ইসরায়েলের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইসরায়েলের একটি স্যাটেলাইট ছবি।

ইসরাইলের ইতিহাস বলতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দক্ষিণে এমন একটি এলাকার কথা বুঝানো হয়, যা কেনান, ফিলিস্তিন অথবা পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত এবং যেখানে আধুনিক ইসরায়েলফিলিস্তিন ভৌগলিকভাবে অবস্থিত। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে সংকটপূর্ণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় করিডোরের অংশ হিসেবে এই এলাকাটি প্রাচীন মানুষের আফ্রিকা থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পরা ঘটনার সাক্ষী হয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার খ্রিষ্ঠপূর্বে নটিফীয় সংস্কৃতির উদ্ভবকে দেখেছে। আনুমানিক ২০০০ খ্রিষ্ঠপূর্বে ক্যানানীয় সভ্যতার উত্থানের মাধ্যমে এই এলাকাটি ব্রোঞ্জ যুগে প্রবেশ করে, পরবর্তীতে ব্রোঞ্জ যুগের শেষে মিশর এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। লৌহ যুগে ইসরায়েল এবং যিহূদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইহুদী এবং শমরীয় জাতির উদ্ভব ও ইব্রাহিমীয় ধর্মীয় মুল্যবোধের বিকাশে ভূমিকা পালন করে।[১][২][৩][৪][৫][৬] এই ভূমি ইহুদী ধর্ম, শমরীয় ধর্ম, খ্রিষ্টান, ইসলাম, দ্রুজ, বাহাই ধর্ম,এবং আরো অন্যান্য ধর্মের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের ইতিহাসের পুরো সময়জুড়েই ইসরায়েলের ভূমি বিভিন্ন জাতির নিয়ন্ত্রণ ও দখলের মধ্যে ছিল। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন জাতিসত্তার আবাসভূমি হয়ে উঠেছিল এই এলাকা।

পরবর্তী শতক জুড়ে কখনো আসিরীয়, কখনো ব্যাবিলনীয়, এবং কখনো হাখমানেশি সাম্রাজ্য এই এলাকা দখল করে নেয়। এরপর টলেমী এবং সেলেউসিড সাম্রাজ্য হেলেনিস্টিক যুগে এই অঞ্চল দখলের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যায়। যাইহোক, হাসমোনীয় বংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় ইহুদীরা শতবছর ধরে নিজেদের স্বাধীন রাখতে সক্ষম হয়, যা রোমান প্রজাতন্ত্রের অধীনে পতন ঘটে।[৭] ১ম এবং ২য় শতাব্দীতে ইহুদী-রোমান যুদ্ধে অনেক ইহুদী নিহত হয়, তাদের উচ্ছেদ করা হয় অথবা দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।[৮][৯][১০][১১] রোমান সাম্রাজ্যের প্রভাবে খ্রিষ্ঠান ধর্মের প্রভাব বাড়তে থাকায় ইহুদীরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে, ফলে চতুর্থ শতকের পূর্বেই খ্রিষ্টানরাই এই এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়। যাইহোক, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মুহম্মদের অধীনে আরব উপদ্বীপ জুড়ে ইসলাম ছড়িয়ে পরে। ইসরায়েলের ভূমির উপর বাইজেন্টাইন খ্রিষ্টানদের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, ৭ম শতকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল আরবদের বিজয়ের পর সেই নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়। ১১ থেকে ১৩ শতক জুড়ে ক্রুসেডের অংশ হিসেবে অঞ্চলটি খ্রিস্টান ও মুসলিম আর্মির মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৩ শতকে ইসরায়েলের ভূমি মঙ্গোলীয় আক্রমণ এবং দখলের শিকার হয়, যদিও স্থানীয়ভাবেই বিশেষত মামলুক সালতানাত রাজ্যের কারণে মঙ্গোলীয়রা পরাজিত হয়। ১৬ শতাব্দী অবধি এই ভূমি মামলুক রাজ্যের অধীন ছিল। পরিশেষে অটোম্যান সাম্রাজ্যের কাছে মামলুক রাজ্যের পতন হয় এবং এই এলাকাটি ২০ শতক অবধি অটোমান প্রদেশের অংশ ছিল।

ইহুদি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন জায়নবাদ উনিশ শতকের শেষভাগে (আংশিকভাবে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষের প্রতিক্রিয়া হিসাবে) আবির্ভূত হয়, যার অংশ হিসাবে আলিয়াহ (ধর্মীয় ও আইনিভাবে ইসরাইলের প্রতিশ্রুত ভূমিতে প্রবাস থেকে ইহুদিদের ফিরে আসার প্রক্রিয়া) বৃদ্ধি পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির সাথে অটোমান সাম্রাজ্যের সিনাই এবং ফিলিস্তিনের মাঝে একটি স্থানে সংঘর্ষ এবং যুদ্ধ চলে। যেখানে অটোমান সাম্রাজ্যের হেরে যাওয়ার পরিণতি হিসেবে অটোমান সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করে ফেলা হয়। ব্রিটিশ সরকার লিগ অব নেশনস থেকে ফিলিস্তিন শাসন করার ম্যান্ডেট (ম্যান্ডেটঃ লীগ অব নেশন থেকে কোনো অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা) অর্জন করে, যা ম্যান্ডাটরী ফিলিস্তিন হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ সরকার প্রকাশ্যে একটি ইহুদিদের জাতীয় বাসস্থান তৈরি করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। আরব জাতীয়তাবাদীরা পূর্বের অটোমান অঞ্চলসমূহের অধিকার দাবি করে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অভিবাসন রোধ করার চেষ্টা করে, ফলে আরব-ইহুদি উত্তেজনা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনা হয়, যার ফলে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিদের তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এর পরে আরব ও মুসলিম দেশসমূহ থেকে ইহুদিদের ইসরায়েলে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের সমগ্র ইহুদিদের প্রায় ৪৩% আজ ইসরায়েলে বসবাস করে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালে মিশর–ইসরায়েল শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইসরায়েল ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার সাথে ১৯৯৩ সালে ওসলো আই চুক্তি স্বাক্ষর করে, তারপরে ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৪ সালে ইসরায়েল-জর্ডান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এই সংঘাত ইসরায়েলি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

