অলঙ্কার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

এই নিবন্ধটি "গহনা" বিষয়ক; ভাষার অলঙ্কার বিষয়ে দেখুন অলঙ্কার (ভাষা)

বিয়ের কনের জন্য তৈরি একপ্রস্থ সোনার গহনা। বাংলাদেশ, ২০১০

অলঙ্কার বলতে বোঝানো হয় ধাতু বা অন্য কোন উপকরণ দ্বারা তৈরী কিছু সৃদৃশ্য সামগ্রী যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সুসজ্জিত ও আকর্ষণীয় করার উদ্দেশ্যে পরিধান করা হয়। অলঙ্কার তৈরীতে সাধারণত মূল্যবান ধাতু ব্যবহৃত হয়। অন্যভাবে এসকল উপাদানকে গহনাও বলা হয়ে থাকে। অলঙ্কার সাজসজ্জার একটি মাধ্যম যা সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে বলে পৃথিবীর প্রায় সকল জাতিই বিশ্বাস পোষণ করে। আধুনিক সভ্যতায় সোনা ও রূপার অলংকার সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় লোহার তৈরী গহনাও গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হতো। বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে প্লাটিনামের গহনা তৈরীও শুরু হয়।

হীরা সহ নানা ধরনের মণি-মুক্তা দিয়ে গহনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে কৃত্রিম গহনা বা ইমিটেশান জুয়েলরীর প্রচলন হয়।

শরীররের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য পৃথক পৃথক ধরনের গহনা ব্যবহার করা হয়। গহনা প্রধানত নারীর আভরণ হলেও পুরুষরাও কিছু কিছু গহনা ব্যবহার করে থাকে। যেমন আংটি নারী-বিশেষ নির্বিশেষে সমান জনপ্রিয়।ব্যাক্তির সম্পত্তি,যশ, প্রাচুর্য, ঐশ্বর্য , সামাজিক অবস্থান ও সৌন্দর্য বর্ধনে অলংকার ব্যবহার করে। অলংকার পুরুষ-নারী উভয় ব্যবহার করে। আঙুল,হাত,বাহু,নাক, ঠোঁট,কন্ঠ,কপাল,মাথা,কান,কোমর, নাভী, উরু,কাপড়ে প্রভৃতিতে অলংকারে অলংকৃত হয়।

অলংকার তৈরীতে ব্যবহৃত উপকরণ[সম্পাদনা]

অলংকার সোনা,রূপা, হীরা,লোহা,গ্লাস,পাথর,কাঠ,হাড়,ঝিনুক-শামুক,পাথর ও কাপড় দিয়ে তৈরী করা হয়‌।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অলংকার ব্যবহার ইতিহাস প্রাচীন। নিদর্শন মোতাবেক ধারণা করা হয়, ১১৫০০০ বছর পূর্বে ইউরোপীয়রা হাড়,কাঠ সামুদ্রিক ঝিনুক,শামুক,পাথর ব্যবহার করে অলংকার তৈরী করেন।রাশিয়ায় সমসাময়িকে মার্বেলের তৈরী আংটির প্রচলন হওয়ার কথা জানা যায়। মোসোপটমিয়,গ্রিক,মিশর,চীন ও ভারতে পাওয়া অলংকার নিদর্শন গুলোও অনেক প্রাচীন। খ্রিস্টিয় অব্দিগুলোতে যিশুর ক্রস তৈরী বিভিন্ন ধাতু দিয়ে যিশুর ক্রস চিহ্ন তৈরীতে ব্যবহার করা হয় এবং সেটি গলায় পরার জন্য ধাতু তৈরী চেইন ব্যবহার শুরু হয়। এসময় এসব চেইন বিয়েতে উপহার দেয়ার প্রচলন হওয়ার কথা জানা যায়‌ । এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মে তাবিজ ,দেবতা ও প্রভৃতি শয়তানের হাত থেকে রক্ষায় পবিত্র চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।

সমসাময়িকে বিভিন্ন রাজা বাদশাহদের হাত ধরে অলংকার সাজসজ্জা ও যশ ও সাহসিকতার চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। যা বর্তমানে চলছে…

