ভারতীয় দণ্ড বিধি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভারতীয় দণ্ড বিধি, ১৮৬০
Emblem of India.svg
সূত্র১৮৬০ সালের আইন নং ৪৫
কার্যকারী এলাকাজম্মু ও কাশ্মীর ব্যতীত সারা ভারতে কার্যকর
প্রণয়নকারীভারতীয় সংসদ
প্রণয়নকাল৬ই অক্টোবর ১৮৬০
সম্মতির তারিখ৬ই অক্টোবর ১৮৬০
প্রবর্তনের তারিখ৬ই অক্টোবর ১৮৬০
পরিষদের বিবরণীপ্রথম ভারতীয় আইন কমিশন

ভারতীয় দণ্ড বিধি (হিন্দি: भारतीय दण्ड संहिता) হল ভারতের মাটিতে সংঘটনীয় বিবিধ অপরাধের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট শাস্তি বা দণ্ডের বিধান সম্বলিত প্রধান আইন। ১৮৩৩ সালের চার্টার আইনের নির্দেশে ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে থমাস ব্যাবিংটন মেকলের সভাপতিত্বে গঠিত প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সুপারিশে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে এই দণ্ড বিধির খসড়া তৈরী হয়।[১][২][৩] ভারতে ব্রিটিশ রাজের শুরুর দিকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে এই আইন বলবৎ হয়। তবে, দেশীয় রাজ্যগুলিতে নিজস্ব আইন-আদালত থাকার জন্য এই আইন ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চালু হয়নি। চালু হবার পর থেকে এই বিধির অনেক সংশোধন ও সম্প্রসারণ হয়েছে।

প্রয়োগ এলাকা[সম্পাদনা]

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশশাসিত ভারতবর্ষ দ্বি-খণ্ডিত হয়ে ভারতপাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টির পর এই ফৌজদারী দণ্ড বিধি পাকিস্তানেও অনুসরণ করা হয়, তবে সেটি পাকিস্তান দণ্ড বিধি নামে পরিচিত। এমনকি, তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের (আজকের পাকিস্তান) কাছ থেকে স্বাধীন হবার পর আজকের বাংলাদেশেও (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান) এই ভারতীয় দণ্ড বিধিই অনুসরণ করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য ব্রিটিশ উপনিবেশগুলি যেমন, তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ (আজকের মায়ানমার), সিলোন (আজকের শ্রীলঙ্কা), খাঁড়ি বসতি (আজকের মালয়েশিয়ার অংশ), সিঙ্গাপুর ও ব্রুনেই; ঐ ভারতীয় দণ্ড বিধির ওপর ভিত্তি করেই নিজ দেশের দণ্ড বিধি তৈরী করেছে। ভারতীয় দণ্ড বিধির ভিত্তিতে তৈরী নিজস্ব রণবীর দন্ড বিধি অনুসরণ করে ভারতেরই জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য। [৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুঘল সাম্রাজ্যে আদালতে হিন্দু আইনের পরিবর্তে শরিয়তি আইন ব্যবহৃত হত। পরবর্তীকালে. ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তারের সাথে ইংরেজ ফৌজদারী আইন ধীরে ধীরে ইসলামি আইনকে সরিয়ে জায়গা করে নেয়। ১৮৬০ সালের আগে, গভর্নর-জেনারেল সেই ইংরেজ ফৌজদারী আইনের সুবিধামত পরিবর্তন করে বম্বে, মাদ্রাজ ও ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সিতে প্রয়োগ করতেন।