প্রাগৈতিহাসিক কাল[সম্পাদনা]

স্খুল গুহা

গালীল সাগরের কাছে আধুনিক ইসরায়েলের এলাকা উবেদিয়াতে ১.৫ মিলিয়ন বছর আগে প্রাচীন মানুষের বসবাসের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।[১২] ইরনে পাথর দিয়ে হস্তনির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু (ফ্লিন্ট টুল) আবিষ্কৃত হয়েছে; যা আফ্রিকার বাইরে আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন পাথর দিয়ে তৈরী বস্তু। ১.৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে এইভাবে পাথর নির্মিত বস্তুর কৌশলকে একিলীয় প্রযুক্তি বলা হয়; যা ইসরায়েলে বসবাসকারী বাইজাত রুহামা গ্রুপ এবং গেসের নোট ইয়াকভ গ্রুপ নামক আরো দুইটি প্রাচীন মানুষের গ্রুপ ব্যবহার করত বলে অনুমান করা হয়।[১৩]

কার্মেল পর্বতের এল-তাবুন এবং এস স্খুল স্থানে[১৪] নিয়ান্ডারথাল এবং প্রাচীন মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। এখানের পর্বতের শিলার স্তরে স্তরে স্ট্রেটিগ্রাফি রেকর্ড থেকে ৬ লক্ষ বছরের মানুষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়।[১৫]আদিম পুরাপ্রস্তর যুগ থেকে আজকের মানব বিবর্তনের প্রায় ১০ লক্ষ বছরের ইতিহাস এই অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন থেকে জানা যায়।[১৬] অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুরাপ্রস্তরযুগীয় এলাকার মধ্যে আছে কেসেম এবং ম্যানট গুহা। আফ্রিকার বাইরে শারীরিকভাবে সবচেয়ে আধুনিক মানুষের প্রাচীনতম জীবাশ্ম স্খুল ও কাফেজ হোমিনিডসের যারা ইসরায়েলের উত্তর অংশে আজ থেকে ১,২০,০০০ বছর আগে বাস করত।[১৭]প্রায় ১০ হাজার খ্রিষ্ঠপূর্বে নটিফীয় সংস্কৃতি এই এলাকায় বিদ্যমান ছিল।[১৮]

ক্যানান[সম্পাদনা]

Lion and lioness at play
খ্রিষ্টপূর্ব ১৪ শতকে ক্যানানীয় ভাস্কর্য, সিংহ এবং সিংহী খেলায় রত। বর্তমানে ইসরায়েলের জাদুঘরে অবস্থিত।
Tel Dan gate
ক্যানীয় সভ্যতার সময়ে গেট, তেল দান

প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন থেকে অনুমান করা হয় ক্যানীনীয়রা মধ্য ব্রোঞ্জ যুগে (২১০০-১৫৫০ খ্রিষ্ঠপূর্ব) বসবাস করতেন।[১৯] সেখানে সম্ভবত স্বাধীন অথবা আধা স্বাধীন রাজ্য এবং শহর ছিল। শহরগুলোর চারপাশে পাথর দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যুহ নির্মাণ করা হয়, যা কালক্রমে মাটি পরে ঢিবিতে পরিণত হয়। মধ্য লৌহ যুগের শেষ দিকে মিশরে অবস্থিত নীল বদ্বীপের কাছে ক্যানীনীয়রা বসতি স্থাপন করে, তারা ক্যানানের সাথেও গভীর সংযোগ বজায় রেখেছে। সেইসময় হাইকসোস বংশ (ক্যানিনীয়/এশীয় অরিজিন) মিশরের উত্তরাংশের বেশিরভাগ জায়গায় শাসন করত। খ্রিষ্ঠপূর্ব ১৬ শতকে তাদের বিতাড়ণ করা হয়।[২০]

শেষ লৌহ যুগে (১৫৫০-১২০০ খ্রিষ্ঠপূর্বে) নব্য মিশরীয় সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রিত ক্যানীয় অধীনস্ত রাজ্য ছিল, যা গাজা শহর থেকে শাসিত হত।[২১] ১৪৫৭ খ্রিষ্টপূর্বে, মিশরীয় সেনাবাহিনী ফারাও থুতমোস ৩ এর নির্দেশে ও কাদেশের রাজার নেতৃত্বে মেগিদো যুদ্ধে ক্যানিয় রাজ্যের বিদ্রোহীদের দমন করে।

শেষ ব্রোঞ্জ যুগের একটা সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সভ্যতাগুলো পতন হতে থাকে।[২২] ক্যানানে তৈরী হয় বিশৃঙ্খলা এবং মিশরীয় নিয়ন্ত্রণের সমাপ্তি ঘটে।[২৩][২৪] প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে হাজর, বেইট শেন, মেগিদো, এক্রন, ইসদুদ এবং আস্কালনের মত শহরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।[২৫] সেই সময় দুইটা গ্রুপের আবির্ভাব হয়, তারা ব্রোঞ্জের পরিবর্তে লোহার তৈরী যন্ত্রপাতি/অস্ত্র ব্যবহার করত। এভাবেই ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তি ও লৌহ যুগের সুচনা হয়। গ্রুপ দুইটির একটি হল সমুদ্রের মানুষেরা, বিশেষত পলেষ্টীয়রা। তারা এজিয়ান সমাজ থেকে এখানে স্থানান্তরিত হয় এবং দক্ষিণ তীরবর্তী এলাকায় বসবাস শুরু করে। অপর গ্রুপটির নাম হল ইস্রায়েলীয়। তারা ক্যানানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পরে বসবাস করতে থাকে।[২০]

