আনুষ্ঠানিক বিবাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

এই নিবন্ধটি অভিভাবক দ্বারা বিয়ে সম্পর্কিত, প্রেম করে বিয়ে করা সম্পর্কিত নিবন্ধের জন্য দেখুন ভালোবেসে বিয়ে

আনুষ্ঠানিক বিবাহ একটি সামাজিক বন্ধন যেখানে বিবাহ উপযোগী বর ও বধূ নির্ধারিত/বাছাই হয়ে থাকে তাদের নিজ পরিবার-পরিজন কতৃক।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮শ শতক পর্যন্ত সারা বিশ্বে আনুষ্ঠানিক বিবাহ খুব সাধারণ বিষয় ছিল। [১] সাধারণত বিবাহ বাবা-মা, দাদা-দাদী বা অন্যান্য আত্মীয় স্বজন দ্বারা আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও উঠে আসে, ইতালির রেনেসাঁ এর যুগে পূর্বরাগ (বিবাহ পূর্ববর্তী সাক্ষাত) ও ধর্মানুসারে বাগদান (বিবাহ নিশ্চয়তার মিলিত সম্মতিসূচক অনুষ্ঠান )[২] এবং ভারতের বৈদিক যুগের গন্ধর্ব বিবাহ[৩]

চীনে, ব্যবস্থা বিবাহকে (বাওবান হানইন, 包办婚姻) - মাঝেমাঝে অন্ধ বিবাহ (মাংহান, 盲婚) বলা হয়ে থাকে। যেখানে বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত নিয়ম ছিল, বিবাহ মাতা-পিতা এবং দুই পরিবারের মধ্যের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ফলাফল, ছেলে ও মেয়েকে শুধু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিবাহ করতে বলা হতো কোনপ্রকার মতামত দেবার অধিকার না দিয়ে। এম্নকি তারা বিবাহের আগপর্যন্ত দেখার অনুমতি ছিলনা।[৪][৫][৬]

বিংশ শতাব্দীর পূর্বে রাশিয়ায় আনুষ্ঠানিক বিবাহ ছিল সাধারণ নিয়ম, এর প্রায় সবই ছিল সমজাতিগত বিবাহ (ইংরেজিতে endogamous)। [৭]

বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত আমেরিকার অভিবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবাহ ছিল নৈমিত্তিক বিষয়।[৮] আমেরিকায় জাপানি অভিবাসীদের মধ্যে ছবিতে কনে পছন্দ ও বিবাহ (পিকচার-ব্রাইড ম্যারেজ) নামে এক ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। নামকরণের কারন বিবাহের পূর্বে বর-বধূ শুধুমাত্র ছবির মাধ্যমে একে অপরকে জানতে পারে। অভিবাসীদের মধ্যে এই ধরনের বিবাহ সাধারণত আয়োজন করা হয়ে থাকে বাবা-মা অথবা আত্মীয় স্বজনদ্বারা নিজ দেশের মধ্যথেকে। যেহেতু অভিবাসীরা নতুন বসতি স্থাপন করেছে এবং নতুন সংস্কৃতিতে মিশে গেছে, আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থা প্রথমে আপাত-আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থার সাথে প্রতিস্থাপিত হয়েছে যেখানে বাবা-মা অথবা বন্ধুরা যুগলকে বিবাহের আগেই পরিচিত করিয়ে দেয়। সময়ের সাথে অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে স্বকীয়তা, ডেটিং, পূর্বরাগের প্রতি পছন্দ ব্যক্তি পছন্দের বিবাহের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। [৮][৯] পৃথিবীর অন্যান্য অংশেও অনুরূপ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দাবি করা হয়। [১০][১১]

ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সঙ্গে সামাজিক গতিশীলতায় আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে; তথাপি, এখনও আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থা দেখা যায় ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায়, রাজপরিবার, অভিজাত বংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৌলবাদী মর্মন গ্রুপের স্থির বিবাহ (en: placement marriage) এর অন্যতম উদাহরণ। বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে, আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থা বিভিন্ন ধাপে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ক্রমবর্ধমান ভাবে আপাত-আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থা ব্যক্তি পছন্দের বিবাহ ব্যবস্থার সাথে একইসাথে চলছে। [১]

তুলনা[সম্পাদনা]

দ্যা আম্বিসাস মাদার এন্ড দ্যা অবলাইজিং ক্লারজিম্যান - চার্লস ডানা গিবসন এর আঁকা বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যবস্থার ব্যঙ্গাত্মক চিত্র. বাবা-মা মেয়েকে সম্পদ ও আভিজাত্যের জন্যে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহে চাপ দিচ্ছে এবং পাদ্রি চোখবেঁধে বিবাহ কার্যক্রম প্রিচালনা করছেন।

বিবাহকে পুঁথিগত শ্রেনীবিচার অনুসারে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ[১][১২]

  • বাবা-মা অথবা অভিভাবক দ্বারা নির্বাচিত, পাত্র-পাত্রী কেউই বিবাহের পূর্বে কোন মতামত দেবার অধিকার রাখেনা। (জোরপূর্বক আনুষ্ঠানিক বিবাহ)
  • বাবা-মা অথবা অভিভাবক দ্বারা নির্বাচিত, তারপর পাত্র-পাত্রীদের মাঝে আলোচনা হয়, বিবেচনা, সম্মতিতে এবং দুজনের প্রত্যেকেরই প্রত্যাখান করার অধিকার থাকে; কখনও কখনও তারা বিবাহের পূর্বে সাক্ষাত করে পরিবারের সাথে অথবা পৃথকভাবে অনেকটা শীডুখ (shidduch) গোঁড়া ইহুদীদের রীতি অনুসারে।
  • পাত্র-পাত্রীর পছন্দের, তারপর অভিভাবকগন আলোচনা করে এবং তাদের বিবেচনা, সম্মতি ও প্রত্যাখ্যানের অধিকার থাকে।
  • পাত্র-পাত্রীর পছন্দের, বাবা-মা বা অভিভাবকের কেউই আলোচনা বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখেনা। (ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিবাহ)

গ্যারি লি এবং লরেন স্টোন দেখিয়েছেন যে, বিবাহ সামাজিক কাঠামোর একটি অংশ হবার কারণে বর্তমানের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহসমূহ ক্রমধাপ অনুসারে আদর্শ আনুষ্ঠানিক অথবা ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিবাহের চূড়ান্ত উধাহারন।[১৩] অনুরুপভাবে, ব্রড ও গ্রিন বিশ্বব্যাপী ১৪২টি সংস্কৃতির উপর গবেষণা করে প্রতিবেদন তৈরি করে ১৩০টি সংস্কৃতিই আনুষ্ঠানিক বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করেছে।[১৪]

বিশেষভাবে ১২ বছরের নিচের মেয়েদের বাল্যবিবাহ বলপূর্বক আনুষ্ঠানিক বিবাহের চূড়ান্ত নমুনা হিসাবে পরিলক্ষিত হয়। উদাহারন হিসাবে ভানি যেটা বর্তমানে পাকিস্তানের কিছু উপজাতি/কিছু গ্রামীণ পরিবেশে দেখা যায়, এবং ১৯৭০ সালের পূর্বের তাইওয়ানের সিম-পুয়া বিবাহ (চীনের টঞ্জিয়ানক্সি)।

ধরণ[সম্পাদনা]

এখানে বেশ কয়েকধরনের আনুষ্ঠানিক বিবাহ দেখা যায়। তাদের কিছু[১৫][১৬][১৭][১৮]