১৮৩৪ সালে থমাস ব্যাবিংটন মেকলের নেতৃত্বে প্রথম আইন কমিশন ভারতীয় দন্ড বিধির খসড়া তৈরী করে। বাহুল্যবর্জিত, পরিভাষা এবং স্থানীয় চালচলন থেকে মুক্ত ইংল্যান্ড আইনের ভিত্তিতে এই খসড়া রচিত হয়। এছাড়া নেপোলিয়ানের বিধি এবং এডওয়ার্ড লিভিংস্টোনের ১৮২৫ সালের লুইসিয়ানা দেওয়ানি বিধি থেকেও কিছু কিছু উপাদান নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে স্থিরীকৃত খসড়া ১৮৩৭ সালে ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পরিষদে জমা পড়ে, কিন্তু সেই খসড়া আবার সংশোধিত হয়। ১৮৫০ সালে সংশোধন শেষ হবার পর ১৮৫৬ সালে বিধান পরিষদে আবার জমা দেওয়া হয়, কিন্তু, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অভিঘাতেই এটি বিধিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এবার বার্নস পিককের তত্বাবধানে খসড়াটির বিস্তারিত সংশোধন হয়। ৬ই অক্টোবর ১৮৬০ বিধান পরিষদে ভারতীয় দন্ড বিধি আইন হিসাবে গৃহীত হয়। বার্নস পিকক পরে কলকাতা উচ্চ আদালতে প্রথম প্রধান বিচারপতি ও সেই বিধান পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা কলকাতা উচ্চ আদালত সাধারণ বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করেন।[৫] এই আইন ১লা জানুয়ারী ১৮৬২ থেকে সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে বলবৎ হয়। দূর্ভাগ্যবশতঃ মেকলে ১৮৫৯ সালের শেষের দিকে মারা যাওয়ায়, তার এই অসাধারণ কাজ আইন হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখে যেতে পারেননি।[১][৩]

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জন্য একটি সাধারণ দন্ড বিধির প্রচলন করা।[৬] প্রারম্ভিক উদ্দেশ্য না হলেও, এই আইন বলবৎ হবার সময় তৎকালীন ভারতে চালু ফৌজদারী আইনগুলিকে বাতিল করেনি। কারণ, সেসময় এই দন্ড বিধি সকল অপরাধের জন্য প্রযোজ্য ছিল না এবং হয়ত কিছু শাস্তিযোগ্য অপরাধ থেকে থাকবে যা এই দন্ড বিধির অন্তর্গত ছিল না। তবে এই দন্ড বিধি অপরাধ সংক্রান্ত যাবতীয় আইনকে একত্রিত করেছিল। এর পরও আরও অনেক দন্ড বিধান হয়েছে অন্যান্য অপরাধের জন্য যা এই দন্ড বিধির আওতায় ছিল না।

গঠন[সম্পাদনা]

শুরুতে চারশো অষ্টআশিটি অনুচ্ছেদ ছিল ভারতীয় দন্ড বিধি, ১৮৬০-এ। অনেক সংশোধনের পর বর্তমানে তেইশটি অধ্যায়ে পাঁচশো এগারোটি অনুচ্ছেদ আছে। অধ্যায় গুলির মধ্যে ২৩ নং টি সবচেয়ে ছোট, যাতে একটি মাত্র অনুচ্ছেদ আছে; অন্যদিকে ১৭নং অধ্যায়টি সবচেয়ে বড় যাতে ৩৭৮ থেকে ৪৬২ পর্যন্ত মোট ৮৫টি অনুচ্ছেদ আছে।[৭] একটি পরিচিতি দিয়ে শুরু হয়ে এই দন্ডবিধিতে বিভিন্ন শব্দের ব্যাখ্যা ও ব্যতিক্রমের বর্ননা সহ এক বিস্তৃত অপরাধের তালিকা সংকলিত হয়েছে। নিচের তালিকায় ভারতীয় দন্ডবিধির একটি রূপরেখা দেওয়া হল:

ভারতীয় দণ্ড বিধি, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ (অনুচ্ছেদ ১ থেকে ৫১১)
অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অপরাধের শ্রেণীবিভাগ
অধ্যায় ১ অনুচ্ছেদ ১ থেকে ৫ পরিচিতি
অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ ৬ থেকে ৫২ সাধারণ ব্যাখ্যা
অধ্যায় ৩ অনুচ্ছেদ ৫৩ থেকে ৭৫ শাস্তি সংক্রান্ত
অধ্যায় ৪ অনুচ্ছেদ ৭৬ থেকে ১০৬ সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ

