বিষয়বস্তুতে চলুন

হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

হুমায়ূনের সমাধিসৌধ
স্থানীয় নাম
হিন্দি: हुमायूँ का मक़बरा
ফার্সি: مقبره همایون
হুমায়ুনের সমাধিসৌধের একটি সুন্দর সম্মুখ দৃশ্য যা এর বিশাল গম্বুজ, চারপাশের বাগান এবং লাল বেলেপাথরের স্থাপত্য প্রদর্শন করছে।
হুমায়ুনের সমাধিসৌধ, দিল্লি
ধরনমাকবারা (সমাধিসৌধ)
ব্যুৎপত্তিমুঘল সম্রাট হুমায়ুনের নামানুসারে
অবস্থাননিজামুদ্দিন পূর্ব, নয়াদিল্লি, ভারত
নিকটবর্তী শহরনয়াদিল্লি
স্থানাঙ্ক২৮°৩৫′৩৬″ উত্তর ৭৭°১৫′০২″ পূর্ব / ২৮.৫৯৩৩৩° উত্তর ৭৭.২৫০৫৬° পূর্ব / 28.59333; 77.25056
অঞ্চল২৭.০৪ হেক্টর
উচ্চতা৪৭ মিটার
প্রতিষ্ঠাতাহামিদা বানু বেগম (হাজী বেগম)
নির্মিত১৫৬৫–১৫৭২
নির্মাণের কারণমুঘল সম্রাট হুমায়ুন
মৌলিক ব্যবহারসমাধিসৌধ
পুনরুদ্ধারকারীভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI) এবং আগা খান ট্রাস্ট ফর কালচার (AKTC)
বর্তমান ব্যবহারপর্যটন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ
স্থপতিমিরাক মির্জা গিয়াস
স্থাপত্যশৈলীমুঘল স্থাপত্য (চারবাগ শৈলীসহ)
পরিচালকবর্গভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)
মালিকভারত সরকার
ওয়েবসাইটhttp://whc.unesco.org/en/list/232
প্রাতিষ্ঠানিক নামহুমায়ুনের সমাধিসৌধ, দিল্লি
ধরনসাংস্কৃতিক
মানদণ্ডii, iv
মনোনীত১৯৯৩
হুমায়ুনের সমাধিসৌধ দিল্লি-এ অবস্থিত
হুমায়ুনের সমাধিসৌধ
দিল্লিতে সমাধিসৌধের অবস্থান

হুমায়ূনের সমাধি ( ফার্সি : মাকবারা-ই হুমায়ূন, উর্দু: مقبرہ ہمایوں) ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের সমাধিসৌধ।[] সমাধি সৌধটি ১৫৬৫ সালে হুমায়ূনের প্রথম স্ত্রী ও প্রধান সহধর্মিণী সম্রাজ্ঞী বেগা বেগমের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়। [] [] [] [] [] এর নকশা প্রণয়ন করেন বেগা বেগম কর্তৃক নির্বাচিত পারস্যের স্থপতি মিরাক মির্জা গিয়াস এবং তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহাম্মদ।[] [] [] এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম উদ্যান-সমাধিসৌধ। সমাধিসৌধটি দিল্লির নিজামুদ্দিন পূর্ব এলাকায় অবস্থিত এবং হুমায়ূনের ১৫৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দিনা-পানাহ দুর্গের নিকটে অবস্থিত, যা বর্তমানে পুরানা কিলা (পুরাতন কেল্লা) নামে পরিচিত। এটি বৃহৎ পরিসরে লাল বেলেপাথর ব্যবহার করে নির্মিত প্রথম স্থাপনা। ১৯৯৩ সালে সমাধিটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত হয়, [১০] এবং তারপর থেকে এর ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে, যা বর্তমানে সম্পন্ন হয়েছে। [১১] হুমায়ূনের প্রধান সমাধি প্রাঙ্গণের পাশাপাশি পশ্চিম দিকের প্রধান প্রবেশপথ থেকে সমাধিসৌধের দিকে যাওয়ার পথে আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র স্মৃতিসৌধ অবস্থিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আফগান অভিজাত ঈসা খান নিয়াজির সমাধি-কমপ্লেক্স, যা ১৫৪৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। এটি হুমায়ূনের সমাধিসৌধের প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে নির্মিত। ঈসা খান নিয়াজি সূর সাম্রাজ্যের শাসক শের শাহ সূরির দরবারের একজন অভিজাত ছিলেন এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

সমাধি-কমপ্লেক্সটির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সম্রাট হুমায়ূনের প্রধান সমাধিসৌধ, যেখানে সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম (হাজি বেগম নামেও পরিচিত), পরবর্তী মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র ও হুমায়ূনের প্রপৌত্র দারা শিকোহ এবং আরও বহু মুঘল সম্রাট ও রাজপরিবারের সদস্যের সমাধি রয়েছে। এদের মধ্যে সম্রাট জাহান্দার শাহ, ফাররুখসিয়ার, রফি উল-দারজাত, রফি উদ-দৌলত, মুহাম্মদ কাম বখ্শ এবং দ্বিতীয় আলমগীর উল্লেখযোগ্য। [১২] এই সমাধিসৌধটি মুঘল স্থাপত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির সূচনা করে। এর সুচারুভাবে পরিকল্পিত চারবাগ উদ্যান, যা পারস্যের উদ্যানশৈলীর একটি বৈশিষ্ট্য হলেও এর আগে ভারতে দেখা যায়নি, পরবর্তী মুঘল স্থাপত্যের জন্য একটি আদর্শ স্থাপন করে। এটি হুমায়ূনের পিতা ও প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের তুলনামূলক সরল সমাধিসৌধ বাগ-ই বাবর (বাবরের উদ্যান), যা আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থিত, থেকে একটি সুস্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। যদিও বাবরই প্রথম মুঘল সম্রাট, যিনি জান্নাতসদৃশ উদ্যানে সমাহিত হওয়ার ঐতিহ্যের সূচনা করেন। [১৩] হুমায়ূনের সমাধিসৌধটি সমরকন্দে অবস্থিত তাঁর পূর্বপুরুষ ও মধ্য এশীয় বিজেতা তৈমুরের সমাধি গুর-ই আমির-এর আদলে নির্মিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে মুঘল রাজকীয় সমাধি স্থাপত্যের একটি নতুন ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার চূড়ান্ত বিকাশ আগ্রার তাজমহলে প্রতিফলিত হয়েছে।[১৪] [১৫] [১৬]

যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত স্থানটি সমাধিসৌধ নির্মাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, কারণ এটি দিল্লির প্রখ্যাত সুফি সাধক নিজামউদ্দিন আউলিয়ার সমাধি নিজামউদ্দিন দরগার নৈকট্যে অবস্থিত ছিল। নিজামউদ্দিন আউলিয়া দিল্লির শাসকদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তাঁর বাসস্থান চিল্লা নিজামউদ্দিন আউলিয়া সমাধিসৌধটির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। পরবর্তী মুঘল ইতিহাসে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ চলাকালে শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর তিনজন রাজপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরে তাঁকে ক্যাপ্টেন হডসন গ্রেপ্তার করেন এবং পরবর্তীকালে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।[] [১৭] দাস রাজবংশের শাসনামলে এই অঞ্চলটি কিলোখেরি দুর্গের অধীন ছিল, যা সুলতান কায়কাবাদের রাজধানী ছিল। মুইজউদ্দীন কায়কোবাদ ছিলেন সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদের পুত্র এবং তিনি ১২৬৮ থেকে ১২৮৭ সাল পর্যন্ত শাসন করেন।

বাট্টাশেওয়ালা সমাধি-কমপ্লেক্সটি হুমায়ূনের সমাধি-কমপ্লেক্সের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের বাফার অঞ্চলে অবস্থিত। দুটি কমপ্লেক্স একটি সরু সড়ক দ্বারা পৃথক হলেও, উভয়ই নিজস্ব প্রাচীরবেষ্টিত প্রাঙ্গণের মধ্যে অবস্থিত।[১৮]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
মুঘল সম্রাট, হুমায়ূন ১৫০৮-১৫৫৬
হুমায়ূনের সমাধিসৌধের পাশে তাঁর ক্ষৌরকারের সমাধিসৌধ (নাই-কা-গুম্বাদ), দিল্লি, ১৮৫৮ সালের ফটোগ্রাফ
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন (১৫০৮-১৫৫৬)
১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুমায়ুনের সমাধিতে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা উইলিয়াম হডসনের হাতে শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর এবং তাঁর পুত্রদের আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তার।

হুমায়ুন ১৫৫৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করলে প্রথমে তাঁর মরদেহ দিল্লির পুরানা কিলায় অবস্থিত তাঁর প্রাসাদে সমাহিত করা হয়। পরে খানজার বেগ মরদেহটি পাঞ্জাবের সিরহিন্দে নিয়ে যান। ১৫৫৮ সালে হুমায়ুনের পুত্র ও তৎকালীন মুঘল সম্রাট আকবর সেখানে গিয়ে তাঁর পিতার মরদেহ পরিদর্শন করেন। পরবর্তীকালে ১৫৭১ সালে আকবর হুমায়ুনের সমাধি পরিদর্শন করেন, তখন এর নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। [১৯] [২০][২১]

হুমায়ুনের সমাধিটি তাঁর প্রথম স্ত্রী ও প্রধান সহধর্মিণী সম্রাজ্ঞী বেগা বেগমের (হাজি বেগম নামেও পরিচিত) নির্দেশে নির্মিত হয়। ১৫৬৫ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৫৭২ সালে সম্পন্ন হয়। নির্মাণব্যয় ছিল ১৫ লক্ষ টাকা,[] যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছিলেন সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম।[২২] স্বামীর মৃত্যুশোকে গভীরভাবে মর্মাহত বেগা বেগম পরবর্তী জীবন একমাত্র একটি লক্ষ্যেই উৎসর্গ করেছিলেন, দিল্লিতে যমুনা নদীর তীরবর্তী একটি স্থানে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এমন একটি সমাধিসৌধ নির্মাণ করা, যা সমগ্র মুঘল সাম্রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ হবে।[২৩] সম্রাট আকবরের শাসনামলে রচিত ষোড়শ শতাব্দীর বিশদ দলিল আইন-ই-আকবরী অনুসারে, মক্কায় হজ পালন শেষে ভারতে ফিরে এসে বেগা বেগম নিজেই সমাধির নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করেন।[২৪]

সমাধিটির নির্মাণ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এমন অল্পসংখ্যক সমসাময়িক ইতিহাসবিদের একজন আবদুল কাদির বাদায়ুনি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সমাধিটির নকশা প্রণয়ন করেন পারস্যের খ্যাতনামা স্থপতি মিরাক মির্জা গিয়াস (মিরাক গিয়াসউদ্দিন নামেও পরিচিত)। সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম তাঁকে হেরাত (বর্তমান আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল) থেকে ভারতে আমন্ত্রণ জানান। এর আগে তিনি হেরাত, বুখারা (বর্তমান উজবেকিস্তান) এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্থাপত্যকর্মের নকশা তৈরি করেছিলেন।[] তবে সমাধিটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মিরাক মির্জা গিয়াসের মৃত্যু হয়। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ইবনে মিরাক গিয়াসউদ্দিন পিতার পরিকল্পনা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। [১৯]

