শিবাজী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শিবাজী রাজে ভোঁসলে
ছত্রপতি
রাজত্বকাল ১৬৬৪ - ১৬৮০
রাজ্যাভিষেক ৬ জুন, ১৬৭৪
পূর্ণ নাম শিবাজী শাহজী ভোঁসলে
উপাধি ক্ষত্রিয় কুলাবতংস, গো-ব্রাহ্মণ প্রতিপালক
উত্তরসূরি শম্ভোজী
দাম্পত্যসঙ্গীরা সাই বাঈ
সোয়রাবাঈ
পুতলাবাঈ
কাশীবাঈ
সগুনাবাঈ
মঞ্জুলাবাঈ
শকবারবাঈ
গুণবতীবাঈ[১][২]
সন্তানাদি সম্ভাজী, রাজারাম এবং ছ'টি কন্যা
পিতা শাহজি
মাতা জিজাবাঈ
ধর্মবিশ্বাস হিন্দুধর্ম

শিবাজী ভোঁসলে অথবা ছত্রপতি শিবাজী রাজে ভোঁসলে (১৯ ফেব্রুয়ারি ১৬৩০ - ৩ এপ্রিল ১৬৮০), (মারাঠি : छत्रपती शिवाजीराजे भोसले) হলেন মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। শিবাজী বিজাপুরের আদিলশাহি সালতানাতের সাথে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং হেরে যান।[৩] তিনি একটি স্বাধীন মারাঠা সাম্রাজ্যের পত্তন করেন, যার রাজধানী ছিল রায়গড়ে।[৪] তিনি ১৬৭৪ সালে মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজা 'ছত্রপতি' হিসেবে মুকুট ধারণ করেন।[৩][৪]

শিবাজী হিন্দাভী স্বরাজ্যের (স্বাধীনতা) মতবাদকে সমর্থন দান করেন। তিনি মারাঠা শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তিনি তার সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী এবং সুগঠিত শাসন কাঠামোর মাধ্যমে একটি দক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন।[৫] তিনি একজন কুশলী সামরিক কৌশলবিদ ছিলেন এবং গেরিলা যুদ্ধের ধারণার সূচনা করেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রথম জীবন[উৎস সম্পাদনা]

চিত্র:Shivneri Shiv Mandir.JPG
শিবনেরি দুর্গে শিবাজীর জন্মস্থান

শিবাজীর পিতার নাম শাহজী ও দাদার নাম মালোজী। দীর্ঘদিন যাবত পুত্র সন্তান না হওয়ায় মালোজী সকল দেব-দেবীর পূজা করে হতাশ হয়ে অবশেষে শাহ শরিফ নামক একজন মুসলমান ফকিরের দরবারে দোয়াপ্রার্থী হন।কিছুদিন পর তার ঘরে পর পর দুইটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহন করে। ফকিরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য তিনি তাদের একজন নাম রাখেন শাহজী এবং অপরজনের নাম রাখেন শরিফজী (দি প্রিনসেস অব ইনডিয়া, স্যার এডওয়ার্ড সুলিভ্যান, এডওয়ার্ড স্ট্যানফোর্ড, লন্ডন,১৮৭৫, পৃষ্ঠা ৪৪৩-৪৪৪)।[উৎস সম্পাদনা]

কিন্তু তার পরই মনোমালিন্যের কারণে মালোজী দুই পুত্রসহ স্ত্রীকে পূনায় পাঠিয়ে দেন এবং নিজে পুনরায় বিয়ে করে বিজাপুরে অবস্থান করতে থাকেন। শিবাজী ঐ পূনাতেই জন্মগ্রহন করেন, পিতা শাহজী বিজাপুরের সুলতান ইব্রাহিম আদিল সাহেব চাকুরিতে নিযুক্ত থাকায় পুত্রের দেখাশুনার জন্য শিবাজীর দাদীজী তার শিক্ষা-দীক্ষার জন্য পন্থ নামক একজন ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণকে নিযুক্ত করেন। কিন্তু শিবাজী এত অবাধ্য ও দুর্দান্ত প্রকৃতির ছিল যে, কারও কোনও কথাই সে মানত না। মাত্র সতের বছর বয়সে শিবাজী তার সমবয়সী দলবল নিয়ে কয়েকটি তালুক লুন্ঠন ও নারী হরণ করে। তখন অভিভাবাক হিসাবে নিজের দায়িত্বের জবাবদিহির ভয়ে দাদাজী পন্থ বিষপানে আতহত্যা করেন[উৎস সম্পাদনা]

শিবাজীর রাজ্যজয়[উৎস সম্পাদনা]

বাল্যকালেই মহারাষ্ট্র দেশ সম্পর্কে এবং স্থানীয় পার্বত্য মাওয়ালি জনগোষ্ঠীরর সাথে শিবাজীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়। এই মাওয়ালিদের নিয়েই তিনি সর্বপ্রথম বিশ্বস্ত এক সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। ১৬৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কোণ্ডদেবের মৃত্যুর পর, শিবাজী রাজ্যজয়ে মনোনিবেশ করেন। রোলিনসন (Rawlinson) মনে করেন যে, বিদেশী শাসন থেকে স্বদেশকে মুক্ত করাই শিবাজীর রাজ্যজয়ের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সম্পদের লোভে লুঠতরাজ করা তাঁর অভিপ্রেত ছিল না। সরদেশাই বলেন, সারা ভারতে হিন্দু সাম্রাজ্য স্থাপন করাই শিবাজীর লক্ষ্য ছিল।[৬]

