বাবরসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাবরসা
অন্যান্য নামক্ষীরপাইয়ের বাবরসা
উৎপত্তিস্থলভারত
অঞ্চল বা রাজ্যক্ষীরপাই, পশ্চিমবঙ্গ,
প্রধান উপকরণদুধ, ময়দা, ঘি, চিনি
রন্ধনপ্রণালী: বাবরসা  মিডিয়া: বাবরসা

বাবরসা বা বাবরশা হল পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা) ক্ষীরপাই এলাকার একটি মিষ্টি। [১] এই মিষ্টির উৎপত্তি স্থান হল ক্ষীরপাই। ময়দা ও ঘি দিয়ে এই মিষ্টি তৈরি করা হয়।

নাম[সম্পাদনা]

জানা যায়, ১৭৪০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময় বর্গিরা ক্ষীরপাই শহর একাধিক বার আক্রমণ করে। বর্গিদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন বাসিন্দারা। সেই সময় এডওয়ার্ড বাবরশ নামে এক সাহেব বর্গিদের হঠিয়ে দেন। স্বস্তি ফেরে শহরে। এই ঘটনার পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ স্থানীয় এক মিষ্টি ব্যবসায়ী ‘বাবরসা’ নামে একটি খাবার তৈরি করে এডওয়ার্ডকে উপহার দেন। সেই থেকেই শহরের মানুষের পছন্দের মিষ্টির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাবরসা।[২]

আবার কারও কারও মতে এই মিষ্টি নাকি দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে সম্রাট বাবরকে খাওয়ানো হয়েছিল। সেই থেকেই এর নাম বাবরসা। তবে দ্বিতীয়টির তেমন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাবরসা মিষ্টি বাংলার প্রাচীন মিষ্টি গুলির মধ্যে একটি। এই মিষ্টি প্রায় ২৫০ বছরের পুরানো। ১৭৫০ সালের আগে কি পরে এই মিষ্টির উৎপত্তি হয়। মিষ্টির উৎপত্তি স্থল মেদিনীপুরের প্রাচীন জনপদ ক্ষীরপাই। এই মিষ্টির নাম এডওয়ার্ড বাবরশ নামে একট সাহেবের নামের থেকে এসেছে।

রন্ধন পদ্ধতি[সম্পাদনা]

মূলত ময়দা, দুধ, ঘি দিয়ে তৈরি হয় বাবরসা। তবে এখন এই মাগ্যিগণ্ডার বাজারে ঘিয়ের বদলে ডালডাতেই ভাজা হয় এই মিষ্টি। ছাঁচে ফেলে ভেজে রাখা হয়। এর পর খাওয়ার সময় তাতে রস ঢেলে পরিবেশন করা হয়। আগে অবশ্য মধুতে ডুবিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। [২]

উপকরণ[সম্পাদনা]

বাবরসা তৈরির উপকরণ গুলি হল- ময়দা, দুধ, ঘি,

সমস্যা[সম্পাদনা]

খাদ্য রসিকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাবরসার নাম। কিন্তু প্রচারের অভাবে সেভাবে ব্যবসা জমাতে পারছে না বাবরসা। লাভও হচ্ছে কম। আর সেকারণে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে চলেছে এই মিষ্টি।

কারিগরদের বক্তব্য,শুধুমাত্র বাবরসা তৈরি করে আমাদের সংসার চলে না। সারাদিন পরিশ্রম করে যা পারিশ্রমিক জোটে তা খুবই সামান্য। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে আর এই কাজ নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। আগে টাকায় তিনটে বা চারটে বাবরসা বিক্রি হত। কিন্তু বর্তমানে (২০১৭ সালে) বাবরসা পিছু দাম ৮ টাকা বা ১০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এর নিচে বিক্রি করা অসম্ভব। তাই ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এই মিষ্টি থেকে। অনুরোধ সরকারি কোনও সাহায্য পেলে সুরাহা মিলবে তাঁদের।[৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "চন্দ্রকোনা রোডের ক্ষীরপাই আজও বিখ্যাত সেখানকার বাবরসার জন্য"। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. "ক্ষীরপাই-এর বাবরসা"। www.abekshan.com। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. "প্রচারের অভাব, হারিয়ে যাচ্ছে বাবরসা"। সোনার বাংলা। ৭ অক্টোবর ২০১৭। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৭