১৬১১ সালে সমাধিটি পরিদর্শনকারী ইংরেজ বণিক উইলিয়াম ফিঞ্চ তাঁর বিবরণে সমাধির কেন্দ্রীয় কক্ষের সমৃদ্ধ অভ্যন্তরীণ সজ্জার কথা উল্লেখ করেছেন, যা বর্তমানে দেখা যায় এমন অনাড়ম্বর চেহারার সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, কক্ষটি মূল্যবান কার্পেটে সজ্জিত ছিল। সমাধিফলকের ওপর একটি ছোট অলংকারপূর্ণ ছাউনি (শামিয়ানা) টাঙানো ছিল, যা নির্মল সাদা কাপড়ে আবৃত ছিল। সমাধিফলকের সামনে পবিত্র কুরআনের অনুলিপির পাশাপাশি হুমায়ুনের তলোয়ার, পাগড়ি এবং জুতাও সংরক্ষিত ছিল।[২০]

সমাধিটিকে ঘিরে প্রায় ১৩ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত চারবাগ উদ্যানটি একসময় ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুপরিকল্পিত। এটি চারটি সমান অংশে বিভক্ত ছিল, যেগুলোকে চারটি প্রধান পথ পৃথক করেছিল এবং কেন্দ্রস্থলের প্রতিফলন-জলাধার থেকে চারদিকে বিস্তৃত হয়েছিল। তবে নির্মাণের পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে উদ্যানটির রূপ বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।

১৫৫৬ সালেই মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর সমাধি-কমপ্লেক্সের গুরুত্ব ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। পরবর্তীকালে মুঘল সাম্রাজ্যের অবক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়বহুল এই উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে একসময়ের সুশোভিত চারবাগের বড় অংশই প্রাচীরবেষ্টিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সবজিক্ষেতে পরিণত হয়।

১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ বাহিনী এই সমাধি-প্রাঙ্গণ থেকেই শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর-কে গ্রেপ্তার করে। বিদ্রোহ দমনের পর ১৮৬০ সালে ব্রিটিশরা উদ্যানটির মূল মুঘল নকশা পরিবর্তন করে ইংরেজ উদ্যানশৈলী অনুসারে পুনর্বিন্যাস করে। এতে প্রধান অক্ষ বরাবর অবস্থিত চারটি কেন্দ্রীয় জলাধারের পরিবর্তে বৃত্তাকার ফুলের বেড তৈরি করা হয় এবং ফুলের বাগানে বিপুল সংখ্যক গাছ রোপণ করা হয়।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে এই পরিবর্তন প্রত্যাহার করা হয়। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নির্দেশে ১৯০৩ থেকে ১৯০৯ সালের মধ্যে পরিচালিত একটি বৃহৎ সংরক্ষণ প্রকল্পে উদ্যানটিকে তার মূল মুঘল বিন্যাসে পুনরুদ্ধার করা হয়। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্লাস্টার-নির্মিত জলপ্রণালিগুলো বেলেপাথর দিয়ে আবৃত করা হয়। পরে ১৯১৫ সালের বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় ও কর্ণীয় অক্ষ বরাবর গাছ লাগিয়ে সেগুলোর দৃশ্যগত গুরুত্ব আরও বাড়ানো হয়। তবে যে উঁচু মঞ্চটি মূলত শামিয়ানা স্থাপনের জন্য নির্ধারিত ছিল, সেখানে কিছু গাছও রোপণ করা হয়।

১৮৮২ সালে ভারতের প্রাচীন স্মারকসমূহের সরকারি তত্ত্বাবধায়ক তাঁর প্রথম প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, সমাধির প্রধান উদ্যানটি চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। এই ইজারাদারদের মধ্যে মুঘল রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীরাও ছিলেন; তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বাঁধাকপি ও তামাকের চাষ করতেন।[২৫]

লর্ড কার্জন-এর জীবনীকার রোনাল্ডশে তাঁর রচিত জীবনীগ্রন্থে ১৯০৫ সালের এপ্রিল মাসে কার্জনের লেখা একটি চিঠি উদ্ধৃত করেছেন। স্ত্রীকে লেখা সেই চিঠিতে কার্জন লিখেছিলেন:

“তোমার নিশ্চয়ই হুমায়ুনের সমাধির কথা মনে আছে। আমি এর উদ্যান পুনরুদ্ধার করেছিলাম, জলপ্রণালিগুলো পুনরায় খনন করে তাতে জল প্রবাহের ব্যবস্থা করেছিলাম এবং সমগ্র স্থানটিকে তার পূর্বের সৌন্দর্যে ফিরিয়ে এনেছিলাম। গত গ্রীষ্মে আমি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলাম, আর আমার অনুপস্থিতির সুযোগে পুরো জায়গাটিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে দেওয়া হয়েছে। উদ্যানটি এক স্থানীয় ব্যক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে এখন শালগমের চাষ হচ্ছে। চার বছরের সমস্ত পরিশ্রমই যেন বিফলে গেল! আমি সেখানে যাচ্ছি, আর যে ডেপুটি কমিশনারের উদাসীনতার কারণে এই অবস্থা হয়েছে, তার জন্য দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে।”