প্রাচীন ইসরায়েল ও যিহুদা[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইস্রায়েলীয়রা (প্রথম লৌহ যুগ)[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নাম উল্লেখ করে (ysrỉꜣr হিসেবে) মিশরের ফারাও মেরনেপ্তাহের (আনুমানিক ১২০৯ খ্রিষ্ঠপূর্ব) (২য় রামেসিসের পুত্র) প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে সবচেয়ে পুরাতন নথিবদ্ধ প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "ইসরায়েল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং তার বংশধরেরা অত্যন্ত কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে।"[২৬]

মেরনেপ্তাহ স্তম্ভ। মুলধারার প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই স্তম্ভেই "ইসরায়েলের" নাম প্রথমবারের মত লিখিত ভাবে উঠে এসেছে।

প্রত্নস্থানে পাওয়া প্রমাণ থেকে দেখা গিয়েছে যে, প্রথম লৌহ যুগের সময়কালে প্রাথমিকভাবে সামারিয়াতে জেরুজালেমের উত্তর পাশে জর্ডান নদীর দুই তীরেই ক্যানানের পাহাড়ের উপর শতাধিক গ্রাম তৈরী করা হয়েছে। এই গ্রামে ৪০০ জন মানুষের বাসস্থান ছিল, যারা প্রায় সবাই আত্মনির্ভরশীল ছিলেন।[২৭][২৮] তারা আয় করতেন গবাদিপশুর পাল চরিয়ে, শস্য চাষ করে এবং আঙ্গুর অথবা জয়তুন লাগিয়ে এবং কিছু অর্থনৈতিক লেন-দেনের মাধ্যমে।[২৯] মৃৎশিল্প খুব সাধারণ ছিল এবং সেখানে কোন নকশা করা হতো না। [২০] লেখালেখির চল ছিল এবং এর মাধ্যমে খুব ছোট করে হলেও তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যেত। [৩০] উইলিয়াম জি ডিভার সেই সময়ের ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে পরিণত হয়ে উঠেছে, এটি কোনো নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর তুলনায় বরং একটি সুগঠিত রাষ্ট্রের ন্যায় গুণাগুণ প্রদর্শন করেছিল।[৩১]

আধুনিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে ইস্রায়েলীয় এবং তাদের সংস্কৃতির উদ্ভব কেনান জনগোষ্ঠী থেকে হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বহুঈশ্বরে বিশ্বাস কিন্তু এক গৃহদেবতাকে পূজা করা ইস্রায়েলীয়রা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করা শুরু করে। তাদের জাতীয় ঈশ্বরের নাম হয় ইয়াহওয়েহ্[৩২][৩৩][৩৪] এমসি নাটের মতে, "এটাই সবচেয়ে যৌক্তিক যে, প্রথম লৌহ যুগের বিকাশের সাথে সাথে একটি জনগোষ্ঠী নিজেদের 'ইস্রায়েলীয়' বলে পরিচয় দেওয়া এবং নিজেদের কেনান জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র মনে করা শুরু করে। এই স্বতন্ত্র মনে করার চিহ্ন স্বরুপ ইস্রায়েলীয়রা কেনান অধিবাসীদের সাথে তাদের বিবাহ নিষেধাজ্ঞা জারী করে। পরিবারের ইতিহাস, পূর্বপুরুষের বংশের ধারা নিয়ে গবেষণা এবং তারা যে স্বতন্ত্র ধর্ম প্রবর্তন করছে; তার উপরে আলাদাভাবে জোর দেয়।[৩৫]

পলেষ্টীয়দের রান্নার যন্ত্রপাতি, তাদের খাদ্যতালিকায় শূকরের মাংসের উপস্থিতি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরী মাইসিনীয় কুমার শিল্পের নানা নির্দশন থেকে প্রতীয়মান হয় যে পলেষ্টীয়রা অন্য জায়গা থেকে আগত। পলেষ্টীয়দের দ্বারা সুনির্মিত বড় শহরগুলো দেখে বুঝা যায় তাদের সমাজ জটিল ও সে সমাজে শ্রেণিগত কাঠামো ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।[২০][৩৬]

ইসরায়েল এবং যিহূদা (দ্বিতীয় লৌহ যুগ)[সম্পাদনা]

The Tel Dan stele
The Tel Dan stele contains the earliest reference to the House of David
Khirbet Qeiyafa
Khirbet Qeiyafa, an early 10th century fortified city overlooking the Elah Valley, associated by scholars with the kingdom of David

১০০০ খ্রিষ্ঠপূর্ব থেকে ৯০০ খ্রিষ্ঠপূর্বে ইস্রায়েলী রাজ্য যিহূদাঈস্রায়েলের উদ্ভব হয়। হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী এই দুইটি রাজ্য একটি যুক্তরাজ্য হিসেবে শৌল, ডেভিড এবং সলোমন দ্বারা শাসিত হত। বলা হয় সলোমনের তত্ত্বাবধানেই প্রথম মন্দির নির্মিত হয়েছিল। প্রত্নতাত্বিকদের মধ্যে এই ধরনের যুক্তরাজ্য ছিল কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে।[Notes ১][৩৭][৩৮] এই ধরনের যুক্তরাজ্যের অস্তিত্বের প্রশ্নে মানুষ দুই দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একটি পক্ষ বাইবেলের কথাকে যুক্তরাজ্য থাকার পক্ষে শক্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেয়,[৩৯] এবং অপর পক্ষে এরকম রাজ্য ছিল কিনা প্রশ্নে সন্দিহান এবং তাদের মতে এরকম যুক্তরাজ্য থাকলেও তার আকার যা প্রস্তাব করা হয়েছে তার চেয়ে অনেক ছোট ছিল।[৪০][৪১]