  • বহিঃগোত্রীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহঃ এই ক্ষেত্রে তৃতীয়পক্ষ বড় ও কনে বাছাই ও নির্ধারিত করে থাকে তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তির উপর নিরপেক্ষ বিবেচনায়।
  • সমগোত্রীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহঃ এখানে তৃতীয়পক্ষ বড় ও কনে বাছাই ও নির্ধারিত করে থাকে তাদের একই সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক গোত্রের ভিতরে।
  • স্বগোত্রিয় বিবাহঃ এটা সমগোত্রিয় আনুষ্ঠানিক বিবাহেরই একটি প্রকারভেদ। [১৯] এইক্ষেত্রে বড় ও কনের পিতামহ বা মাতামহ অথবা নিকট পূর্বপুরুষ একই হয়ে থাকে। উধাহারন হিসাবে, ১ম কাজিন (চাচাত/মামাত/ফুপাত/খালাত ভাইয়ে) বিবাহ, চাচা-ভাইঝি বিবাহ, ২য় কাজিন বিবাহ এবং সমরূপ অন্যান্য। ১ম কাজিন বিবাহ সবচাইতে বেশী প্রচলিত অতঃপর ২য় কাজিন বিবাহ এবং চাচা-ভাইঝি বিবাহ। আরব এবং পাকিস্তানে সর্বমোট বিবাহের শতকরা ২৫-৪০ ভাগই ১ম কাজিন বিবাহ হয়ে থাকে; যখন সার্বিকভাবে স্বগোত্রিয় আনুষ্ঠানিক বিবাহ উত্তর অ্যামেরিকা এবং মধ্য-এশিয়ায় শতকরা ৬৫-৮০% অতিক্রম করেছে।[২০][২১]

সাধারণত সবধরনের আনুষ্ঠানিক বিবাহেই বড় এবং কনের সম্মতি দেবার অধিকার থাকে; যদি বড় অথবা কনে বা উভয় কারও মতপ্রকাশের অধিকার না থাকে তাকে বলপূর্বক বিবাহ বলে।

অ-স্বগোত্রিয় আনুষ্ঠানিক বিবাহে বড় ও কনে তাদের পিতামহ বা মাতামহ অথবা নিকট পূর্বপুরুষ অংশ হিসাবে গ্রহণ করে না। এই ধরনের আনুষ্ঠানিক বিবাহ সচরাচর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়ার হিন্দু এবং বৌদ্ধদের মাঝে দেখা যায় এবং ল্যাতিন অ্যামেরিকা ও সাব সাহারান আফ্রিকায়।[২২]

সগোত্র বিবাহ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক অংশে আইনের পরিপন্থী[২৩] যুক্তরাজ্যে, চাচা-ভাইজি বিবাহকে অজাচার হিসাবে ধরা হয় এবং আইন পরিপন্থী, কিন্তু কাজিন বিবাহ আইনগতভাবে অজাচার হিসাবে দেখা হয় না এবং আইনসিদ্ধ, যদিও সেখানে স্বাস্থ্যগত কারণে ১ম কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ করার দাবী রয়েছে। সমগোত্রীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহ ইসলামিক দেশ সমূহে স্বাভাবিক ও গ্রহণীয় সংস্কৃতি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক কৃষ্টি অনুসারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে খ্রিষ্টান, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সমাজের সাথে নিষিদ্ধ ও পরিত্যাজ্য হিসাবে গৃহীত। [২৪] বিংশ শতাব্দীর পূর্বে জিউস সম্প্রদায়ের মাঝে সগোত্রীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহ স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি শতকরা ১০ ভাগের নিচে নামিয়ে এনেছে।[২৫][২৬]

কারণ ও প্রবনতা[সম্পাদনা]

আধুনিক সময় পর্যন্ত সমগ্র মানব ইতিহাসে, আনুষ্ঠানিক বিবাহের চর্চা উৎসাহিত/বৃদ্ধি পায় কয়েকটি বিষয় ভিত্তিক অণুঘটকের কারণে, যেমন বাল্যবিবাহের চর্চা,[২৭] প্রয়াত বিয়ে, আচারানুষ্ঠান,[২৮][২৯] সংস্কৃতি, ধর্ম, দারিদ্র্য ও সীমিত বিকল্প, প্রতিবন্ধী,[৩০] সম্পদ ও উত্তরাধিকার বিষয়, রাজনীতি, সামাজিক ও জাতিগত সংঘাত.[৩১][৩২][৩৩]

বাল্যবিবাহ[সম্পাদনা]

"ম্যরেজ আ-লা-মোদে" : আনুষ্ঠানিক বিবাহ এবং আসন্ন বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী উপর উইলিয়াম হোগার্থের আঁকা একটি ব্যঙ্গধর্মী রচনা

বাল্যবিবাহ, মূলত ১২ বছরের নিচের বয়সের বিবাহ যাদের বিবাহ সম্বদ্ধে মতামত দেবার মতো পরিণত বা সুযোগ তৈরি হয়না। বাল্যবিবাহ পরোক্ষভাবে আনুষ্ঠানিক বিবাহের মধ্যেই পড়ে।[৩৪] সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং ল্যাতিন অ্যামেরিকায়ের গ্রামাঞ্চলে দরিদ্রতা এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবার কারনে শিশুদের সামনে বাল্যবিবাহ বা শীঘ্র আনুষ্ঠানিক বিবাহ গ্রহণ করা ব্যতীত অপর সুযোগ থাকেনা,[২৭] বাল্যবিবাহ প্রাথমিকভাবে দরিদ্র এলাকা সমূহে দেখা যায়। অভিভাবকেরা শিশুদের বিবাহ আয়োজন করে সন্তানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং মেয়ে সন্তানের অর্থনৈতিক বোঝা থেকে মুক্তি কারন তারা জানে খাবার, কাপড় এবং (ক্ষেত্রবিশেষে) মেয়ের শিক্ষা কতটা ব্যয়বহুল। অবস্থা সম্পন্ন যেকোন পরিবারের সাথে মেয়ে সন্তানের বিবাহ আয়োজন করতে পারলে সামজিক একটা বন্ধনের সাথে সাথে সামাজিক মর্যাদার উন্নতি ঘটে।[৩৫]

ওয়ার্নার দেখিয়েছেন, যে জাতির মাঝে উচ্চ বাল্য বিবাহ প্রচলিত রয়েছে সেখানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কন্যা সন্তানের পিতা-মাতা অথবা অভিভাবকেরাই আয়োজন করে থাকে।[৩৬] উচ্চ বাল্যবিবাহের দেশসমুহঃ ভারত, নাইজার, চাদ, মালি, বাংলাদেশ, গিনি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, ইয়েমেন এবং পাকিস্তান। আমেরিকার কিছু অংশেও আনুষ্ঠানিক বাল্যবিবাহ দেখা যায়।[৩৭][৩৮]

দারিদ্র্য[সম্পাদনা]

দরিদ্র জনপদে, প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের খাবারের চাহিদা তৈরি করে বাড়তি বোঝা। প্রতিটি কন্যা সন্তানের বিবাহ আয়োজন, জ্ঞানের কথা,[৩৯] একটি বোঝা মুক্ত হওয়া। দারিদ্রতা এভাবেই আনুষ্ঠানিক বিবাহের চালকের আসনে থাকে।

এই তত্ত্বের,[৪০][৪১] সমর্থনে এশিয়ার দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির মাঝেও আনুষ্ঠানিক বিবাহের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সুবিধাভোগী অভিভাবকদের মাঝে একমাত্র উপার্জনক্ষম কন্যা দ্বারা উপার্জিত অর্থে অংশীদার হওয়া বিশেষভাবে উল্লেক্ষ্য।[৪২] ফলাফল সরূপ তাদের কন্যা সন্তানের অতিদ্রুত বিবাহে অসম্মতি জাগেনা।

প্রয়াত/বিলম্ভ বিবাহ[সম্পাদনা]

বিলম্ভ বিবাহ বলতে মূলত বয়স ৩০ বছর অতিক্রান্ত যখন স্বেচ্ছায় বিবাহের উপযোগী অবিবাহিত পুরুষ অথবা নারী সঙ্গির সামান্য ঘাটতি পড়ে। আনুষ্ঠানিক বিবাহ প্রচলন এক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ সমাধান।[৪৩]