১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত বিভাজনের সময় পুরানা কিলা ও হুমায়ুনের সমাধি পাকিস্তানে অভিবাসনকারী মুসলমানদের জন্য প্রধান শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এই শিবিরগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ভারত সরকার গ্রহণ করে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে শিবিরগুলো চালু ছিল। এ সময় বিস্তীর্ণ উদ্যান, জলপ্রণালি এবং সমাধি-কমপ্লেক্সের প্রধান স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।

দেশভাগের শুরুর অস্থির সময়ে ১৯৪৭ সালে বিভিন্ন জাঠা (সশস্ত্র দল) একাধিকবার শিবিরে হামলা চালায়, যার ফলে সমাধি-কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সমাধিসৌধের অভ্যন্তরে থাকা প্রতীকী সমাধিগুলো (সেনোটাফ) সুরক্ষার জন্য ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়।

পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই) ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ধাপে ধাপে সমাধি ও এর উদ্যান পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত, মূল জলপথগুলি পুনঃস্থাপন করার জন্য চারটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। [২৬]

সমাধি-কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয় ১৯৯৩ সালের দিকে, যখন এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা লাভ করে। এই স্বীকৃতির ফলে সমাধির সংরক্ষণে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং আগা খান ট্রাস্ট ফর কালচার ও ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত গবেষণা, নথিবদ্ধকরণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য শুরু হয়।

এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ফলস্বরূপ ২০০৩ সালে সমাধি-কমপ্লেক্স ও এর উদ্যানের একটি বড় অংশ সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। কয়েক শতাব্দী অচল থাকার পর ঐতিহাসিক ফোয়ারাগুলোও আবার সচল করা সম্ভব হয়। এরপর থেকে সংরক্ষণকাজ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলমান রয়েছে; পরবর্তী পর্যায়গুলোতে সমাধি-কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থাপনা ও বৈশিষ্ট্যের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অবস্থান

[সম্পাদনা]

হুমায়ূনের সমাধিটি দিল্লীতে যমুনা নদীর তীরে নির্মিত হয়। কারণ এই জায়গাটি ছিল দিল্লির সুফি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সমাধিস্থল নিজামুদ্দিন দরগার নিকটবর্তী। দিল্লির শাসকেরা এই সুফি সন্তকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। এঁর বাসভবন চিল্লা নিজামুদ্দিন আউলিয়া হুমায়ূনের সমাধিস্থলের ঠিক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। মুঘল শাসনের শেষ পর্বে, ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ তাঁর তিন পুত্রকে নিয়ে এখানে আশ্রয় নেন। পরে ক্যাপ্টেন হডসন তাঁকে বন্দী করেন এবং বিচারের পর তাঁকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।[][২৭] দাস রাজবংশের শাসনকালে এই জায়গাটি নাসিরুদ্দিনের (১২৬৮-৮৭) পুত্র সুলতান কায়কোবাদের রাজধানী কিলোখেরি দুর্গের অন্তর্গত ছিল।

বিভিন্ন স্থাপনা

[সম্পাদনা]

হুমায়ূনের মূল সমাধিসৌধটি ছাড়াও পশ্চিমের প্রধান দরজা থেকে সেই সমাধি পর্যন্ত যে পথটি গিয়েছে তার দুপাশে অনেকগুলি ছোটো ছোটো স্মারক রয়েছে। এটি হুমায়ূনের সমাধিরও ২০ বছর আগে নির্মিত হয়। এই সমাধিচত্বরটি সুরি শাসক শের শাহের রাজসভার আফগান অভিজাতপুরুষ ইসা খান নিয়াজির। উল্লেখ্য, নিয়াজি মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। ১৫৪৭ সালে এই সমাধিচত্বরটি নির্মিত হয়।

হুমায়ূনের সমাধিসৌধ চত্বরে হুমায়ূনের সমাধি ছাড়াও রয়েছে তার পত্নী হামিদা বেগম এবং পরবর্তীকালের মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারাশিকোর সমাধিস্থলও। এছাড়া রয়েছে জাহান্দর শাহ, ফারুকশিয়ার, রফি উল-দৌলতদ্বিতীয় আলমগির প্রমুখ পরবর্তীকালের মুঘল শাসকদের সমাধিও।[২৮]

নির্মাণ বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

এ সমাধিসৌধে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক বিশেষ উত্তরণ ঘটেছে। সমাধি চত্বরের চারবাগ গার্ডেন পারসিক বাগিচার একটি উদাহরণ, যা ভারতে পূর্বে কখনও দেখা যায়নি। কাবুলে (আফগানিস্তান) বাগ-ই-বাবর নামে পরিচিত মুঘল সম্রাট বাবরের যে সমাধিসৌধটি রয়েছে, তা তুলনামূলকভাবে সাদামাটা। হুমায়ূনের ক্ষেত্রে সেই ধরনের সাধারণ সমাধিসৌধ নির্মিত হয়নি। যদিও নন্দনকানন-প্রতিম উদ্যানে রাজকীয় সমাধি নির্মাণ বাবরের ক্ষেত্রেই প্রথম দেখা যায়।[২৯] হুমায়ূনের সমাধিসৌধটি সমরকন্দে অবস্থিত তার পূর্বপুরুষ তথা এশিয়াবিজয়ী তৈমুরের সমাধি গুর-ই আমির-এর আদলে নির্মিত। এই সমাধিসৌধ আগ্রার তাজমহল সহ একাধিক সুরম্য রাজকীয় মুঘল স্থাপত্য নিদর্শনের পূর্বসূরি।[৩০][৩১][৩২]

