অ্যাসিড নিক্ষেপ

অ্যাসিড নিক্ষেপ (Acid attack), যা অ্যাসিড আক্রমণ বা ভিট্রিওলেজ নামেও পরিচিত, হলো এক ধরনের সহিংস হামলা[১] যেখানে অন্য কোনো ব্যক্তির শরীরে অ্যাসিড বা অনুরূপ কোনো ক্ষয়কারী পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়। এটি সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে "বিকৃত, পঙ্গু, নির্যাতন বা হত্যা করার উদ্দেশ্যে" করা হয়ে থাকে।[২] এই ধরনের হামলার অপরাধীরা ক্ষয়কারী তরল সাধারণত ভুক্তভোগীর মুখে নিক্ষেপ করে, যার ফলে ত্বক ও টিস্যু (কলা) মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং অনেক সময় হাড় পর্যন্ত গলে যেতে পারে। অ্যাসিড আক্রমণের ফলে আংশিক বা সম্পূর্ণ অন্ধত্ব হতে পারে।[৩]
এই আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাসিডগুলো হলো সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড। কখনও কখনও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হলেও এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকারক।[৪] তীব্র ক্ষারীয় পদার্থের জলীয় দ্রবণ, যেমন কস্টিক সোডা বা অ্যামোনিয়াও ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে শক্তিশালী অ্যাসিডের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এই আক্রমণের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতির মধ্যে রয়েছে অন্ধত্ব, চোখের দহন এবং মুখ ও শরীরে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন বা স্কার।[৫] এর পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে সুদূরপ্রসারী সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
যদিও সারা বিশ্বেই অ্যাসিড আক্রমণ ঘটে থাকে, তবে এই ধরনের সহিংসতা উন্নয়নশীল অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। অ্যাসিড সারভাইভারস ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে, এটি প্রায়শই লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে ঘটে, যেখানে নারীরা অসমভাবে এর শিকার হয়। তবে যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে, যেখানে অ্যাসিড আক্রমণ মূলত গ্যাং অপরাধের সাথে যুক্ত, সেখানে অপরাধী এবং ভুক্তভোগী উভয়ের ক্ষেত্রেই পুরুষের সংখ্যা বেশি।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
[সম্পাদনা]অ্যাসিড আক্রমণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব হলো আজীবন স্থায়ী শারীরিক বিকৃতি। অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ)-এর মতে, অ্যাসিড আক্রান্তদের মধ্যে বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি। ফলস্বরূপ, ভুক্তভোগীকে শারীরিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, সেইসাথে প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা। শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রতিটি পর্যায়ে মনোবিজ্ঞানী এবং পরামর্শদাতাদের গভীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।[৬] তাদের জীবনের ওপর এই সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো সমাজে তাদের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।[২]
চিকিৎসা সংক্রান্ত
[সম্পাদনা]অ্যাসিড আক্রমণের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রভাবগুলো অত্যন্ত ব্যাপক। যেহেতু অধিকাংশ অ্যাসিড আক্রমণ মুখের ওপর লক্ষ্য করে করা হয়,[৭] তাই বিভিন্ন নিবন্ধে ভুক্তভোগীদের ওপর এর চিকিৎসার প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ক্ষতির তীব্রতা নির্ভর করে অ্যাসিডের ঘনত্ব (concentration) এবং অ্যাসিডটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার বা কোনো প্রশমক দ্বারা প্রশমিত করার আগের সময়ের ওপর। অ্যাসিড দ্রুত ত্বক, ত্বকের নিচের চর্বির স্তর এবং কিছু ক্ষেত্রে নিচের হাড়ও গলিয়ে ফেলতে পারে। চোখের পাতা এবং ঠোঁট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং নাক ও কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।[৮] অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন উগান্ডার গবেষণায় প্রাপ্ত কিছু ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:[৯]
- মাথার খুলি আংশিকভাবে নষ্ট বা বিকৃত হতে পারে এবং চুল পড়ে যায়।
- কান-এর তরুণাস্থি সাধারণত আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়; যার ফলে বধিরতা ঘটতে পারে।
- চোখের পাতা পুড়ে যেতে পারে বা বিকৃত হতে পারে, যার ফলে চোখ অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং অন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সরাসরি চোখে অ্যাসিড লাগলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কখনও কখনও উভয় চোখেই অন্ধত্ব দেখা দেয়।
- নাক সংকুচিত ও বিকৃত হতে পারে; তরুণাস্থি ধ্বংস হওয়ার কারণে নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- মুখ ছোট ও সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং এটি নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। অনেক সময় ঠোঁট আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে দাঁত বেরিয়ে থাকে। এর ফলে খাওয়া এবং কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে।
- চিবুক থেকে ঘাড় পর্যন্ত ক্ষতচিহ্ন বা স্কার (scar) তৈরি হতে পারে, যা চিবুককে সংকুচিত করে এবং ঘাড় নাড়ানোর ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত করে দেয়।
- অ্যাসিডের বাষ্প নিশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করলে সাধারণত শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়।
এই প্রভাবগুলো ছাড়াও ভুক্তভোগীরা সেপসিস, কিডনি বিকল হওয়া, ত্বকের বর্ণহীনতা (depigmentation), এমনকি মৃত্যুর সম্মুখীন হতে পারেন।[১০]
২০১৫ সালের একটি হামলায় এক ব্যক্তির মুখ ও শরীরে সালফিউরিক অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়েছিল যখন তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন, যার ফলে অন্যান্য গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি তিনি ঘাড় থেকে নিচ পর্যন্ত পঙ্গু হয়ে যান।[১১]
মনস্তাত্ত্বিক
[সম্পাদনা]অ্যাসিড আক্রমণের শিকার ব্যক্তিরা সুস্থ হওয়ার পথে অনেক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হন। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান হলো বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ। এছাড়া, ভুক্তভোগীরা আত্মমর্যাদা কমে যাওয়া এবং সামাজিক পরিমণ্ডলে মাত্রাতিরিক্ত সংকোচ বা অস্বস্তি বোধ করার কথা জানিয়েছেন।[১২]
সামাজিক