আত্মরক্ষার অধিকার সংক্রান্ত (অনুচ্ছেদ ৯৬ থেকে ১০৬)

অধ্যায় ৫ অনুচ্ছেদ ১০৭ থেকে ১২০ অপরাধে উৎসাহ দেওয়া সংক্রান্ত
অধ্যায় ৫ক অনুচ্ছেদ ১২০ক থেকে ১২০খ ষড়যন্ত্র
অধ্যায় ৬ অনুচ্ছেদ ১২১ থেকে ১৩০ রাষ্ট্রের বিরূদ্ধে সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ৭ অনুচ্ছেদ ১৩১ থেকে ১৪০ সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর করা অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ৮ অনুচ্ছেদ ১৪১ থেকে ১৬০ জনগনের শান্তিভঙ্গের অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ৯ অনুচ্ছেদ ১৬১ থেকে ১৭১ জন সেবক দ্বারা বা প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ৯ক অনুচ্ছেদ ১৭১ক থেকে ১৭১ঝ নির্বাচনের অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ১০ অনুচ্ছেদ ১৭২ থেকে ১৯০ জন সেবকের আইনসঙ্গত অধিকারের অবমাননা সংক্রান্ত
অধ্যায় ১১ অনুচ্ছেদ ১৯১ থেকে ২২৯ মিথ্যা সাক্ষ্য বা প্রমাণ ও ন্যায় বিচারের প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ১২ অনুচ্ছেদ ২৩০ থেকে ২৬৩ মুদ্রা ও সরকারি শিলমোহরের প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ১৩ অনুচ্ছেদ ২৬৪ থেকে ২৬৭ ওজন ও পরিমাপ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য
অধ্যায় ১৪ অনুচ্ছেদ ২৬৮ থেকে ২৯৪ জনসাধারণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, সুবিধা, শালীনতা ও নৈতিকতার প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ১৫ অনুচ্ছেদ ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধর্মের প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত
অধ্যায় ১৬ অনুচ্ছেদ ২৯৯ থেকে ৩৭৭ মানুষের শরীর সংক্রান্ত অপরাধের জন্য
  • জীবন বিপন্নকারী অপরাধের জন্য; যেমন হত্যা, শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (অনুচ্ছেদ ২৯৯ থেকে ৩১১)
  • গর্ভপাতের জন্য, অজাত শিশুর ক্ষতির জন্য, শিশু পরিত্যাগের জন্য, জন্ম গোপন করার জন্য সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত (অনুচ্ছেদ ৩১২ থেকে ৩১৮)
  • আঘাতের জন্য (অনুচ্ছেদ ৩১৯ থেকে ৩৩৮)
  • অন্যায়ভাবে বাধাদান এবং অন্যায়ভাবে বন্দীদশার জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৩৯ থেকে ৩৪৮)
  • অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও হামলার জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৪৯ থেকে ৩৫৮)
  • অপহরণ, উৎখাত, দাসত্ব ও বেগার শ্রম সংক্রান্ত অপরাধের জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৫৯ থেকে ৩৭৪)
  • ধর্ষণসহ যৌন অপরাধের জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৭৫ থেকে ৩৭৬)
  • অস্বাভাবিক যৌনক্রীয়ার জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৭৭)
অধ্যায় ১৭ অনুচ্ছেদ ৩৭৮ থেকে ৪৬২ সম্পত্তির বিরূদ্ধে অপরাধের জন্য
  • চুরির জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৭৮ থেকে ৩৮২)
  • তোলাবাজির জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৮৩ থেকে ৩৮৯)
  • ভয় দেখিয়ে চুরি বা তোলাবাজি এবং ডাকাতির জন্য (অনুচ্ছেদ ৩৯০ থেকে ৪০০)
  • সম্পত্তি তছরুপের জন্য (অনুচ্ছেদ ৪০৩ থেকে ৪০৪)
  • অপরাধমূলক বিশ্বাসহানির জন্য (অনুচ্ছেদ ৪০৫ থেকে ৪০৯)
  • চুরির সম্পত্তি গ্রহণ করার জন্য (অনুচ্ছেদ ৪১০ থেকে ৪১৪)
  • প্রতারণার জন্য (অনুচ্ছেদ ৪১৫ থেকে ৪২০)
  • প্রতারণা করা ও প্রতারণার সাহায্যে সম্পত্তি হস্তান্তর (অনুচ্ছেদ ৪২১ থেকে ৪২৪)
  • অপকার করার জন্য (অনুচ্ছেদ ৪২৫ থেকে ৪৪০)
  • অনধিকার প্রবেশের জন্য (অনুচ্ছেদ ৪৪১ থেকে ৪৬২)
অধ্যায় ১৮ অনুচ্ছেদ ৪৬৩ থেকে ৪৮৯ নথিপত্র ও সম্পত্তির চিহ্ন সংক্রাণ্ত অপরাধের জন্য
  • সম্পত্তি ও অন্যান্য চিহ্নের জন্য (অনুচ্ছেদ ৪৭৮ থেকে ৪৮৯)
  • টাকার নোট ও ব্যাঙ্ক নোট সংক্রান্ত (অনুচ্ছেদ ৪৮৯ক থেকে ৪৮৯ঙ)
অধ্যায় ১৯ অনুচ্ছেদ ৪৯০ থেকে ৪৯২ কোনো কাজের অপরাধমূলক চুক্তিভঙ্গের জন্য
অধ্যায় ২০ অনুচ্ছেদ ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য
অধ্যায় ২০ক অনুচ্ছেদ ৪৯৮ক পতি বা পতির আত্মীয়দের নিষ্ঠুরতা সংক্রান্ত
অধ্যায় ২১ অনুচ্ছেদ ৪৯৯ থেকে ৫০২ মানহানির জন্য
অধ্যায় ২২ অনুচ্ছেদ ৫০৩ থেকে ৫১০ অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন, অপমান এবং উৎপাত
অধ্যায় ২৩ অনুচ্ছেদ ৫১১ অপরাধ করার চেষ্টার জন্য