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]
হুমায়ূনের সমাধিসৌধের নকশা
হুমায়ুনের স্মৃতিস্তম্ভ
প্রবেশকক্ষের অভ্যন্তরের ছাদ

ভারতীয় উপমহাদেশে তুর্কি ও মুঘল শাসন এই অঞ্চলে ইসলামিক স্থাপত্যের মধ্য এশীয় এবং পারস্য শৈলীর সূচনা করেছিল। দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে, দিল্লি সালতানাতের রাজধানী দিল্লির আসেপাশে এই শৈলীর প্রাথমিক নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করে; যার সূচনা হয়েছিল তুর্কি দাস বংশের মাধ্যমে, যারা কুতুব মিনার (১১৯২) এবং এর সংলগ্ন কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ (১১৯৩ খ্রিস্টাব্দ) নির্মাণ করেছিল। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে উত্তর ভারত ধারাবাহিকভাবে বিদেশি রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছিল, যা ইন্দো-ইসলামী স্থাপত্যের জন্ম দেয়। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় স্থাপত্যের প্রধান ধারাটি ছিল ট্রাবিয়েট (যেখানে স্তম্ভ, বিম ও লিন্টেল ব্যবহার করা হতো)। তবে এই নতুন প্রভাবের ফলে খিলান ও গম্বুজ বিশিষ্ট আকুয়েট নির্মাণ শৈলীর আগমন ঘটে। মুঘল পৃষ্ঠপোষকতায় এই শৈলীটি আরও বিকশিত হয় এবং এর সাথে ভারতীয় স্থাপত্যের, বিশেষ করে রাজস্থানী স্থাপত্যের, বিভিন্ন উপাদান যেমন আলংকারিক কর্বেল ব্র্যাকেট, বারান্দা, পেন্ডেন্টিভ সজ্জা এবং ছত্রী যুক্ত হয়। এর ফলে একটি স্বতন্ত্র মুঘল স্থাপত্য শৈলী গড়ে ওঠে, যা মুঘল শাসনের এক চিরস্থায়ী কীর্তি বা উত্তরাধিকার হয়ে রয়েছে। লাল বেলেপাথর এবং সাদা মার্বেলের এই সংমিশ্রণটি অবশ্য এর আগেও দিল্লি সালতানাত আমলের সমাধি ও মসজিদে দেখা গিয়েছিল, যার সবচেয়ে প্রচ্ছন্ন উদাহরণ হলো খিলজি বংশের আমলে ১৩১১ সালে নির্মিত মেহরৌলির কুতুব কমপ্লেক্সের অত্যন্ত আলংকারিক আলাই দরওয়াজা তোরণ।

হুমায়ূনের সমাধি উদ্যান প্রাঙ্গণের পরিকল্পনা

পাথরের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত এই উঁচু চত্বরে প্রবেশ করতে হয় পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে অবস্থিত দুটি সুউচ্চ দোতলা প্রবেশদ্বার দিয়ে, যেগুলোর উচ্চতা ১৬ মিটার। প্রবেশপথের দুই পাশে কক্ষ এবং উপরের তলাগুলোতে ছোট ছোট উঠান রয়েছে। পাথরের গাঁথুনি ও লাল বেলেপাথর দিয়ে নির্মিত এই সমাধিতে আবরণের উপাদান হিসেবে এবং মেঝে, জালি পর্দা ( জালিস ), দরজার চৌকাঠ, চালের কিনারা ( ছাজ্জা ) ও মূল গম্বুজের জন্য সাদা মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আট মিটার উঁচু একটি খিলানযুক্ত চত্বরের উপর অবস্থিত এবং ১২,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর নকশা মূলত বর্গাকার, যদিও ভেতরের কাঠামোর নকশার জন্য ভিত্তি প্রস্তুত করতে এর কিনারাগুলো ঢালু করে অষ্টভুজাকৃতির করা হয়েছে। পাথরের গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভিত্তির চারপাশে ছাপ্পান্নটি কক্ষ রয়েছে এবং এতে ১০০টিরও বেশি সমাধিফলক রাখা আছে। সম্পূর্ণ ভিত্তি কাঠামোটি কয়েক ধাপ উঁচু একটি মঞ্চের উপর অবস্থিত।

পারস্য স্থাপত্য দ্বারা অনুপ্রাণিত; সমাধিটি ৪৭ মিটার (১৫৪ ফুট) উচ্চতায় পৌঁছেছে।এবং ভিত্তিটি ৯১ মিটার (২৯৯ ফুট) এটি ৪২.৫ মিটার (১৩৯ চওড়া, এবং এটিই ছিল প্রথম ভারতীয় স্থাপত্য যেখানে উঁচু গলার ড্রামের উপর পারস্যের দ্বি-গম্বুজ ব্যবহার করা হয়েছিল, এবং এর পরিমাপ ৪২.৫ মিটার (১৩৯ ফুট)এবং এর চূড়াটি ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু। অর্ধচন্দ্রাকৃতির প্রান্তে শেষ হওয়া উঁচু পিতলের চূড়া, যা তৈমুরি সমাধিতে সাধারণ। দ্বি-স্তরবিশিষ্ট গম্বুজটির বাইরের স্তরটি সাদা মার্বেলের বহির্ভাগকে ধরে রাখে, এবং ভেতরের অংশটি বিশাল অভ্যন্তরীণ আয়তনকে আকার দেয়। নিখাদ সাদা বাইরের গম্বুজের বিপরীতে, একঘেয়েমি দূর করার জন্য ভবনের বাকি অংশ লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরি, এবং এতে সাদা ও কালো মার্বেল এবং হলুদ বেলেপাথরের কারুকাজ রয়েছে। [৩৩]