[সম্পাদনা]অ্যাসিড আক্রান্তদের জন্য, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সামাজিক প্রতিকূলতা তৈরি হয়।[৯] উদাহরণস্বরূপ, এই ধরনের হামলা সাধারণত ভুক্তভোগীকে কোনো না কোনোভাবে অক্ষম করে দেয়, যার ফলে খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজের জন্য তাদের স্বামী বা পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। দৃষ্টিশক্তিহীনতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা উপযুক্ত কাজ খুঁজে পায় না, যা এই নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এটি তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের যত্ন নেওয়া পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদের হার অনেক বেশি; উগান্ডায় দেখা গেছে ২৫% ক্ষেত্রে স্বামীরা তাদের আক্রান্ত স্ত্রীদের ফেলে চলে যান (যেখানে স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩%)।[৯] এছাড়া অবিবাহিত অবস্থায় আক্রান্ত হলে সমাজ থেকে একঘরে হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা তাদের বিবাহের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়।[১৩]
চিকিৎসা এবং ফলাফল
[সম্পাদনা]যখন অ্যাসিড ত্বকের সংস্পর্শে আসে, তখন কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার ওপর পোড়ার তীব্রতা নির্ভর করে। যদি দ্রুত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় বা প্রশমিত করা হয়, তবে পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা বা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে, ত্বকের সুরক্ষা নেই এমন অংশগুলো, যেমন চোখের কর্ণিয়া বা ঠোঁট, সংস্পর্শে আসার সাথে সাথেই পুড়ে যেতে পারে।
অনেক ভুক্তভোগী এমন এলাকায় আক্রান্ত হন যেখানে তাৎক্ষণিক পানি পাওয়া সম্ভব হয় না, অথবা অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বা চোখের আরও ক্ষতি এড়াতে চোখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ার ফলে তারা কিছুই দেখতে পান না। যে সকল উন্নয়নশীল দেশে এই হামলার হার বেশি, সেখানে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এখনও অপর্যাপ্ত। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে উগান্ডা,[৯] বাংলাদেশ,[১৪] এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে ভুক্তভোগীদের জন্য খুব কম সংখ্যক বার্ন সেন্টার বা দগ্ধ চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।[২] উগান্ডায় পুরো দেশে মাত্র একটি বিশেষায়িত বার্ন সেন্টার রয়েছে যা ২০০৩ সালে খোলা হয়েছে;[৯] কম্বোডিয়াতেও ভুক্তভোগীদের জন্য মাত্র একটি দগ্ধ চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।[২] গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের মাত্র ৩০% মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।[১৪]
পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাবের পাশাপাশি, অনেক অ্যাসিড আক্রান্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন না। এর পেছনে বাহিনীর ওপর আস্থার অভাব, আক্রমণকারীদের বিচারহীনতার কারণে সৃষ্ট হতাশা এবং আক্রমণকারীর দ্বারা পুনরায় প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয় কাজ করে।[১৩]
পোড়ার চিকিৎসা কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব এই সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কিছু ভুক্তভোগী ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধোয়ার পরিবর্তে অ্যাসিডের ওপর তেল প্রয়োগ করেন। এই ধরনের ঘরোয়া প্রতিকার বা টোটকাগুলো ক্ষতির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়, কারণ এগুলো অ্যাসিডের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে না।[১০]
অপরাধীদের অনুপ্রেরণা
[সম্পাদনা]আক্রমণকারীর উদ্দেশ্য প্রায়ই ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার চেয়ে তাকে লজ্জা এবং চরম যন্ত্রণা দেওয়া। ব্রিটেনে এই ধরনের হামলা, বিশেষ করে পুরুষদের বিরুদ্ধে করা হামলাগুলো অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট করা হয় না বলে ধারণা করা হয়, যার ফলে এর অনেকগুলোই সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয় না।[১৫] অপরাধীদের সবচেয়ে সাধারণ কিছু অনুপ্রেরণা বা কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যৌন প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব[১৬][৯]
- যৌন সংক্রান্ত ঈর্ষা এবং লালসা[১৭]
- যৌন আবেদন প্রত্যাখ্যান, বিবাহ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং যৌতুকের দাবির প্রতিশোধ[১৮]
- গ্যাং সহিংসতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা[১৫]
- জমির মালিকানা, খামারের গবাদি পশু, আবাসন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ[১৯]
অ্যাসিড আক্রমণ প্রায়শই এমন একজন নারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে ঘটে যিনি বিয়ের প্রস্তাব বা যৌন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।[২০] পুরুষদের তুলনায় সমাজে নারীর অবস্থান এবং লিঙ্গ বৈষম্য এই ধরনের হামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[২১]
ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস বা সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেও ব্যক্তিদের ওপর হামলা ঘটে থাকে। এই হামলাগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে লক্ষ্য করে হতে পারে, অথবা কেবল কোনো একটি সামাজিক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার কারণে যথেচ্ছভাবে কোনো ব্যক্তির ওপর চালানো হতে পারে। ইউরোপে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন প্রাক্তন সদস্য কনস্টান্টিনা কুনেভা ২০০৮ সালে অ্যাসিড হামলার শিকার হন, যা ছিল "গত ৫০ বছরে গ্রিসে একজন ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।"[২২] স্কুলে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে নারী শিক্ষার্থীদের মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটেছে।[২৩] ধর্মীয় সংঘাতের কারণেও অ্যাসিড হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্য ধর্মে রূপান্তরিত হতে অস্বীকার করার জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ই অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন।[২৪]
সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা, ভূমি বিরোধ এবং উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বও অ্যাসিড হামলার কারণ হিসেবে দেখা গেছে।[২৫] যুক্তরাজ্য, গ্রিস এবং ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক জায়গায় অপরাধী চক্র বা গ্যাংগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলেও অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে।[১৫]
ভৌগোলিক বিস্তার
[সম্পাদনা]গবেষক এবং কর্মীদের মতে, যে দেশগুলোতে সাধারণত অ্যাসিড হামলার ঘটনা বেশি ঘটে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ,[২৬] ভারত,[২৭] নেপাল, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, যুক্তরাজ্য, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, পাকিস্তান,[২৮] এবং আফগানিস্তান। তবে বিশ্বের অনেক দেশেই অ্যাসিড হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- আফগানিস্তান
- অস্ট্রেলিয়া
- বাংলাদেশ
- বেলজিয়াম
- বুলগেরিয়া
- কম্বোডিয়া
- চীন
- কলম্বিয়া
- ফ্রান্স
- গ্যাবন
- জার্মানি
- ভারত
- ইন্দোনেশিয়া
- ইরান
- আয়ারল্যান্ড
- ইসরায়েল
- ইতালি
- জ্যামাইকা
- কেনিয়া
- লাওস
- মেক্সিকো
- মিয়ানমার
- নেপাল
- নাইজেরিয়া
- ফিলিপাইন
- পাকিস্তান
- রাশিয়া