উধাহারন সরূপ দেখা যায়, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্যে জাপানের শতকরা ৪০ ভাগ নারী ২৯ বছর বয়সের আগে বিবাহ করেনা। বিলম্ভিত বিবাহ সহযোগিতার জন্যে, আনুষ্ঠনিক বিবাহের ঐতিহ্যগত প্রথাকে বলে মিয়াই (見合い) অর্থ নতুনভাবে জেগেউঠা। এখানে অংশীদার থাকে সুযোগ্য বড় এবং কনে, তাদের পরিবার এবং ঘটক (নাকুডো, 仲人); যুগল মনোনীত হয় নিজেদের বা পরিবারের অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ার দ্বারা (ইয়েগারা, 家柄); এবং যুগলেরা একত্রীত হবার সিদ্ধান্ত নেবার আগে সাধারণত জনসম্মুখে বা একান্তে তিনবার মিলিত হয়।[৪৪][৪৫][৪৬]

সীমিত বিকল্প[সম্পাদনা]

সংখ্যালঘু অভিবাসী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গী বাছাইয়ের সুযোগ খুব সীমিত, বিশেষভাবে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাদের থেকে থেকে পৃথকীকৃত বা এড়িয়ে চলে। এটা হোমগামী (homogamy) এবং আদিবাসী গোত্রের মাঝে আনুষ্ঠানিক বিবাহে উৎসাহ দেয়। এই প্রগতিশীলতার উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ্য, ১৯১০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কানাডার শিখ বিবাহ,[৪৭] ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের মাঝের স্বসঙ্গমসম্ভাবী আপাত-বিবাহ,[৪৮] হাসিডিকভাবে ইহুদীদের মাঝের আনুষ্ঠানিক বিবাহ,[৪৯][৫০] এবং ১৯৬০ সালের পূর্বের জাপানি আমেরিকান অভিবাসীদের মাঝের বিবাহ, তারা পরিবারের পছন্দ করা জীবনসঙ্গীকে বিবাহ করার জন্যে জাপানে ফিরে আসত এবং পুনরায় ফিরে যেত। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেত, জাপানী মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে "কনেবেশে" প্রবেশ করত, সেখানে অবস্থানরত অ্যামেরিকা নিবাসী জাপানিকে পূর্বপ্রস্তুতি মোতাবেক বিবাহ করার জন্যে যাকে মেয়েটি পূর্বে কখনও দেখিনি।[৫১]

শারীরিক অক্ষমতা[সম্পাদনা]

কিছুক্ষেত্রে শারীরিক অক্ষমতা এ সম্ভাবনা বৃদ্ধির আয়োজন করে, এমনকি বিশ্বের কিছু স্থানে বলপূর্বক বিবাহ আয়োজিত হয়।[৩০][৫২] ওক্যাঞ্জো বলেছেন যে নাইজেরিয়ায় পাত্রীর যেকোন শারীরিক অক্ষমতা অথবা পাত্রের ক্ষেত্রেও অক্ষমতার জন্যে বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে।[৫৩]

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

প্রচুর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যগতভাবে অন্তর্বিবাহ পচ্ছন্দ করে। এর ব্যবহারিক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিন্দু সংস্কৃতি যেখানে বড় ও কনে উভয়েই একই সামাজিক শ্রেণীভুক্ত, কিন্তু অনাত্মীয় অর্থ বর-কনে রক্তের সম্পর্কের নয় এবং তাদের বর্ধিত পরিবারের অংশীদার নয়। অন্তর্বিবাহ অনুসরণকারী অপর উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের আমিশ গোত্রের আয়োজিত বিবাহ,[৫৪][৫৫] কানাডার, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং পশ্চিমা ইউরোপের গোঁড়া ইহুদী,[৫৬][৫৭] আরব খ্রিস্টান[৫৮] অনুরুপভাবে মিসরীয় কপটিক খ্রিস্টান[৫৯] আদিমসমাজ থেকে বিবাহ ঐতিহ্যগত কেন্দ্রীয় কাজ হিসাবে রয়েছে। সন্তানের সঠিক পারিবারিক পরিচয়, অন্তরভুক্তি এবং লালনের জন্যে স্বাধীনভাবে বিবাহে নিষেধাজ্ঞা ছিল, এবং নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বা গোত্রের বাহিরে উভয় বিবাহই এড়িয়ে যাওয়া হতো[৬০] কখনও বিবাহ নির্ধারিত হয়ে যায় শিশু অবস্থায়; অনেক মেয়ের ক্ষেত্রে বিবাহ নির্ধারিত হয়ে যায় যখনও সে জন্মগ্রহণ করে নাই। তরুন নারী ও পুরুষের মাঝে গড়ে উঠা প্রতিশ্রুতি, তৈরি করে একটা আজীবন দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা।[৬০] পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার ইসলামিক জাতির মাঝে আনুষ্ঠানিক বিবাহ ঐতিয্য হিসাবে প্রচলিত, কিন্তু একইসাথে কিছু ব্যতিক্রমও পরিলক্ষিত হয় সর্বমোট বিবাহের শতকরা ১৭ ভাগ থেকে অধিকাংশ সগোত্রীয় বিবাহ হয়ে থাকে।[৬১][৬২][৬৩][৬৪]

অন্তর্বিবাহ একইসাথে অনাত্মীয় বিবাহ সঙ্গী বাছাইয়ের সুযোগ কমিয়ে দেয়, বিশেষভাবে যখন সম-ধর্মের, বর্ণের অথবা শ্রেণীর জনসংখ্যা স্বল্প থাকে। সীমিত বিবাহ উপযোগী সংখ্যা উৎকৃষ্ট সঙ্গি খুজে বের করাকে কঠিন করে তুলে এবং উৎসাহিত করে আনুষ্ঠানিক বিবাহ অথবা আপাত-বিবাহ।.[৬৫][৬৬]

সম-বংশের এবং অন্তর্গোত্রিয় বিবাহ নাটকিয়ভাবে বিবাহ উপযোগী সমকক্ষতা হ্রাস করেছে; এটা কিছু ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত করত আনুষ্ঠানিক বিবাহে তাদের প্রথাগত ও জন্ম অনুসারে। শুধু ইসলামিক চিন্তাধারায় ও বিশ্বাসে ১.৩ বিলিয়নের উপর মানুষ অন্তর্গোত্রিয় স্বধর্মে আনুষ্ঠানিক বিবাহ চর্চা করে চলেছে।[৬৭][৬৮] আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহের আয়োজন বর্তমানেও পরিলক্ষিত হচ্ছে, যদিও এর ব্যাপ্তি খুব সীমিত, কিছু আফ্রিকা, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পলিনেসিয়া এবং দক্ষিণ অ্যামেরিকা এর আদিবাসীর মাঝে দেখা যায়।[৬৯] পাকিস্তান এবং সৌদিআরবে সমগ্র বিবাহের অধিকাংশই (৬৫%+) অন্তর্গোত্রিয় এবং আত্মীয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবাহ। শতকরা ৪০% ভাগের বেশী অন্তর্গোত্রিয় এবং আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ আয়োজন হয় ইরাক, ইরান, জর্ডান, সিরিয়া, ইয়েমেন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সুদান, লিবিয়া ও মরিতানিয়াতে; এবং প্রতি ৫টির ১টি এইরুপ বিবাহ হয় তুরস্ক, মিশর, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, ভারত ও মালয়েশিয়ার উচ্চ মুসলিম বসতির অঞ্চলে অন্তর্গোত্রিয় এবং আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।[৬৭][৭০]

প্রথা[সম্পাদনা]

