বাল্যবিবাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বিয়ের পূর্বে মেরি এন্তইনেত্তে-কে লুইস অগাস্তে-র সামনে উপস্থাপন।১৬ মে, ১৭৭০ সালে ১৫ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। 

বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ। আইনত বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে। কিন্তু বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি সাপেক্ষে এই বয়সের আগেও বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, তারপরও কিছু কিছু দেশের নিজস্ব প্রথাকেই আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাল্যবিবাহে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের উপরই প্রভাব পড়ে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষত নিম্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ বাল্যবিবাহে দুজনের মধ্যে শুধু একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। বিশেষত মেয়েরাই বাল্যবিবাহের শিকার বেশি হয়। বাল্যবিবাহের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানত - দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা।

বিভিন্ন কারনেই বাল্যবিবাহের প্রচলন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ। এখনও উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন, আফ্রিকার কিছু অংশ, দক্ষিন এশিয়া, দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ওশেনিয়া প্রভ্রৃতি দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত।

নাইজার, চাদ, মালি, বাংলাদেশ, গিনি ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে বাল্যবিবাহের হার সবচাইতে বেশি, যা প্রায় ৬০% এর উপর। ২০০৩-২০০৯ জরিপ অনুযায়ী, নাইজার, চাদ, বাংলাদেশ, মালি এবং ইথিওপিয়াতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর উপর।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৫৩৩ সালে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজকন্যা এমিলিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের রাজপুত্র ৪৮ বছর বয়সী জর্জ -কে বিয়ে করেন।

ঐতিহাসিকভাবে, বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ একটি প্রচলিত প্রথা। তবে এই প্রথা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে যখন বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বৃদ্ধি পায়।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধির আগেই বিয়ে দেয়া হত। প্রাচীন গ্রিসে কম বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্ব উৎসাহিত করা হত। এমনকি ছেলেদের ও তাদের কৈশোরেই বিয়ের জন্য উৎসাহ দেয়া হত। বাল্যবিবাহ ও কৈশোরে গর্ভধারণ খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল।

প্রাচীন রোমে মেয়েদের বিয়ের বয়স ছিল ১২ বছরের উপর এবং ছেলেদের ১৪ বছরের উপর। মধ্যযুগে ইংলিশ আইন অনুসারে ১৬ বছরের পূর্বে বিয়ে সর্বজন স্বীকৃত ছিল। 

ধর্ম[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ ধর্মে বিবাহযোগ্য বয়সকেই সমর্থন করা হয়। খ্রিস্ট ধর্মে বয়ঃসন্ধির আগে কোনো মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। হিন্দু বৈদিক লিপিতে মেয়েদের বিয়ে বয়ঃসন্ধি শুরুর ৩ বছর পর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইহুদি বিশেষজ্ঞগণ বয়ঃসন্ধির পূর্বে বিয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন, কিন্তু একই সাথে, ক্ষেত্রবিশেষে, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশু কন্যাকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারেন। 

ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে, সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ছেলেদের জন্য ১৪ ও মেয়েদের জন্য ১২ ধরা হয়। পরে ১৯৮৩ সালে যাজকীয় অনুশাসনে ১৯১৭ সালের সংশোধিত বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর বজায় থাকে।

কিছু ইসলামি বিয়ের প্রথানুযায়ী ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়ার প্রচলন আছে। সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম -এর বর্ণণা অনুসারে, শরীয়াহ আইনের ভিত্তি হল মহানবী (সাঃ) -এর জীবনাদর্শ। তিনি তাঁর তৃতীয় স্ত্রী আয়শা (রাঃ) -কে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়স থেকে বৈবাহিক জীবন শুরু করেন। কিছু মূলধারার ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সময়ানুক্রমিক বয়স নয়, বরং অভিভাবকরা যখন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মেয়েকে বিবাহযোগ্য মনে করবে, মুসলিম ধর্মীয় আইনানুযায়ী সেইটাই বিয়ের উপযুক্ত বয়স। তবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। এবং শরীয়াহ আইনের ভিত্তি অনুযায়ী এবং অধিকাংশ মুসলিম চিন্তাবিদের মতে ১৩ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য।

লিঙ্গভেদে[সম্পাদনা]

মধ্যযুগে খ্রিষ্টান ধর্মে বাল্যবিবাহ

ছেলে[সম্পাদনা]

ছেলেদের কখনো কখনো অপরিণত বয়সে বিয়ে দেয়া হয়। কিন্ত ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী," তুলনামূলকভাবে মেয়েরা এর বেশি শিকার হয়"। অপরিণত বয়সের ছেলেদের বিয়ের হার সামান্য। সেপ্টেম্বর, ২০১৪ এর হিসাব অনুযায়ী ১৫৬ মিলিয়ন ছেলে বাল্যবিবাহের শিকার।

মেয়ে[সম্পাদনা]

