যৌন সহিংসতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যৌন সহিংসতা হল সহিংসতা বা জবরদস্তির মাধ্যমে যে কোনও যৌন কাজ বা যৌনতা অর্জনের চেষ্টা, যা কোনও ব্যক্তিকে পাচার করার জন্য বা কোনও ব্যক্তির নির্দেশিত যৌনতার বিরুদ্ধে অথবা শিকার হওয়া ব্যাক্তির সাথে সম্পর্ক নির্বিশেষে কাজ করে।[১][২][৩] এটি শান্তি ও সশস্ত্র সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে ঘটে, এটি ব্যাপক ও সবচেয়ে আঘাতমূলক, বিস্তৃত ও সবচেয়ে সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হয়।[৪][৫]

যৌন সহিংসতা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী গভীর প্রভাব ফেলে, যেমন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি, [৬] আত্মহত্যা বা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি। যৌন নিপীড়নের সময় অথবা যৌন হেনস্থার প্রতিক্রিয়ায় অনার কিলিংয়ের ফলে ঘটে যাওয়া হত্যাও যৌন সহিংসতার একটি কারণ। যদিও নারী ও মেয়েরা এই দিক থেকে অসমভাবে ভুক্তভুগি হন, [৫] যে কোনো বয়সে যে কারোর প্রতিই যৌন সহিংসতা ঘটতে পারে; এটি একটি সহিংসতার কাজ, যা বাবা -মা, যত্নশীল, পরিচিত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্তরঙ্গ সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত হতে পারে। এটি খুব কমই আবেগের অপরাধ, এবং এটি বরং একটি আক্রমণাত্মক কাজ, যা প্রায়শই ভিকটিমের উপর ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রকাশ করার লক্ষ্য রাখে।

সব ক্ষেত্রেই যৌন সহিংসতা অত্যন্ত কলঙ্কিত ঘটনা, এইভাবে হামলার প্রকাশের মাত্রা অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে, এটি একটি ব্যাপকভাবে কম রিপোর্ট বা নথিভুক্ত করা ঘটনা, এইভাবে উপলব্ধ তথ্য সমস্যাটির প্রকৃত পরিমাণকে অবমূল্যায়ন করে। উপরন্তু, যৌন সহিংসতাও গবেষণার একটি অবহেলিত ক্ষেত্র, সুতরাং এর বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত আন্দোলনকে উৎসাহিত করার জন্য বিষয়টিকে গভীরভাবে বোঝা অপরিহার্য। গার্হস্থ্য যৌন সহিংসতা দ্বন্দ্ব-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা থেকে আলাদা। [৭] প্রায়শই, যারা তাদের স্ত্রীকে যৌনকর্মে বাধ্য করে, তারা বিশ্বাস করে যে তাদের কাজগুলি বৈধ কারণ তারা বিবাহিত। দ্বন্দ্বের সময়ে, যৌন সহিংসতা চলমান দায়মুক্তির চক্রে আটকে থাকা যুদ্ধের অনিবার্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে। [৮][৯] শত্রুর উপর আক্রমণের একটি ধরন হিসেবে নারী ও পুরুষদের ধর্ষণ প্রায়শই যুদ্ধের পদ্ধতি (যুদ্ধ ধর্ষণ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[১০] এমনকি আইএইচআরএল, প্রচলিত আইন ও আইএইচএল দ্বারা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও, প্রয়োগের প্রক্রিয়াগুলি এখনও বিশ্বের অনেক কোণে ভঙ্গুর বা অস্তিত্বহীন। [৪][৫] [১১] [১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. World Health Organization., World report on violence and health (Geneva: World Health Organization, 2002), Chapter 6, pp. 149.
  2. [Elements of Crimes, Article 7(1)(g)-6 Crimes against humanity of sexual violence, elements 1. Accessed through "Archived copy"। ২০১৫-০৫-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১০-১৯ ]
  3. McDougall (1998)
  4. Lindsey (2001)
  5. "Advancement of women: ICRC statement to the United Nations, 2013"icrc। ২০১৩-১০-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৩  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "icrc.org" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "icrc.org" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  6. Holmes MM et al. Rape-related pregnancy: estimates and descriptive characteristics from a national sample of women. American Journal of Obstetrics and Gynecology, 1996, 175:320–324.
  7. [Human Security Report (2012), Sexual Violence, Education and War: Beyond the mainstream narrative, Human Security Research Group, Simon Fraser University, Canada, Human Security Press]
  8. International Committee of the Red Cross (২০০৮)। Women and War। ICRC। পৃষ্ঠা 12। 
  9. OCHA (2007)
  10. Swiss S et al. Violence against women during the Liberian civil conflict. Journal of the American Medical Association, 1998, 279:625–629.
  11. Physicians for Human Rights (২০০২)। War-related sexual violence in Sierra Leone : a population-based assessment : a report। Physicians for Human Rights। আইএসবিএন 978-1-879707-37-5 
  12. OCHA (2007)

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Campanaro, Jocelyn (২০০২)। "Women, war and international law: the historical treatment of gender-based war crimes"। The Georgetown Law Journal89: 2557–2592। 
  • Heineman, Elizabeth D., সম্পাদক (২০১১)। Sexual violence in conflict zones: from the ancient world to the era of human rights (1st সংস্করণ)। Philadelphia, PA: University of Pennsylvania Press। আইএসবিএন 978-0-8122-4318-5 
  • Lindsey, Charlotte (২০০১)। Women Facing War। Geneva: ICRC। 
  • McDougall, Gay J. (১৯৯৮)। Contemporary forms of slavery: systematic rape, sexual slavery and slavery-like practices during armed conflict। Final report submitted by Ms. Jay J. McDougall, Special Rapporteur, E/CN.4/Sub.2/1998/13। 
  • OCHA (২০০৭)। The shame of war: sexual violence against women and girls in conflict। OCHA/IRIN। 
  • WHO (২০০৩)। Guidelines for medico-legal care for victims of sexual violence (PDF)। World Health Organization। আইএসবিএন 978-92-4-154628-7 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]