- শ্রীলঙ্কা
- সুইডেন
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- তাইওয়ান
- তানজানিয়া
- থাইল্যান্ড
- উগান্ডা
- যুক্তরাজ্য
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- ভিয়েতনাম
এছাড়াও, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল যেমন দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য ও উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়াতেও অ্যাসিড হামলার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।[৪] তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অ্যাসিড হামলার হার সবচেয়ে বেশি।[২৯]
যুক্তরাজ্যের পুলিশ উল্লেখ করেছে যে, অনেক ভুক্তভোগী হামলার রিপোর্ট করতে ভয় পান, যার অর্থ এই সমস্যার প্রকৃত মাত্রা হয়তো অজানা থেকে যাচ্ছে।[৩০]
লিঙ্গ
[সম্পাদনা]ভুক্তভোগী এবং অপরাধীদের লিঙ্গ অনুপাতের একটি সঠিক অনুমান করা কঠিন, কারণ অনেক অ্যাসিড আক্রমণ রিপোর্ট করা হয় না বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নথিভুক্ত করা হয় না। উদাহরণস্বরূপ, দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত ২০১০ সালের একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানে অ্যাসিড আক্রমণের হার সম্পর্কে "কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।"[১৬]
২০০৭ সালের একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় গত ৪০ বছরে ১৩টি দেশে হওয়া ২৪টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে ৭৭১টি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৭] লন্ডন-ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসিড সারভাইভারস ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে, ৮০% অ্যাসিড আক্রমণ নারীদের ওপর হয় এবং অ্যাসিড হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কম অনুমান করা হয়। কিছু অঞ্চলে, পুরুষদের দ্বারা নারী ভুক্তভোগীদের ওপর চালানো হামলার পেছনে প্রায়শই এই মানসিকতা কাজ করে যে— "আমি যদি তোমাকে না পাই, তবে অন্য কেউ পাবে না।"[৩১]
বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপকে "লিঙ্গ অপরাধ" (gender crime) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; কারণ এ দেশে পুরুষদের দ্বারা আক্রান্ত নারী ভুক্তভোগীদের আধিক্য রয়েছে এবং এর প্রধান কারণ হলো বিয়েতে অস্বীকার করা বা যৌন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা।[৩২] জ্যামাইকায়, পুরুষ সঙ্গীদের নিয়ে ঝগড়ার জেরে এক নারী অন্য নারীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করা একটি সাধারণ কারণ।[৩২] অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই পুরুষ এবং এই ধরনের অনেক হামলা গ্যাং সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত।[১৫]
ভারতে, একজন নারী ভুক্তভোগী দুইবার ছুরিকাঘাতের শিকার হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অ্যাসিড হামলার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই কেবল সেই ভুক্তভোগীকে পুলিশি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যা হয়রানির মামলা মোকাবিলায় পুলিশের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।[৩৩]
অন্য একটি কারণ যা অ্যাসিড হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় তা হলো ভুক্তভোগীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা; কারণ যারা দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করেন তাদের ওপর হামলার সম্ভাবনা বেশি থাকে।[১৩][২৯] ২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসিড আক্রমণের সর্বোচ্চ হার থাকা তিনটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত এবং কম্বোডিয়া—গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে (যা পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সুযোগের সমতা পরিমাপ করে) ১৩৬টি দেশের মধ্যে যথাক্রমে ৭৫তম, ১০১তম এবং ১০৪তম অবস্থানে ছিল।[৩৪]
প্রতিরোধ
[সম্পাদনা]বিশ্বে অ্যাসিড আক্রমণের ক্রমবর্ধমান হার রোধে গবেষণার মাধ্যমে অনেক সমাধান উঠে এসেছে। বাংলাদেশ, যেখানে হামলার হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে, অনেক দেশের জন্য একটি মডেল বা আদর্শ হিসেবে কাজ করছে এবং অন্যান্য দেশগুলো আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করছে।[২৯] তবে বেশ কিছু প্রতিবেদনে অ্যাসিড দগ্ধদের পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানের জন্য এনজিওগুলোর আইনি ভূমিকা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।[২] এছাড়া, প্রায় সব গবেষণাই এই সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় অ্যাসিড বিক্রির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছে।[২][৯][২৯]
এনজিও-র ভূমিকা
[সম্পাদনা]অ্যাসিড হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে এমন এলাকাগুলোতে এই অপরাধ মোকাবিলায় অনেক বেসরকারি সংস্থা গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন, যা ভুক্তভোগীদের আইনি, চিকিৎসা, পুনর্বাসন পরামর্শ এবং জীবন পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।[২৯] উগান্ডাতেও একই ধরনের প্রতিষ্ঠান অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন নামে কাজ করছে।[৯] কম্বোডিয়াতে কম্বোডিয়ান অ্যাসিড সারভাইভারস চ্যারিটি (CASC) ভুক্তভোগীদের সাহায্য করে।[২] এনজিওগুলো একদিকে সারভাইভারদের পুনর্বাসন সেবা প্রদান করে, অন্যদিকে সামাজিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলে এবং অ্যাসিড হামলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।
বাংলাদেশে অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষ, অ্যাকশন এইড এবং ব্র্যাক (BRAC)-এর কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম সারভাইভারদের সহায়তা করে।[৩৫] পাকিস্তানে 'ডেপিলেক্স স্মাইল এগেইন ফাউন্ডেশন' এবং 'অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন পাকিস্তান' ইসলামাবাদ থেকে চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করে। ভারতেও কলকাতার প্রধান কার্যালয়সহ দিল্লি ও মুম্বাইতে অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অ্যাসিড সারভাইভারস ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল (ASTI), যা একটি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চ্যারিটি, আফ্রিকা ও এশিয়ার সহযোগী সংস্থাগুলোকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করে। এটিই একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা যার একমাত্র লক্ষ্য হলো অ্যাসিড সহিংসতা বন্ধ করা। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও উগান্ডার ছয়টি ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করছে। এএসটিআই (ASTI) চিকিৎসা দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রদান, তহবিল সংগ্রহ এবং আইন পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের একটি প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অ্যাসিড সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা যাতে অ্যাসিড কেনাবেচায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।[৩৬]