মেয়েদের উপর বাল্যবিবাহের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। বিশেষত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে। এর প্রভাব কৈশোরের পর ও স্থায়ী হয়। উন্নয়নশীল বিশ্বে ১৫-১৯ বছর বয়সী নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব। পৃথিবীর সর্বোচ্চ বাল্যবিবাহের নাইজারে, যেখানে প্রতি ৪ জনের মধ্যে ৩ জন মেয়ের বিয়ে হয় তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই।


বাল্যবিবাহের কারণসমূহ[সম্পাদনা]

ইউএনএফপিএর তথ্য মোতাবেক, যে সকল কারণ সমূহ বাল্যবিবাহের জন্য দায়ী তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা; লিঙ্গ বৈষম্য; জমি-জমা বা সম্পদের চুক্তি; পরিবারের সম্মান রক্ষা; প্রচলিত প্রথা বা চর্চা; এবং নিরাপত্তাহীনতা, বিশেষত যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারীর সময়। অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে আছে-  বিয়ের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন গড়ে তোলা।

যৌতুক প্রথা[সম্পাদনা]

থাইল্যান্ডের একটি বাগদান অনুষ্ঠানে বিয়ের জন্য কনেকে দেয়া উপহারের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন

বিয়ের সময় মেয়েকে যৌতুক দেয়ার প্রথা অনেক প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে যা এখনও বিশ্বের কিছু কিছু জায়গায় প্রচলিত আছে। এ প্রথায় মেয়ের বিয়েতে অভিভাবক সম্পত্তি দান করে যা বেশিরভাগ পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক হুমকি স্বরূপ। যৌতুকের জন্য সম্পদ জমানো ও সরক্ষণ করার যে প্রতিবন্ধকতা তা সাধারণ ব্যাপার। একারণে মেয়ের পরিবার কিছু নগদ অর্থ বা জমিজমা যোগাড় করার সাথে সাথেই মেয়ের বয়স বিবেচনা না করেই বিয়ে দিতে তৎপর হয়। 

মেয়েদের ক্ষেত্রেও যৌতুক দেয়ার রীতি প্রচলিত আছে। তবে তাকে কনের মূল্য বা পণ নির্ধারণ বলা হয়। এই রীতিতে বর কনের পরিবারকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য পণের টাকা দিয়ে থাকে। কিছু দেশে কনের বয়স যত কম হয়, তার উপর নির্ধারিত পণের মূল্য তত বেশি হয়। এই রীতির কারণে মেয়ের পরিবার মেয়েকে তাড়াতাড়ি এবং সর্বোচ্চ পণ নিরধারণকারীকেই বিয়ে দিতে উদ্যত হয়। দুর্বল অর্থনীতিতে এভাবেই পরিবার আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে।

নির্যাতন, জোরপূর্বক দেশান্তর  ও দাসত্ব[সম্পাদনা]

সামাজিক বিপর্যয় যেমন, যুদ্ধ, সামরিক অভিযান, বলপূর্বক ধর্মান্তর, স্থানীয়দের যুদ্ধবন্দী করা ও তাদের দাসে পরিণত করা, গ্রেফতার ও জোরপূর্বক দেশান্তর করা - এসকল কারণে উপযুক্ত বর পাওয়া দুষ্কর। ঘটনা আয়ত্তের বাইরে যাবার আগেই মেয়ের পরিবার যেকোনো গ্রহণযোগ্য পাত্র পেলে মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তৎপর হয়। 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ও কিছু গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ভারতবর্ষে বাল্যবিবাহের উৎপত্তি ১০০০ বছরের আগ থেকে, যখন মুসলিমরা ভারত আক্রমণ করে। আক্রমণকারীরা কুমারী হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করত বা তাদের লুট করে নিয়ে যেত, যার ফলে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের কন্যা সন্তানদের রক্ষা করার জন্য কম বয়সে বিয়ে দিত। 

ভয়, দারিদ্র্য, সামাজিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতা[সম্পাদনা]

ইংলিশ মঞ্চ অভিনেত্রী এলেন টেরি ১৬ বছর বয়সে ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্রেডেরিক ওয়াটস -কে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে সে স্বীকার করেছে, সে ঐ বয়সে কনে হিসেবে স্বচ্ছন্দ বোধ করত না। ১৯২৮ সালে ৮১ বছর বয়সে টেরি মারা যান।

সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বিশ্ব জুড়ে বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। উদাহরণস্বরূপ, নেপালে যদি কোনো সাবালিকা (১৮ বছরের তদূর্ধ্ব) অবিবাহিত থাকে তবে তা সমাজের চোখে কলঙ্ক।  অন্যান্য অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা, যেমন ধর্ষণ যা শুধু একটা মেয়ের জন্য বিপর্যয় ই নয়, বরং সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ও কমিয়ে দেয়। যেমন, মেয়েদের বিবাহযোগ্যা ভাবা হয় না যদি না তারা কুমারী হয়। কিছু প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ধারণা করা হয়, অবিবাহিত নারী কোনো নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়াতে পারে, বা গোপনে পালিয়ে যেতে পারে যা পরিবারের জন্য লজ্জাজনক, অথবা দরিদ্র পরিবার নিজস্ব আর্থ-সামাজিক গোষ্ঠীর ভেতর তাদের প্রাপ্তবয়স্কা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে নাও পেতে পারে। এসকল ভয় ও সামাজিক চাপের কারণে বাল্যবিবাহ বেশি হয়ে থাকে। 