কিছু প্রথা/রীতি আনুষ্ঠানিক বিবাহের সূত্রপাত করে। যেমন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের গ্রামীণ ও আদিবাসী অংশে, বিরোধ, অনাদায়ী দেনা (পরিশোধে অক্ষম) এবং হত্যার ক্ষেত্রে মীমাংসার জন্যে কিছু গ্রামীণ বয়োজ্যেষ্ঠদের পরিষদ যা জিরগা নামে পরিচিত, এ ধরনের রায় দিত।[৭১] কখনো এককভাবে পুরুষের দোষ থাকলেও দোষী পরিবারকে অপর পরিবারের ৫- ১২ বছরের কুমারী মেয়েকে বাধ্যতামূলক বিবাহ করতে হতো। এখানে মেয়ের কোন মতামত নেবার রীতি নাই, এমনকি তার পরিবারও অধিকার প্রাপ্ত হয়না। এই ধরনের আনুষ্ঠানিক বাল্য বিবাহকে পাকিস্তানের ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ভানি, সাওারা এবং সাক নামে পরিচিত[৭২][৭৩][৭৪]

কিছু ইসলামিক জাতির মাঝে আরেকটি চর্চা রয়েছে,[৭৫][৭৬] বিশেষভাবে পাকিস্তানে, ওয়াত্তা সাত্তা, যেখানে একটি পরিবারের ভাই-বোন অপর একটি পরিবারের ভাই-বোনের সাথে জীবন সঙ্গি হিসাবে অদলবদল হয়। অন্য ভাষায় বলা যায়, স্ত্রীরা উভয় পরিবারে একে অন্যের পুত্রবধূ হয়। এই চর্চা আনুষ্ঠানিক বিবাহের অনুসারী। পাকিস্তানের পশ্চিমা গ্রামাঞ্চলে প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ বিবাহ ওয়াত্তা সাত্তা রীতি অনুসারে হয়ে থাকে, এবং ৭৫ ভাগ মুসলিম বিবাহ কাজিন বিবাহ অথবা অন্যান্য আত্মীয়ের সাথে হয়ে থাকে।[৭৭][৭৮][৭৯] কিছু অভিবাসী পরিবার গতানুগতিক আনুষ্ঠানিক বিবাহের ব্যবস্থার অনুশীলন পছন্দ করে।[৮০]

[৮১] ১৭৭০, সম্রাজ্ঞী মেরি থেরেসা, লুই-অগাস্টকে বিবাহের জন্যে ১৪ বছরের মেরি অ্যান্টয়নেটকে ফ্রান্সে পাঠান ।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

১৬৯৭ সালে ১২ বছর বয়সী মেরি অ্যাডিলেড অব স্যাভয় এবং লুই, ডিউক অব বার্গান্ডী এর মাঝে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক বিবাহ, মূলত ফ্রান্সের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রেক্ষাপট, এর ফলাফল ছিল তুরিন চুক্তি (১৬৯৬)। এই বিবাহ তৈরি করেছিল ফ্রান্সের চতুর্দশ লুই এবং ডিউক অব স্যাভয়ের সাথে মৈত্রীবন্ধন।

সুদূর মানব ইতিহাস বলে সামন্ত প্রভুদের শহর, রাজ্য এবং রাজত্ব অতিক্রম করে বিবাহ আয়োজন, রাজনৈতিক মিত্রতা, ব্যবসা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার অর্থ প্রকাশ করে।[৪৬][৮২][৮৩] যখন কোন রাজা তার রাজপুত্রের সাথে প্রতিবেশি রাজ্যের রাজকন্যার সাথে বিবাহ আয়োজন করে, এটা ইঙ্গিত বহন করে যে উভয় রাজ্য সাম্য মিত্রতা বন্ধনে আবদ্ধ এবং তারা পূর্ববর্তীদের বর্তমান শ্রেষ্টত্তের বার্তা প্রদান করে। উদাহরণ হিসাবে, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির রানী মেরি থ্যরেসা এর চতুর্থ কন্যা মেরি অ্যান্টয়নেট বিবাহ করেন ফ্রান্সের ডাউফিন (ফ্রান্সের সম্রাটের জ্যেষ্ঠ পুত্রের উপাধি), যে ছিল ভবিষ্যৎ রাজা ষোড়শ লুই।[৮১]

সম্পদ এবং উত্তরাধিকার বিষয়[সম্পাদনা]

মানব ইতিহাসের প্রায় সবখানেই, বিবাহ একটা সামাজিক বন্ধন যা সন্তান জন্ম দেয় এবং তৈরি করে সম্পদের উত্তরাধিকারী এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি দেখা যায়, তবে বিশেষভাবে কিছু সম্পদ্শালী রাজকীয় এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাদের সম্পদ সংরক্ষণ অথবা প্রবাহরেখা এর উত্তরাধিকারের অংশ হিসাবে আনুষ্ঠানিক বিবাহ আয়োজন করে থাকে।[৮৪]

টং ইয়াং শি, তাইওয়ানীয়তে সিম-পুয়া বিবাহ নামে পরিচিত - আক্ষরিক অর্থ ছোট সন্তান বা ছোট পুত্রবধূ - প্রথাগতভাবে এটা একটি আনুষ্ঠানিক বিবাহ যেখানে দরিদ্র পরিবার মেয়ের কৈশোরের আগেই কোন ধনী পরিবারে দাস হিসাবে বিবাহ আয়োজন করে।[৮৫] ছোট বালিকা দাসের মতো বিনামূল্যে শ্রম দিতে থাকে এবং একই সাথে গৃহিত পরিবারের ছেলের পুত্রবধূ হিসাবেও পরিচিত। এই ধরনের বিবাহের মূল তত্ত্ব, মেয়েটি দরিদ্রতার বন্ধন থেকে মুক্তি পায় এবং ধনী পরিবার বিনামুল্যের একজন দাস ও পুত্রবধূ পায়। প্রায় অনুরূপ এক চর্চা "ঝাওঝুহি" যেখানে একটি সম্পদ্শালী পরিবার যার উত্তরাধিকার নাই, তারা অপর কোন পরিবার থেকে ছেলে বিবাহের মাধ্যমে গ্রহণ করে। পরিবারের মেয়েকে বিবাহ করে ছেলেটি সচ্ছল পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং পদবী পরিবর্তন করে নেয়। এই ধরনের বিবাহে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হয়।[৮৬] অনুরূপ উত্তরাধিকার ও সম্পদ রক্ষার্থে বিবাহ আয়োজন কোরিয়া, জাপান এবং বিশ্বের অন্যান্য বেশ কিছু স্থানে দেখা যায়।[৮৭][৮৮][৮৯]

কন্যাপণ[সম্পাদনা]

অনেক সংস্কৃতিতেই, বিশেষভাবে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে, বিবাহ উপযোগী মেয়েকে মুল্যবান হিসাবে দেখা হয়, কারন পাত্র এবং তাদের পরিবারকে ঐ মেয়েকে বিবাহের অনুমতি পাবার জন্যে নগদ অর্থ বা সম্পদ প্রদান করতে হয়। এটাকে আক্ষরিক ভাবে কন্যাপণ (bride-wealth) বলে, তবে অঞ্চলভেদে স্থানীয় অনেক নামে পাওয়া যায় যেমন লাবোলা এন্ড ওয়াইন ক্যারিং।[৯০][৯১] কন্যাপণের অর্থ প্রথাগতভাবে কনের পরিবারই গ্রহণ করে থাকে, দরিদ্র পরিবারের জন্যে মেয়ের বিবাহের পর এটাই হয়ে উঠে আয়ের মূল উৎস। কনের ভাই, পিতা এবং পুরুষ আত্মিয়রা সচেতনভাবে লক্ষ্যরাখতে আগ্রহি থাকে যেন বিবাহের অনুমতির জন্যে সর্বাধিক ব্যয় ইচ্ছুক পাত্রের সাথেই বিবাহ আয়োজন করা সম্ভব হয়।[৯২][৯৩]

