হাইপারসেক্সুয়ালিটি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

হাইপারসেক্সুয়ালিটি (ইংরেজি: Hypersexuality) হল মানসিক স্বাস্থ্য গবেষকগণ এবং বিশেষজ্ঞদের দ্বারা চিকিৎসাবিদ্যায় নির্ণীত একটি রোগ যা দ্বারা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া বা অতিমাত্রার বারংবার যৌন আকাঙ্খা বা যৌন কর্মকান্ডকে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্ডকোষ থেকে এন্ড্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। অল্পবয়সে এই হরমোনের ক্ষরণ বেশি হলে অপরিণত বয়সেই যৌন লক্ষন প্রকাশ পায়। এটি হল যৌনসঙ্গম করার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক দৃঢ় চাহিদা।[১]নারীদের ক্ষেত্রে এটি নিমফোমেনিয়া এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি সেটিরিয়াসিস নামে পরিচিত। এ অবস্থায় হস্তমৈথুন করে চরমানন্দ পাওয়া যায়, যাকে ইউফোরিয়া (Euphoria) বলে। কিছু উত্তেজক ঔষুধের প্রভাবেও এটি ঘটে থাকে, যেমন এম্ফিটামিন। কিছু মানসিক রোগের কারণেও এটি হয়ে থাকে[২][৩]; এগুলো হল: বাইপোলার ডিজর্ডার, সিজোএফেক্টিভ ডিজর্ডার, বর্ডারলাইন পারসনালিটি ডিজর্ডার, হিস্ট্রিয়নিক পারসোনালিটি ডিজর্ডার। এছাড়া কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যার কারণ অজানা। কিছু মনোবিজ্ঞানী মনে করেন যে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও এটি হতে পারে।[৪][৫][৬]

পরিদর্শন[সম্পাদনা]