বাইরের দিকের প্রতিসম ও সরল নকশাটি ভেতরের কক্ষগুলোর জটিল নকশার সাথে এক তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। এই কক্ষগুলো একটি বর্গাকার নয়-স্তরবিশিষ্ট নকশা, যেখানে কেন্দ্রীয় দ্বি-উচ্চতার গম্বুজযুক্ত কক্ষ থেকে আটটি দ্বি-তলা খিলানযুক্ত কক্ষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ দিকে সামান্য ভেতরের দিকে ঢোকানো একটি চিত্তাকর্ষক প্রবেশদ্বার 'ইওয়ান' (উঁচু খিলান) দিয়ে এতে প্রবেশ করা যায়, এবং এর অন্যান্য দিকগুলো জটিল জালি বা পাথরের জালির কাজ দিয়ে আবৃত। এই সাদা গম্বুজের নিচে একটি গম্বুজযুক্ত কক্ষে (হুজরা) রয়েছে কেন্দ্রীয় অষ্টভুজাকৃতির সমাধি, অর্থাৎ সমাধিকক্ষটি, যেখানে দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের একটিমাত্র স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, স্মৃতিস্তম্ভটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষ বরাবর স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মাথাটি উত্তর দিকে এবং মুখটি মক্কার দিকে পাশ ফিরে রয়েছে। তবে সম্রাটের আসল সমাধিকক্ষটি উপরের স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক নীচে একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে অবস্থিত, যেখানে মূল কাঠামোর বাইরে একটি পৃথক পথের মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়, যা দর্শনার্থীদের জন্য বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। এই সমাধিস্থ করার কৌশলটি, সম্মুখভাগের চারপাশে দেখা পিয়েত্রা দুরা (পিয়েত্রা দুরা হলো মার্বেল এবং এমনকি পাথরের অসংখ্য জ্যামিতিক ও আরবি নকশার খোদাই করা অলঙ্করণ) সহ, ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পরবর্তী অনেক সমাধিসৌধে, যেমন তাজমহলে, এর বিকাশ ঘটেছিল, যেখানে যমজ স্মৃতিস্তম্ভ এবং চমৎকার পিয়েত্রা দুরা কারুকার্যও দেখা যায়।

প্রধান কক্ষটিতেও একটি প্রতীকী উপাদান রয়েছে, যা হলো পশ্চিম দিকে মক্কামুখী কেন্দ্রীয় মার্বেলের জালির উপর একটি মেহরাবের নকশা। মেহরাবগুলিতে প্রচলিত কুরআনের ২৪ নং সূরা, আন-নূর খোদিত থাকার পরিবর্তে, এখানে কেবল একটি রূপরেখা রয়েছে, যা কিবলা বা মক্কার দিক থেকে সরাসরি কক্ষে আলো প্রবেশ করতে দেয়, এইভাবে সম্রাটের মর্যাদা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঊর্ধ্বে এবং তাঁকে দেবত্বের কাছাকাছি উন্নীত করে।

উঁচু গম্বুজাবৃত কেন্দ্রীয় কক্ষটি দুই তলাবিশিষ্ট চারটি প্রধান অষ্টভুজাকৃতির কক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। কক্ষগুলো কোণাকুণিভাবে বিন্যস্ত এবং খিলানযুক্ত অলিন্দের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। এ ছাড়া, চারটি সহায়ক কক্ষও রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হয় যে সমাধিসৌধটি রাজবংশীয় সমাধিক্ষেত্র হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল। আটটি পার্শ্বকক্ষের এই বিন্যাস একদিকে যেমন মূল সমাধিসৌধকে প্রদক্ষিণের পথ সৃষ্টি করেছে—যা সুফি ঐতিহ্যের একটি প্রচলিত রীতি এবং বহু মুঘল রাজকীয় সমাধিসৌধেও দেখা যায়—অন্যদিকে তেমনি এটি ইসলামী বিশ্বতত্ত্বে জান্নাতের ধারণারও প্রতিফলন ঘটায়। প্রতিটি প্রধান কক্ষ থেকে বাইরের দিকে আরও আটটি করে ক্ষুদ্র কক্ষ বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে সমগ্র ভূমি-পরিকল্পনায় মোট ১২৪টি খিলানযুক্ত কক্ষের একটি প্রতিসম বিন্যাস গড়ে উঠেছে। এসব কক্ষের অনেকগুলোতেই মুঘল রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণির সদস্যদের সমাধি রয়েছে, যা সবই মূল সমাধিসৌধের প্রাচীরবেষ্টিত অংশের মধ্যে অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য সমাধিগুলোর মধ্যে দারা শিকোহ এবং সম্রাজ্ঞী হামিদা বানু বেগমের সমাধি অন্যতম। সমগ্র প্রাঙ্গণে ১০০টিরও বেশি কবর রয়েছে, যার অনেকগুলো প্রথম স্তরের ছাদের ওপর অবস্থিত। এ কারণে সমাধিসৌধটি "মুঘলদের শয়নকক্ষ" নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে অধিকাংশ কবরে কোনো শিলালিপি না থাকায় সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।[১৯]

স্থাপনাটি বৃহৎ পরিসরে লাল বেলেপাথর ও সাদা মার্বেলের সমন্বিত ব্যবহারের প্রথম নিদর্শন। এতে ভারতীয় স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় গম্বুজকে ঘিরে থাকা ক্ষুদ্র ছত্রিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো রাজস্থানি স্থাপত্যের একটি জনপ্রিয় বৈশিষ্ট্য এবং মূলত নীল টাইলস দিয়ে আবৃত ছিল। [১৯] [৩৪]