ভারতীয় অ্যাসিড সারভাইভার শিরিন জুওয়ালে অন্যান্য সারভাইভারদের মনস্তাত্ত্বিক পুনর্বাসনে সহায়তা করার জন্য 'পলাশ ফাউন্ডেশন' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সৌন্দর্যের সামাজিক মানদণ্ড নিয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দেন এবং বৈষম্য ও বিকৃতির শিকার সকল ব্যক্তির ক্ষমতায়নের পক্ষে জনসমক্ষে কথা বলেন।
অ্যাসিড বিক্রির নিয়ন্ত্রণ
[সম্পাদনা]অ্যাসিড কেনা বা সংগ্রহের সহজলভ্যতার সাথে অ্যাসিড আক্রমণের হারের একটি ধনাত্মক সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে।[২৯] সালফিউরিক, নাইট্রিক এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো প্রায় সব ক্ষেত্রেই সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, মটরসাইকেল মেকানিকের দোকানে মাত্র ৪০ মার্কিন সেন্টে এক লিটার ঘন সালফিউরিক অ্যাসিড কেনা সম্ভব। স্বর্ণ বা গয়নার দোকানে নাইট্রিক অ্যাসিড পাওয়া যায় যা সোনা পরিশোধন করতে ব্যবহৃত হয়। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড গয়না পালিশ করার পাশাপাশি সয় সস, প্রসাধনী এবং প্রচলিত ঔষধ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।[৪]
সহজে পাওয়ার এই সুযোগের কারণে অনেক সংস্থা অ্যাসিড অর্থনীতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানায়। সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সকল অ্যাসিড ব্যবসায়ীদের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্স, নির্দিষ্ট এলাকায় ঘন অ্যাসিডের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অ্যাসিড বিক্রির একটি উন্নত তদারকি ব্যবস্থা, যেমন প্রতিটি লেনদেনের নথিপত্র রাখা।[২] তবে কিছু গবেষক সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ অ্যাসিডের কালোবাজারি তৈরি করতে পারে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে মাথায় রাখতে হবে।[২]
অঞ্চলভেদে
[সম্পাদনা]আফ্রিকা
[সম্পাদনা]নাইজেরিয়া,[১০] উগান্ডা,[৯] এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কিছু আফ্রিকান দেশে অ্যাসিড হামলার উচ্চ হারের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ঘটনার বিপরীতে, এই দেশগুলোতে অ্যাসিড আক্রমণে লিঙ্গ বৈষম্য তুলনামূলক কম দেখা যায়। উগান্ডায় ৫৭% অ্যাসিড আক্রান্ত ব্যক্তি নারী এবং ৪৩% পুরুষ ছিলেন।[৯] নাইজেরিয়ার রাসায়নিক দহন সংক্রান্ত একটি গবেষণায় এর বিপরীত চিত্র পাওয়া গেছে: সেখানে ৬০% অ্যাসিড আক্রান্ত রোগী পুরুষ এবং ৪০% নারী ছিলেন।[১০] উভয় দেশেই তরুণরা অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল: নাইজেরিয়ার গবেষণায় গড় বয়স ছিল ২০.৬ বছর,[১০] আর উগান্ডার বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৫৯% সারভাইভারের বয়স ছিল ১৯-৩৪ বছর।[৯]
এই আফ্রিকান দেশগুলোতে অ্যাসিড হামলার উদ্দেশ্য কম্বোডিয়ার মতোই। ১৯৮৫-২০১১ সালে উগান্ডায় ৩৫% অ্যাসিড হামলার কারণ ছিল সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, এরপর ৮% সম্পত্তির দ্বন্দ্ব এবং ৫% ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব।[৯] নাইজেরিয়ার গবেষণায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও জানা গেছে যে, ৭১% অ্যাসিড হামলা কোনো প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক, পরিবারের সদস্য বা ব্যবসায়িক অংশীদারের সাথে তর্কের ফলে ঘটেছিল।[১০] গবেষকরা মনে করেন, এই পরিসংখ্যানগুলো আফ্রিকান দেশগুলোতে অ্যাসিড আক্রমণের প্রকৃত মাত্রা ও ব্যাপ্তির তুলনায় অনেক কম।[৯]
২০১৩ সালের আগস্টে, যুক্তরাজ্যের দুজন ইহুদি নারী স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক — কেটি জি এবং কার্স্টি ট্রাপ — তানজানিয়ার স্টোন টাউনের কাছে মোপেড আরোহী পুরুষদের দ্বারা অ্যাসিড হামলার শিকার হন।[৩৭] এছাড়া ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়াতেও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
আমেরিকা
[সম্পাদনা]মেক্সিকো
[সম্পাদনা]'লস জেতাস' (Los Zetas)-এর মতো ড্রাগ কার্টেলগুলো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অ্যাসিড ব্যবহার করার জন্য পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালের সান ফার্নান্দো হত্যাকাণ্ডের সময়, লস জেতাস সদস্যরা মায়েদের কাছ থেকে সন্তানদের কেড়ে নিয়েছিল এবং বাসের বাকি বেসামরিক লোকদের গুলি করেছিল। নারীদের একটি গুদামে বন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং সেখানে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও মারধর করা হয়। অনেক নারী ও শিশুকে অ্যাসিডে ফেলে দেওয়ার সময় তাদের আর্তচিৎকার শোনা গিয়েছিল বলে জানা যায়।[৩৮]
দক্ষিণ আমেরিকা
[সম্পাদনা]
দক্ষিণ আমেরিকায় অ্যাসিড হামলার ব্যাপক পরিসংখ্যান খুব কম হলেও কলম্বিয়ার বোগোতায় একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এই অঞ্চলের কিছু চিত্র তুলে ধরেছে। সেই নিবন্ধ অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে বোগোতায় অ্যাসিড সহিংসতার প্রথম সারভাইভার শনাক্ত করা হয়। তারপর থেকে রিপোর্ট করা মামলার সংখ্যা সময়ের সাথে বাড়ছে। কলোম্বিয়ান ফরেনসিক ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে ৫৬ জন নারী অ্যাসিড হামলার অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে ৪৬ জন এবং ২০১২ সালের প্রথম তিন মাসে ১৬ জন। সারভাইভারদের গড় বয়স ছিল প্রায় ২৩ বছর।[৩৯]
বোগোতায় ভুক্তভোগীদের নারী-পুরুষ অনুপাত ১:৩০ বলা হলেও সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে এই অনুপাত ১:১-এর কাছাকাছি।[৪০] এসব হামলার পেছনে সাধারণত আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের অবনতি এবং নারীদের প্রতি পারিবারিক অসহিষ্ণুতা কাজ করে। নাতালিয়া পোন্স দে লিওন নামে এক নারী ২০১৪ সালে সালফিউরিক অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়ার পর কলম্বিয়ায় একটি কঠোর আইন পাস হয়, যেখানে অ্যাসিড হামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ৫০ বছর কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
[সম্পাদনা]ভিক্টর রিসেল নামে একজন সাংবাদিক ১৯৫৬ সালে নিউইয়র্কে অ্যাসিড হামলার শিকার হন এবং অন্ধ হয়ে যান। অপরাধমূলক সিন্ডিকেট নিয়ে কাজ করার কারণে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। ১৯৫৯ সালে বার্ট পুগাচ নামে এক মার্কিন অ্যাটর্নি তার প্রাক্তন প্রেমিকা লিন্ডা রিসের মুখে ক্ষার জাতীয় তরল নিক্ষেপ করার জন্য লোক ভাড়া করেন, যার ফলে লিন্ডা অন্ধ হয়ে যান। ২০১০ সালে বেথানি স্টোরো নামে এক নারী নিজেকে অ্যাসিড হামলার শিকার বলে দাবি করে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন, কিন্তু পরে স্বীকার করেন যে তিনি নিজেই নিজের ওপর অ্যাসিড ঢেলেছিলেন এবং এটি ছিল মানসিক অসুস্থতাজনিত একটি ঘটনা। ২০১৯ সালে মিলওয়াকিতে একজন ব্যক্তির ওপর বর্ণবাদী বিদ্বেষ থেকে অ্যাসিড হামলা চালানো হয়, যার অপরাধীকে ২০২২ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এশিয়া
