শন উইলিয়ামস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শন উইলিয়ামস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশন কলিন উইলিয়ামস
জন্ম (1986-09-26) ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ (বয়স ৩২)
বুলাওয়ে, জিম্বাবুয়ে
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬১)
২০ মার্চ ২০১৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৯ আগস্ট ২০১৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৮৬)
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ ওডিআই৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই শার্ট নং১৪
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
২৮ নভেম্বর ২০০৬ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টি২০আই২১ মার্চ ২০১৪ বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৪-বর্তমানমাতাবেলেল্যান্ড ক্রিকেট দল
২০০৬-২০০৯ওয়েস্টার্নস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি২০আই এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬৯ ৪১
রানের সংখ্যা ৬৪ ১,৭৮২ ১৩৬ ২,৮৭৫
ব্যাটিং গড় ১৬.০০ ৩১.২৬ ১৭.০০ ৪২.২৭
১০০/৫০ ০/০ ০/১৭ ০/০ ৬/১৭
সর্বোচ্চ রান ৩১ ৭৮* ৩৮ ১৭৮
বল করেছে ১৭২ ১,৫৭৯ ১৩২ ২,০৬১
উইকেট ২২ ১৩ ৩১
বোলিং গড় ৫৬.৫০ ৫৬.৯৫ ২৭.৩৮ ৩১.৯৬
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - -
সেরা বোলিং ২/৯৫ ৩/২৩ ৩/১৫ ৫/৩৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ২৪/– ২/– ৩৭/-
উৎস: Cricinfo, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

শন কলিন উইলিয়ামস (ইংরেজি: Sean Colin Williams; জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬) বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তাকে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের সবচেয়ে উদীয়মান ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার। বামহাতি এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। মাঝেমাঝে দলের প্রয়োজনে বামহাতে ধীরলয়ে বোলিং করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন শন উইলিয়ামস। মার্চ, ২০১৩ সালে রোজিওতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

সাবেক প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও জাতীয় হকি কোচ সিআর উইলিয়ামস হচ্ছেন তার বাবা।[১] প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উইলিয়ামস ওয়েস্টার্ন দলের পক্ষ হয়ে খেলেন যা পূর্বে মাতাবেলেল্যান্ড ক্রিকেট দল নামে পরিচিত ছিল। তার সর্বোচ্চ রান হচ্ছে ১২৯। ২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি ৩১.৪০ রান গড়ে ১৫৭ রান এবং পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

৫ মে, ২০১৩ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার নিজস্ব সেরা অপরাজিত ৭৮* রান করে দলকে ৬ উইকেটের বিজয়ের পাশাপাশি সিরিজে ১-১ সমতা এনে দেন।[২] এরফলে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৭০* রান করেছিলেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে তার বৃদ্ধাঙ্গুলে ফাটল ধরায় আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্যে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ ৭ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য উইলিয়ামস-সহ ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।[৩] ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে স্যাক্সটন ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-পর্বের দ্বিতীয় খেলায় ১৯-বছর পর খেলতে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জয়ী জিম্বাবুয়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।[৪] তিনি ও ক্রেগ আরভিন (৪২) ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি ৬২ বলে ৮৩ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে উইলিয়ামস এক ছক্কা ও ৭ চারের সাহায্যে ৬৫ বছরে ৭৬ রান তোলেন।[৫] খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। তার এ অসামান্য নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ে দল সফলতার সাথে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানকে তাড়া করে বিজয়ী হয়। ঐ একই খেলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দল তাদের সর্বোচ্চ ওডিআই রান তোলে।[৬]

৭ মার্চ, ২০১৫ তারিখে হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ৫ম খেলায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৩ বা ততোধিক উইকেট সংগ্রহকারী হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান দেন (৩/৭২)। ৮৪ রান দিয়ে শীর্ষে রয়েছেন হারবির বাইদোয়ান[৭] এছাড়াও ওডিআইয়ে এটি তার সর্বোচ্চ রান প্রদান। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিল জনসনের ৩ উইকেট ও অর্ধ-শতকের পর উইলিয়ামস ৩ উইকেট লাভসহ ৮৩ বলে ৯৬ রান সংগ্রহ করেন।[৭] এটি তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ওডিআই রান। তা স্বত্ত্বেও মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয় তার দল।[৮] ৫ম উইকেটে ব্রেন্ডন টেলরকে সাথে নিয়ে বিশ্বকাপে ৩য় সর্বোচ্চ রানের (১৪৯) জুটি গড়েন।[৭] এছাড়াও জিম্বাবুয়ের ৫ম উইকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

ওডিআই ম্যান অব দ্য ম্যাচ[সম্পাদনা]

# প্রতিপক্ষ মাঠ তারিখ অবদান
বাংলাদেশ শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, বগুড়া ৩ ডিসেম্বর ২০০৬ ৪-০-২৪-১; ২ ক্যাচ, ১ রান আউট; ৬১ (৭০ বল: ৪x৪, ১x৬)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবিনা পার্ক, কিংস্টন ১৯ মার্চ ২০০৭ ৩-০-১৭-০; ৭০* (৮৮ বল: ৭x৪)
বাংলাদেশ কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ে ৫ মে ২০১৩ ৭৮* (৭৫ বল: ৬x৪, ১x৬)
আফগানিস্তান ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা ১৮ জুলাই ২০১৪ ১০-২-৪৬-০; ১ রান আউট; ৭০ (৬৫ বল: ৮x৪, ১x৬)
সংযুক্ত আরব আমিরাত স্যাক্সটন ওভাল, নেলসন ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৮-০-৪৩-২; ১ ক্যাচ; ৭৬* (৬৫ বল: ৭x৪, ১x৬)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. sean-williams biography, retrieved: 6 May, 2013
  2. Career-best added bonus for Williams, retrieved: 6 May, 2013
  3. Moonda, Firdose। "Hamilton Masakadza Set for First World Cup"ESPNCricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৫ 
  4. Monga, Sidharth (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "Williams, Ervine ruin UAE's spirited comeback"ESPNCricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  5. http://www.espncricinfo.com/icc-cricket-world-cup-2015/engine/match/656413.html
  6. "UAE's best ODI total, Zimbabwe's fourth-highest chase"ESPNCricinfo। ESPN। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  7. Jayaraman, Shiva (৭ মার্চ ২০১৫)। "Ireland's highest ODI total"। espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৫ 
  8. Drummond, Andrew (৭ মার্চ ২০১৫)। "Ireland beat Zimbabwe by five runs"। Yahoo Sports Australia। ৭ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]