ইসরায়েল এবং যিহুদা যুক্তরাজ্য

ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আনুমানিক ৯০০ খ্রিষ্ঠপূর্বে ইসরায়েলের উত্তর অংশের রাজ্যের অস্তিত্ব[৪২][৪৩] এবং আনুমানিক ৮৫০ খ্রিষ্ঠপূর্বে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল যিহূদা রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল।[৪৪][৪৫] দুই রাজ্যের মধ্যেই ইসরায়েল রাজ্য সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী ছিল এবং শীঘ্রই আঞ্চলিক ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিল।[৪৬] অমরিড বংশের রাজত্বকালে, এটি সামারিয়া, গ্যালিলী, জর্ডান উপত্যকা, শারন এবং ট্রান্সজর্ডানের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত।[৪৭] এ রাজ্যের রাজধানী শমরিয়া ছিল, যেখানে লৌহ যুগে পূর্ব ভুধ্যসাগরীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থাপনা দেখা যেত।[৪৮][৪৯] অম্রি তাদের রাজধানী সামারিয়াতে স্থাপন করার পূর্বেই ইস্রায়েল রাজ্যের রাজধানী শেচেহম, পেনুয়েল এবং তিরজাহের মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়। বারবার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই রাজ্যের শাসক পরিবর্তিত হত। যিহুদা রাজ্য ছোট হলেও অধিকতর স্থিতিশীল ছিল। ডেভিডিক বংশ চারশত বছর ধরে এই রাজ্যকে শাসন করেছে। এই রাজ্যের রাজধানী সর্বদা জেরুজালেম ছিল। নাগেভের উত্তর অঞ্চলে জুডিয় পর্বতমালা, শেফেলার বেশিরভাগ জায়গা এবং বীরশেবা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করত।[৫০]

আসিরীয় আক্রমণ[সম্পাদনা]

নব্য আসিরীয় সাম্রাজ্য বিস্তৃত রাজ্যসীমানা

আসিরীয় রাজা ৩য় তিগলাথ পাইলেসার ৭৩২ খ্রিষ্ঠপূর্বে ইসরায়েল রাজ্যের উত্তর অংশে আক্রমণ করেন।[৫১] এই অঞ্চলের রাজধানী সামারিয়াকে বহু বছর ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার পরে প্রায় ৭২০ খ্রিষ্ঠপূর্বের দিকে এই রাজ্যের পতন হয়।[৫২] আসিরীয় ইতিহাস অনুসারে দ্বিতীয় সারগন সামারিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এবং ইসরায়েলের ২৭২৯০ জন অধিবাসীদের মেসোপটেমিয়ায় তাড়িয়ে দেয়।[৫৩] যদিও ব্যাবিলনীয় বর্ণনা অনুসারে সালামান্সের এই শহর দখল করে এবং হিব্রু বাইবেলের মতে ইসরায়েলের পতন তার রাজত্বকালে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।[৫৪] আসিরীয় নির্বাসনের এই আখ্যান থেকে ইহুদীদের নিখোঁজ দশ বংশের ধারণার ভিত্তিমুল গঠিত হয়। পরাজিত রাজ্যের জায়গায় জায়গায় আসিরীয়িরা বিভিন্ন বিদেশী দের নিয়ে এনে আবাসস্থল করার সুযোগ করে দেয়।[৫৫] তবে শমরীয়রা দাবী করে, তারা আসিরীয়দের দ্বারা নির্বাসিত হয় নি বরং তারা প্রাচীন সামারিয়ায় বসবাসরত ইস্রায়েলীয়দের বংশধর।

সিলোম অভিলিখন এর আনুপুঙ্খিক তথ্য

এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ধ্বংসপ্রাপ্ত ইসরায়েল থেকে দলে দলে শরনার্থী যিহুদাতে চলে আসতে থাকে। ফলে জেরুজালেমে জনসমাগম এবং বিভিন্ন মৌলিক চাহিদার অভাব পূরণ করা অনিবার্য হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় পানির অভাব মিটানোর জন্য যিহুদার তৎকালীন রাজা হেজিকিয়াহ (যিনি ৭১৫-৬৮৬ খ্রিষ্ঠপূর্ব অবধি শাসন করেছেন) সিলোম টানেল খনন করেন।[৫৬] এই টানেলের মাধ্যমে রাজ্যটি অবরুদ্ধ করলেও পানির সরবরাহ ঠিক রাখা যেত এবং এর খননকার্যের কথা বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৫৭] খননকর্মীরা হিব্রু ভাষায় এই টানেলের কথা একটি ফলকে লিখে রেখেছে। ১৮৮০ সালে টানেলের ভিতরে এই ফলকটি আবিষ্কৃত হয়। সিলোম অভিলিখন নামে পরিচিত ফলকটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল আর্কিওলজি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।[৫৮] হেজেকির শাসনামলে সারগনের পুত্র সেনাচেরিব যিহুদাকে দখল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হনআসিরীয় তথ্য অনুসারে ৪৬ টা দুর্ভেদ্য শহর তিনি ধ্বংস করে দেন এবং জেরুজালেমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে অনেক উপঢৌকন সম্মান হিসেবে পাওয়ার পর তিনি যিহূদার রাজধানী জেরুজালেম দখল না করে চলে যান।[৫৯] সেনাচেরিব তার রাজধানী নিনেভেতে যিহুদার শহর ল্যাচিসে বিজয়ের কৃতিত্বকে খোদাই করে রাখেন।

"হেজেকিহ ... যিহূদার রাজা" - জেরুজালেমের মাটি থেকে উদ্ধার হওয়া প্যালিও হিব্রু বর্ণমালায় লিখিত রাজ সিল

বিশ্বাস করা হয়, এই সময়টিতেই চারজন ভিন্ন ভিন্ন "নবীর" উদ্ভব হয়। ইসরায়েলের দুইজন নবী হোসিয়া এবং আমোস এবং যিহুদার দুইজন নবী মিকাহইসাইয়া। এ মানুষগুলো মূলত সমাজে বিভিন্ন সমালোচনা জারি রাখত, আসিরীয় হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা তৈরি করত এবং ধর্মীয় মুখ্য পাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতো। তাদের এভাবে সচেতনতার সৃষ্টির ধরনকে বাক স্বাধীনতার একটি ধরনের চর্চা হিসেবে দেখা যেতে পারে এবং ইসরায়েল ও যিহুদাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাদের সরব উপস্থিতি ছিল।[৬০][৬১] তারা শাসক এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বুঝানোর চেষ্টা করত ইজরায়েলের জনগণ অনৈতিক কাজে বারংবার জড়িত হচ্ছে। যার ফলে ক্রোধান্বিত ঈশ্বর আসিরীয় আক্রমণ হিসেবে এইধরনের শাস্তি দিচ্ছেন। তাই এই চারজন নবী সবাইকে আহ্বান করত সবাই যেন ঈশ্বর নির্ধারিত নৈতিকতার চর্চা করে।[৬২]