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের কাছে মেয়ে আর্থিকভাবে বোঝা স্বরূপ, যার কারণে কম বয়সে বিয়ে দেয়া হয় যাতে পরিবার এবং মেয়ে উভয়ই লাভবান হতে পারে। দরিদ্র পরিবার মেয়েদের ভরণ-পোষণের ভার বহন করতে না পেরে বিয়েকেই তাদের আর্থিক সুরক্ষার একমাত্র উপায় বলে মনে করে। ইহুদী ইতিহাস পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দেন যে দারিদ্র্য, উপযুক্ত পাত্রের অভাব, অনিশ্চিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এসব কারণে বাল্যবিবাহ বেশি হত। 

দক্ষিণ লেবাননের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিরিয়ান শরণার্থী কন্যা শিশুদের আঁকা বাল্যবিবাহ নিরোধক চিত্র

বাল্যবিবাহের অন্যতম একটি কারণ হল, অভিভাবকদের ধারণা যে অল্প বয়সে বিয়ে মানে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। অভিভাবকদের মতে বিয়ে মেয়েদের অবাধ যৌন সম্পর্ক ও যৌন সংক্রামণ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে বাস্তবে অল্প বয়সী মেয়েদের বেশি বয়সের পুরুষের সাথে বিয়ে দেয়া হয় যার ফলে তাদের যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পায়। অবিবাহিত মেয়েদের তুলনায় বিবাহিত মেয়েরাই এইচআইভি বা এইচপিভি ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়।


ধর্ম ও আইন[সম্পাদনা]

যদিও বেশিরভাগ দেশে বিবাহের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর ধরা হয়, কিন্তু অনেক দেশের আইনে অভিভাবক বা বিচারপতির সম্মতিক্রমে এর ব্যতিক্রম করা যায়। এ ধরণের আইন সমূহ শুধু উন্নয়নশীল দেশ বা রাষ্ট্রীয় ধর্মের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৩ সালের যাজকীয় আইনানুযায়ী বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ছেলেদের জন্য ১৬ বছর ও মেয়েদের জন্য ১৪ বছর ধার্য করা হয়। ২০১৫ সালে, স্পেন বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স পূর্বেকার ১৪ থেকে ১৬ -তে উত্তীর্ণ করে। মেক্সিকোতে ১৮ বছরের নিচে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিবাহ দেয়া যায়, তবে তার জন্য অবশ্যই মেয়ের বয়স ন্যুনতম ১৪ ও ছেলেদের বয়স ১৬ হতে হবে। ২০১২ সালে ইউক্রেনে পারিবারিক আইন সংশোধন করে ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮ করা হয়, তবে আদালতের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ১৬ বছরে বিয়ে করা যাবে যদি তা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাষ্ট্রে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বাল্যবিবাহের অনুমতি দেয়া হয়। ২০১৫ সাল থেকে কানাডাতে বিবাহের ন্যুনতম বয়স ১৬ বছর। যুক্তরাজ্যে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১৬-১৭ বছর বয়সী ছেলে মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিয়ের অনুমতি আছে। স্কটল্যান্ডে উক্ত বয়সের জন্য অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে ১৬ বছরের নিচে বিয়ে হলে তা ১৯৭৩ সালের বৈবাহিক আইন অনুযায়ী বাতিল বলে গণ্য হবে। 

যে দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স যত কম সে দেশে বাল্যবিবাহের হার তত কম হবে এটা সবসময় সঠিক না। তবে আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ বয়স এবং কোনো দেশের বিয়ের গড় বয়সের মাঝে একটা সম্পর্ক বিদ্যমান। ইসলাম প্রধান দেশগুলোতে সাধারণত বেসামরিক আইন নয় বরং শরীয়াহ আইন অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে যে ৫ টা দেশে বাল্যবিবাহের হার সর্বোচ্চ তা হল- নাইজার (৭৫%), চাদ (৭২%), মালি (৭১%), বাংলাদেশ (৬৪%), গিনি (৬৩%)। এবং এই ৫টা দেশের প্রত্যেকে ইসলাম প্রধান রাষ্ট্র। 

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি[সম্পাদনা]

১৬৯৭ সালে ১২ বছর বয়সী মেরি আডেলেইডের সাথে ফ্রান্সের ভবিষ্যত উত্তরাধিকারী ১৫ বছর বয়সী লুইসের বিয়ে হয়। এই বিয়ের কারণ ছিল রাজনৈতিক ঐক্যজোট।

বাল্য়বিবাহ অনেক সময় আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। প্রাচীন ইউরোপে সামন্তপ্রথা যখন প্রচলিত ছিল তখন রাজনৈতিক সমঝোতার একটা পন্থা ছিল বাল্যবিবাহ। তখনকার অভিজাত পরিবারগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহের দ্বারা অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক বন্ধন সুদৃঢ় হত। এবং বিবাহের মাধ্যমেই দুই পরিবারের মধ্যে চুক্তি হত যার ভাঙ্গন দুই পরিবারের মধ্যে মারাত্নক প্রভাবের সম্ভাবনা তৈরি করত। 

