করা ও পিতা/মাতা হওয়া সাবালকত্বের কিছু ঐতিহাসিক মানদণ্ড। অবশ্য এধরনের মানদণ্ড সামাজিক ও আত্মনিষ্ঠ, আর বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণিভেদে (যেমন লিঙ্গ, বর্ণ, জাতি) সামাজিক সাবাককত্বের মানদণ্ড ভিন্ন হতে পারে। এর ফলে কিছুজনের মনে হয় যে তারা অন্যদের আগেই সাবালক হয়ে গিয়েছে।[১৫][১৬][১৭][১৮]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Adult organism"। ৫ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ McNamara, Thomas Edward (২০০৪)। Evolution, Culture, and Consciousness: The Discovery of the Preconscious Mind। University Press of America। পৃ. ২৬২–২৬৩। আইএসবিএন ০-৭৬১৮-২৭৬৫-X। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ SETTERSTEN, RICHARD (২০১৫)। "Becoming adult: Meanings of markers to adulthood" (পিডিএফ)। Emerging Trends in the Social and Behavioral Sciences: An Interdisciplinary, Searchable, and Linkable Resource: ১–১৬ – umnikizdes এর মাধ্যমে।
- ↑ Marantz Henig, Robin (১৮ আগস্ট ২০১০)। "What Is It About 20-Somethings?"। The New York Times। পৃ. ১০। ১১ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০।
The Discovery of adolescence is generally dated to 1904, with the publication of the massive study "Adolescence," by G. Stanley Hall, a prominent psychologist and first president of the American Psychological Association.
- ↑ "Has Fecundability been Declining in Recent Years in Developed Countries?"। Journal of Biosocial Science। ১৫ (1)। জানুয়ারি ১৯৮৩। ডিওআই:10.1017/s0021932000006349। আইএসএসএন 0021-9320।
- ↑ Kail, RV; Cavanaugh JC (২০১০)। Human Development: A Lifespan View (5th সংস্করণ)। Cengage Learning। পৃ. ২৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৯৫-৬০০৩৭-৪। ১০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৮।
- ↑ Schuiling, Kerri Durnell; Likis, Frances E. (২০১৬)। Women's Gynecologic Health। Jones & Bartlett Learning। পৃ. ২২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-২৮৪-১২৫০১-৬। ১০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৮।
The changes that occur during puberty usually happen in an ordered sequence, beginning with thelarche (breast development) at around age 10 or 11, followed by adrenarche (growth of pubic hair due to androgen stimulation), peak height velocity, and finally menarche (the onset of menses), which usually occurs around age 12 or 13.
- 1 2 Phillips, D. C. (২০১৪)। Encyclopedia of Educational Theory and Philosophy। SAGE Publications। পৃ. ১৮–১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৮৩৩-৬৪৭৫-৯। ১০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৮।
On average, the onset of puberty is about 18 months earlier for girls (usually starting around the age of 10 or 11 and lasting until they are 15 to 17) than for boys (who usually begin puberty at about the age of 11 to 12 and complete it by the age of 16 to 17, on average).
- ↑ Solomon, Jean W.; O'Brien, Jane Clifford (২০১৪)। Pediatric Skills for Occupational Therapy Assistants – E-Book। Elsevier Health Sciences। পৃ. ১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩২৩-২৯১৬৩-৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৮।
- ↑ Settersten, Richard A. Jr. (২ ডিসেম্বর ২০১৮)। Lives in time and place: the problems and promises of developmental science। Taylor & Francis। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৭৮৪২১-৪। ওসিএলসি 1121019775।[পৃষ্ঠা নম্বর প্রয়োজন]
- ↑ Elder, Glen H., সম্পাদক (১৯৮৫)। "Perspectives on the life course"। Life course dynamics: trajectories and transitions, 1968-1980। Cornell University Press। পৃ. ২৩–৪৯। আইএসবিএন ০-৮০১৪-৯৩২৩-৪। ওসিএলসি 469306035।
- ↑ Arnett, Jeffrey Jensen (১৯৯৮)। "Learning to Stand Alone: The Contemporary American Transition to Adulthood in Cultural and Historical Context"। Human Development। ৪১ (5/6): ২৯৫–৩১৫। ডিওআই:10.1159/000022591। জেস্টোর 26763368। এস২সিআইডি 143862036।
- ↑ Levinson, Daniel J. (১৯৭৯)। The Seasons of a man's life। Ballantine Books। আইএসবিএন ০-৩৪৫-২৯৭২৭-X। ওসিএলসি 9162079।
- ↑ Shanahan, Michael J. (আগস্ট ২০০০)। "Pathways to Adulthood in Changing Societies: Variability and Mechanisms in Life Course Perspective"। Annual Review of Sociology। ২৬ (1): ৬৬৭–৬৯২। ডিওআই:10.1146/annurev.soc.26.1.667। জেস্টোর 223461।
- ↑ Arnett, Jeffrey Jensen (২০০৩)। "Conceptions of the Transition to Adulthood Among Emerging Adults in American Ethnic Groups"। New Directions for Child and Adolescent Development। ২০০৩ (100): ৬৩–৭৬। ডিওআই:10.1002/cd.75। পিএমআইডি 12955983।
- ↑ Aronson, Pamela (ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "The Markers and Meanings of Growing Up: Contemporary Young Women's Transition From Adolescence to Adulthood"। Gender & Society। ২২ (1): ৫৬–৮২। ডিওআই:10.1177/0891243207311420। পিএমসি 2312095। পিএমআইডি 18418470।
- ↑ Barrett, Anne E. (মার্চ ২০০৩)। "Socioeconomic Status and Age Identity: The Role of Dimensions of Health in the Subjective Construction of Age"। The Journals of Gerontology Series B: Psychological Sciences and Social Sciences। ৫৮ (2): S১০১ – S১০৯। ডিওআই:10.1093/geronb/58.2.s101। পিএমআইডি 12646599।
- ↑ Barrett, Anne E. (মে ২০০৫)। "Gendered experiences in midlife: Implications for age identity"। Journal of Aging Studies। ১৯ (2): ১৬৩–১৮৩। ডিওআই:10.1016/j.jaging.2004.05.002।