ইসরায়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ইসরাইল থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search

স্থানাঙ্ক: ৩১° উত্তর ৩৫° পূর্ব / ৩১° উত্তর ৩৫° পূর্ব / 31; 35

ইসরায়েল
מְדִינַת יִשְׂרָאֵל(হিব্রু)
دَوْلَةُ إِسْرَائِيل (আরবি)
Centered blue star within a horizontal triband
পতাকা জাতীয় প্রতীক
জাতীয় সঙ্গীত: হাতিকভাহ
আশা
[[চিত্র:]]
রাজধানী
এবং বৃহত্তম নগরী
জেরুসালেম[টীকা ১]
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ হিব্রু, আরবি
জাতিগোষ্ঠী
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ ইসরায়েল
সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র[১]
 •  রাষ্ট্রপতি রিউভেন রিভলিন
 •  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
আইন-সভা নেসেট
স্বাধীনতা যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ মেন্ডেট থেকে
 •  ঘোষণা ১৪ই মে ১৯৪৮[২] 
আয়তন
 •  মোট 1 ২২,০৭২ কিমি (১৪৯তম)
৮,৫২২ বর্গ মাইল
 •  পানি (%) ~২%
জনসংখ্যা
 •  ২০১৬ আনুমানিক ৮,৫৪১,০০০2[৩] (৯৮তম)
 •  ২০০৮ আদমশুমারি ৭,৪১২,২০০[৪]
 •  ঘনত্ব ৩৮৭.৬৩/কিমি (৩৪তম)
১,০০৪/বর্গ মাইল
মোট দেশজ উৎপাদন
(ক্রয়ক্ষমতা সমতা)
২০১৬ আনুমানিক
 •  মোট $২৯৭.০৪৬ বিলিয়ন[৫] (৫৫তম)
 •  মাথা পিছু $৩৪,৮৩৩[৫] (৩৩তম)
মোট দেশজ উৎপাদন (নামমাত্র) ২০১৬ আনুমানিক
 •  মোট $৩১১.৭৩৯ বিলিয়ন[৫] (৩৫তম)
 •  মাথা পিছু $৩৬,৫৫৬[৫] (২৩তম)
জিনি সহগ (২০১২) 42.8[৬]
মাধ্যম · ১০৫তম
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৪) বৃদ্ধি 0.894[৭]
অতি উচ্চ · ১৮তম
মুদ্রা ইসরায়েলি শেকেল (₪) (ILS)
সময় অঞ্চল ইসরায়েলি মান সময় (ইউটিসি+2)
 •  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) ইসরায়েলি গ্রীষ্ম সময় (ইউটিসি+3)
তারিখ বিন্যাস
গাড়ী চালনার দিক ডান
কলিং কোড +৯৭২
ইন্টারনেট টিএলডি .il
.ישראל
ওয়েবসাইট
জাতীয় বাতায়ন
১. গোলান মালভূমিপূর্ব জেরুসালেম-সহ
২. পশ্চিম তীরের ইসরায়েলী জনসংখ্যা-সহ

ইসরায়েল (হিব্রু ভাষায়: מְדִינַת יִשְׂרָאֵלমেদিনাত্‌ য়িস্‌রা'এল্‌ ; আরবি: دَوْلَةْ إِسْرَائِيل‎‎ দাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌) পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্র। এটি ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব তীরে ও লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত। দেশটির উত্তর স্থলসীমান্তে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্দানফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত ভূখন্ড পশ্চিম তীর, পশ্চিমে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড গাজা উপত্যকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর অবস্থিত।

ইসরায়েলের রাজধানী জেরুসালেম (নামমাত্র); শহরের পশ্চিমভাগ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এখানে দেশটির সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি অবস্থিত।[টীকা ২] অর্থনৈতিকভাবে ইসরায়েল একটি অত্যন্ত উন্নত শিল্পপ্রধান রাষ্ট্র। ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত তেল আভিভ দেশটির অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রাণকেন্দ্র এবং বৃহত্তম নগর এলাকা।[৮] মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসেবে ইসরায়েল বিশ্বের ৩৪তম বৃহত্তম অর্থনীতি। দেশটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরাষ্ট্র। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে জাপানদক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এটি এশিয়ার ৩টি উচ্চ-আয়ের রাষ্ট্রগুলির একটি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে এটি বিশ্বের ৩৯টি অগ্রসর অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলির একটি।