দেশভেদে বাল্যবিবাহ[সম্পাদনা]

ইউএনএফপিএ -র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০০-২০১১ সালের মধ্যে উন্নয়শীল দেশসমূহের ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩৪%) তাদের ১৮তম জন্মদিনের পূর্বেই বিবাহিত। ২০১০ সালে এর আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৬৭ মিলিয়ন। প্রায় ১২% নারী ১৫ বছর বয়সের আগে বিবাহিত। বাল্যবিবাহের প্রবণতা স্থানভেদে ভিন্ন হয়। বিশ্বব্যাপী, শহরাঞ্চলের মেয়েদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মেয়েদের বাল্যবিবাহের প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ। 

আফ্রিকা[সম্পাদনা]

বাল্যবিবাহ এবং মতের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিবাদে পোষ্টার

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার তিন দেশে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার ৭০% এর বেশি। এর মধ্যে নাইজারে বাল্যবিবাহের হার সর্বোচ্চ। ২০-২৪ বছর বয়সী নাইজেরীয়ান নারীদের মধ্যে ৭৬% নারী ১৮ বছরের আগে এবং ২৮% নারী ১৫ বছরের আগে বিবাহিত। এই ইউনিসেফের রিপোর্ট ১৯৯৫-২০০৪ সাল পর্যন্ত সংগ্রহীত নমুনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। বর্তমানে অবকাঠামোগত দুর্বোধ্যতা ও অঞ্চলভিত্তিক সহিংসতার কারণে এই হার অজানা।

আফ্রিকান দেশগুলোতে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৬-১৮ বছর ধার্য করা হয়েছে। ইথিওপিয়া, চাদ এবং নাইজারে বিয়ের বৈধ বয়স ১৫ বছর, কিন্তু স্থানীয় রীতি এবং ধর্মীয় আদালত ১২ বছরের নিচে বিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। পশ্চিম আফ্রিকা ও উত্তর-পূর্ব আফ্রিকাতে বাল্যবিবাহের প্রথা সুবিস্তৃত। তাছাড়া দারিদ্র্য, ধর্ম, প্রথা এবং সংঘাত প্রভৃতি কারণে আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার বেশি।

২০০৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, নাইজেরিয়ায় বাল্যবিবাহের কারণে ১৫-২০% শিশু স্কুল ত্যাগ করে। 

২০১৬ সালে মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানের এক ভোজ পর্বের সময় গাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি ইয়াহইয়া জাম্মেহ বাল্যবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালে, মালাউই বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করে এক আইন পাশ করেন যেখানে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ধরা হয় ১৮ বছর। এরপরের বছর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আসে গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রচেষ্টায়, যার ফলে আদিবাসী ও ঐতিহ্যবাহী নেতাদের বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে হয়।

মরক্কোতে বাল্যবিবাহ একটি সাধারণ ব্যাপার। প্রতি বছর ৪১,০০০ বিয়ে হয় বাল্যবিবাহ। ২০০৩ সালের পূর্বে বাল্যবিবাহে কোনো প্রকার আইনি অনুমতি লাগতো না। তবে ২০০৩ সালে মরক্কো পারিবারিক আইন পাশ করে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৪ থেকে ১৮ -তে উন্নিত করে। এর কম বয়সে বিয়ের জন্য আদালত এবং অভিভাবকের অনুমতি লাগবে। কিছু বাল্যবিবাহের কারণ মরক্কোর সংবিধানের ৪৭৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ফৌজদারি আইন, যাতে বলা হয়েছে ধর্ষক তার শাস্তি এড়ানোর জন্য অপরিণত বয়স্ক ধর্ষিতাকে বিয়ে করতে পারবে। অনেক প্রচারণার পর ২০১৪ সালে এই সংশোধন করা হয় যাতে ধর্ষক বিয়ের মাধ্যমে ও কোনোভাবে শাস্তি এড়াতে পারবে না।

২০১৫ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক রিপোর্টে বলা হয়, জিম্বাবুয়েতে ২০-৪৯ বছর বয়সী এক-তৃতীয়াংশ নারীর ১৮ বছর পূর্ণ হবার পূর্বেই বিয়ে হয়ে যায়। জানুয়ারি ২০১৬ -তে বাল্যবিবাহের শিকার দুই নারী বিয়ের বয়স পরিবর্তনের জন্য আদালতে আবেদন করে। এর ফলশ্রুতিতে আদালত ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য বিয়ের বয়স ১৮ ঘোষণা দেয়, যা পূর্বে মেয়েদের জন্য ছিল ১৬ বছর ও ছেলেদের জন্য ১৮ বছর।

এশিয়া এবং ওশেনিয়া[সম্পাদনা]

ভারতে বাল্যবিবাহ। ১৯০০ সালে ১২ বছর বয়সী রানা প্রতাপ কুমারী ১৬ বছর বয়সী চতুর্থ কৃষ্ণরাজা ওয়াদিয়ারকে বিয়ে করেন। ২ বছর পর ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের অধীনে মহীশূরের রাজা হন।