জোসিয়ার (৬৪১-৬১৯ খ্রিষ্ঠপূর্ব) শাসনামলে দ্বিতীয় বিবরণী বই হয় পুনঃআবিষ্কৃত হয়েছে অথবা প্রথমবারের মত লিখা হয়েছে। এই বইয়ে একজন ঈশ্বরের পথ অনুসরণ করে কিভাবে সঠিকরূপে জীবনযাপন করতে হয়, তার শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। একইসাথে যিহুদার অতীত নায়ক যেমন জসুয়া, ডেভিড ও সলোমনের নানান বীরত্বপূর্ণ কথা নিয়ে বই লেখা হয়েছিল৷ এই বইগুলোর লিখনশৈলী দেখে মনে হয় একজনই এই বই লিখেছেন। এই গল্পতেও নৈতিকভাবে জীবনধারণ করার কথা এবং এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু বইগুলোর সাথে দ্বিতীয় বিবরণীর সংযোগ আছে; তাই অতীত বীরদের এ গল্পগুলোকে দ্বিতীয় বিবরণীয় বলা হয় এবং বিবেচনা করা হয় যিহুদাতে একেশ্বরবাদের উদ্ভবের পিছনে এই গল্প এবং ধর্মীয় পুস্তক গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই বিশ্বাসের উদ্ভব ঠিক সে সময় হয়েছিল যখন আসেরিয়িরা ধীরে ধীরে তাদের কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলছিল এবং ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের উত্তোত্তর বৃদ্ধি হচ্ছিল। ফলে যিহূদার ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছিল। যা অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবিত হয়। [৬৩]

ব্যবিলনীয় সময়কাল (৫৮৭-৫৩৮ খ্রিষ্টপূর্ব)[সম্পাদনা]

The route of the exiles to Babylon

৬৩০ থেকে ৬০১ খ্রিষ্টপূর্বের মধ্যে যিহুদা নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের উপর নির্ভরশীল উপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ৬০১ খ্রিষ্টপূর্বে যিহুদার রাজা জেহোইয়াকিম ব্যবিলনের প্রধান শত্রু মিশরের সাথে মিত্রতা তৈরী করেন। যিহুদার রাজার এ মিত্রতা তৈরীর ব্যাপারে যীহুদার নবী জেরেমিয়াহ তীব্র আপত্তি জানান।[৬৪][৬৫] জেহোইয়াকিমের কাজের শাস্তি হিসেবে ব্যবিলনীয়রা ৫৯৭ খ্রিষ্টপূর্বে জেরুজালেমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সম্পুর্ণ শহর আত্মসমর্পণ করে।[৬৪][৬৬] এই পরাজয়ের ইতিহাস বিজয়ী ব্যবিলনীয়রা রচনা করেছিল[৬৭][৬৮] নেবুচান্দেজার জেরুজালেম লুট করে জেহোইয়াকিম পুত্র রাজা জেহোইয়াচিন এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গদের বন্দী করে ব্যবিলনে নিয়ে যান। জেহোইয়াচিনের চাচা জেদেকিয়াহকে পুতুল রাজা হিসেবে জেরুজালেমের সিংহাসনে বসানো হয়।[৬৪][৬৯] কিছু বছর পর জেদেকিয়াহ ব্যবিলনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তখন ব্যবিলন থেকে জেরুজালেমকে দখল করতে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়।[৬৪]

৫৮৭ অথবা ৫৮৬ খ্রিষ্টপূর্বে ব্যবিলনের রাজা দ্বিতীয় নেবুচন্দজার জেরুসালেম দখল করে নেন। প্রথম মন্দির ধ্বংস করে ফেলেন এবং পুরো শহর লুণ্ঠন করে নেন।[৬৪][৭০][৭১] যিহুদা রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর বেশিরভাগ নাগরিককে ব্যবিলনে নির্বাসিত অথবা বন্দী করা হয়। সার্বভৌম যিহুদা রাজ্য ব্যাবিলনের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। যার নাম দেওয়া হয় ইয়েহুদ। নতুন প্রদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয় মিযপাহতে। যা ধ্বংস হয়ে যাওয়া জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত।[৭০] বন্দী অবস্থায় রাজা জেহোইয়াচিন কী ধরনের খাবার খেতেন, তার ধারণা পাওয়া যায় কিছু ট্যাবলেট থেকে। যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ব্যবিলনের মাটি খুড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পরবর্তীতে ব্যবিলনীয়রা মুক্ত করে দেন। বাইবেল ও তালমুদ উভয় থেকেই জানা যায় ডেভিডিক বংশের উত্তরাধিকার ও ব্যবিলনীয় ইহুদী জাতির নেতা হিসেবে "রস গালুত" (নির্বাসিতদের নেতা) বংশ আত্মপ্রকাশ করে। আরব এবং ইহুদী তথ্য অনুসারে রস গালুত পরিবার আজকের ইরাকে ১৫০০ বছর ধরে বসবাস করত; যার সমাপ্তি ঘটে এগার শতকে।[৭২]

দ্বিতীয় মন্দির সময়কাল[সম্পাদনা]

পারস্যের সময়কাল (৫৩৮-৩৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)[সম্পাদনা]

Obverse of Yehud silver coin
Silver coin (gerah) minted in the Persian province of Yehud, dated c. 375-332 BCE. Obv: Bearded head wearing crown, possibly representing the Persian Great King. Rev: Falcon facing, head right, with wings spread; Paleo-Hebrew YHD to right.