[সম্পাদনা]আফগানিস্তান
[সম্পাদনা]আফগানিস্তানে হিজাব না পরা বা "শালীন" পোশাক না পরা অথবা প্রথাগত রীতিনীতি লঙ্ঘনকারী নারীদের ওপর অ্যাসিড হামলা বা হামলার হুমকির খবর পাওয়া গেছে।[৪১] ২০০৮ সালের নভেম্বরে ইসলামি চরমপন্থীরা স্কুলে যাওয়ার কারণে মেয়েদের ওপর অ্যাসিড হামলা চালায়।[৪২]
কম্বোডিয়া
[সম্পাদনা]
কম্বোডিয়ার সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ই প্রায় সমানভাবে অ্যাসিড হামলার শিকার হন (৪৮.৪% পুরুষ, ৫১.৬% নারী)।[২৯] গত কয়েক দশকে সেখানে হামলার হার বেড়েছে। কম্বোডিয়ান অ্যাসিড সারভাইভারস চ্যারিটির মতে, ১৯৮৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২১৬টি হামলার ঘটনায় ২৩৬ জন ভুক্তভোগীর কথা জানা গেছে। ঈর্ষা এবং ঘৃণা এখানে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নারীরা অন্য নারীদের ওপর বেশি হামলা চালান, যা মূলত স্বামী বা সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের দ্বন্দ্বে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়।[২] ১৯৯৯ সালে ট্যাট মেরিনা নামে এক কিশোরীর ওপর হামলার ঘটনাটি সেখানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
হংকং
[সম্পাদনা]২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে হংকংয়ের মং কক এলাকার একটি ব্যস্ত কেনাকাটার রাস্তায় পথচারীদের ওপর ড্রেন ক্লিনার ভর্তি প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে মারার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ১৩০ জন আহত হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এই অপরাধগুলো সংগঠিত হয়েছিল।
ইরান
[সম্পাদনা]ইরানে হিজাব না পরার কারণে বিপ্লবের পরবর্তী বছরগুলোতে কিছু নারী অ্যাসিড হামলার হুমকির শিকার হয়েছিলেন।[৪৩] সম্প্রতি ইরানে অ্যাসিড হামলার শাস্তি হিসেবে 'কিসাস' (সমপ্রতিশোধ) আইন প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে অপরাধীকে অন্ধ করে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এক উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, ভুক্তভোগী আমেনাহ বাহরামি ২০১১ সালে তার আক্রমণকারী মাজিদ মোভাহেদিকে ক্ষমার মাধ্যমে এই শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেন।[৪৪] ২০১৪ সালে ইসফাহান শহরে নারীদের ওপর ধারাবাহিক অ্যাসিড হামলা ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
প্যালেস্টাইন ও মধ্যপ্রাচ্য
[সম্পাদনা]গাজা এবং পশ্চিম তীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংঘাতের সময় নারীদের "শালীনতা" বজায় রাখার জন্য চাপ দিতে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে অ্যাসিড ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। হামাস এবং অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল বা প্রতিশোধ হিসেবে অ্যাসিড ব্যবহার করেছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে। এছাড়া ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করেও অ্যাসিড হামলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণ এশিয়া
[সম্পাদনা]দক্ষিণ এশিয়ায় যৌন আবেদন প্রত্যাখ্যান, বিয়ের প্রস্তাব নাকচ এবং যৌতুকের দাবির প্রতিশোধ হিসেবে অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধও এর অন্যতম প্রধান কারণ।[১৯]
ভারত
[সম্পাদনা]ভারত সরকারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভারতে ১,০০০টিরও বেশি অ্যাসিড হামলার খবর পাওয়া গেছে।[৪৫] ভুক্তভোগীদের ৮০ শতাংশই নারী। ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আইনি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অ্যাসিডের সহজলভ্যতা এবং অপরাধীদের সাজা পাওয়ার নিম্ন হার (প্রায় ১০%)। সোনালী মুখোপাধ্যায় (২০০৩) এবং লক্ষ্মী আগরওয়ালের (২০০৫) মামলাগুলো ভারতে ব্যাপক পরিচিতি পায়। লক্ষ্মীর জীবন নিয়ে বলিউড চলচ্চিত্র ছপাক (Chhapaak) নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ১৯৮০ সালের ভাগলপুর অন্ধকরণ মামলায় পুলিশ কর্তৃক বিচারাধীন বন্দিদের চোখে অ্যাসিড ঢালার ঘটনাটি মানবাধিকার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।
পাকিস্তান
[সম্পাদনা]পাকিস্তানে সাধারণত পরিবারের "সম্মান" ক্ষুণ্ণ করার অজুহাতে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের ওপর এ ধরনের হামলা চালায়। মানবাধিকার কমিশনের মতে, ২০০৪ সালে ৪৬টি এবং ২০১১ সালে ১৫০টি হামলার ঘটনা ঘটে। শারমিন ওবায়েদ-চিনয় পরিচালিত তথ্যচিত্র সেভিং ফেস (Saving Face) পাকিস্তানের অ্যাসিড হামলার চিত্র আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছে। অধিকাংশ হামলা গ্রীষ্মকালে ঘটে যখন চাষাবাদের কাজে অ্যাসিডের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ
[সম্পাদনা]
বাংলাদেশে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রায় ৩,০০০ জন অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন, যার সর্বোচ্চ শিখর ছিল ২০০২ সালে (২৬২ জন)। তবে ২০০২ সাল থেকে হামলার হার প্রতি বছর ১৫% থেকে ২০% হারে কমছে। বাংলাদেশে ৮২% ভুক্তভোগী নারী এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা (৫৫%) হামলার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের কার্যকর ভূমিকা এবং কঠোর আইনের কারণে বাংলাদেশ এখন অ্যাসিড হামলা প্রতিরোধে বিশ্বে একটি সফল দেশ হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই ধাতুবিদ্যা এবং নকশা খোদাই বা এচিং-এর কাজে অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়ে আসছে। "লা ভিত্রিওলেজ" (La Vitrioleuse) নামক আলঙ্কারিক এবং নাটকীয় শব্দটি ফ্রান্সে প্রথম প্রচলিত হয় যখন সেখানে "ভিত্রিওলেজ বা অ্যাসিড নিক্ষেপের ঢেউ" শুরু হয়। তৎকালীন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ১৮৭৯ সালে অ্যাসিড হামলার ১৬টি ঘটনা ঘটেছিল যেগুলোকে মূলত "আবেগের বশবর্তী হয়ে করা অপরাধ" (ক্রাইম অফ প্যাশন) হিসেবে ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। এই হামলাগুলো প্রধানত নারীরা অন্য নারীদের ওপর চালিয়েছিল।[৪] নারী হামলাকারীর সংখ্যা খুব কম হওয়া সত্ত্বেও, তারা যে লক্ষ্য হাসিলে এমন সহিংস পথ বেছে নিয়েছে—এই ধারণাটি তখন ব্যাপক প্রচার পায়। ১৯১৫ সালের ১৭ অক্টোবর, কোহারি রাজবংশের উত্তরাধিকারী স্যাক্স-কোবার্গ ও গোথার প্রিন্স লিওপোল্ড ক্লেমেন্ট-এর ওপর তার বিচলিত প্রেমিকা কমিলা রিবিকা মারাত্মকভাবে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন এবং এরপর তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন। এই ধরনের ঘটনাগুলোকে চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করা সংবাদপত্রের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য লাভজনক ছিল।[৪৬] একইভাবে, উনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্যে একাধিক অ্যাসিড হামলার খবর পাওয়া যায়। সে সময় এগুলোকে কেবল নারীর দ্বারা সংগঠিত অপরাধ হিসেবে দেখা হতো, যদিও বাস্তবে অপরাধীরা নারী বা পুরুষ যে কেউ হওয়ার সমান সম্ভাবনা ছিল।[৪৭]