ধর্ম[সম্পাদনা]

কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মনে করে বিবাহ শুধুমাত্র বিশ্বাসের অন্যরূপ। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম, ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারে জন্মনেওয়া মেয়েকে নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত নয় এমন পুরুষের সাথে বিবাহে নিষিদ্ধ করেছে। অন্য ভাষায় বললে, ইসলাম কোন মুসলিম নারীর সাথে অমুসলিম পুরুষের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে,[৯৪] এবং যারা ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করবে তাদের ধর্মীয় শাস্তি অনেক কঠোর।[৯৫] ইউরোপে অবস্থানকারী সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারে এটাই আনুষ্ঠানিক বিবাহের প্রতি আগ্রহি করে তোলে।[৯৬][৯৭]

কিছু খৃস্টান গোষ্ঠী খৃস্টান ও নন-খৃস্টানের মাঝের বিবাহের অনুমোদন দেয়। ১ করিন্থিয়ান্স ৭ঃ১৪ বলে যে, "অবিশ্বাসী স্বামী পবিত্রকৃত হতে পারে তার স্ত্রী দ্বারা, এবং অবিশ্বাসী স্ত্রী পবিত্রকৃত হতে পারে তার স্বামী দ্বারা"।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

আনুষ্ঠানিক বিবাহ সবসময়ই বিজ্ঞ জনের মাঝে বির্তকের সূত্রপাত ঘটায়। বিতর্কের মূল প্রশ্ন থাকে আনুষ্ঠানিক বিবাহ কি আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইনের প্রতি অপব্যবহার? এটাকি স্বাভাবিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন? বিশেষ ভাবে নারী অধিকারের।[৯৮] নাকি এটা সন্তানের বেড়ে উঠা ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে অধিক স্থিতিশীল বিবাহ;[৯৯] এবং এখানে বিবাহিত যুগলের সন্মানজনক সম্পর্কের মাঝে ভালবাসা, আবেগের প্রভাব বেশী না কম?[১০০]

জাল বিবাহ[সম্পাদনা]

যুক্ত্ররাজ্যে প্রকাশ্য আলোচনা In the United Kingdom, public discussion[১০১] প্রশ্ন উঠে আসে, আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিক বিবাহ কি আসলে জাল, কিছু অভিবাসী নারী ও পুরুষের জন্যে আবাসন এবং ইউরোপিয়ান নাগরিকাধিকার পাবার পাবার সহজ পন্থা যারা অন্যথায় এদেশে প্রবেশের ভিসা প্রক্রিয়ায় নাকচ হয়ে যেত। এই ধারনাকে আরও বদ্ধমুল করার সুযোগ করে দিয়েছে বিবাহোত্তর নুন্যতম একত্রে থাকার সময় পার হবার পরপরই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা পরিলক্ষিত হওয়ায়। সংসদ সদস্য অ্যান ক্রায়ার এধরনের অনিয়মের উদাহরণ হিসাবে তার দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম পরিবারের দিকে তুলে ধরেন[১০২] যুক্তরাষ্ট্রেও অনুরূপ বিতর্কিত জাল বিবাহ দেখা যায়।[১০৩][১০৪]

মানবাধিকার[সম্পাদনা]

ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে আনুষ্ঠানিক বাল্যবিবাহের নিষিদ্ধের দাবিতে, একই সাথে বলপূর্বক বিবাহ আয়োজনেও।[১০৫] দ্যা কনভেনশন অন দ্যা এ্যলিমিনেশন অব দ্যা অল ফরমস অব ডিসক্রিমিনেশন এগেনেইষ্ট ওমেন (সিডিএডব্লিউ) এর অনুচ্ছেদ ১৫ এবং ১৬ বিশেষভাবে বিবাহ এবং পারিবারিক আইনের উপর কাজ করে যেগুলি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত[১০৬][১০৭]

আনুষ্ঠিক বিবাহ একটি বিতর্ক এবং মতবিরোধ বিষয়। এর বিপক্ষে সক্রিয় আন্দোলনকারীরা যেমন শার্লট কাঁদি বলেন যে বিবাহ বাবা-মা অথবা পরিবারের অন্য সদস্য দ্বারা আয়োজিত বিবাহ প্রকৃতপক্ষে বিষমকামী পক্ষপাত এবং মানসিক চাপের সংশ্লিষ্টতা; এটা কিছু মানুষকে বিবাহের দিকে ধাবিত করে যেন তারা সম্মতিতে কয়েদ বরন করছে।[৯৮] Bunch suggests that marriages should be autonomous.

অপরপক্ষে, আনুষ্ঠানিক বিবাহ প্রতিরোধ কিছু মানুষের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে যারা বিবাহ উৎসব অভিভাবকদের সাথে নিয়ে (অংশগ্রহণে) করতে চায়। যেমন, উইলভি দেখিয়েছেন[১০০] যে আনুষ্ঠনিক বিবাহ বেশী সফল কারন সঙ্গী খোজার প্রক্রিয়ার মাঝেই তারা উদ্বেগ অপসারণের সুযোগ পায়। যখন একজন বর/কনে অন্য একটি মানুষকে বোঝার এবং অনুধাবনের, তার অতীত, স্বভাব এবং একইসাথে দুজনের যৌথ পারিবারিক সামঞ্জস্যতা বিশ্লেষণের প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে যায় সেই মুহুর্তে অভিভাবক, পরিবার এবং বন্ধু স্বাধীনভাবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা সহায়তা করতে পারে। উইলভি আরও পরামর্শ দেন যে পিতা-মাতা এবং পরিবার পাত্র/পাত্রী বাছাইয়ের বা নির্বাচনের চাইতে বিবাহে অর্থনৈতিক সহায়তা, বাসস্থান, বিবাহের প্রস্তুতিতে মানসিক সমর্থন এবং দাম্পত্য জীবনের নেতিবাচক সময়ে মুল্যবান সহায়তা ও পরামর্শ, সন্তানপালনে সহায়তাই মূল দায়িত্ব।

মাইকেল রোজেনফিল্ড বলেছেন[১০০] যে ব্যক্তি পছন্দের বিবাহ বা আনুষ্ঠানিক বিবাহের মাঝে প্রায়োগিক ব্যবধান খুব সামান্য; অনেক মানুষ দেখা করে, পৃথকভাবে মিলিত হয় এবং বিবাহে সম্মত হয় অথবা একত্রে অবস্থান করে যাদেরকে মানসিকভাবে, বয়সে, আগ্রহে এবং সামাজিক মর্যাদায় কাছাকাছি মনে হয়, রোজেনফিল্ডের মতে বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপটি অভিভাবকেরা করে দেয়। ধারণা করা যেতে পারে ব্যক্তি পছন্দে এটা একটা বাছাই পর্যায় যেখানে অপযুক্ত দাবীদারের ব্যপ্তি অনেক বেশী, রোজেনফিল্ড দেখিয়েছেন বিবাহের দুইটা পন্থার মাঝে ব্যবধান মোটেই ততটা নয় যতটা অনেকে ধারণা করেন।[১০০] অন্যান্য[১০৮] আরও অনেকে রোজেনফিল্ডের সাথে সম্মতি প্রকাশ করেছে।

সাংসারিক জীবনে আনুষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পছন্দের বিবাহের মাঝে ভালবাসা ও সন্মানের ব্যবধান[সম্পাদনা]

বৈবাহিক জীবনে ব্যক্তি পছন্দের না আনুষ্ঠানিক বিবাহ বেশী সন্তোষজনক নিরূপণ করার জন্যে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জরিপ চালান হয়। ফলাফল পাওয়া যায় মিশ্র - কিছু বলেছে ব্যক্তি পছন্দের বিবাহে সন্তষ্টি থাকে অনেক উচ্চ, অন্যরা কোন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পায়নি।[১০৯] জনসন এবং বাচান একটা ক্ষুদ্র আঙ্গিকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও নিরিক্ষা করেছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে।[১১০]