সংশোধনীসমূহ[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৩৭৭[সম্পাদনা]

  • ভারতীয় দন্ড বিধির অনুচ্ছেদ ৩৭৭-কে দেখা হয় ভারতের যৌনপ্রবৃত্তিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার হরণকারী আইন হিসাবে। এমনকি এটাও মনে করা হয় যে এই আইনের জন্যই ভারতে এইডসের চিকিৎসাতেও প্রচুর সমস্যা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকও তাদের একটি হলফনামায় জানায়, দেশে প্রায় ২৫ লক্ষ সমকামী রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭% অর্থাৎ ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ এইডস সংক্রমণে ভুগছেন। সমকামিতা আইনি স্বীকৃতি পেলে তাদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে।[৮][৯] ২রা জুলাই ২০০৯ দিল্লী উচ্চ আদালত এই অনুচ্ছেদের একটি উদার ব্যাখ্যা দেয় যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক যদি স্বেচ্ছায় যৌন সংসর্গ করেন তাহলে তাদের এই অনুচ্ছেদের ব্যবহারে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
  • ১১ই ডিসেম্বর ২০১৩, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত, দিল্লী উচ্চ আদালতের রায়কে খারিজ করে জানায় যে, অনুচ্ছেদ ৩৭৭ অনুসারে, সমকামীতা প্রকৃতির নিয়ম বিরূদ্ধ সুতরাং বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সাথে বিচারপতি জি. এস. সিঙ্ঘভি এও বলেন যে, ২০০৯ সালের দিল্লী উচ্চ আদালতের রায়ের বিরূদ্ধে করা আবেদনের প্রেক্ষিতেএই রায়। সংসদ চাইলে এই রায়কে খারিজ করতে অনুচ্ছেদ ৩৭৭-এর সংশোধন করতে পারে বা নতুন আইন তৈরি করতে পারে।

শব্দ ও বাক্যাংশ[সম্পাদনা]