বিভিন্ন ধরনের গহনা[সম্পাদনা]

আংটি[সম্পাদনা]

হাত আঙ্গুলে পরিধেয় গোল, ধাতব অলংকারকে আংটি বলে। আংটির সাথে দামি পাথর খচিত থাকে, যা আঙ্গুলের উপরিভাগে দেখা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে পায়ের আঙ্গুলেও আংটি পরার রেওয়াজ আছে।

কণ্ঠহার[সম্পাদনা]

সারা পৃথিবীতে কণ্ঠহার বা নেইকলেস নারীর অন্যতম প্রধান অলংকার। জড়োয়া কণ্ঠহার ভারী হয়ে থাকে। অন্যদিকে শিকলি বা চেইন হালকা প্রজাতির কণ্ঠহার।

কানের অলংকার[সম্পাদনা]

কানের অলংকার নানা রকম যার মধ্যে প্রধান হলো কানের দুল। এছাড়া রয়েছে কান পাশা। কানের অলংকারের জন্য কানের লতিতে ফুটো করা হয়। মেয়েদের ন্যায় কোন কোন জাতির পুরুষেরাও কানে অলংকার পরে থাকে।

চুড়ি[সম্পাদনা]

দোকানে সজ্জিত চুড়ির বাহার

চুড়ি একধরনের গোলাকৃতির গহনা যা সাধারণত মেয়েরা হাতের কব্জিতে পরেন। চুড়ি কাচ, সোনা, রূপা এমনকি মাটি দিয়েও তৈরি হয়ে থাকে। মোটা চুড়িকে বালা নামে অভিহিত করা হয়।

টিকলী[সম্পাদনা]

বিয়ের কনের কপালে টিকলী

যে অলংকার মেয়েদের চুলের সিঁথি বরাবর চিকন সোনা বা রূপার শিকলের সাহায্যে মাথার মাঝখান থেকে টেনে এনে কপালের উপর ঝোলানো হয় তাকে টিকলী বলে। ভারতীয় উপমহাদেশে টিকলী বিয়ের বউ সাজানোর জন্য একটি আবশ্যকীয় গহনা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।

নথ[সম্পাদনা]

নাকের যেকোনো একপাশে ছিদ্র করে তাকে ঘিরে বৃত্তাকার যে অলঙ্কার পরা হয় তাকে নথ বলে। নথ সাধারনত বাম দিকে পরা হয় তবে অনেকে ডান দিকেও নথ পরেন।

নোলক[সম্পাদনা]

নারীদের পরিধেয়, নাকের নিম্নভাগে ছোট-আকৃতির গোল ধাতব বৃত্তাকার গহনাকে নোলক বলে। নোলক পরতে হলে নাকের নিচে মাঝবরাবর ছিদ্র থাকা আবশ্যক।

বিছা[সম্পাদনা]

বিছা হল একটি নারীর অলংকার।এটি একটি শিকলি বা চেইন যা কোমরের চারদিকে জড়িয়ে পরতে হয়।

নাভ্যাংটি বা নেভেইল রিং[সম্পাদনা]

নাভির ওপরের চামড়া ফুটো করে তাতে ছোট গোলাকার রিং পরলে তাকে নেভেল রিং বা নাভ্যাংটি বলা হয়। === নাভ্যাংট

টানা[সম্পাদনা]

যে এক বা একাধিক সরু শিকলি বা চেইন এর এক প্রান্ত নাকের নথ-এর এক প্রান্তে বা নোলক-এর তলার এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে আর অপর প্রান্তটি একটি চুলের কাঁটা মাধ্যমে মাথার এক পাসের চুলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে তাকে টানা বলে।

নূপুর[সম্পাদনা]

পায়ের গোড়ালি ঘিরে যে ধাতব গহনা পরা হয় তাকে নূপুর বলে।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

অলংকার দুই ধরনের। এক প্রকার অলংকার দৈনিক ব্যবহার করা হয়। অন্য প্রকার অলংকার বিশেষ উৎসবে-উপলক্ষে ব্যবহার করা হয়। ভারতবর্ষে বিয়ে নারীর অলংকার ব্যবহারের প্রধান আঙ্গিক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]