ইসরায়েলে প্রায় ৮৩ লক্ষ লোকের বাস। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ; এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮১ জন অধিবাসী বাস করে। এদের মধ্যে ৬১ লক্ষ ইহুদী জাতি ও ধর্মাবলম্বী এবং ১৭ লক্ষ আরব জাতিভুক্ত (যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান)। এটিই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে ইহুদীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়। ইসরায়েলের জনগণ অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত; এখানকার প্রায় অর্ধেক জনগণের (২৫-৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে) বিশ্ববিদ্যালয় বা তার সমপর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, যা বিশ্বের ৩য় সর্বোচ্চ।[৯] দেশটির জীবনযাত্রার মান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ, এশিয়াতে ৫ম এবং বিশ্বে ১৯তম।[১০]

ইসরায়েল নিজেকে একটি ইহুদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দাবী করে। এখানে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। এর এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নাম ক্নে‌সেত। প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসরায়েলের জন্ম, ইতিহাস ও রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েল প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলির সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দেশটি ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা সামরিকভাবে দখল করে আছে। বর্তমানে পৃথিবীর ১৬১টি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ৩১টি রাষ্ট্র (মূলত মুসলমান অধ্যুষিত) এখনও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়নি এবং দেশটির সাথে তাদের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাদের অনেকের মতে ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিন-এর একটি অংশের অবৈধ দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড। তবে নিকটতম দুই আরব প্রতিবেশী মিশর ও জর্দানের সাথে ইসরায়েল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ও দেশ দুইটির স্বীকৃতিও লাভ করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে মুসলিমপ্রধান ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর উসমানীয় সাম্রাজ্য দূর্বল হয়ে ভেঙে যায় এবং ১৯২৩ সালে স্বাধীন তুরস্কের জন্ম হয়; ইহুদীবাদী নেতারা ইসরায়েল নামের একটি অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, নরওয়ে, পোল্যান্ড, গ্রীস এবং সুইজাল্যান্ডে বসবাসকারী ইহুদীদেরকে নেতারা আহ্বান জানান ফিলিস্তিনে বসতি গড়তে। তাছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইহুদীদেরকে ফিলিস্তিন ছেড়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রায় আড়াই লাখ ইহুদী মানুষ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে পাড়ি জমায়।[১১]

১৯২১ সালে ইহুদীরা 'হাগানাহ' নামের এক জঙ্গি বাহিনী তৈরি করে।[১২] এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা আধা-সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয় এবং স্বাধীনতার পরে এই বাহিনী ইসরায়েলের মূল সামরিক বাহিনী গঠন করে ও বিভিন্ন জঙ্গি তৎপরতায় সাহায্য করে। [১৩]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ইউরোপ থেকে আরো ইহুদী মানুষ ফিলিস্তিনে আসে এবং তাদের অনেককেই হাগানাহ সহ অন্যান্য বাহিনীতে নেওয়া হয় ফিলিস্তিন নিজেদের অধিকারে আনার জন্য। [১৪]

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মুসলমানদের ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাশ করে মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের নিজেদের জন্য এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।[১৫] এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। যদিও বিশ্বের শান্তিপূর্ণ ও মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ড্যাভিড বেন গুরিয়ন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।[১৬]

১৯৪৮ সালের ১৭ মে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ইসরায়েলকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১৭]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত।[১৮] আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেসেট নামের আইনসভার উপর ন্যস্ত।[১৯] বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন।[২০]

বিদেশ নীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের সঙ্গে ১৭০টি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে।[২১] তবে ফিলিস্তিন বিবাদের জন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বৈরাগ সম্পর্ক রয়েছে।[২২]

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

ইসরায়েলে ছয়টি জেলা আছে, এগুলো হলোঃ জেরুসালেম জেলা, উত্তর জেলা, হায়ফা জেলা, মধ্য জেলা, তেল আবিব জেলা এবং দক্ষিণ জেলা এবং জুডিয়া এ্যান্ড সামারিয়া এলাকা।[২৩]

সামরিক বাহিনী[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস, সংক্ষেপে আইডিএফ) তিনটি মিলিটারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত।[২৪] সংস্থাগুলো হচ্ছে স্থলবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী।[২] তিন বাহিনীকে এক বাহিনী ধরা হয়; এই বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। অফিশিয়ালি ইসরায়েল সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৪৮ সালের ২৬ মে কেবিনেটের সিদ্ধান্তক্রমে। এ জন্য লিখিত আদেশ দেয় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলকভাবে অনেক ইহুদিকে এই বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়াও ইহুদিদের তিনটি সংগঠন হাগানাহ, ইরগান ও লেহির সদস্যদের নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই বাহিনী গঠন করা হয়।[২৫] যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা আর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয় এই বাহিনীকে।[২]