সেক্সোলজিস্টরা ১৮০০ সাল পরবর্তি সময় থেকে ‘হাইপারসেক্সুয়ালিটি’ শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। ঐ শতকেরই আশির দশকে ক্রাফ্ট-এবিং তার যৌনরোগ বিষয়ক পুস্তক সাইকোপ্যাথিয়া সেক্সুয়ালিস -এ এই ধরনের চরম যৌন আচরণের বর্ণনা দেন।[২][৩] লেখক এক্ষেত্রে প্রিম্যাচিওর ইজ্যাকিউলেইশন বা অকাল বীর্যপাত বিষয়টি বর্ণনা করতে হাইপারসেক্সুয়ালিটি শব্দটি ব্যবহার করেন। হাইপারসেক্সুয়ালিটি হতে পারে একটি প্রাথমিক অবস্থা কিংবা অন্য কোন মানসিক রোগের উপসর্গ। যেমন, ক্লুভার-বুচি সিন্ড্রোম বা বাইপোলার ডিজর্ডার। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ যেমন, পর্কিনসন্স ডিজিজের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। তবে হাইপারসেক্সুয়ালিটিকে একটি প্রাথমিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে নাকি একে ভিন্নতর কোন রোগের উপসর্গ হিসেবে চিন্হিত করা উচিত, এ বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও একমত নন।[৭][৮][৯] অপরদিকে, হাইপারসেক্সুয়ালিটিকে একটি রোগ হিসেবে ভাবার যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন লেখক নানাসময় প্রশ্ন তুলেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, যৌনতাকে ‘চরম’ আখ্যা দেওয়া কোনমতেই সঠিক নয়। কারণ এতে জনসাধারণের মনে যৌনতা সম্বন্ধে একটি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়।[১০] চিকিৎসক ও থেরাপিস্টরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হাইপারসেক্সুয়াল আচরণগুলোকে দেখে থাকেন। কেউ কেউ এ রোগটিকে দেখেন আসক্তি হিসেবে,[১১][১২] আবার কেউ কেউ অবসেসিভ-কম্পাল্সিভ ডিজর্ডার হিসেবে বা ওসিডি স্পেক্ট্রামে বিদ্যমান দশা হিসেবে দেখে থাকেন। তবে কিছু সংখ্যক লেখক ভিন্নমত পোষণ করেন এবং হাইপারসেক্সুয়াল আচরণগুলোকে বরং নিতান্তই সামাজিক পছন্দ-অপছন্দের প্রতিফলন বলে মনে করেন।[১০][১৩][১৪] গবেষকদের মাঝে এ রোগ সম্বন্ধে সাধারণ ঐকমত্য না থাকার দরূণ,[৩] কিছু লেখক প্রায়শই অর্থের অদলবদল ঘটিয়ে রোগটি ব্যাখ্যা করে থাকেন। তবে এটি অনেকাংশেই নির্ভর করে গবেষকরা কোন তত্ত্বটিকে সমর্থন করছেন এবং কোন সুনির্দিষ্ট আচরণের উপর গবেষণা করছেন তার উপর। এ রোগটির সাথে সমার্থক এমন শব্দগুচ্ছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- কম্পালসিভ মাস্টারবেশন (অমোঘ মৈথুন), কম্পালসিভ সেক্সুয়াল বিহেভিয়র (অমোঘ যৌন আচরণ),[১৫][১৬] সাইবারসেক্স আসক্তি, সমস্যাপ্রবণ ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহার,[১৭] অ্যারোটোম্যানিয়া, এক্সেসিভ সেক্স ড্রাইভ,[১৮] হাইপারফিলিয়া,[১৯] অতিযৌনতা,[২০][২১] হাইপারসেক্সুয়াল ডিজর্ডার,[২২], প্রব্লেমেটিক হাইপারসেক্সুয়ালিটি,[২৩] সেক্সুয়াল ডিপেন্ডেন্সি,[১৪] সেক্সুয়্যাল অ্যাডিকশন (যৌন আসক্তি), সেক্সুয়াল কম্পালসিভিটি,[২৪] সেক্সুয়াল ইম্পালসিভিটি,[২৫] ‘নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত যৌন আচরণ’,[২৬], প্যারাফিলিয়া রিলেটেড ডিজর্ডার[২৭][২৮][২৯] প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.merriam-webster.com/dictionary/hypersexual
  2. Krafft-Ebing, R. von (1886/1965). Psychopathia sexualis: A medico–forensic study (H. E. Wedeck, Trans.). New York: Putnam.
  3. Kafka, M. P. (2010). Hypersexual Disorder: A proposed diagnosis for DSM-V. Archives of Sexual Behavior, 39, 377–400.
  4. Catalan, (1995). Hypersexuality revisited, The Journal of Forensic Psychiatry, 6:2, 255–258.
  5. Silverstone T, T (১৯৮৫)। "Dopamine in manic depressive illness. A pharmacological synthesis"। Journal of Affective Disorders8 (3): 225–31। doi:10.1016/0165-0327(85)90020-5PMID 2862169 
  6. Boyd, Alan (১৯৯৫)। "Bromocriptine and psychosis: A literature review"Psychiatric Quarterly66 (1): 87–95। doi:10.1007/BF02238717PMID 7701022। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-০৬ 
  7. Stein, D. J. (2008). Classifying hypersexual disorders: Compulsive, impulsive, and addictive models. Psychiatric Clinics of North America, 31, 587–592.
  8. Bancroft, J., & Vukadinovic, Z. (2004). Sexual addiction, sexual compulsivity, sexual impulsivity or what? Toward a theoretical model ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে. Journal of Sex Research, 41, 225–234.
  9. Coleman, E. (জুলাই ১৯৮৬)। "Sexual Compulsion vs. Sexual Addiction: The Debate Continues" (PDF)SIECUS Report। ProQuest Academic Research Library। 14 (6): 7–11। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১০-১৫ 
  10. Levine, M. P; Troiden, R. R (১৯৮৮)। "The Myth of Sexual Compulsivity"। Journal of Sex Research25 (3): 347–363। doi:10.1080/00224498809551467 
  11. Orford, J. (1985). Excessive appetites: A psychological view of the addictions. Chichester, England: John Wiley & Sons.
  12. Carnes, P. (1983). Out of the shadows: Understanding sexual addiction. Minneapolis, MN: CompCare.
  13. Levine, S. B. (2010). What is sexual addiction? Journal of Sex & Marital Therapy, 36, 261–275.
  14. Rinehart, N. J., & McCabe, M. P. (1997). Hypersexuality: Psychopathology or normal variant of sexuality? Sexual and Marital Therapy, 12, 45–60.
  15. Quadland, M. C. (1985). Compulsive sexual behavior: Definition of a problem and an approach to treatment. Journal of Sex and Marital Therapy, 11, 121–132.
  16. Coleman, E. (1990). The obsessive–compulsive model for describing compulsive sexual behavior. American Journal of Preventive Psychiatry & Neurology, 2, 9–14.
  17. Twohig, M. P.; Crosby, J. M. (২০১০)। "Acceptance and Commitment Therapy as a Treatment for Problematic Internet Pornography Viewing"Behavior Therapy41 (3): 285–295। doi:10.1016/j.beth.2009.06.002PMID 20569778 
  18. "ICD-10 entry for "Excessive sexual drive.""। Apps.who.int। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-২২ 
  19. Money, J. (1980). Love and love sickness. The science of sex, gender difference, and pair bonding. Baltimore, MD: Johns Hopkins University Press.
  20. Miller, B. L., Cummings, J. L., & McIntyre, H. (1986). Hypersexuality and altered sexual preferences following brain injury. Journal of Neurology, Neurosurgery and Psychiatry, 49, 867–873.
  21. Orford, J. (1978). Hypersexuality: Implications for a theory of dependence. British Journal of Addiction, 73, 299–310.
  22. Krueger, R. B., & Kaplan, M. S. (2001). The paraphilic and hypersexual disorders. Journal of Psychiatric Practice, 7, 391–403.
  23. Kingston, D. A., & Firestone, P. (2008). Problematic hypersexuality: Review of conceptualization and diagnosis. Sexual Addiction and Compulsivity, 15, 284–310.
  24. Dodge, B., Reece, M., Cole, S. L., & Sandfort, T. G. M. (2004). Sexual compulsivity among heterosexual college students. Journal of Sex Research, 41, 343–350.
  25. Kafka, M. P. (1995b). Sexual impulsivity. In E. Hollander & D. J. Stein (Eds.), Impulsivity and aggression (pp. 201–228). Chichester, England: John Wiley.
  26. Bancroft, J. (2008). Sexual behavior that is "out of control": A theoretical conceptual approach. Psychiatric Clinics of North America, 31, 593-601.
  27. Kafka, M. P. (1994). Paraphilia-related disorders: Common, neglected, and misunderstood. Harvard Review of Psychiatry, 2, 39–40.
  28. Kafka, M. P. (2000). The paraphilia-related disorders: Nonparaphilic hypersexuality and sexual compulsivity/addiction. In S. R. Leiblum & R. C. Rosen (Eds.), Principles and practice of sex therapy (3rd ed., pp. 471–503). New York: Guilford Press.
  29. Kafka, M. P. (2001). The paraphilia-related disorders: A proposal for a unified classification of nonparaphilic hypersexuality disorders. Sexual Addiction & Compulsivity, 8, 227–239.