চারবাগ

[সম্পাদনা]

প্রধান সমাধিসৌধটি নির্মাণে আট বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। এটি ৩০-একর (১,২০,০০০-বর্গমিটার) আয়তনের একটি চারবাগে কেন্দ্রে নির্মিত, যা চতুর্ভুজাকার বিন্যাসবিশিষ্ট পারস্যীয় উদ্যানশৈলীর একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এত বৃহৎ পরিসরে নির্মিত এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম চারবাগ।[৩৫] অত্যন্ত জ্যামিতিক ও প্রাচীরবেষ্টিত এই জান্নাত-উদ্যানটি (Paradise Garden) পাকা পথ (খিয়াবান) এবং একে অপরকে ছেদকারী দুটি কেন্দ্রীয় জলপ্রণালীর মাধ্যমে চারটি সমান অংশে বিভক্ত। এই জলপ্রণালীগুলো ইসলামে জান্নাতের ধারণায় বর্ণিত চারটি নদীর প্রতীক। প্রতিটি অংশ আবার পথের মাধ্যমে আটটি করে ক্ষুদ্র উদ্যানে বিভক্ত হয়েছে, ফলে সমগ্র উদ্যানটি মোট ৩২টি ক্ষুদ্র উদ্যানে বিভক্ত। এই বিন্যাসটি পরবর্তী মুঘল উদ্যানগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে এবং এর কেন্দ্রে সমাধিসৌধটি অবস্থিত। কেন্দ্রীয় জলপ্রণালীগুলো সমাধিসৌধের ভিত্তির নিচে অদৃশ্য হয়ে অপর প্রান্তে আবার সরলরেখায় প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এটি কুরআনের সেই বর্ণনার প্রতীক, যেখানে জান্নাতের উদ্যানের নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।[৩৬][৩৭]

প্রধান অক্ষ বা দিকগুলোর সংযোগস্থলে একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত এই সমাধিটি গঠন এবং অবস্থানের দিক থেকে একটি বাগান-প্যাভিলিয়নের (উদ্যান-মণ্ডপ) মতো। তবে এখানে এটি সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে যেখানে মৃত শাসকের দেহ শায়িত রয়েছে। "বাগান হলো সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আর সমাধি হলো রাজবংশের প্রতীক। হুমায়ুনের সমাধির মতো যখন একটি সমাধিসৌধকে বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়, তখন সার্বভৌমত্ব এবং রাজবংশকে একটি চূড়ান্ত লক্ষ্যভিত্তিক (টেলিওলোজিক্যাল) বক্তব্যের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়—যেখানে বলা হয়, রাজা যেমন সবসময় রাজা ছিলেন, তেমনই সবসময় রাজা থাকবেন।"[৩৮]

সম্পূর্ণ সমাধিসৌধ এবং বাগানটি তিন দিকে উঁচু পাথুরে (রবল) দেয়াল দিয়ে ঘেরা। চতুর্থ দিকটি যমুনা নদীর দিকে মুখ করে থাকার কথা ছিল, যা পরবর্তীকালে এই স্থাপনা থেকে দূরে তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। কেন্দ্রের হাঁটার পথগুলো দুটি গেটে গিয়ে শেষ হয়েছে: একটি মূল গেট দক্ষিণ দেয়ালে এবং আরেকটি ছোট গেট পশ্চিম দেয়ালে। এর দুটি দোতলা প্রবেশদ্বার রয়েছে; বর্তমানে পশ্চিম গেটটি ব্যবহৃত হয়, আর দক্ষিণ গেটটি—যা মুঘল আমলে ব্যবহৃত হতো—এখন বন্ধ রয়েছে। পূর্ব দেয়ালের কেন্দ্র বরাবর একটি 'বারাদারি' অবস্থিত, যা হলো বারোটি দরজাবিশিষ্ট এমন একটি ভবন বা কক্ষ, যা অবাধে বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। উত্তর দেয়ালে একটি হামাম বা স্নানাগার রয়েছে।[৩৯]

নাপিতের সমাধি (নাই কা গুম্বাদ)

