যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যুদ্ধ হলো দেশ, সরকার, সমাজ বা আধাসামরিক বাহিনী যেমন ভাড়াটে, চরমপন্থি এবং মিলিশিয়াদের মধ্যে একটি তীব্র সশস্ত্র সংঘাত। একে সাধারণত নিয়মিত বা অনিয়মিত সামরিক বাহিনীর সাহায্যে সংঘটিত চরম সহিংসতা, আগ্রাসন, ধ্বংস এবং মৃত্যুহার দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে, যুদ্ধবিগ্রহ বলতে যুদ্ধের ধরনগুলোর সাধারণ ক্রিয়াকলাপ ও বৈশিষ্ট্য বা সাধারণভাবে যুদ্ধের‌ই ক্রিয়াকলাপ ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে বোঝায়। কোনো যুদ্ধ পুরোপুরি বৈধ সামরিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে এবং এর ফলে প্রচুর বেসামরিক লোক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

যুদ্ধবিদ্যাকে কখনও কখনও পোলেমোলজি (/ ˌpɒləˈmɒlədʒi / POL-ə-MOL-ə-jee) বলা হয়, গ্রীক পোলেমোস থেকে যার অর্থ "যুদ্ধ", এবং-লজি, যার অর্থ "অধ্যয়ন"।

যদিও বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধকে মানব প্রকৃতির সর্বজনীন এবং পৈত্রিক দিক হিসাবে দেখেন, কিছু লোক একে নির্দিষ্ট সামাজিক-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত পরিস্থিতির ফলাফল বলে মনে করেন।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

Gari-Melchers-War-Highsmith.jpeg

"যুধ্‌" একটি সংস্কৃত ক্রিয়ামূল যার অর্থ "লড়াই করা বা যুদ্ধ করা"। "যুধ্"‌ ক্রিয়ামূলের সাথে "ক্ত" কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, যার অর্থ "অতীতে সংঘটিত হয়েছে"। অর্থ্যাৎ যুদ্ধ = যুধ্‌ + ক্ত। প্রত্যয়টি যুক্ত হবার সময় ‌এর "ক্" লুপ্ত হয়ে ক্রিয়ামূলের অন্ত্যে অবস্থিত "ধ্‌" ও প্রত্যয়ের "ত" একত্রে মিলে "দ্ধ" গঠন করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আটটি উপজাতি সমাজ এবং বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধে নিহতের শতকরা হার। (লরেন্স এইচ. কিলে, প্রত্নতত্ত্ববিদ)
খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দাপুরে মিশরীয় অবরোধ, রামেসিয়াম, থেবস

প্রাগৈতিহাসিক যুদ্ধের প্রাচীনতম প্রমাণটি হলো জেবেল সাহাবাতে অবস্থিত একটি মেসোলিথিক কবরস্থান, যার বয়স ধরা হয়েছে আনুমানিক প্রায় ১৪,০০০ বছর। সেখানে থাকা কঙ্কালগুলোর প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশেই ভয়ানক মৃত্যুর চিহ্ন দেখা গেছে। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে, যখন থেকে রাষ্ট্রগুলোর উত্থান শুরু হয়েছে, তখন থেকেই বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে সামরিক ক্রিয়াকলাপ দেখা গেছে। কন‌ওয়ে ডব্লিউ. হেনডারসনের মতে, "একটি উৎস দাবি করছে যে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ১৪,৫০০ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যেখানে মাঝের শান্তিপূর্ণ ৩০০ বছর বাদ দিলে ৩.৫ বিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।" এই অনুমানের একটি প্রতিকূল পর্যালোচনা এর প্রবক্তাদের নিম্নলিখিত সম্পর্কে উল্লেখ করেছে: "তাছাড়া, হয়তো যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যাটা অসম্ভব বেশি মনে হয়েছিল, তাই তিনি 'প্রায় ৩,৬৪০,০০০,০০০জন লোক যুদ্ধে কিংবা যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগে নিহত হয়েছিল'- একে পরিবর্তন করে লিখেছেন 'প্রায় ১,২৪০,০০০,০০০জন লোক...নিহত হয়েছিল।'" নিচের হিসাবটি আরও প্রশংসনীয়, তবে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮০ অব্দ থেকে ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সংঘটিত গণ-সহিংসতার ১০০টি মারাত্মক ঘটনা (কমপক্ষে ৩০০,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬৬ মিলিয়ন হতাহতের সংখ্যাবিশিষ্ট যুদ্ধ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ) বিবেচনা করে, যেখানে সর্বমোট প্রায় ৪৫৫ মিলিয়ন লোকের প্রাণ গেছে, এটিকেও অনেক বেশি বলা যেতে পারে। আদিম যুদ্ধগুলোতে ১৫.১% মৃত্যু এবং ৪০০ মিলিয়ন লোক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। একে খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত সময়ে যে ১,২৪০ মিলিয়ন লোক মারা গেছে, তার সাথে যোগ করে বলা যায়, মানবজাতির ঐতিহাসিক ও প্রাগৈতিহাসিক সময়ের যুদ্ধে মোট ১,৬৮০,০০০,০০০জন লোক নিহত হয়েছে (যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও অন্যান্য দুর্যোগে মৃতের সংখ্যাসহ)।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লরেন্স এইচ. কিলে তাঁর ওয়ার বিফোর সিভিলাইজেশন ব‌ইতে বলেন, ইতিহাসের পরিচিত সমাজগুলোর প্রায় ৯০-৯৫% অনিয়মিত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং অনেকে নিয়মিত যুদ্ধ‌ও করত।

যুদ্ধের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

লক্ষ্য[সম্পাদনা]

প্রভাব[সম্পাদনা]

অনুপ্রেরণামূলক তত্ত্বসমূহ[সম্পাদনা]

নৈতিকতা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]