অর্ধেকের বেশি বাল্যবিবাহ সংগঠিত হয় দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের মধ্যে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেপালে। ১৯৯১-২০০৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহের হার কম ছিল। কিছু চিন্তাবিদের মতে, এই হ্রাসের কারণ হল শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়া।

মধ্যপ্রাচ্য[সম্পাদনা]

২০১৩ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ৫৩% নারী ১৮ বছরের আগে বিবাহিত এবং ২১% নারী ১৫ বছরের আগে বিবাহিত। আফগানিস্তানে বিয়ের বৈধ বয়স ১৫ বছর (পিতার অনুমতি সাপেক্ষে)। আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হল তাদের প্রচলিত বা'আদ প্রথা। এই রীতিতে গ্রামের মুরুব্বিরা যাদের জিরগা বলা হয়, তারা দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ নিষ্পত্তি বা ঋণ পরিশোধের জন্য অথবা কোনো অপরাধের শাস্তিস্বরূপ দোষী পরিবারের ৫-১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়। অনেকসময় মেয়ের চাচা বা দূরসম্পর্কের কোনো আত্নীয়ের অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তাকে বাল্যবিবাহে বাধ্য করা হয়।

অর্ধেকের বেশি ইয়েমেনি নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগে হয়, কারো কারো ৮ বছরেরও আগে। বিয়ের বয়স ১৫ বা ১৮ করার প্রচেষ্টাকে ইয়েমেন সরকারের শরীয়াহ আইন বিভাগ বাঁধা দিয়ে একে ইসলাম-বিরোধী ঘোষণা দেন। ইয়েমেনি মুসলিম সক্রিয় কর্মীরা বলেন, ৯ বছর বয়সেই মেয়েরা বিবাহের উপযুক্ত হয়।

এপ্রিল ২০০৮ সালে নুজুদ আলি নামে ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে ধর্ষণের পর তার স্বামীকে তালাক দেয়। এই ঘটনার পর বিয়ের বয়স ১৮-তে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয়া হয়। সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে, ৮ বছর বয়সী এক মেয়েকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষের সাথে বিয়ে দেয়ার পর বিয়ের রাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করে।

ইউনাইটেড নেশানস পপুলেশন ফান্ড - এর গবেষণা অনুযায়ী, তুরস্কে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদে বিয়ের হার ২৮.২% যা প্রতি ৩টি বিয়ের মধ্যে ১টি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালে ইন্দোনেশিয়ায় বাল্যবিবাহ উদযাপনের পর এক দম্পতি 

পাহাড়ীয় উপজাতিদের মধ্যে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেয়ার প্রবণতা বেশি। বার্মিজ কারেন উপজাতিরা বাচ্চার জন্মের আগেই তাদের বিয়ে ঠিক করে থাকে।

ইন্দোনেশিয়াতে মুসলিম আলেমগণ একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিয়ে করে থাকে, যাদের অনেকের বয়স ১২ বছরেরও কম। ইন্দোনেশীয়ান আদালত এই প্রথা বন্ধ করতে দন্ডবিধির ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু স্থানীয় আদালতে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

একজন কিশোরী কনে তার নিকাহ -তে

১৯৭৪ সালের বিবাহ আইনে বর্ণিত আছে, বিয়ের জন্য নারীর বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর এবং পুরুষের বয়স কমপক্ষে ১৯ বছর হতে হবে।বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে কিছু অঞ্চলে অল্প বয়সে বিয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।


বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহের সর্বোচ্চ হার যে দেশগুলোতে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। প্রতি ৩টি বিয়ের ২টি হয় বাল্যবিবাহ। ২০০৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেসময়ের ২৫-২৯ বছর বয়সী নারীর মধ্যে ৪৯% এর বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সে। "বিশ্বজুড়ে শিশুদের অবস্থা-২০০৯" এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৬৩% -এর বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। ২০০৮ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে কোনো মেয়ের প্রতি বাড়তি বছর অবিবাহিত থাকার ফলে সে গড়ে ০.২২ বছর বাড়তি পায় শিক্ষা গ্রহণের জন্য। যত দেরীতে মেয়েদের বিয়ে হয়, তত তারা প্রতিরোধমমূলক স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ পায়। অল্প বয়সে বিবাহিত মেয়েরা সাধারণত পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে উদাসীন থাকে। এদের মধ্যে মাতৃ-মৃত্যুর হার বেশি এবং স্বামীর পরিবারে এদের অবস্থানও নিচে থাকে। বাংলাদেশে মেয়েদের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর ও ছেলেদের ২১ বছর, তবে সম্প্রতি ২০১৭ সালে বাল্যবিবাহ নিরোধক বিল পাশের মাধ্যমে বিশেষ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ১৮ বছরের নিচে বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভারত[সম্পাদনা]

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, "বিশ্বজুড়ে শিশুদের অবস্থা-২০০৯" শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭% -এর বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সে, এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ১৮ বছরের পূর্বেই বিয়ে হয়েছে ৫৬% -এর। ২০১১ এর আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ২১ বছর। ২০০৯ এর এক জরিপ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের হার কমে ৭% -এ নেমেছে। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে তা ৩.৭% -এ নেমে এসেছে।