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

পাদটীকা

[সম্পাদনা]
  1. Burke, S. M. (১৯৮৯)। Akbar, the Greatest Mogul। Munshiram Manoharlal Publishers। পৃ. ১৯১।
  2. Eraly, Abraham (২০০৭)। The Mughal world : Life in India's Last Golden Age। Penguin Books। পৃ. ৩৬৯আইএসবিএন ৯৭৮-০১৪৩১০২৬২৫
  3. Smith, Vincent Arthur (১৯১৯)। Akbar: The Great Mogul 1542–1605Clarendon Press। পৃ. ১২৫।
  4. Henderson, Carol E. (২০০২)। Culture and Customs of India। Greenwood Press। পৃ. ৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০৩১৩৩০৫১৩৯
  5. Centre, UNESCO World Heritage। "Humayun's Tomb, Delhi"UNESCO World Heritage Centre (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২২
  6. "Mausoleum that Humayun never built"The Hindu। ২৮ এপ্রিল ২০০৩। ৬ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৩
  7. 1 2 Sinha, Gayatri (২০০৫)। "Women Artists in India: Practice and Patronage"। Local/global : Women Artists in the Nineteenth Century। Ashgate। পৃ. ৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৫৪৬৩১৯৭২
  8. "Humayun's Tomb"ArchNet। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৮
  9. 1 2 3 4 Humayun's Tomb ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে Archaeological Survey of India. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "asi" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "uno" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. "Facelift for Humayun"The Indian Express। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  12. Mausoleum of Humayun, Delhi ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মে ২০১১ তারিখে British Library.
  13. Humayun's Tomb and gateway ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মে ২০১১ তারিখে British Library.
  14. Humayun's Tomb ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ এপ্রিল ২০১০ তারিখে archnet.org.
  15. Humayun's Tomb Frommer's India, by Pippa De Bruyn, Keith Bain, Niloufer Venkatraman, Shonar Joshi. Published by Frommer's, 2008. আইএসবিএন ০-৪৭০-১৬৯০৮-৭. p. 316.
  16. The Monuments at Delhi World Heritage Monuments and Related Edifices in India, by Ali Javid, Tabassum Javeed. Algora Publishing, 2008. আইএসবিএন ০-৮৭৫৮৬-৪৮২-১. pp. 105–106.
  17. "The Ex-king of Delhi – Question. (Hansard, 11 December 1857)"Parliamentary Debates (Hansard)। ১১ ডিসেম্বর ১৮৫৭। ৩০ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০০৯
  18. "Batashewala Complex Conservation"। Archnet। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৫
  19. 1 2 3 4 Humayun's Tomb The new Cambridge history of India, by Geraldine Forbes, Gordon Johnson, B. R. Tomlinson. Cambridge University Press, 1988. আইএসবিএন ০-৫২১-২৬৭২৮-৫. Page 45-47. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "cam" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  20. 1 2 Humayun's Tomb Speaking stones: world cultural heritage sites in India, by Bill Aitken. Dept. of Tourism. Published by Eicher Goodearth Limited, 2001. আইএসবিএন ৮১-৮৭৭৮০-০০-২. Page 45-47. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "sp" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  21. Humayun's Tomb Muqarnas: An Annual on Islamic Art and Architecture, by Oleg Grabar. Published by Brill Publishers, 1988. আইএসবিএন ৯০-০৪-০৮১৫৫-০. Page 133-140.
  22. Aziz, K. K. (২০০৪)। The Meaning of Islamic Art : Explorations in Religious Symbolism and Social Relevance। Adam Publishers & Distributors। পৃ. ৫১০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৭৪৩৫৩৯৭৯
  23. Kamiya, Takeo। "Humayun's Tomb in Delhi"UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৭In 1565 the previous queen of the Mughal Dynasty, Haji Begum, ordered the construction of the largest and the most splendid mausoleum in the empire for her late ill-fated husband, Humayun, near to the Yamuna River.
  24. Haji Begum ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ আগস্ট ২০১০ তারিখে Ain-i-Akbari. "He (Qa´sim 'Ali´ Khan) was employed to settle the affairs of Hájí Begum, daughter of the brother of Humáyún's mother (tagháí zádah i wálidah i Jannat-ástání), who after her return from Makkah had been put in charge of Humáyún's tomb in Dihlí, where she died."
  25. Preservation of National Monuments – First Report of the Curator of Ancient Monuments in India for the year 1881–82। The Government Central Branch Press, Simla। ১৮৮২। পৃ. xxvii।
  26. Zamindar, Vazira Fazila-Yacoobali (২০০৭)। The long partition and the making of modern South Asia: refugees, boundaries, historiesColumbia University Press। পৃ. ৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-১৩৮৪৬-৮
  27. "Hansard 11 December 1857 vol 148 c557"। ৩০ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১০
  28. Mausoleum of Humayun, Delhi ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মে ২০১১ তারিখে British Library.
  29. Humayun's Tomb and gateway ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মে ২০১১ তারিখে British Library.
  30. Humayun's Tomb ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ এপ্রিল ২০১০ তারিখে archnet.org.
  31. Humayun's Tomb Frommer's India, by Pippa De Bruyn, Keith Bain, Niloufer Venkatraman, Shonar Joshi. Published by Frommer's, 2008. আইএসবিএন ০-৪৭০-১৬৯০৮-৭. Page 316.
  32. The Monuments at Delhi World Heritage Monuments and Related Edifices in India, by Ali Javid, Tabassum Javeed. Published by Algora Publishing, 2008. আইএসবিএন ০-৮৭৫৮৬-৪৮২-১. pp 105-106.
  33. "Revitalisation of the Gardens of Emperor Humayun's Tomb (completed 2003)"। AKDN। ২৯ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১৫
  34. Waugh, Daniel C.। "Humayun's tomb, Delhi"depts.washington.edu। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৩
  35. Ruggles, D. Fairchild. Humayun's Tomb Muqarnas: An Annual on Islamic Art and Architecture, by Oleg Grabar. Brill Publishers, 1988. আইএসবিএন ৯০-০৪-০৮১৫৫-০. pp. 133–140.
  36. Mughul Tomb GardensThe poetics of gardens, by Charles Willard Moore, William J. Mitchell. MIT Press, 2000. আইএসবিএন ০-২৬২-৬৩১৫৩-৯. p. 17.
  37. Asher, Catherine Blanshard; Asher, Catherine Ella Blanshard (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯২)। Architecture of Mughal India (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-২৬৭২৮-১
  38. Ruggles, D. Fairchild. Humayun's Tomb Muqarnas: An Annual on Islamic Art and Architecture, by Oleg Grabar. Brill Publishers, 1988. আইএসবিএন ৯০-০৪-০৮১৫৫-০. pp. 133–140.
  39. Tom Turner (২০০৫)। Garden History: Philosophy and Design। Taylor & Francis। পৃ. ১৬৩আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫৩১৭৪৯৮

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
Images