বিভিন্ন দেশের সাথে এই বাহিনীর অস্ত্র ও প্রযুক্তির বেশ পার্থক্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মারকাভা মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, উজি সাব মেশিনগান এবং গালিল ও টাভর অ্যাসল্ট রাইফেল। আইডিএফ’র উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে অর্থসহযোগিতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে এফ-১৫১ জেট বিমান, টিএইচ।[২]

ভূগোল[সম্পাদনা]

ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়াতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এই ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধরে সমভূমি অবস্থিত। ইসরায়েলের দক্ষিণে রয়েছে বিশাল নেগেভ মরুভূমি আর উত্তরে আছে বরফাবৃত পর্বতমালা। দক্ষিণে লোহিত সাগরে এক চিলতে প্রবেশপথ আছে।[১][২৬]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের অর্থনীতি আধুনিক পশ্চিমা অর্থনীতির সমপর্যায়ের। ইসরায়েলের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ খুব কম। দেশটি ১৯৭০-এর দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান পেয়ে আসছে, তবে ১৯৯৮-এর পর এই অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। ইসরায়েল ও.ই.সি.ডি. (অরগ্যানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো - অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট) এর সদস্য। দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত এবং ২০১২ সাল অনুযায়ী দেশটির মাথাপিছু আয় ৩৫,০০০ মার্কিন ডলার।[২৭][২৮] ইসরায়েলের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারের ভালো সদিচ্ছা থাকার কারণে দেশটিতে বেকারত্ব খুবই কম।[২৯]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের জনসংখ্যা প্রায় ৯ মিলিয়ন।

ভাষা[সম্পাদনা]

ইসরায়েল ভাষাগত ও সংস্কৃতিগতভাবে বিচিত্র। এথনোলগের ১৫শ সংস্করণ অনুসারে ইসরায়েলে ৩৩টির মত ছোট-বড় ভাষা ও উপভাষা প্রচলিত[৩০]। ইসরায়েলি নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান প্রদানের জন্য মূলত আধুনিক হিব্রু ভাষা ব্যবহার করেন। আধুনিক হিব্রু ভাষাটি ১৯শ শতকের শেষ দিকে প্রাচীন হিব্রু ভাষার বিভিন্ন উপভাষার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এতে স্লাভীয়জার্মানীয় ভাষাসমূহের কিছু প্রভাব আছে। ভাষার সরকারি মর্যাদা ও ভাষা সংক্রান্ত নীতিমালার উপর ইসরায়েলে বেশ কিছু আইন আছে। বর্তমানে হিব্রুআরবি ইসরায়েলের সরকারি ভাষা।[৩১]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের সংস্কৃতি পশ্চিমা ঘরানার।[৩২]