৫৩৮ খ্রিষ্টপূর্বে পারস্যের হাখমোনেশী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মহান কুরুশ ব্যবিলনকে পরাজিত করে তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। সাইরাস একটি ঘোষণাপত্র জারী করেন। যেখানে ব্যবিলনীয়দের দ্বারা দাসত্বের শিকার হওয়া সকল ইহুদীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হয়। (দেখুন সাইরাসের চোঙ)। বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে ব্যাবিলনে নির্বাসিত ইহুদিদের মধ্যে জেরুবেলের নেতৃত্বে ৫০,০০০ ইহুদি মন্দির নির্মাণের জন্য জেরুজালেমে যাত্রা শুরু করে। এরপর ৫১৫ খ্রিষ্টপূর্বে দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয় [৭৩] ইষ্রানেহমিয়ার নেতৃত্বে ৫০০০ জন ইহুদীর আরেকটি দল ৪৫৬ খ্রিষ্টপূর্বে যিহূদাতে প্রত্যাবর্তন করেন। এরজার হাতে এই অঞ্চলে ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এবং নেহমিয়ার হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা পরিচালনার ভার পারস্যের রাজা সমর্পণ করে। এই শহরটিকে সুরক্ষার দেওয়ালগুলোর পুনরায় নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। [৭৪] এই দেশটি ৩৩২ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত ইয়েহুদ নামে হাখমানেশী সাম্রাজ্যের একটি নতুন প্রদেশে পরিণত হয়।

অনুমান করা হয় তোরাহর চূড়ান্ত বিষয়বস্তু পারস্যের সময় কালেই (সম্ভবত ৪৫০-৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বে) লিখিত হয়েছে। এই বিষয়বস্তুতে পূর্বের পাঠ কে সমন্বয় ও নতুন করে আরামীয় লিপিতে (যা আসুরী বর্ণমালা হিসেবে পরিচিত) সম্পাদনা করা হয়।[৭৫] ইস্রায়েলীয়রা এ বর্ণমালা ব্যবহারের জ্ঞান ব্যবিলন থেকে অর্জন করেছে। এভাবেই তাদের জীবনধারা থেকে ক্যানানীয় লিপির ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে যায়। আজকের হিব্রু লিপি আরামীয় লিপিরই আধুনিক সংস্করণ। হিব্রু বর্ষপঞ্জির সাথে ব্যবিলনীয় বর্ষপঞ্জির বহু মিল রয়েছে।[৭৬]

ব্যবিলনে বিপুল সংখ্যক ইহুদীদের নির্বাসনের সময় অন্য অনেকেই যিহুদাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে প্রথম মন্দিরের সময়কালে যারা অভিজাত সম্প্রদায় ছিল তাদের যিহুদাতে প্রত্যাবর্তনের কারণে সেখানে ইতোমধ্যে বসবাস করা মানুষজন চিন্তিত হয়ে পরে।[৭৭][৭৮] যেহেতু প্রত্যাবর্তন করা ইহুদীদের পিছনে পারস্যের ক্ষমতাধর রাজার সমর্থন ছিল, তারা শীঘ্রই এই অঞ্চলে বিশাল জমির মালিক হয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় লোকজনকে প্রত্যাবর্তিত ইহুদীরা তাড়িয়ে দেবে এই ভয়ে খুব সম্ভবত তারা দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল।[৭৭] যিহুদার শাসনে ধর্মরাষ্ট্রের অনুশাসন প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা প্রধান পুরোহিতের[৭৯] বংশধরের দ্বারা পরিচালিত হত এবং পারস্য নিযুক্ত যিহুদার একজন প্রশাসক থাকত, তিনি পারস্যের বিভিন্ন আইন কানুন বাস্তবায়ন করতেন এবং ট্যাক্স সংগ্রহ করে পারস্যে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করতেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইহুদীরাই যিহুদাতে শাসনের দায়িত্ব পেতেন।।[৮০]

মিশরের আসওয়ার নিকটবর্তী এলিফেন্টাইন দ্বীপে পারস্যদের দ্বারা অনুমোদিত ইহুদী সেনাবাহিনীর একটি রক্ষী দল অবস্থান করতে থাকে। এখানে তাদের কার্যক্রম গুলো প্যাপিরাসে লিপিবদ্ধ করা হত। ২০ শতকের প্রারম্ভে ১৭৫ প্যাপিরাস নথি আবিষ্কৃত হয়। যার মধ্যে একটির নাম "পাসওভার প্যাপিরাস"। এই চিঠির মাধ্যমে রক্ষীসেনাদের কিভাবে পাসওভার উৎসব উদযাপন করা হবে তার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।[৮১]