  • প্রাপ্তবয়স্ক—১৮ বছর বয়স বা তার বেশি বয়সি সবাই।
  • সম্মতি—১৮ বছরের অনূর্ধ কেউ যৌন সংসর্গে সম্মতি দিতে পারবে না বলে ধরে নেওয়া হয়।
  • দেহজ সহবাস (Carnal Intercourse)—অনুচ্ছেদ ৩৭৭-এ এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, এবং এটি অনুচ্ছেদ ৩৭৫ ও ৪৯৭-এ উল্লিখিত যৌন সহবাসের (sexual intercourse)থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। কোনো ব্যক্তির যৌনাঙ্গ অন্য ব্যক্তির শরীরের যৌনাঙ্গ ছাড়াও অন্য কোনো অঙ্গের সংস্পর্শে এলেই সেই কর্ম, আইনের চোখে দেহজ সহবাস হিসাবে গন্য হবে।
  • দেহজ (Carnal)—শরীর বা দেহ সংক্রান্ত।
  • সমকামী সম্প্রদায়—সেই সকল ব্যক্তিরা যারা সম লিঙ্গের ব্যক্তির সাথে যৌনতায় লিপ্ত হন, হোমোসেক্সুয়াল।
  • অস্বাভাবিক—প্রকৃতির নিয়ম বিরূদ্ধ; উদাহরণ, মুখগহ্বর দেহজ যৌনতার জন্য সৃষ্ট নয়।

আত্মহত্যার চেষ্টা - অপরাধ নয়[সম্পাদনা]

  • অনুচ্ছেদ ৩০৯ অনুসারে ব্যর্থ আত্মহত্যার চেষ্টার জন্য শাস্তির বিধান আছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলার জবাব দিতে গিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এই অনুচ্ছেদের সংশোধনের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে ভেবে দেখা হবে।[১০]

অপরাধ বিচার পদ্ধতির সংশোধন[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে বিচারপতি ভি. এস. মালিমাথের নেতৃতাধীন কমিটি ভারতীয় অপরাধ বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য অনেকগুলি যুগান্তকারী সুপারিশ করে। যেমন, তদন্ত ও বিচার পদ্ধতিকে আলাদা করার কথা বলা হয়েছে (অনেকটা যুক্তরাজ্যের বিচার পদ্ধতির মত) যাতে বিচার ব্যবস্থা সরল হয়।[১১] প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিচার পদ্ধতির বদলে, ইউরোপের মত, তদন্তমূলক বিচার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভবই এই সুপারিশগুলির মূল,

প্রশংসা[সম্পাদনা]

এটা সর্বজনসম্মতঃ যে ভারতীয় দন্ড বিধি জোরালো যুক্তির ভিত্তিতে সৃষ্ট এই দন্ড বিধি নিজের সময় থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। আর সে জন্যই বড় কোনো সংশোধন ছাড়াই এই বিধি প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি ধরে আজও একাধিক রাষ্ট্রে প্রাসঙ্গিক। ভারতীয় দন্ড বিধির ১৫০ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিকোলাস ফিলিপস এই দন্ড বিধির উপযোগিতা ও প্রাসঙ্গিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।[১২] মেকলে এতটাই দূরদর্শিতার সাথে ও বিশদে এই বিধির সৃষ্টি করেছিলেন যে আধুনিক অপরাধগুলির সংজ্ঞাও, যাতে প্রযুক্তির এমন ব্যবহার হয়েছে, যা মেকলের সময়ে ভাবাও যায়নি, খুব সহজেই সামান্য সংশোধনের মাধ্যমে ভারতীয় দন্ড বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা গেছে।[১৩]

জনপ্রিয় প্রসঙ্গ[সম্পাদনা]