বিজ্ঞরা[১০০][১১১] দ্বিধান্বিত বৈবাহিক জীবনের ভালবাসা এবং সন্মান কি ব্যক্তি পছন্দের থেকে আনুষ্ঠানিক বিবাহে বেশী থাকে। এপস্টাইন বলেছেন দিয়েছেন যে অনেক আনুষ্ঠানিক বিবাহে ভালবাসা বাড়তে থাকে সময়ের সাথে। তবে ব্যক্তি পছন্দ বা আনুষ্ঠানিক বিবাহ কোনটাই কোন নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম নয়। অনেক আনুষ্ঠানিক বিবাহ ভেঙ্গে যায় শীতল ক্রিয়াহীনভাবে আবার বিশ্বাসভঙ্গেরও প্রতিবেদন পাওয়া যায়[১১২][১১৩][১১৪]

স্থায়িত্ব[সম্পাদনা]

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তি পছন্দের বিবাহের বৃদ্ধির সাথে সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিক বিবাহের হারের স্থানেই সর্বনিন্ম বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা বিদ্যমান, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের আমিশ রীতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ (১%),[১১৫] ভারতে হিন্দু (৩%),[১০০] এবং ইসরাইলের আল্ট্রা-অর্থডক্স ইহুদি (৭%)।[১১৬] ২০১২ সালের স্ট্যাটিক ব্রেন এর একটি প্রতিবেদনে,বিশ্বে সর্বমোট বিবাহের শতকরা ৫৩.২৫ ভাগ আনুষ্ঠানিক বিবাহ এবং বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিক বিবাহের বিবাহ বিচ্ছেদের হার লক্ষণীয়ভাবে সীমিত মাত্র ৬.৩%। পরিসংখ্যানের এই নিন্ম হার বুঝিয়ে দেয় আনুষ্ঠানিক বিবাহের সাফল্যের হার।[১১৭] এই পরিসংখ্যান বিজ্ঞদের প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে যে আনুষ্ঠানিক বিবাহ ব্যক্তি পছন্দের চাইতে বেশী স্থায়ী, এবং এই পরিসংখ্যান কি আসল স্থায়িত্বের নিদর্শন? অনেকে দেখিয়েছে এই স্বল্প বিচ্ছেদের হার স্থায়িত্বের প্রকাশ নয়, বরং এটা প্রকাশ করে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সমাজ হইতে বিচ্ছিন্ন হবার ভয়, এবং ফলাফল যেকোন ব্যক্তি ক্রিয়াহীন দাম্পত্য জীবন বজায় রাখতে চায় বিবাহ বিচ্ছেদের পরিণতির মুখোমুখি হবার চাইতে।[১০০] একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ বিবাহ বিচ্ছেদের হার ব্যক্তি পছন্দের বিবাহ পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে[১১৮] এবং ভারতের হিন্দু সমাজে নিন্ম বিবাহ বিচ্ছেদের হারের উপর কোন প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবাহ বিচ্ছেদের হারের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক বিবাহে আরও কিছু ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইসলামিক দেশ সমূহে একই বংশীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহের বিচ্ছেদের হার সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, কাতার, জর্ডানে শতকরা ২০-৩৫ ভাগ,[১১৯] অপরপক্ষে, আমিশ গোত্র, হিন্দু এবং অর্থডক্স ইহুদিদের অনাত্মীয় আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদের হার ১০% এর নিচে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jodi O'Brien (2008), Encyclopedia of Gender and Society, Volume 1, SAGE Publications, page 40-42, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪১২৯০৯১৬৭
  2. "Courtship and Betrothal in the Italian Renaissance"metmuseum.org 
  3. The Illustrated Encyclopedia of Hinduism: A-M, James G. Lochtefeld (2001), আইএসবিএন ৯৭৮-০৮২৩৯৩১৭৯৮, Page 427
  4. Fricke, Chang, and Yang. (1994). Historical and Ethnographic Perspectives on the Chinese family. Social Change and the Family in Taiwan. Arland Thornton and Lin, Hui-Sheng. Chicago and London, The University of Chicago Press: 22-48
  5. Pan, Rong (2004), Why Being Single?, Lund University (Sweden), Centre for Asian studies
  6. Gender, Marriage and Migration - Mainland China and Taiwan Melody Chia-Wen Lu (2008), Leiden University
  7. Hutton, M. J. (2001). Russian and West European Women, 1860-1939: Dreams, Struggles, and Nightmares. Rowman & Littlefield Publishers; see Chapter 1
  8. Harry Reis and Susan Sprecher, Encyclopedia of Human Relationships, SAGE Publications, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪১২৯৫৮৪৬২, pages 113-117
  9. Ghimire et al. (2006), Social change, premartial family experience and spouse choice in an arranged marriage society, American Journal of Sociology, 111, pages 1181-1218
  10. Xiaohe and Whyte (1990), Love matches and arranged marriages: A Chinese replication, Journal of Marriage and the Family, 52, pages 709-722
  11. Tekce (2004), Paths of marriage in Istanbul: arranging choices and choice in arrangements, Ethnography, 5, pages 173-201
  12. Stange et al. (2011), Encyclopedia of Women in Today's World, SAGE Publications, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪১২৯৭৬৮৫৫, pages 899-901
  13. Gary R. Lee and Lorene Hemphill Stone, Mate-Selection Systems and Criteria: Variation according to Family Structure, Journal of Marriage and Family, Vol. 42, No. 2 (May, 1980), pages 319-326
  14. Broude, G. J., & Greene, S. J. (1983). Cross-cultural codes on husband-wife relationships. Ethnology, 22(3), pages 263-280
  15. Ghimire, D. J., Axinn, W. G., Yabiku, S. T., & Thornton, A. (2006). Social Change, Premarital Nonfamily Experience, and Spouse Choice in an Arranged Marriage Society1. American Journal of Sociology, 111(4), pages 1181-1218
  16. Jones, G. (2010). Changing marriage patterns in Asia, Asia Research Institute Working Paper No. 131
  17. Shaw, A. (2001). Kinship, cultural preference and immigration: consanguineous marriage among British Pakistanis. Journal of the Royal Anthropological Institute, 7(2), pages 315-334
  18. Joseph, S. E. (2007). Kissing Cousins. Current Anthropology, 48(5), pages 756-764
  19. Joseph, S. E. (2007). Kissing Cousins, Current Anthropology, 48(5), pages 756-764
  20. R. Hussain (1999), Community perceptions of reasons for preference for consanguineous marriages in Pakistan, Journal of Biosocial Science, 31, pages 449-461
  21. Consanguineous marriages ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে Brecia Young (2006)
  22. Derek F. Roberts, N. Fujiki, K. Torizuka, Kanji Torizuka (Editors), see Imaizumi, Y. O. K. O. (1992). Factors influencing the frequency of consanguineous marriages in Japan (pages 29-40). Cambridge, UK: Cambridge University Press; আইএসবিএন ৯৭৮-০৫২১৪১৯১২৩
  23. Bittles, A. H. (2003). The bases of Western attitudes to consanguineous marriage. Developmental Medicine & Child Neurology, 45(2), pages 135-138
  24. Alan Bittles, Consanguinity in Context (Cambridge Studies in Biological and Evolutionary Anthropology), Cambridge University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৫২১৭৮১৮৬২
  25. Jewish Encyclopedia (1906), see article on CONSANGUINITY AMONG JEWS; also see Jacobs, Studies in Jewish Statistics, pp. 1-9, London, 1891;
  26. Cohen et al., Consanguinity, intracommunity and intercommunity marriages in a population sample of Israeli Jews, Ann Hum Biol. 2004 Jan-Feb;31(1), pages 38-48
  27. Child Marriages World Health Organization, United Nations (7 March 2013)
  28. Afghanistan - The situation of women and girls UNHCR (2007), pages 45-46
  29. Early Marriage as a barrier to Girl's Education ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ জুলাই ২০১৩ তারিখে Jeannette Bayisenge, Rwanda (2008)
  30. Ghai, A. (2001). Marginalisation and disability: experiences from the Third World. Disability and the life course: Global perspectives, pages 26-37
  31. Amt, Emilie (1993), Women's Lives in Medieval Europe, New York, Routledge