রোমান সময়কাল (খ্রিস্টপূর্ব ৬৪ খ্রিস্টাব্দ – চতুর্থ শতাব্দী)[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব ৬৪ খ্রিস্টাব্দে রোমান জেনারেল পম্পে সিরিয়া জয় করেন এবং জেরুসালেমে হাসমোনীয় গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেন, দ্বিতীয় হিরকানাসকে প্রধান পুরোহিত হিসাবে পুনঃস্থাপন ও যিহূদিয়াকে রোমান সামন্ত রাজ্যে পরিণত করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৭ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধের সময় দ্বিতীয় হিরকানাস প্রেরিত ৩,০০০ জন ইহুদি সেনা জুলিয়াস সিজার ও তাঁর পরামর্শদাতা ক্লিওপেট্রার প্রাণ হরণ করে এবং অ্যান্টিপেটারের নির্দেশে, যার বংশধর সিজারকে যিহূদিয়ার রাজা করেন। [52]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Shen এবং অন্যান্য 2004, পৃ. 825–826, 828–829, 826–857।
  2. Raymond P. Scheindlin (১৯৯৮)। A Short History of the Jewish People: From Legendary Times to Modern Statehood। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 1–। আইএসবিএন 978-0-19-513941-9  Israelite origins and kingdom: "The first act in the long drama of Jewish history is the age of the Israelites"
  3. Facts On File, Incorporated (২০০৯)। Encyclopedia of the Peoples of Africa and the Middle East। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 337–। আইএসবিএন 978-1-4381-2676-0 "The people of the Kingdom of Israel and the ethnic and religious group known as the Jewish people that descended from them have been subjected to a number of forced migrations in their history"
  4. Harry Ostrer MD (২০১২)। Legacy: A Genetic History of the Jewish People। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 26–। আইএসবিএন 978-0-19-997638-6 
  5. "Jew | History, Beliefs, & Facts | Britannica"www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৮-২০In the broader sense of the term, a Jew is any person belonging to the worldwide group that constitutes, through descent or conversion, a continuation of the ancient Jewish people, who were themselves descendants of the Hebrews of the Old Testament. 
  6. "Hebrew | people | Britannica"www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৮-২০ 
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Ben-Eliyahu-2019 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Taylor নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; M-1984 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Mor, M. 2016. P471 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Mor-2016 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  12. Tchernov, Eitan (১৯৮৮)। "The Age of 'Ubeidiya Formation (Jordan Valley, Israel) and the Earliest Hominids in the Levant"। Paléorient14 (2): 63–65। ডিওআই:10.3406/paleo.1988.4455 
  13. Ronen, Avraham (জানুয়ারি ২০০৬)। "The oldest human groups in the Levant"। Comptes Rendus Palevol5 (1–2): 343–351। ডিওআই:10.1016/j.crpv.2005.11.005বিবকোড:2006CRPal...5..343Rটেমপ্লেট:INIST 
  14. "Timeline in the Understanding of Neanderthals"। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০০৭ 
  15. "From 'small, dark and alive' to 'cripplingly shy': Dorothy Garrod as the first woman Professor at Cambridge"। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০০৭ 
  16. "Excavations and Surveys (University of Haifa)"। ১৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০০৭ 
  17. Rincon, Paul (১৪ অক্টোবর ২০১৫)। "Fossil teeth place humans in Asia '20,000 years early'"BBC News। ১৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  18. Bar‐Yosef, Ofer (১৯৯৮)। "The Natufian culture in the Levant, threshold to the origins of agriculture"। Evolutionary Anthropology: Issues, News, and Reviews6 (5): 159–177। এসটুসিআইডি 35814375ডিওআই:10.1002/(SICI)1520-6505(1998)6:5<159::AID-EVAN4>3.0.CO;2-7 
  19. Jonathan M Golden,Ancient Canaan and Israel: An Introduction, OUP, 2009 pp. 3–4.
  20. Avraham, Faust (২০১৮)। "The Birth of Israel"। The Oxford illustrated history of the Holy Land। Robert G. Hoyland, H. G. M. Williamson (1st সংস্করণ)। Oxford, United Kingdom। পৃষ্ঠা 9–11। আইএসবিএন 978-0-19-872439-1ওসিএলসি 1017604304 
  21. Braunstein, Susan L. (২০১১)। "The Meaning of Egyptian-Style Objects in the Late Bronze Cemeteries of Tell el-Farʿah (South)"Bulletin of the American Schools of Oriental Research364 (364): 1–36। এসটুসিআইডি 164054005জেস্টোর 10.5615/bullamerschoorie.364.0001ডিওআই:10.5615/bullamerschoorie.364.0001 
  22. 1177 B.C. : The Year Civilization Collapsed by Eric CLine, Princeton University Press
  23. Dever, William G. Beyond the Texts, Society of Biblical Literature Press, 2017, pp. 89-93
  24. S. Richard, "Archaeological sources for the history of Palestine: The Early Bronze Age: The rise and collapse of urbanism", The Biblical Archaeologist (1987)
  25. Knapp, A. Bernard; Manning, Sturt W. (২০১৬-০১-০১)। "Crisis in Context: The End of the Late Bronze Age in the Eastern Mediterranean"American Journal of Archaeology120 (1): 130। আইএসএসএন 0002-9114এসটুসিআইডি 191385013ডিওআই:10.3764/aja.120.1.0099 
  26. Stager 1998, পৃ. 91।
  27. McNutt 1999, পৃ. 70।
  28. Miller 2005, পৃ. 98।
  29. Miller 2005, পৃ. 99।
  30. Miller 2005, পৃ. 105।
  31. Dever 2003, পৃ. 206।
  32. Mark Smith in "The Early History of God: Yahweh and Other Deities of Ancient Israel" states "Despite the long regnant model that the Canaanites and Israelites were people of fundamentally different culture, archaeological data now casts doubt on this view. The material culture of the region exhibits numerous common points between Israelites and Canaanites in the Iron I period (c. 1200–1000 BCE). The record would suggest that the Israelite culture largely overlapped with and derived from Canaanite culture... In short, Israelite culture was largely Canaanite in nature. Given the information available, one cannot maintain a radical cultural separation between Canaanites and Israelites for the Iron I period." (pp. 6–7). Smith, Mark (2002) "The Early History of God: Yahweh and Other Deities of Ancient Israel" (Eerdman's)