"শিশুদের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রকল্প-২০০৫" -এ ২০১০ এর মধ্যে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নেপাল[সম্পাদনা]

ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সাল পর্যন্ত ২৮.৮% বিয়ে বাল্যবিবাহ। ইউনিসেফের এক আলোচনা পত্রে বলা হয়, নেপালের ৭৯.৬% মুসলিম নারী, পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ৬৯,৭% নারী (ধর্ম নির্বিশেষে) এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত ৫৫.৭% নারী ১৫ বছর বয়সের পূর্বেই বিবাহিত। যারা কিছুটা উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তাদের বিয়ের বয়স ২ বছর বৃদ্ধি পায়।

পাকিস্তান[সম্পাদনা]

২০১৩ এর ২টা রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫০% এর বেশি বিয়ে হয় মেয়েদের ১৮ বছর বয়সের নিচে। ইউনিসেফের অন্য রিপোর্টে বলা হয়, ৭০% নারীর বিয়ে হয় ১৬ বছরের আগে।

পাকিস্তানে ১৩ বছরের নিচে বাল্যবিবাহের সঠিক সংখ্যা অজানা, কিন্তু ইউনাইটেড নেশানস এর মতে তা ঊর্ধ্বগামী।

পাকিস্তানে স্বরা বা ভানী নামে এক প্রথা প্রচলিত যেখানে গ্রামের মুরুব্বিরা পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তির জন্য বা অপরিশোধিত দেনা শোধ করার জন্য মেয়েদের বিয়ে দিয়ে থাকে। স্বরা রীতিতে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ৫ থেকে ৯ বছর। একইভাবে ওয়াত্তা সাত্তা রীতি ও বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। 

জনসংখ্যা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫% নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্মদান করে, ৬৭% নারী গর্ভধারণ করে, ৬৯% নারী ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্মদান করে। ১৯ বছরের নিচে মাত্র ৪% নারী সঙ্গী নির্বাচনে কোনো মতামত প্রদান করে। ৮০% নারী কাছের বা দূর সম্পর্কের আত্নীয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। 

ইউরোপ[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভিয়া[সম্পাদনা]

এপ্রিল ২০১৬ তে রয়টার্স রিপোর্ট করে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের অনেক সময় আশ্রয় কেন্দ্রে অত্যাচার সহ্য করতে হয়। 

বেলজিয়াম[সম্পাদনা]

এপ্রিল ২০১৬ তে ওয়াশিংটন পোস্ট রিপোর্ট করে, ২০১৫ সালে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কনে বেলজিয়ামে আসে এবং ২০১৬ তে আরো ৭ জন। একই রিপোর্টে আরো বলা হয়, ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে পুলিশ অন্তত ৫৬টা বলপূর্বক বিয়ের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন। 

রাশিয়া[সম্পাদনা]

রাশিয়ার পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিয়ের সাধারণ বয়স ১৮ বছর। কোনো উপযুক্ত কারণ দর্শানো পূর্বক এবং স্থানীয় পৌরসভার অনুমতি সাপেক্ষে ১৬-১৮ বছর বয়সে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। 

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

স্কটল্যান্ডে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর এবং অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। ২০০৫ সালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৫-১৯ বছর বয়সী ৪.১% নারী বিবাহ ছাড়া সম্পর্কে আবদ্ধ, যার মধ্যে ৮.৯% নারী স্বীকার করেছে তারা ১৮ বছরের পূর্বেই এধরণের সম্পর্কে অবদ্ধ। 

লাতিন আমেরিকা[সম্পাদনা]

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বালেবিবাহ খুব সাধারণ। প্রায় ২৯% নারী ১৮ বছরের পূর্বেই বিবাহিত। গুয়াতেমালায় স্থানীয় মায়ান সম্প্রদায়ে বাল্যবিবাহের হার বেশি। ১৫ বছরের পূর্বে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সংখ্যার দিক দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বে চতুর্থ। দরিদ্রতা ও আইন প্রয়োগে শিথিলতার জন্য বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

উত্তর আমেরিকা[সম্পাদনা]

কানাডা[সম্পাদনা]

২০১৫ সাল থেকে কানাডায় বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর। অপরাধ আইনের ২৯৩.২ আর্টিকেল অনুযায়ী, বিয়ের পাত্র বা পাত্রীর অন্তত একজনের বয়স যদি ১৬ বছরের নিচে হয় তবে ঐ বিয়ে উদযাপন, সাহায্য বা অংশগ্রহণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্র[সম্পাদনা]

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী সংস্থা জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫-১৭ বছর বয়সী ২.১% নারী বাল্যবিবাহের শিকার। ১৫-১৯ বছরের ৭.৬% নারী বিবাহ বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। ১৬ বা তার ঊর্ধ্বে অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করা যায়।

বাল্যবিবাহের প্রভাব[সম্পাদনা]