অস্ত্র হিসেবে অ্যাসিডের ব্যবহার অনেক উন্নয়নশীল দেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।[১৪] দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নথিভুক্ত অ্যাসিড হামলাগুলো ঘটেছিল ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশে,[২৯] ১৯৮২ সালে ভারতে এবং ১৯৯৩ সালে কম্বোডিয়ায়।[৪] এরপর থেকে গবেষণায় এই অঞ্চলে অ্যাসিড হামলার সংখ্যা এবং ভয়াবহতা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এই বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে এই ধরনের অপরাধের ঘটনার রিপোর্ট অনেক কম হওয়া এবং ওই সময়ে এ বিষয়ের ওপর গবেষণার সাধারণ অভাব।[১৩]
গবেষণা অনুযায়ী, অনেক উন্নয়নশীল দেশে অ্যাসিড হামলা বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে; সেখানে গত কয়েক বছরে হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।[২৯]
আইন প্রণয়ন
[সম্পাদনা]বিশ্বের অনেক দেশই অ্যাসিড হামলা মোকাবিলায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং কিছু দেশ সম্প্রতি এই অপরাধের বিরুদ্ধে নতুন আইন কার্যকর করেছে।[২৯] পাকিস্তানের কিসাস আইনের অধীনে, অপরাধী ভুক্তভোগীর সমান পরিণতির সম্মুখীন হতে পারে এবং শাস্তি হিসেবে তার চোখে অ্যাসিডের ফোঁটা দেওয়া হতে পারে।[৪৮] তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আইনটি বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি খুব কমই কার্যকর করা হয়।[৪৯] পাকিস্তানে ২০১১ সালের ১০ মে সংসদের নিম্নকক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে 'অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাসিড অপরাধ প্রতিরোধ বিল' পাস হয়। এই বিল অনুযায়ী, অ্যাসিড হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইন রয়েছে বাংলাদেশে এবং গত কয়েক বছরে সেখানে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের ফলে অ্যাসিড সহিংসতার হার ২০-৩০% হ্রাস পেয়েছে।[২৯] ২০১৩ সালে ভারত ফৌজদারি আইন (সংশোধন) আইন, ২০১৩-এর মাধ্যমে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে একটি সংশোধন এনেছে, যেখানে অ্যাসিড হামলাকে একটি নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ন্যূনতম ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ভারত
[সম্পাদনা]ভারতের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) নির্দেশ দিয়েছে যে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অ্যাসিড বিক্রির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই দেওয়া এই রায়ে আদালত জানান, মরচে ধরা যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত অ্যাসিড যা সাধারণত বাজারে সহজেই পাওয়া যায়, তা-ই অধিকাংশ হামলায় ব্যবহৃত হয়। বিচারকগণ নির্দেশ দেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অ্যাসিড কেনার সময় ক্রেতাকে অবশ্যই তার ছবির আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে এবং বিক্রেতাকে ক্রেতার নাম ও ঠিকানা নথিভুক্ত করতে হবে।[৫০] ২০১৩ সালে অ্যাসিড নিক্ষেপের জন্য বর্ধিত শাস্তি নিশ্চিত করতে ভারতীয় সংসদ দণ্ডবিধিতে ৩২৬ এ ধারা প্রবর্তন করে।
বাংলাদেশ
[সম্পাদনা]২০০২ সালে বাংলাদেশ অ্যাসিড হামলার জন্য মৃত্যুদণ্ড এবং অ্যাসিড বিক্রি, ব্যবহার, মজুত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দুটি আইন প্রবর্তন করে। এই আইন দুটির নাম হলো অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন (ACCA) এবং অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন (ACA)।[২৯]
অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন (ACCA) সরাসরি অ্যাসিড হামলার ফৌজদারি দিকগুলো পরিচালনা করে। এটি শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড বা সমপর্যায়ের শাস্তির বিধান দেয়। যদি হামলার ফলে ভুক্তভোগী শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি হারান অথবা তার মুখমণ্ডল, স্তন বা জননাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধী মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্মুখীন হবে। শরীরের অন্য কোনো অংশ বিকৃত হলে ৭-১৪ বছরের কারাদণ্ডসহ ৭০০ মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া, অ্যাসিড নিক্ষেপ বা নিক্ষেপের চেষ্টা করেও যদি কোনো শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি না হয়, তবুও এই আইনের অধীনে ৩-৭ বছরের জেল এবং ৭০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। যারা এ ধরনের হামলায় সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করে, তারাও মূল অপরাধীর সমান আইনি দায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।[২৯]
অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন (ACA) জাতীয় অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল (NACC) গঠনের মাধ্যমে অ্যাসিডের কেনাবেচা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এই আইন জেলা-ভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় যারা শহরগুলোতে অ্যাসিডের ব্যবহার তদারকি এবং অপব্যবহার রোধে কাজ করবে।
পাকিস্তান
[সম্পাদনা]পাকিস্তানের কিসাস (চোখের বদলে চোখ) আইনের অধীনে ভুক্তভোগী বা তার অভিভাবক চাইলে অপরাধীকে ভুক্তভোগীর সমান আঘাত বা শাস্তি দেওয়ার দাবি করতে পারেন।[৫১] পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৩৬বি ধারা অনুযায়ী: "যে ব্যক্তি ক্ষয়কারী পদার্থের (corrosive substance) মাধ্যমে আঘাত করবে, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ন্যূনতম ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ১০ লক্ষ রুপি জরিমানা করা হবে।" ২৯৯ ধারা অনুযায়ী 'কিসাস' মানে হলো দণ্ডিত ব্যক্তির শরীরের ঠিক সেই অংশে একই রকম আঘাত করা যেখানে সে ভুক্তভোগীকে আঘাত করেছে।[৫২]
যুক্তরাজ্য
[সম্পাদনা]২০১৭ সালে লন্ডনে অ্যাসিড হামলার প্রকোপ বাড়ার পর, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Office) অ্যাসিড বিক্রির আইন ও সাজা সংক্রান্ত নির্দেশিকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অ্যাসিড বহন করা বেআইনি। এই হামলাগুলোকে 'প্রকৃত শারীরিক জখম' (ABH) এবং 'গুরুতর শারীরিক জখম' (GBH) হিসেবে বিচার করা হয়।[৫৩]
২০১৯ সালের 'অফেনসিভ উইপনস অ্যাক্ট' (Offensive Weapons Act 2019) অ্যাসিড সংক্রান্ত অপরাধের জন্য কঠোর বিধান তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসিড জাতীয় পণ্য বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমক্ষে উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো ক্ষয়কারী পদার্থ বহন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।
গণমাধ্যমে চিত্রায়ন
[সম্পাদনা]অ্যাসিড হামলার ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক প্রভাব বিভিন্ন চলচ্চিত্র, সাহিত্য এবং টেলিভিশন সিরিজে উঠে এসেছে:
- ১৯২০ সালে সেসিল বি. ডামিল পরিচালিত হোয়াই চেঞ্জ ইয়োর ওয়াইফ? (Why Change Your Wife?) চলচ্চিত্রে স্বামীর দখল নিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নারীর মধ্যে একটি সাজানো অ্যাসিড হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
