সম্মান রক্ষার্থে হত্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার-কিলিং হল কাউকে নিজের পরিবার বা গোত্রের সম্মানহানির দায়ে ঐ পরিবার বা গোত্রের অপর ব্যক্তি কর্তৃক হত্যা করা, যার মাধ্যমে এই সম্মানহানির উপযুক্ত প্রতিকার হয়েছে বলে মনে করা হয়।[১][২] পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনার কিলিং প্রচলিত। নারীরা হলো অনার কিলিং এর প্রধান শিকার। পাকিস্তান, জর্ডান, লেবানন, মরোক্কো, সিরিয়ান রিপাবলিক ছাড়া অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশে এ প্রথা অধিক প্রচলিত। তবে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানীর মত দেশেও অনার কিলিং এর খবর পাওয়া যায়।

সাধারণ গুণাবলী[সম্পাদনা]

অনেক অনার কিলিং একটি পরিবারের একাধিক সদস্য দ্বারা পরিকল্পনা করা হয়, কখনও কখনও একটি আনুষ্ঠানিক "পারিবারিক পরিষদের" মাধ্যমে। হত্যার হুমকি ব্যবহার করা হয় আচরণ নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে, বিশেষ করে যৌনতা এবং বিবাহ সংক্রান্ত, যা কিছু বা সমস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি কর্তব্য হিসাবে দেখা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা সমাজে পরিবারের সুনাম রক্ষা করার জন্য কাজ করতে বাধ্য বোধ করতে পারে এবং কলঙ্ক বা এড়িয়ে যাওয়া এড়াতে পারে, বিশেষ করে আঁটসাঁট সম্প্রদায়গুলিতে। [৩] অপরাধীরা প্রায়ই তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতিবাচক কলঙ্কের সম্মুখীন হয় না, কারণ তাদের আচরণকে ন্যায়সঙ্গত হিসাবে দেখা হয়।[৪]

সম্মান রক্ষার্থে হত্যার ক্ষেত্রে যেসকল কারণ প্রধান তার মধ্য রয়েছে:

  • পরিবারের অমতে বিয়ে করা[৫],
  • নিম্নবর্ণ বা মর্যাদার কাউকে বিয়ে করা,
  • বিবাহ-পূর্ব সম্পর্ক[৬],
  • বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক[৬],
  • বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ পোষণ করা,
  • ধর্মীয় বিধি-নিষেধ অবজ্ঞা করা,
  • সামাজিক বা গোত্রীয় বিধি-নিষেধ অবজ্ঞা করা।

অঞ্চল ভিত্তিক তথ্য[সম্পাদনা]

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড দেখা যায়; তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য এলাকায় এর প্রকোপ বেশি লক্ষনীয়।

এশিয়া[সম্পাদনা]

দক্ষিণ এশিয়া[সম্পাদনা]

দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান এবং ভারতে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। সতীদাহকে এক ধরনের অনার-কিলিং এর মধ্যে গণ্য করা হয়, সতীদাহ আত্মহত্যা নয়, সতীদের আগুনে পুড়ে মরতে বাধ্য করা হত। ব্রিটিশরা আসার পর সতীদাহ নিষিদ্ধ হয় কিন্তু বিংশ শতাব্দিতেও সতীদাহের ঘটনা ঘটেছে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরে ৪০টি সতীদাহের ঘটনার কথা জানা যায়, বেশীভাগ ঘটেছে রাজস্থানে। উত্তর ভারতে ভাগলপুর অনার-কিলিং এর জন্য কুখ্যাত।[২] ২০১১ সালে পাকিস্তানে কমপক্ষে ৯৪৩ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে; যাদের অন্তত ৯৩ জন কন্যা শিশু এবং ০৭ জন খ্রিস্টান ও ০২ জন হিন্দু নারী।[৭] বাংলাদেশেও এধরনের ঘটনার অসংখ্য নজির রয়েছে[৫]

মধ্যপ্রাচ্য[সম্পাদনা]

আমেরিকা[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষায় দেখা যায় পৃথিবীতে প্রতি বছর অনার কিলিং এর নামে প্রায় ৫০০০ জনকে হত্যা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার নারীবাদী সংগঠনের এক হিসাবমতে প্রতি বছর ২০,০০০ এর উপর মেয়েকে অনার কিলিং এর নামে হত্যা করা হয়।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সম্মানের জন্য হত্যা[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "অন্ধকার অধ্যায় অনার কিলিং"। ৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৪ 
  3. "FAQ" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  4. Government of Canada, Department of Justice (২০১৩-০৯-২৪)। "Introduction - Preliminary Examination of so-called honour killings in canada"www.justice.gc.ca। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  5. "বিয়েটা হলো মা-বাবার অমতে..."প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৪ 
  6. পাকিস্তানে ক্রমেই বাড়ছে ‘অনার কিলিং’[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "কালের কণ্ঠ"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৪ 
  8. "Robert Fisk: The crimewave that shames the world"The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১০-০৯-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]