আফজল খাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা[উৎস সম্পাদনা]

“ শায়েস্তা খাঁ ছিলেন তৎকালীন বাংলায় নিয়োজিত সুবাদার। তিনি ছিলেন পুণ্যবান বাদশাহ আলমগীরের সুযোগ্য গভর্নর বা সুবাদার। মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মারাঠা, মগ, পর্তুগীজ দস্যুদের তিনি বিতাড়ন করেছিলেন। এসব সন্ত্রাসীদের শক্ত হস্তে দমন করতে পেরেছিলেন বলেই তার শাসনামলে বাংলার মানুষ অত্যন্ত শান্তিতে ছিল। যালিম, লুটেরা দস্যু কাফিরদের দমন করার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকা- নির্ঝঞ্ঝাট হওয়ায় বাংলায় তার শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়ার কিংবদন্তী রচিত হয়েছে। মুঘল গভর্নর হিসেবে শায়েস্তা খাঁ এর বিদায়পর্ব ছিল গৌরবব্যঞ্জক। বাংলার বিপুল জনতা মিছিলের মাধ্যমে তাকে বিদায় জানিয়েছিল। তাকে জীবনে এজন্য ত্যাগও স্বীকার করতে হয়েছে প্রচুর। দস্যু হিন্দু মারাঠারা ছিল অত্যাচারী, কিন্তু কাপুরুষ। মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষে একরাতে শায়েস্তা খাঁ তার শয়নকক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিশ্রামরত নিরস্ত্র শায়েস্তা খাঁ কে কাপুরুষের মতো অতর্কিতে আক্রমণ করল মারাঠা দস্যুসর্দার শিবাজী। শায়েস্তা খাঁ জানালা ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। কিন্তু তার অল্পবয়স্ক পুত্র দুর্ঘটনাবশত ঘরেই থেকে যায়। তার নিষ্পাপ পুত্রকে শিবাজী একা পেয়ে খন্ড- খন্ড- করে কেটে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করল। এই ঘটনাটি ঘটে ১৬৬৩ ঈসায়ী সনের এপ্রিল মাসে। (সূত্র: চেপে রাখা ইতিহাস, ১৭৯ পৃষ্ঠা)

শিবাজী ছিল মারাঠা দস্যুদের নেতা হিসেবে। যাদের কাজই ছিলো সাধারণ মানুষের ঘড়বাড়ি লুণ্ঠন, লূটতরাজ, অগ্নিসংযোগ আর মানুষ হত্যা করা। এদের নিষ্ঠুর অত্যাচারে মানুষ এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত ছিলো যে, কচি কচি বাচ্চাদের কান্না থামাবার জন্য মারাঠা বর্গীদের’ অত্যাচারের কথা নিয়ে মা কবিতা শুনাতো-

“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো

বর্গী এলো দেশে

বুলবুলিতে ধান খেয়েছে

খাজনা দেব কিসে

শিবাজী যখন তার লুটপাট ও অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিলো তখন মুঘল মহান সম্রাট আওরঙ্গজেব ১০ হাজার সেনা নিযে সেনাপতি আফজল খাঁ কে পাঠিয়েছিলেন মারাঠা দস্যুদের দমনের জন্য। খবর পেয়ে শিবাজী ভাবলো, এত সেনার সাথে তো পারা সম্ভব নয়। তাই সে ভিন্ন মতলব আটলো। সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে শিবাজী গেলো আফজল

খাঁর সাথে দেখা করতে। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নিয়ম হচ্ছে, সন্ধি করতে আসলে তাকে সম্মান করতে হবে, তার কোন অনিষ্ট করা যাবে না। সেনাপতি আফজল খাঁ শিবাজীকে সাদর সম্ভাষন জানালো। এ সময় দু’জনে সৌজন্য মোলাকাতও করলো। কিন্তু মারাঠা দস্যু নেতা শিবাজী ছিলো ধোঁকাবাজ। সে

আগেই তার পোষাকের নিচে ‘বাঘনখ’ নামক একটি ধারালো অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলো, মোলাকাতের সময় সে হঠাৎ সেনাপতি আফজল খানের উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে বসলো।[উৎস সম্পাদনা]

রবীন্দ্রনাথের চোখে শিবাজী[উৎস সম্পাদনা]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শিবাজী উৎসব কবিতায় বলেছিলেন:[৩]

নবদ্বীপ রাসযাত্রায় শিবাজী[উৎস সম্পাদনা]

আরো দেখুন[উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

  1. Chhatrapati Shivaji। পৃ: ১৮। আইএসবিএন 8128808265  |authorname= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. Shivaji the Great। পৃ: ১৯৩। আইএসবিএন 8190200003  |authorname 2= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |authorname 1= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  3. সঞ্চয়িতা, পৃ:৩১২