  32. Máiréad Enright, Choice, Culture and the Politics of Belonging: The Emerging Law of Forced and Arranged Marriage, The Modern Law Review, Volume 72, Issue 3, pages 331–359, May 2009
  33. Carol Ember and Melvin Ember, Encyclopedia of Sex and Gender: Men and Women in the World's Cultures Topics and Cultures, Volume 2, আইএসবিএন ৯৭৮-০৩০৬৪৭৭৭০৬, pages 71-77
  34. Gupta, G. R. (1976). Love, arranged marriage, and the Indian social structure. Journal of Comparative Family Studies, 7(1), pages 75-85
  35. Nour, Nawal M (২০০৯-০১-০১)। "Child Marriage: A Silent Health and Human Rights Issue"Reviews in Obstetrics and Gynecology2 (1): 51–56। PMID 19399295আইএসএসএন 1941-2797পিএমসি 2672998অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  36. Warner, Elizabeth (2004), Behind the wedding veil: Child marriage as a form of trafficking in girls. American U Journal Gender Soc. Policy & Law, 12, pages 233-270
  37. Chawkins, Steve (জানুয়ারি ১৫, ২০০৯)। "Teen's arranged marriage is allowed in native Mexico"Los Angeles Times। ফেব্রুয়ারি ২০, ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  38. California dad accused of selling girl to teen for cash, beer – Houston Chronicle. Chron.com (2009-01-12). Retrieved on 2012-04-02.
  39. Engel, J. W. (1984). Marriage in the People's Republic of China: Analysis of a new law. Journal of Marriage and the Family, pages 955-961
  40. The "Flight from Marriage" in South-East and East Asia Gavin Jones, Singapore (2011)
  41. Salaff, J. (1976) ‘The status of unmarried Hong Kong women and the social factors contributing to their delayed marriage’, Population Studies, 30(3), pages 391-412
  42. Jones (1997) ‘The demise of universal marriage in East and South-East Asia’, in G.W. Jones, R.M. Douglas, J.C. Caldwell and R. D’Souza (eds.), The Continuing Demographic Transition, Oxford Clarendon Press
  43. Retherford, R. D., Ogawa, N., & Matsukura, R. (2001). Late marriage and less marriage in Japan. Population and Development Review, 27(1), pages 65-102
  44. "Omiai and Miai-gekkon, Arranged Marriages in Japan"hanamiweb.com। ৬ নভেম্বর ২০০৭। ২৪ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৭ 
  45. Applbaum, K.D. (1995) Marriage with the proper stranger – arranged marriage in metropolitan Japan, Ethnology, 34, 37–51
  46. Hendry, Joy (2010), Marriage in Changing Japan: Community & Society (Vol. 4), Taylor & Francis
  47. Kurian, G. (1991). South Asians in Canada. International Migration, 29(3), pages 421-433
  48. Maconachie, M. (1988). Bound by language: Homogamous marriages among a sample of White South Africans. South African Journal of Sociology, 19(1), 34-41.
  49. Hasidism in America Public Broadcasting Service, United States (2002)
  50. Hasidism Louis Jacobs, The Yivo Encyclopedia of Jews in Eastern Europe (1998)
  51. A History of Japanese Americans in California Archives of National Park Service, United States (2004)
  52. Rauf et al (2013), Forced marriage: implications for mental health and intellectual disability services, Advances in Psychiatric Treatment, 19, pages 135-143
  53. Okonjo, Kamene (1992). Aspects of continuity and change in mate-selection among the Igbo West of the River Niger. Journal of Comparative Family Studies, 23(3), pages 339-360.
  54. Hurd, J. P. (1985). Kissing cousins: Frequencies of cousin types in "Nebraska" Amish marriages. Biodemography and Social Biology, 32(1-2), pages 82-89
  55. McKUSICK, V. A., Hostetler, J. A., & Egeland, J. A. (1964). Genetic studies of the Amish. Bulletin of the Johns Hopkins Hospital, 115, 203-222.
  56. Schnoor, R. F. (2002). tradition and innovation in an ultra-orthodox Community: the hasidim of outremont. Canadian Jewish Studies/Études juives canadiennes, pages 55-56
  57. Mandel, Arnold (1967). The Jews in Western Europe Today. Jewish Publication Society of America; see page 9
  58. Patai, Raphael (Winter, 1965). The structure of endogamous unilineal descent groups, Southwestern Journal of Anthropology, Vol. 21, No. 4, pages 325-350
  59. Somervill, Barbara (2007). Teens in Egypt. Capstone; আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৫৬৫৩২৯৪৯; page 41-43, 57
  60. "Marriage in Traditional Aboriginal Societies"ALRC। ২০১৬। 
  61. Islam, M. M. (2012). The practice of consanguineous marriage in Oman: prevalence, trends and determinants. Journal of biosocial science, 44(5), 571
  62. Hussain, R. (2005). The effect of religious, cultural and social identity on population genetic structure among Muslims in Pakistan. Annals of Human Biology, 32(2), 145-153.
  63. Saadat, M., Ansari-Lari, M., & Farhud, D. D. (2004), Short Report Consanguineous marriage in Iran, Annals of human biology, 31(2), pages 263-269
  64. Khoury, S. A., & Massad, D. (1992). Consanguineous marriage in Jordan, American Journal of Medical Genetics, 43(5), pages 769-775
  65. Brown, C. H. (1981). demographic constraints on caste: a Fiji Indian example.American Ethnologist, 8(2), pages 314-328
  66. Adams, J. W., & Kasakoff, A. B. (1975). Factors underlying endogamous group size. Population and social organization, pages 147-173
  67. Hanan Hamamy (July 2012), Consanguineous marriages, Journal Community Genet. 3(3), pages 185–192
  68. Tadmouri GO, Nair P, Obeid T, Al Ali MT, Al Khaja N, Hamamy HA (2009), Consanguinity and reproductive health among Arabs, Reproductive Health; pages 6:17
  69. Khlat, M. (1997). Endogamy in the Arab world. OXFORD MONOGRAPHS ON MEDICAL GENETICS, 30, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৫০৯৩০৫৬; pages 63-82
  70. Bittles A. The global prevalence of consanguinity ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ জুলাই ২০০৮ তারিখে; access date: September 2013
  71. Vani verdict The Tribune (IHT / New York Times Group), Pakistan (October 9, 2012)
  72. Nasrullah, M., Muazzam, S., Bhutta, Z. A., & Raj, A. (2013). Girl Child Marriage and Its Effect on Fertility in Pakistan: Findings from Pakistan Demographic and Health Survey, 2006–2007. Maternal and child health journal, pp 1-10
  73. [ Vani a social evil] Anwar Hashmi and Rifat Koukab, The Fact (Pakistan), (July 2004)
  74. Ahsan, I. (2009). PANCHAYATS AND JIRGAS (LOK ADALATS): Alternative Dispute Resolution System in Pakistan. Strengthening Governance Through Access To Justice
  75. Latif, Z. (2010), The silencing of women from the Pakistani Muslim Mirpuri community in violent relationships. Honour, Violence, Women and Islam, 29
  76. Beswick, S. (2012). Brian J. Peterson. Islamization from Below: The Making of Muslim Communities in Rural French Sudan, 1880–1960. The American Historical Review, 117(4), Chapter 5, pp 1329-1360
  77. Watta Satta: Bride Exchange and Women’s Welfare in Rural Pakistan Hanan G. Jacoby and Ghazala Mansuri, World Bank Policy Research Working Paper 4126, February 2007 (Washington DC)
  78. PAKISTAN: Traditional marriages ignore HIV/AIDS threat IRIN, United Nations press service (6 December 2007)
