হেনরি এভরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হেনরি এভরি
— জলদস্যু —
Every,Henry.JPG
অ্য জেনারেল হিস্টোর অফ পাইরেট বইয়ে হেনরি (১৭২৫)
ডাকনাম লং বেন
দ্য আর্ক পাইরেট
দ্য কিং অফ পাইরেটস
ধরন জলদস্যু
জন্ম ২৩ আগস্ট, ১৬৫৯
জন্মস্থান নিউটন ফিরার্স, ডেভন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ১৬৯৬-এর পর
মৃত্যুর স্থান অজানা, খুব সম্ভবত গ্রেট ব্রিটেনের কোন এক জায়গা
আনুগত্য নাই
কার্যকাল ১৬৯৪-১৬৯৬
স্থান ক্যাপ্টেন
অপারেশনের বেজ আটলান্টিক মহাসাগরভারত মহাসাগর
কমান্ড ফেঞ্চি, সাবেক নাম চার্লস ২
সম্পদ গঞ্জ-ই-সাওয়াইসহ ১৬৯৫-এর মধ্যে ১১টি ভেসেল

হেনরি এভরি বা এভোরি (২৩ আগস্ট ১৬৫৯-১৬৯৬-এর পর) ছিলেন একজন ইংরেজ জলদস্যু যিনি ১৬৯০-এর দশকের মাঝামাঝি আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে বিচরন করতেন। তিনি তার জীবদ্দশায় বেশ কয়েকটি নাম ব্যবহার করেছেন তার মধ্যে, হেনরি ব্রিজম্যান এবং তার ক্রু ও অন্যান্যদের কাছে তিনি লং বেন নামে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তার নাম কখনো কখনো ভুলভাবে জন এভরি হিসেবেও উচ্চারিত হয়। সমকালীন ব্যক্তিরা তাকে আর্ক পাইরেটদ্য কিং অফ পাইরেটস বলতেন। এভরি ছিলেন তার সময়কার সবচেয়ে কুখ্যাত জলদস্যু এবং সেসময়কার সল্প সংখ্যক জলদস্যুদের মধ্যে একজন যারা কোন প্রকার গ্রেফতার বা যুদ্ধে মৃত্যু এড়িয়ে জলদস্যু পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। যদিও এভরির জলদস্যুবৃত্তি দুই বছর স্থায়ী ছিল কিন্তু তিনি এই সময়ের মধ্যে এমন কিছু কাজ করেছেন যার জন্য অনেকেই জলদস্যু পেশায় আসতে উৎসাহিত হয়েছেন এবং তার বিচিত্র জীবন নিয়ে অসংখ্য সাহিত্য সৃষ্ঠি হয়েছে।

জলদস্যুতা[সম্পাদনা]

এভরি ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে জন্মগ্রহন করেন কিন্তু তার প্রারম্ভিক জীবন সম্পর্কে তেমন জানা যায় না। তিনি ১৬৮৯ থেকে ১৬৯০ পর্যন্ত রাজকীয় নৌবাহিনীতে অতিবাহিত করেন এবং সম্ভবত নয় বছরের যুদ্ধের (১৬৮৮-১৬৯৭) সময় কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেন। নেভি থেকে অপসারিত হওয়ার পর তিনি আফ্রিকা উপকূলে দাস বানিজ্য শুরু করেন। ১৬৯৩ সালে তিনি পুনরায় নৌবাহিনীতে যোগদান করেন ও এসময় তিনি ফার্স্ট ম্যাট হিসেবে চার্লস ২ নামক যুদ্ধজাহাজে নিযুক্ত হন। ১৬৯৩ সালের আগস্টে চার্লস ২ লন্ডন ত্যাগ করার পর করোনার উত্তর স্প্যানিশ হার্বারে নোঙ্গর ফেলে যেখানে অন্যান্য জাহাজ এক্সপিডিসনের জন্য জড়ো হয়েছিল। ৭ই মে ১৬৯৪ সালে চার্লস ২-এর ক্রুরা বিদ্রোহ করে। জাহাজের নাম পরিবর্তন করে ফেঞ্চি রাখা হয় এবং ক্রুরা এভরিকে তাদের নতুন ক্যাপ্টেন হিসেবে মনোনয়ন দেন। ফেঞ্চি দক্ষিনের পথ ধরে ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রা করে এবং তারা শীঘ্রই পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে পাঁচটি জাহাজ লুট করে।