পর্যটন[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের পর্যটন মূলত ইহুদী ধর্মের পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দেশটির সর্বত্র ইহুদী ধর্মের ও সভ্যতার স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইহুদীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হল জেরুজালেম শহর। জেরুজালেমের ইহুদী মন্দির ও পশ্চিম দেওয়াল বিখ্যাত। এছাড়া আছে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহেম, বাসস্থান নাজারেথ।এখানে হারাম আল শরীফ তথা আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত।ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ যা মুসলিমদের প্রথম কিবলা হিসাবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে রয়েছে অনেক অবকাশ যাপন কেন্দ্র। আরও আছে লবণাক্ত মৃত সাগর, যার পানিতে ভেসে থাকা যায়। লোহিত সাগরের উপকূল এবং গ্যালিলির সাগরের উপকূলেও অনেক অবকাশ কেন্দ্র আছে।[৩৩]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Internationally recognized by the Czech Republic, Taiwan, the United States, and Vanuatu
  2. The Jerusalem Law states that "Jerusalem, complete and united, is the capital of Israel" and the city serves as the seat of the government, home to the President's residence, government offices, supreme court, and parliament. The United Nations and most countries do not accept the Jerusalem Law (see Kellerman 1993, পৃ. 140) and maintain their embassies in other cities such as Tel Aviv, Ramat-Gan, and Herzliya(see the CIA Factbook and Map of Israel) The Palestinian Authority sees East Jerusalem as the capital of a future Palestinian State and the city's final status awaits future negotiations between Israel and the Palestinian Authority (see "Negotiating Jerusalem", University of Maryland). See Positions on Jerusalem for more information.
  1. "Israel"The World Factbook। Central Intelligence Agency। 2007-06-19। সংগ্রহের তারিখ 2007-07-20  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. Qposter-লেখকঃ মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। "ইসরাইলের সমরশক্তি"www.qposter.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  3. (PDF)Israel Central Bureau of Statistics http://www.cbs.gov.il/publications16/yarhon0716/pdf/b1.pdf। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-২৬  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  4. (PDF)Israel Central Bureau of Statistics http://www.cbs.gov.il/www/mifkad/mifkad_2008/profiles/rep_e_000000.pdf। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-২৬  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  5. "Israel"। International Monetary Fund। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-০১ 
  6. "Gini Index" 
  7. "Human Development Report 2015." (PDF)। The United Nations। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১০ 
  8. https://www.algemeiner.com/2015/09/30/tel-aviv-ranked-among-worlds-top-financial-centers/
  9. "OECD.Stat Education and Training > Education at a Glance > Educational attainment and labor-force status > Educational attainment of 25-64 year-olds"। OECD। 
  10. Human Development Index and its components (প্রতিবেদন)। United Nations Development Programme। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৭ 
  11. "Transfer Agreement"। Transfer Agreement। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৪-২৯ 
  12. "The Role of Jewish Defense Organizations in Palestine (1903–1948)"। Jewish Virtual Library। 
  13. Ilan Pappé (2000), p.79
  14. Hakohen, Devorah (২০০৩), Immigrants in Turmoil: Mass Immigration to Israel and Its Repercussions in the 1950s and After, Syracuse University Press, পৃষ্ঠা 267, আইএসবিএন 9780815629696 
  15. "A/RES/181(II) of 29 November 1947"। United Nations। ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১২ 
  16. Brenner, Michael; Frisch, Shelley (এপ্রিল ২০০৩)। Zionism: A Brief History। Markus Wiener Publishers। পৃষ্ঠা 184। 
  17. Hashim S. H. Behbehani (১৯৮৬)। The Soviet Union and Arab nationalism, 1917-1966। Routledge। পৃষ্ঠা 69। আইএসবিএন 978-0-7103-0213-7 
  18. "Field Listing — Executive Branch"The World Factbook। Central Intelligence Agency। ১৯ জুন ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০০৭ 
  19. "The Electoral System in Israel"। The Knesset। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০০৭ 
  20. "The Judiciary: The Court System"। Israel Ministry of Foreign Affairs। ১ আগস্ট ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০০৭ 
  21. "Israel's Diplomatic Missions Abroad: Status of relations"। Israel Ministry of Foreign Affairs। ২০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৬ 
  22. "Exclusive: Israel to Open First Diplomatic Mission in Abu Dhabi - Israel News - Israel News - Haaretz Israeli News Source"। Haaretz.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১১-২৮ 
  23. "Introduction to the Tables: Geophysical Characteristics" (doc)। Central Bureau of Statistics। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  24. "The State: Israel Defense Forces (IDF)"। Israel Ministry of Foreign Affairs। ১৩ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০০৭ 
  25. Speedy (১২ সেপ্টেম্বর ২০১১)। "The Speedy Media: IDF's History"। Thespeedymedia.blogspot.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৪ 
  26. Skolnik 2007, পৃ. 132–232
  27. Chua, Amy (২০০৩)। World On Fire। Knopf Doubleday Publishing। পৃষ্ঠা 219–220। আইএসবিএন 978-0385721868 
  28. "Northern and Western Asia" 
  29. David Adler (১০ মার্চ ২০১৪)। "Ambitious Israeli students look to top institutions abroad"। ICEF। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১৫ 
  30. [১]
  31. Spolsky, Bernard (১৯৯৯)। Round Table on Language and Linguistics। Washington, D.C.: Georgetown University Press। পৃষ্ঠা 169–70। আইএসবিএন 0-87840-132-6In 1948, the newly independent state of Israel took over the old British regulations that had set English, Arabic, and Hebrew as official languages for Mandatory Palestine but, as mentioned, dropped English from the list. In spite of this, official language use has maintained a de facto role for English, after Hebrew but before Arabic. 
  32. "Asian Studies: Israel as a 'Melting Pot'"। National Research University Higher School of Economics। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১২ 
  33. Burstein, Nathan (১৪ আগস্ট ২০০৭)। "Tourist visits above pre-war level"The Jerusalem Post। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]