বিশ্বব্যাপী ১৫-১৯ বছর বয়সী প্রতি ১০০০ নারীর মধ্যে জন্মদান হার

বাল্যবিবাহের প্রভাব মেয়েদের উপর ব্যাপক, যা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও থেকে যায়। কিশোরী বয়সে বা তারও আগে বিবাহিত নারীরা কম বয়সে গর্ভধারণ করার ফলে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগে। কম বয়সে গর্ভধারণ সন্তান জন্মদানে জটিলতা সৃষ্টি করে। গরীব দেশসমূহে অল্প বয়সে গর্ভধারণ শিক্ষার জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, যা তাদের অর্থনৈতিক মুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। বাল্যবিবাহের শিকার নারীরা সাধারণত পারিবারিক সহিংসতা, শিশু যৌন নির্যাতন এবং বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হয়।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

বাল্যবিবাহ মেয়েদের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। উন্নয়নশীল বিশ্বে গর্ভধারণ ও সন্তানধারণের জটিলতা অল্প বয়সে নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ১৫-১৯ বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের মাতৃমৃত্যুর সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ। আর ১৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর সম্ভাবনা ৫-৭ গুন বেশি। যেসব নারী ১৫ বছরের পূর্বে সন্তান জন্মদান করে তাদের ফিস্টুলা বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮৮%। যা বিভিন্ন সংক্রমনের অন্যতম কারণ। ২০ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের যৌন সংক্রমিত রোগের সম্ভাবনা বেশি

বাল্যবিবাহ শুধু মাত্র মায়ের স্বাস্থ্যই না বরং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ও হুমকি স্বরূপ। ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের অপরিণত সন্তান জন্মদান বা কম ওজনের সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ৩৫-৫৫%। তাছাড়াও শিশু মৃত্যুর হার ৬০% যখন মায়ের বয়স ১৮ বছরের নীচে। যেসব নারী কম বয়সে শিশুর জন্ম দেয় ঐসব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় ও শিশু অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা বেশি। বাল্যবিবাহের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পায়।

নিরক্ষরতা এবং দারিদ্র্য[সম্পাদনা]

বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটায়, সাধারণত অনুন্নত দেশসমূহে। একইভাবে নিরক্ষর মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার বেশি। যেসব মেয়েদের শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তাদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ের সম্ভাবনা মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রাপ্ত মেয়েদের তুলনায় দ্বিগুণ। এবং একেবারে নিরক্ষর মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ের সম্ভাবনা মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রাপ্ত মেয়েদের তুলনায় তিনগুন বেশি। পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও সন্তান লালন-পালনের জন্য বিয়ের পর বেশিরভাগ মেয়ের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হয়। শিক্ষা ছাড়া মেয়ে এবং নারীদের উপার্জনের সামান্য পথ -ই খোলা থাকে। এ কারণে নারীদের ক্রমাগত দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করতে হয়, বিশেষত যদি তাদের স্বামী মারা যায় বা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। যেহেতু বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা স্বামীর চেয়ে তুলনামূলক কম বয়সী হয়, তাই তারা কম বয়সে বিধবা হয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে।

পারিবারিক সহিংসতা[সম্পাদনা]

অল্প বয়সে কম শিক্ষিত বিবাহিত মেয়েদের পারিবারিক সহিংসতার হার বেশি। বিয়ের পর সাধারণত স্বামীর পরিবারে থাকার কারণে গ্রাম বা অন্য এলাকায় চলে যেতে হয়। এর ফলে শিক্ষা জীবনের ও ইতি ঘটে, আবার নিজ পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে যাবার ফলে সে সামাজিক সমর্থন ও হারায়। মেয়ে অল্প বয়সী হওয়ার কারণে সে তার স্বামীর বাধ্য হবে- এমনটাই মনে করে স্বামীর পরিবার। পরিবার হতে এই বিচ্ছিন্নতা নারীর মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠে।

স্বামীর সঙ্গে বয়সের ব্যাবধান বেশি হওয়ায় মেয়েদের উপর সহিংসতা ও জোরপূর্বক সঙ্গমের ঘটনা বেশি হয়। কম বয়সে বিবাহিত মেয়েরা বিবাহ পরবর্তী সহিংসতায় বেশি ভুগে। কম বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েরা সম্পূর্ণরূপে স্বামীর উপর নির্ভর করে। পারিবারিক ও যৌন নির্যাতন তাদের জীবন ব্যাপী মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে, কারণ ঐ সময় তাদের মানসিক বিকাশ গঠনের সময়। এ কারণে তারা বিষণ্ণতা এমনকি আত্নহত্যার চিন্তা ও করে।

নারী অধিকার[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ ঘোষণা করে, বাল্যবিবাহ মানবাধিকারের জন্য হুমকি স্বরূপ। নারীদের প্রতি সকল ধরণের বৈষম্য দূর করার জন্য সম্মেলন (সিইডিএডাব্লিউ), শিশু অধিকার আদায়ের জন্য কমিটি (সিআরসি) এবং সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষক কমিটি বাল্যবিবাহ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করেন। বাল্যবিবাহ নারীদের অন্য অনেক অধিকার ও লঙ্ঘন করে। যেমন, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে সমতা, স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা, দাসত্ব থেকে মুক্তি, শিক্ষার অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, সহিংসতা থেকে মুক্তি এবং বিয়েতে নিজ সম্মতি প্রদানের অধিকার। এই আইনগুলির লঙ্ঘনের প্রভাব শুধুমাত্র নারীর উপরই না, তার সন্তান এবং বৃহত্তর সমাজের উপরও পড়ে।