  79. Charsley, K. (2007), Risk, trust, gender and transnational cousin marriage among British Pakistanis, Ethnic and Racial Studies, 30(6), pp 1117-1131
  80. Arranged Marriage: Trapped Between Two Cultures. National Public Radio. Retrieved on 2012-04-02.
  81. "Married to France: 1770-1780"Marie Antoinette and the French Revolution। pbs.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-১৭ 
  82. Harris, B. J. (1989). Power, Profit, and Passion: Mary Tudor, Charles Brandon, and the Arranged Marriage in Early Tudor England. Feminist Studies, 15(1), pages 59-88
  83. Fossum, U. M. S., & Boyd, K. (2010). Arranged Marriage–A violation of human rights?. University of California, Berkeley
  84. Coontz, S. (2006). Marriage, a history: How love conquered marriage. Penguin
  85. Judd, E. R. (1989). Niangjia: Chinese women and their natal families. Journal of Asian Studies, 48(3), pages 525-544
  86. Lin Yuju (২০১১)। "Zhaozhui son-in-law"Encyclopedia of Taiwan। Council for Cultural Affairs। ১৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  87. Martin, L. G. (1990). Changing intergenerational family relations in East Asia.The Annals of the American Academy of Political and Social Science, pages 102-114
  88. Haruko, W., & Gay, S. (1984). Marriage and property in premodern Japan from the perspective of women's history. Journal of Japanese Studies, 10(1), pages 73-99
  89. Kerbo, H. R., & MacKinstry, J. A. (1995). Who rules Japan?: the inner circles of economic and political power. Greenwood Publishing Group; see pages 30-31
  90. Wining back our good luck: bridewealth in nowadays Maputo Paulo Granjo (2004)
  91. Bride price: an insult to women, a burden to men?, BBC News (August 30, 2004)
  92. Margrethe Silberschmidt (1999), Women Forget that Men are the Masters, Nordic Africa Institute, আইএসবিএন ৯৭৮-৯১৭১০৬৪৩৯৪, pp 87
  93. Stephanie Beswick (2001), " We Are Bought Like Clothes": The War Over Polygyny and Levirate Marriage in South Sudan, Northeast African Studies, 8(2), pp 35-61, Quote - "The highest bidder usually acquires the woman, and the bridewealth is made in a series of payments."
  94. See:
    • Saad Ibrahim, Minority Rights Group International, The Copts of Egypt, January 1996; pages 24-25;
    • Philippe Fargues (1998), in Andrea Pacini (Editor), Christian Communities in the Arab Middle East, Oxford University Press, আইএসবিএন ০-১৯-৮২৯৩৮৮-৭, page 51;
    • Heiner Bielefeldt, Human Rights Quarterly, Volume 17, Number 4, November 1995, pages 587-617
  95. See:
  96. Coleman, D. A. (2004), Partner choice and the growth of ethnic minority populations ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ জুন ২০১৫ তারিখে, Bevolking en Gezin, 33(2), 7-34.
  97. Razack, Sherene H. (অক্টোবর ২০০৪)। "Imperilled muslim women, dangerous muslim men and civilised Europeans: legal and social responses to forced marriages"Feminist Legal StudiesSpringer12 (2): 129–174। doi:10.1023/B:FEST.0000043305.66172.92. 
  98. Bunch, Charlotte (1995). Transforming human rights from a feminist perspective, Women’s Rights, Human Rights: International Feminist Perspectives (Julie Peters and Andrea Wolper Editors), pages 15-16; also see pages 157-160
  99. Amato, Paul R. (2012). Institutional, Companionate, and Individualistic Marriages, Marriage at the Crossroads: Law, Policy, and the Brave New World of Twenty-First-Century Families, pages 107-124
  100. Modern Lessons from Arranged Marriages Ji Hyun Lee, New York Times (January 18, 2013)
  101. Ralph Grillo, Marriages, arranged and forced: the UK debate; in Gender, Generations and the Family in International Migration, (Editors: Albert Kraler, Eleonore Kofman, Martin Kohli, Camille Schmoll), আইএসবিএন ৯৭৮-৯০৮৯৬৪২৮৫১; see Chapter 3
  102. Multi-cultural sensitivity is not an excuse for moral blindness, Hansard, 10 February 1999; column 256-280
  103. David Seminara (2008) Hello, I Love You, Won’t You Tell Me Your Name: Inside the Green Card Marriage Phenomenon Center for Immigration Studies
  104. MORE WEDDING RING BUSTS Green-card scam probe widens Brian Harmon, New York Daily News (August 16, 2002)
  105. Child Marriages UNICEF
  106. Freeman, Marsha (1995). Transforming human rights from a feminist perspective, Women’s Rights, Human Rights: International Feminist Perspectives (Julie Peters and Andrea Wolper Editors), pages 149-176
  107. CEDAW - Full Text of Convention United Nations Entity for Gender Equality and the Empowerment of Women (2009)
  108. Is arranged marriage really any worse than craigslist? Anita Jain, New York Magazine (2013)
  109. See:
    • Usha Gupta; Pushpa Singh (জুলাই ১৯৮২)। "An exploratory study of love and liking and type of marriages"। Indian Journal of Applied Psychology19 (2): 92–97। 
    • Xu Xiaohe; Martin King Whyte (আগস্ট ১৯৯০)। "Love Matches and Arranged Marriages: A Chinese Replication"। Journal of Marriage and Family52 (3): 709–722। doi:10.2307/352936 
    • Jane E. Myers; Jayamala Madathil; Lynne R. Tingle (২০০৫)। "Marriage Satisfaction and Wellness in India and the United States: A Preliminary Comparison of Arranged Marriages and Marriages of Choice"। Journal of Counseling & Development83 (2): 183–190। doi:10.1002/j.1556-6678.2005.tb00595.x 
    • Pamela C. Regan; Saloni Lakhanpal; Carlos Anguiano (জুন ২০১২)। "Relationship Outcomes in Indian-American Love-Based and Arranged Marriages"। Psychological Reports110 (3): 915–924। doi:10.2466/21.02.07.PR0.110.3.915-924 
  110. David R. Johnson; Lauren K. Bachan (আগস্ট ২০১৩)। "What can we learn from studies based on small sample sizes? Comment on Regan, Lakhanpal, and Anguiano (2012)"Psychological Reports113 (1): 221–224। doi:10.2466/21.02.07.PR0.113x12z8PMID 24340813পিএমসি 3990435অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  111. Paul Amato (2012), in Marriage at the Crossroads: Law, Policy, and the Brave New World;Editors: Marsha Garrison, Elizabeth S. Scott; আইএসবিএন ৯৭৮-১১০৭০১৮২৭৩; see Chapter 6
  112. Child bride, 13, dies of internal injuries four days after arranged marriage in Yemen Mail Online, United Kingdom (9 April 2010)
  113. Indian woman says arranged marriage was full of abuse John Tuohy and Bill McCleery, USA Today (August 12, 2013)
  114. Fighting arranged marriage abuse Sue Lloyd-Roberts, BBC News (July 12, 1999)
  115. Trip back in time: the Amish in Ohio St Louis Post-Dispatch (September 10, 2010)
  116. "It's All Relative: The Contemporary Orthodox Jewish Family in America - Institute for Jewish Ideas and Ideals"jewishideas.org 
  117. "Arranged / Forced Marriage Statistics – Statistic Brain"www.statisticbrain.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-১৭ 
  118. "The Divorce Surge Is Over, but the Myth Lives On"। New York Times। 
  119. World Marriage Data United Nations Population Division (2008)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]