বিষয়বস্তুতে চলুন

কনে অপহরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কনে অপহরণ বা নববধূ অপহরণ একটি প্রথা, যেখানে একজন পুরুষ যে নারীকে বিয়ে করতে চায় তাকে অপহরণ করে।[১] এটি অপহরণের মাধ্যমে বিবাহ বা বন্দী করার মাধ্যমে বিবাহ নামেও পরিচিত।

বধূ অপহরণ[২] বিশ্বজুড়ে এবং প্রাগৈতিহাসিক ও ইতিহাস জুড়ে অনুশীলন করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হমং, মেক্সিকোতে তাজেল্টাল ও ইউরোপে রোমানির মতো বৈচিত্র্যময় মানুষের মধ্যে বধূ অপহরণের প্রচলন রয়েছে। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বধূ অপহরণ ঘটে থাকে, কিন্তু এটি ককেসাসমধ্য এশিয়ায় একটি সাধারণ ঘটনা।[৩]

বেশিরভাগ দেশে, বধূ অপহরণকে একটি যৌন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, এর কারণ বৈধ বিয়ের পরিবর্তে ধর্ষণের অন্তর্নিহিত উপাদান। কিছু প্রকার জোরপূর্বক বিবাহআয়োজিত বিবাহের মধ্যে ধারাবাহিকতার সাথে ঘটতে দেখা যেতে পারে। শব্দটি মাঝে মাঝে পালিয়ে বিবাহের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেখানে একটি দম্পতি দূরে পালিয়ে যায় ও পরে তাদের বাবা সম্মতি চায়। কিছু ক্ষেত্রে, মহিলা অপহরণে সহযোগিতা করে, সাধারণত নিজের বা তার পিতামাতার মুখ বাঁচানোর চেষ্টায়। অনেক সময়, এটি তথাকথিত বিবাহ-তোমার-ধর্ষক আইন দ্বারা উৎসাহিত হত। এমনকি অপহরণ যেসব দেশে আইনের পরিপন্থী, সেখানে যদি বিচারিক প্রয়োগ দুর্বল হয়, তবে প্রথাগতটি ("ঐতিহ্যগত অনুশীলন") প্রবল হতে পারে।

বধূ অপহরণ প্রায়ই (কিন্তু সবসময় নয়) বাল্যবিবাহের একটি রূপ।[৪] এটি কনের দাম, যা বর ও তার পরিবার কর্তৃক কনের পিতামাতাকে প্রদত্ত সম্পদ এবং এটি দিতে অক্ষমতা বা অনিচ্ছার কারণের সাথে যুক্ত হতে পারে।[৫]

বধূ অপহরণকে রেপটিও থেকে আলাদা করা হয়েছে, প্রথমটি একজন পুরুষের (এবং তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন) দ্বারা একজন মহিলার অপহরণকে বোঝায়, এবং এখনও এটি একটি ব্যাপক প্রথা, যেখানে দ্বিতীয়টি পুরুষদের গোষ্ঠী দ্বারা মহিলাদের বড় আকারের অপহরণকে বোঝায়, সম্ভবত যুদ্ধের সময়। রেপটিও একটি ঐতিহাসিক অনুশীলন বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, এটি একটি ল্যাটিন শব্দ, কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধ ধর্ষণের পুনরুত্থান দেখা গেছে, যার মধ্যে কিছু কনে অপহরণের উপাদান রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম, উগান্ডায় লর্ড রেজিস্ট্যান্স আর্মি ও মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএস কর্তৃক অপহৃত নারী ও মেয়েদের অপহরণকারীরা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছে।

একটি বিবাহকে ঘিরে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে কিছু সংস্কৃতিতে (যেমন সার্কাসিয়ান[৬]) একটি প্রতীকী কনে অপহরণের ইঙ্গিত প্রদান করা হয়। কিছু সূত্রের মতে, মধুচন্দ্রিমা হল বন্দী করার মাধ্যমে বিয়ের একটি প্রতীক, যা স্বামীর আত্মীয়দের কাছ থেকে প্রতিশোধ এড়াতে স্ত্রীর সাথে আত্মগোপনের অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, এই উদ্দেশ্যে যে মাসের শেষের দিকে মহিলা গর্ভবতী হবে।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Captured Hearts"www.nationalgeographic.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৯ 
  2. "'Bridenapping': a growing hidden crime"The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৯ 
  3. "Police swoop on fake 'bride kidnapping'" (ইংরেজি ভাষায়)। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৯ 
  4. "One in five girls and women kidnapped for marriage in Kyrgyzstan:..."Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৯ 
  5. Smith, Craig S. (৩০ এপ্রিল ২০০৫)। "Abduction, Often Violent, a Kyrgyz Wedding Rite"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331 
  6. Gilad, Moshe (২০১২-০৭-০৫)। "A Slightly Rarefied Circassian Day Trip"Haaretz (ইংরেজি ভাষায়)। “We have an ancient and strong tradition, and we preserve it carefully. Kidnapping the bride before marriage is part of this tradition, and today it is a symbolic ceremony that allows women to marry whom they wish even if the family is against the match.”—Zuhair Thawcho, director of the Circassian Heritage Center in Kfar Kama, Israel 
  7. See, e.g., William Shepard Walsh, Curiosities of Popular Customs and of Rites, Ceremonies, Observances, and Miscellaneous Antiquities, (J.B. Lippincott Co., 1897), p. 654; John Lubbock, The Origin of Civilisation and the Primitive Condition of Man: Mental and Social Condition of Savages, (Appleton, 1882), p. 122. Curtis Pesmen & Setiawan Djody, Your First Year of Marriage (Simon and Schuster, 1995) p. 37. Compare with Edward Westermarck, The History of Human Marriage (Allerton Book Co., 1922), p. 277 (refuting the link between honeymoon and marriage by capture).