- স্যার আর্থার কোনান ডয়েল-এর "দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য ইলাস্ট্রিয়াস ক্লায়েন্ট" (The Adventure of the Illustrious Client) গল্পে খলনায়ক ব্যারন অ্যাডেলবার্ট গ্রুনারের মুখে তার প্রাক্তন প্রেমিকা 'অয়েল অফ ভিত্রিওল' (সালফিউরিক অ্যাসিড) ছুড়ে মারে, যাতে তার মুখ বিকৃত হয়ে যায়। জেরেমি ব্রেত অভিনীত এই গল্পের টেলিভিশন রূপান্তরে দেখানো হয় যে, প্রাক্তন প্রেমিকা কিটি উইন্টার নিজেও গ্রুনার কর্তৃক অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন।[৫৪]
- ডিসি কমিকস-এর সুপারভিলেন টু-ফেস (Two-Face)-এর জীবন কাহিনীতে দেখা যায় অ্যাসিডের কারণে তার মুখের অর্ধেক অংশ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
- ১৯৮২ সালের স্ল্যাশার চলচ্চিত্র হসপিটাল ম্যাসাকার-এ একজন খুনি এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে অ্যাসিড ভর্তি বেসিনে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।
- ১৯৯৭ সালের ফিলিপাইন ড্রামা সিরিজ মুলা সা পুসো এবং এর ২০১১ সালের রিমেক সংস্করণে 'মাগদা' নামক একটি চরিত্র রয়েছে যার মুখ প্রধান খলনায়িকা কর্তৃক অ্যাসিড হামলায় বিকৃত হয়েছিল।
- ২০০২ সালের সিরিজ হি-ম্যান অ্যান্ড দ্য মাস্টার্স অফ দ্য ইউনিভার্স-এ দেখা যায় যে প্রধান খলনায়ক স্কেলেটর (Skeletor) একটি অ্যাসিড হামলার শিকার হয়ে তার নামের মতো কঙ্কালসার মুখমণ্ডল লাভ করেন।
- ২০১১ সালের 'আমেরিকান হরর স্টোরি: কোভেন'-এর তৃতীয় পর্বে একটি অ্যাসিড হামলার দৃশ্য রয়েছে।
- সেভিং ফেস (Saving Face) – ২০১২ সালের এই অস্কারজয়ী তথ্যচিত্রে পাকিস্তানি-ব্রিটিশ প্লাস্টিক সার্জন ডক্টর মোহাম্মদ জাওয়াদের পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কাহিনী চিত্রায়িত হয়েছে।[৫৫]
- ব্রিটিশ সোপ অপেরা এমারডেল (Emmerdale)-এ ২০১৮ সালের একটি পর্বে রস বার্টন নামক একটি চরিত্র অ্যাসিড হামলার শিকার হয়। অভিনেতা মাইকেল পার এই সমস্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিজেই এই প্লটটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
- সুরখ চান্দনি (Surkh Chandni) – ২০১৯ সালের একটি পাকিস্তানি টেলিভিশন সিরিজ, যেখানে অ্যাসিড হামলায় টিকে যাওয়া এক নারীর জীবন এবং সমাজের নিষ্ঠুর আচরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।[৫৬]
- ডার্টি গড (Dirty God) – ২০১৯ সালের একটি ইংরেজি চলচ্চিত্র, যেখানে অ্যাসিড হামলায় দগ্ধ এক নারীর বিচার ও সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই দেখানো হয়েছে। এতে অভিনয়কারী ভিকি নাইট বাস্তবে একজন অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি।
- উয়ারে (Uyare) – ২০১৯ সালের একটি ভারতীয় মালয়ালম চলচ্চিত্র, যেখানে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী পাইলটের অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়া এবং পরবর্তী জীবনের লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- ছপাক (Chhapaak) – ২০২০ সালের একটি ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র, যা অ্যাসিড হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ভারতীয় নারী লক্ষ্মী আগরওয়াল-এর বাস্তব জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন।[৫৭]
- ২০২২ সালের তুর্কি বায়োপিক বেরগেন-এ জনপ্রিয় তুর্কি গায়িকা বেরগেনের জীবন দেখানো হয়েছে, যার এক চোখ তার স্বামীর অ্যাসিড হামলায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল।[৫৮]
- ২০২৩ সালের ব্রিটিশ সিরিজ করোনেশন স্ট্রিট-এ ডেইজি মিজলি এবং রায়ান কনর নামক দুটি চরিত্র অ্যাসিড হামলার শিকার হয়।
- ভারতীয় টেলিভিশন সিরিজ জ্যোতি... উমিদোঁ সে সাজি (২০২৩)-তে জ্যোতি নামক এক পরিশ্রমী নারীর অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়ার পর জীবন বদলে যাওয়ার গল্প বলা হয়েছে।
- অ্যাসিড – ২০২৩ সালের একটি ভারতীয় মালয়ালম চলচ্চিত্র, যা রুহানা নামক এক নারীর অ্যাসিড হামলায় টিকে থাকা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে ট্র্যাজেডি কাটিয়ে ওঠার গল্প।
পরিভাষা
[সম্পাদনা]ভিত্রিওলেজ বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাসিড বা ভিত্রিওল নিক্ষেপ করা, যার উদ্দেশ্য তাকে বিকৃত করা বা হত্যা করা। যে নারী এই ধরনের কাজে লিপ্ত হন, তাকে ভিত্রিওলেজ বলা হয়। ইতিহাস এবং বর্তমান সময়ে এই ধরনের ঘটনার বহু নজির রয়েছে, বিশেষ করে সেসব স্থানে যেখানে সম্মানের খাতিরে হত্যা (Honor killing)-এর মতো ঘটনা বেশি ঘটে।[৫৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Karmakar, R.N. (২০১০)। Forensic medicine and toxicology (3rd সংস্করণ)। Kolkata, India: Academic Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৯০৯০৮১৪৬।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 CASC (মে ২০১০)। Breaking the silence: addressing acid attacks in Cambodia (পিডিএফ)। Cambodian Acid Survivors Charity (CASC)। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ Swanson, Jordan (বসন্ত ২০০২)। "Acid attacks: Bangladesh's efforts to stop the violence"। Harvard Health Policy Review। ৩ (1)। Harvard Internfaculty Initiative in Health Policy: ৩। ১৭ জানুয়ারি ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৮।
- 1 2 3 4 5 Welsh, Jane (শরৎ ২০০৬)। ""It was like burning in hell": A comprehensive exploration of acid attack violence" (পিডিএফ)। Carolina Papers on International Health। ৩২। Center for Global Initiatives, University of North Carolina। ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ AP (১২ নভেম্বর ২০০০)। "Bangladesh combats an acid onslaught against women"। সিএনএন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০০৮।
- ↑ Khan, Adnan (২১ এপ্রিল ২০১২)। "The real miracle workers fighting, and healing, Pakistan's acid attacks"। Acid Survivors Foundation, Pakistan। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১২।
- 1 2 Mannan, Ashim; Samuel Ghani; Alex Clarke; Peter E.M. Butler (১৯ মে ২০০৬)। "Cases of chemical assault worldwide: A literature review"। Burns। ৩৩ (2): ১৪৯–১৫৪। ডিওআই:10.1016/j.burns.2006.05.002। পিএমআইডি 17095164।
- ↑ Keerthi Bollineni। "Gender-Based Violence In Public Places: Acid Throwing" (পিডিএফ)। Centre for Equality and Inclusion। ২৬ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১২।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "10a" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 4 5 6 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "159a" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Morris, Steven (২৩ মে ২০১৮)। "Berlinah Wallace jailed for life for 'sadistic' acid attack on Mark van Dongen"। The Guardian – www.theguardian.com এর মাধ্যমে।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "6a" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 4 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "2a" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 Faga, A.; D. Scevolab; M.G. Mezzettic; S. Scevolaa (২০ জানুয়ারি ২০০০)। "Sulphuric acid burned women in Bangladesh: A social and medical problem"। Burns। ২৬ (8): ৭০১–৭০৯। ডিওআই:10.1016/S0305-4179(00)00049-8। পিএমআইডি 11024602।