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ভারতীয় দন্ড বিধির কিছু নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ (হিন্দি বা ঊর্দুতে বলা হয় দফা, دفعہ বা दफ़आ/दफ़ा) জনপ্রিয় শব্দবন্ধে পরিনত হয়েছে। যেমন, প্রতারক কোনো ব্যক্তি বোঝাতে ৪২০ (চারশো বিশ), যা ভারতীয় দন্ড বিধির প্রতারণা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৪২০ থেকে নেওয়া, অপভাষা ব্যবহৃত হয়।[১৪] একই ভাবে, নরহত্যা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৩০২ সাধারণ্যে যথেষ্ট পরিচিতি পেয়েছে বলিউডি হিন্দি সিনেমায় এর বহুল ব্যবহার থেকে।[১৫][১৬] এছাড়া "দফা ৩০২" নামে ১৯৭৫ সালে হিন্দি সিনেমা হয়েছিল।[১৭] আবার "শ্রী ৪২০" নামেও ১৯৫৫ সালে রাজ কাপুর-নার্গিস অভিনীত হিন্দি সিনেমা হয়েছে।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. (ইংরেজি) Universal's Guide to Judicial Service Examination। Universal Law Publishing। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন 9350350297 
  2. Lal Kalla, Krishan। The Literary Heritage of Kashmir। Jammu and Kashmir: Mittal Publications। পৃষ্ঠা 75। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  3. "Law Commission of India - Early Beginnings"Law Commission of India। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  4. (ইংরেজি) Lal Kalla, Krishan। The Literary Heritage of Kashmir। Jammu and Kashmir: Mittal Publications। পৃষ্ঠা 75। সংগ্রহের তারিখ ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  5. (ইংরেজি) "history of IPC is provided in comments"। ১ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  6. (ইংরেজি) "Preamble of IPC"। ১ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  7. (হিন্দি)Misrha, Abhinav। Indian Penal Code 1860। Upkar Prakashan। পৃষ্ঠা 9। আইএসবিএন 9788174828361। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ 
  8. (ইংরেজি)"LGBT Section 377"http://www.lawyerscollective.org/। ৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৫  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  9. (বাংলা)প্রতিবেদন, নিজস্ব (১১ই ডিসেম্বর ২০১৩)। "কেন্দ্রের কোর্টেই বল ঠেলল সুপ্রিম কোর্ট"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ 25 জানুয়ারি 2015  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  10. (ইংরেজি)Times of India (22 September 2011)। "Attempt to commit suicide may cease to be crime soon"। সংগ্রহের তারিখ ২৬ শে জানুয়ারি ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  11. (ইংরেজি)"Malimath report suggests sweeping changes to criminal justice system"http://infochangeindia.org/। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  12. (ইংরেজি)"IPC's endurance lauded" 
  13. (ইংরেজি)"সাইবার আইন"http://www.cyberlawclinic.org। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  14. (ইংরেজি)Henry Scholberg, The return of the Raj: a novel, NorthStar Publications, 1992, ... People were saying, 'Twenty plus Four equals Char Sau Bees.' Char Sou Bees is 420 which is the number of the law that has to do with counterfeiting ... 
  15. (ইংরেজি)Star Plus, The Great Indian Laughter Challenge – Jokes Book, Popular Prakashan, আইএসবিএন 978-81-7991-343-7, ... Tazeerat-e-hind , dafa 302 ke tahat, mujrim ko maut ki saza sunai jaati hai ... 
  16. (ইংরেজি)Alok Tomar, Monisha Shah, Jonathan Lynn, Ji Mantriji: The diaries of Shri Suryaprakash Singh, Penguin Books in association with BBC Worldwide, 2001, আইএসবিএন 978-0-14-302767-6, ... we'd have the death penalty back tomorrow. Dafa 302, taaziraat-e-Hind ... to be hung by the neck until death ... 
  17. (ইংরেজি)D. P. Mishra, Great masters of Indian cinema: the Dadasaheb Phalke Award winnersGreat Masters of Indian Cinema Series, Publications Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India, 2006, আইএসবিএন 978-81-230-1361-9, ... Badti Ka Naam Dadhi ( 1975), Chhoti Si Baat ( 1975), Dafa 302 ( 1 975), Chori Mera Kaam ( 1975), Ek Mahal Ho Sapnon Ka (1975) ... 
  18. (ইংরেজি)Shree 420 on IMDB

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]