১৬৯৫-এর প্রথম দিকে ফেঞ্চি কমোরুজ দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে, সেখানে এভরির ক্রুরা একটি ফরাসি ভেসেরে অভিযান চালায় এবং অল্পের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়ার সৈন্যদের হাত থেকে রক্ষা পান। পরবর্তীতে এভরি উত্তরে আরবীয় সাগরের দিকে যাত্রা করে। সেখানে মুঘলদের ২৫টি জাহাজের একটি বহর মক্কার দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। এছাড়াও এই বহরে ধন-রত্ন বহনকারী জাহাজ গঞ্জ-ই-সাওয়াইও অবস্থান করছিল। এভরি নিজে এবং থমাস টিউসহ আরো কয়েকজন জলদস্যুর সহয়তায় মুঘলদের বহরে অভিযান পরিচালনা করেন। থমাস টিউ মুঘলদের হাতে নিহত হন ও এভরি জলদস্যুদের একটি ছোট দল নিয়ে গঞ্জ-ই-সাওয়াই-এর এসর্ক্ট জাহাজ ফাহাত মুহাম্মদ আটক করেন এবং পরবর্তীতে গঞ্জ-ই-সাওয়াই আটক করেন। গঞ্জ-ই সাওয়াই আটকের সময় জলদস্যুদের সাথে মুঘল সৈন্যদের লড়াই হয় কিন্তু অধিকাংশ জলদস্যু নিহত হওয়ার পরও লড়াইয়ে জলদস্যিরা জয় লাভ করে। জাহাজ থেকে এভরি £৬০০,০০০ সমমূল্যের ধন-রত্ন ও গহনা লুট করে। এই ধন-রত্ন তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী জলদস্যুতে পরিনত করে।

অবসর[সম্পাদনা]

এভরির গঞ্জ-ই-সাওয়াই লুটের ঘটনা তখনকার ব্রিটিশ ও মুঘল কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে প্রাইভে কাউন্সিল ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্মিলিতভাবে এভরিকে ধরার জন্য £১,০০০ ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যা ছিল বৈশ্বয়ীকভাবে ইতিহাসের প্রথম মানুষ শিকার। এভরি ও তার ক্রুরা পালিয়ে বাহামাস চলে আসেন এবং তারা সেসময় জলদস্যুদের স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত নিউ প্রোভিডেন্সে আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জলদস্যুরা দল ভেঙ্গে দেন, তাদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরে যান, কেউ কেউ ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে রয়ে যান বা উত্তর আমেরিকা উপনিবেশে চলে যান। ২৪ জন জলদস্যু ধরা পরেন, তাদের মধ্যে ছয় জনকে লন্ডনে ১৬৯৬ সালের নভেম্বরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। যাইহোক, এভরি গ্রেফতার এড়াতে সমর্থ হন, ১৬৯৬ সালে তিনি তার সমস্ত রেকর্ড মুছে ফেলেন এবং তার পরবর্তী জীবন বা কর্মজীবন অজানা। অনিশ্চিত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, তিনি সম্ভবত তার নাম পরিবর্তন করে অবসর গ্রহণ করেন এবং তার বাকী জীবন ইংল্যান্ড বা কোন অজানা দ্বীপে অতিবাহিত করেন ও ১৬৯৬ সালের পরে কোন একসময় মৃত্যুবরণ করেন।

পদটীকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]