উন্নয়ন[সম্পাদনা]

উচ্চ হারে বাল্যবিবাহ দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে কারণ বাল্যবিবাহ নারী শিক্ষা ও শ্রম বাজারে নারীর অংশগ্রহণে বাধা দেয়। কিছু গবেষকের মতে, বাল্যবিবাহের উচ্চ হার দারিদ্র্য বিমোচনে ৮টি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রত্যেকটিকে এবং বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে।

ইউনিসেফ নেপালের এক রিপোর্টে জানায়, বাল্যবিবাহের ফলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, দরিদ্র্তা বৃদ্ধি পায়, স্বাস্থ্যহানি ঘটে, যা সমগ্র নেপালের উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এক জরিপে দেখা যায়, যেসব নারী ২০ বছরের পরে বিয়ে করে তারা নেপালি নারীদের মধ্যে মোট আয়ের বৃদ্ধিতে দেশের জিডিপি ৩.৮৭% বৃদ্ধি করতে পারে। এই হিসেব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাল্যবিবাহের ফলে নারী শিক্ষার হার হ্রাস পায় ও নারী বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি তাদের সন্তানদের মধ্যেও শিক্ষার নিম্ন হার ও দারিদ্র্যের উচ্চ হার লক্ষ্য করা যায়।

বাল্যবিবাহ রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর, ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ১১ই অক্টোবর কে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১১ই অক্টোবর, ২০১২ সালে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালন করা হয়, যার মুল প্রতিপাদ্য ছিল বাল্যবিবাহ নির্মূল করা।

২০১৩ সালে প্রথম জাতিসংঘ মানবাধিকার সভায় বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। এতে বলা হয়, বাল্যবিবাহ হল মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এই প্রথা বন্ধ করার ব্যাপারে সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।

২০১৪ সালে জাতিসংঘের নারীর অবস্থান শীর্ষক কমিশনে এক দলিল পেশ করা হয় যেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ দূর করার ব্যাপারে ঐক্যমত ঘোষণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ রোধে প্রধান উপায় হল নারীদের শিক্ষা অর্জন, বিবাহের ন্যুনতম বয়স সংক্রান্ত আইন কার্যকরণ এবং অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত করা। বাল্যবিবাহ রোধে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহের সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো, নারী শিক্ষা সমর্থন এবং নারীদের ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক সাহায্য করা।

ভারতে হরিয়ানা রাজ্যের স্থানীয় সরকার এক কর্মসূচী গ্রহণ করে যাতে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হয় যদি তারা তাদের কন্যা সন্তানকে ১৮ বছর পর্যন্ত বিয়ে না দিয়ে স্কুলে পাঠায়। এর ফলে ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ের হার কমে যায়।

সংশ্লিষ্ট উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০-২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের মধ্যে ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীদের শতকরা হার নিচের টেবিলে দেয়া হল। আন্তর্জাতিক নারী গবেষণা কেন্দ্র (আইসিআরডব্লিউ) এবং ইউনিসেফের তথ্য ১০-২০ বছর বয়সী নারীদের উপর জরিপের ভিত্তিতে এবং জাতিসংঘের তথ্য ১০-১৫ বছর বয়সী নারীদের উপর জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

দেশ ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহিত নারী %
আইসিআরডব্লিউ-ইউনিসেফ[১][২]
(সাল)
১৮ বছরের পূর্বে বিবাহিত নারী %
(জাতিসংঘের উপাত্ত)[৩]
 নাইজার ৭৬ (২০১২) ৬২
 চাদ ৬৮ (২০১০) ৪৯
 বাংলাদেশ ৬৬ (২০১১) ৪৮
 মালি ৫৫ (২০১০) ৫০
 গিনি ৫২ (২০১২) ৪৬
 মোজাম্বিক ৪৮ (২০১১) ৪৭
 মাদাগাস্কার ৪১ (২০১২) ৩৪
 সিয়েরা লিওন ৪৪ (২০১০) ৪৭
 ভারত ৪৭ (১৯৯৯-২০০৫) ৩০
 সোমালিয়া ৪৫ (১৯৯৮-২০০৬) ৩৮
 নিকারাগুয়া ৪১ (২০০০-২০০৬) ৩২
 জাম্বিয়া ৪২ (২০০২-২০০৭) ২৪
 উগান্ডা ৪০ (২০১১) ৩২
 ইথিওপিয়া ৪১ (২০১১) ৩০
   নেপাল ৪১ (২০১১) ৪০
 আফগানিস্তান ৪০ (২০১২) ২৯

Notes[সম্পাদনা]

References[সম্পাদনা]

[[বিষয়শ্রেণী:শৈশব]]