- 1 2 3 4 Evans, Ruth (১০ নভেম্বর ২০১৩)। "Acid attacks on men related to gang violence, say experts"। BBC News। ১৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৬।
- 1 2 Solberg, Kristin (২০১০)। "DEFINE_ME_WA"। The Lancet। ৩৭৬ (9748): ১২০৯–১০। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(10)61863-6। পিএমআইডি 20941859। এস২সিআইডি 34192666।
- ↑ "Chemical Assaults Worldwide" (পিডিএফ)। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Bandyopadhyay_Khan" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Bahl_Syed" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ de Castella, Tom (৯ আগস্ট ২০১৩)। "How many acid attacks are there?"। BBC News। ৯ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ Various। Combating acid violence in Bangladesh, India, and Cambodia (পিডিএফ)। New York: Avon Global Center for Women and Justice at Cornell Law School, Committee on International Human Rights of the, New York City Bar Association, Cornell Law School International Human Rights Clinic and the Virtue Foundation। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৭।
- ↑ "Kuneva case – the most severe assault on trade unionist in Greece for 50 years"। FOCUS Information Agency। ৪ জানুয়ারি ২০০৯। ১৯ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ Khan, Shaan (৩ নভেম্বর ২০১২)। "Pakistani Taliban target female students with acid attack"। CNN। ৩০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ "26YO Woman Throws Acid On Ex-Boyfriend After He Refused To Convert To Her Religion For Marriage"। The Times of India। ১৭ জানুয়ারি ২০১৭। ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৮।
- ↑ "Dhaka men in acid attacks protest"। BBC। ৮ মার্চ ২০০৫। ১২ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ Scholte, Marianne (১৭ মার্চ ২০০৬)। "Acid attacks in Bangladesh: a voice for the victims"। Spiegel Online। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Harassment's New Face: Acid Attacks"। ABC News। ১৬ এপ্রিল ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Roy, Amit (৬ মার্চ ২০০৭)। "Inside Liz Hurley's Indian wedding palace"। The Daily Telegraph। ৮ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "12a2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "True scale of acid attacks hidden as victims too scared to come forward, police say"। The Daily Telegraph। ২২ এপ্রিল ২০১৭।
- ↑ Bhalla, Nita (9 July 2013) India's top court says gov't not trying to stop acid attacks ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে. Thomson Reuters Foundation
- 1 2 Mannan, Ashim; Ghani, Samuel; Clarke, Alex; Butler, Peter E.M. (২০০৭)। "Cases of chemical assault worldwide: A literature review" (পিডিএফ)। Burns। ৩৩ (2): ১৪৯–৫৪। ডিওআই:10.1016/j.burns.2006.05.002। পিএমআইডি 17095164। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ A case of police apathy?, The Hindu, 3 February 2012
- ↑ "The Global Gender Gap report" (পিডিএফ)। 3.weforum.org। ২০১৩।
- ↑ Anwar, Afroza, 'Acid Violence and Medical Care in Bangladesh: Women's Activism as Carework' in Mary K. Zimmerman, Jacquelyn S. Litt and Christine E. Bose (eds) Global Dimensions of Gender and Carework (Stanford University Press, 2006), আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৪৭-৫৩২৪-১
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":28" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Zanzibar acid attack: Recap updates as British teenagers Katie Gee and Kirstie Trup land back in Britain"। Daily Mirror। ৯ আগস্ট ২০১৩।
- ↑ frente-y-de-perfil.htm "De frente y de perfil"।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|url=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "15a" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Hay 456 hombres en Colombia que también son Natalia Ponce"। ১০ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ Chivas, Melody Ermachild। Meena, heroine of Afghanistan।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Filkins" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Molavi, Afshin (২০০৫)। The Soul of Iran।
- ↑ "Iranian Acid Attack Victim Pardons Culprit"। Al Jazeera English।
- ↑ Khan, Naila। "India: despite ban on acid sales, attacks continue to rise"।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ "Royal Love Tragedy"। The Colonist। Papers Past, National Library of New Zealand। ৭ জানুয়ারি ১৯১৬।
- ↑ Watson, Cassie (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "Acid Attacks in Nineteenth-Century Britain"। Legal History Miscellany (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "quisas" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "video.nytimes.com" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "India's top court moves to curb acid attacks"। Al Jazeera English।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "womensenews.org" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":0" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Acid attack punishments assessed in government review"। BBC News।
- ↑ Jeremy Brett as Sherlock Holmes - The Illustrious Client [HD] – YouTube এর মাধ্যমে।
- ↑ A world of heartbreak — and hope — in Oscar short docs
- ↑ "Sohai Ali Abro plays an acid attack survivor in drama Surkh Chandni"। DAWN।
- ↑ Haynes, Suyin। "Violence Against Women Has Made a Resurgence in India"। Time। ২৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Vivarelli, Nick। "Turkish Biopic 'Bergen,' About Pop Singer Blinded With Acid..."। Variety।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ "V-Day: Acid Attacks"। ২৫ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।