  33. Rendsberg, Gary (2008). "Israel without the Bible". In Frederick E. Greenspahn. The Hebrew Bible: New Insights and Scholarship. NYU Press, pp. 3–5
  34. Gnuse, Robert Karl (১৯৯৭)। No Other Gods: Emergent Monotheism in Israel। England: Sheffield Academic Press Ltd। পৃষ্ঠা 28, 31। আইএসবিএন 1-85075-657-0 
  35. McNutt 1999, পৃ. 35।
  36. Killebrew 2005, পৃ. 230।
  37. Garfinkel, Yossi; Ganor, Sa'ar; Hasel, Michael (১৯ এপ্রিল ২০১২)। "Journal 124: Khirbat Qeiyafa preliminary report"Hadashot Arkheologiyot: Excavations and Surveys in Israel। Israel Antiquities Authority। ২৩ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৮ 
  38. Finkelstein, Israel; Fantalkin, Alexander (মে ২০১২)। "Khirbet Qeiyafa: an unsensational archaeological and historical interpretation" (পিডিএফ)Tel Aviv39: 38–63। এসটুসিআইডি 161627736ডিওআই:10.1179/033443512x13226621280507। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৮ 
  39. Dever, William (২০০১)। What Did the Biblical Writers Know, and When Did They Know It?। Eerdmans। আইএসবিএন 9780802821263 
  40. Thomas, Zachary (২০১৬-০৪-২২)। "Debating the United Monarchy: Let's See How Far We've Come"Biblical Theology Bulletin: Journal of Bible and Culture46 (2): 59–69। আইএসএসএন 0146-1079এসটুসিআইডি 147053561ডিওআই:10.1177/0146107916639208 
  41. "Crying King David: Are the ruins found in Israel really his palace?"Haaretz (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১৮Not all agree that the ruins found in Khirbet Qeiyafa are of the biblical town Sha'arayim, let alone the palace of ancient Israel's most famous king 
  42. Finkelstein, Israel; Silberman, Neil Asher (২০০১)। The Bible unearthed : archaeology's new vision of ancient Israel and the origin of its stories (1st Touchstone সংস্করণ)। New York: Simon & Schuster। আইএসবিএন 978-0-684-86912-4 
  43. Wright, Jacob L. (জুলাই ২০১৪)। "David, King of Judah (Not Israel)"The Bible and Interpretation। ১ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২১ 
  44. The Pitcher Is Broken: Memorial Essays for Gosta W. Ahlstrom, Steven W. Holloway, Lowell K. Handy, Continuum, 1 May 1995 Quote: "For Israel, the description of the battle of Qarqar in the Kurkh Monolith of Shalmaneser III (mid-ninth century) and for Judah, a Tiglath-pileser III text mentioning (Jeho-) Ahaz of Judah (IIR67 = K. 3751), dated 734–733, are the earliest published to date."
  45. Finkelstein, Israel, (2020). "Saul and Highlands of Benjamin Update: The Role of Jerusalem", in Joachim J. Krause, Omer Sergi, and Kristin Weingart (eds.), Saul, Benjamin, and the Emergence of Monarchy in Israel: Biblical and Archaeological Perspectives, SBL Press, Atlanta, GA, p. 48, footnote 57: "...They became territorial kingdoms later, Israel in the first half of the ninth century BCE and Judah in its second half..."
  46. Finkelstein ও Silberman 2002, পৃ. 146-7:Put simply, while Judah was still economically marginal and backward, Israel was booming. ... In the next chapter we will see how the northern kingdom suddenly appeared on the ancient Near Eastern stage as a major regional power
  47. Finkelstein, Israel। The forgotten kingdom : the archaeology and history of Northern Israel। পৃষ্ঠা 74। আইএসবিএন 978-1-58983-910-6ওসিএলসি 949151323 
  48. Finkelstein, Israel (২০১৩)। The Forgotten Kingdom: the archaeology and history of Northern Israel। পৃষ্ঠা 65–66; 73; 78; 87–94। আইএসবিএন 978-1-58983-911-3ওসিএলসি 880456140 
  49. Finkelstein, Israel (২০১১-১১-০১)। "Observations on the Layout of Iron Age Samaria"Tel Aviv38 (2): 194–207। আইএসএসএন 0334-4355এসটুসিআইডি 128814117ডিওআই:10.1179/033443511x13099584885303 
  50. Lemaire, André (২০১৮)। "Israel and Judah"। The Oxford Illustrated History of the Holy Land। Robert G. Hoyland, H. G. M. Williamson (1st সংস্করণ)। Oxford, United Kingdom। পৃষ্ঠা 61–85। আইএসবিএন 978-0-19-872439-1ওসিএলসি 1017604304 
  51. 2 Kings 1 Chronicles
  52. Schipper, Bernd U. (২০২১-০৫-২৫)। "Chapter 3 Israel and Judah from 926/925 to the Conquest of Samaria in 722/720 BCE"A Concise History of Ancient Israel (ইংরেজি ভাষায়)। Penn State University Press। পৃষ্ঠা 34–54। আইএসবিএন 978-1-64602-029-4ডিওআই:10.1515/9781646020294-007 
  53. Younger, K. Lawson (১৯৯৮)। "The Deportations of the Israelites"Journal of Biblical Literature117 (2): 201–227। আইএসএসএন 0021-9231জেস্টোর 3266980ডিওআই:10.2307/3266980 
  54. Yamada ও Yamada 2017, পৃ. 408–409।
  55. Israel, Finkelstein (২০১৩)। The forgotten kingdom : the archaeology and history of Northern Israel। Society of Biblical Literature। পৃষ্ঠা 158। আইএসবিএন 978-1-58983-910-6ওসিএলসি 949151323 
  56. Broshi, Maguen (২০০১)। Bread, Wine, Walls and Scrolls। Bloomsbury Publishing। পৃষ্ঠা 174। আইএসবিএন 1841272019। ৯ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৮ 
  57. 2 Kings 20:20
  58. "Siloam Inscription"Jewish Encyclopedia। ১৯০৬। ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  59. "Sennacherib recounts his triumphs"The Israel Museum। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ২৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  60. Holladay, John S. (১৯৭০)। "Assyrian Statecraft and the Prophets of Israel"। The Harvard Theological Review63 (1): 29–51। আইএসএসএন 0017-8160এসটুসিআইডি 162713432জেস্টোর 1508994ডিওআই:10.1017/S0017816000004016 
  61. Edelman, Diana Vikander; Zvi, Ehud Ben (২০১৪-১২-১৮)। The Production of Prophecy: Constructing Prophecy and Prophets in Yehud (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 978-1-317-49031-9 
  62. Gordon, Robert P. (১৯৯৫)। "The place is too small for us": the Israelite prophets in recent scholarship। Eisenbrauns। পৃষ্ঠা 15–26। আইএসবিএন 1-57506-000-0ওসিএলসি 1203457109 
  63. The Social Roots of Biblical Yahwism by Stephen Cook, SBL 2004 pp 58
  64. Bickerman, E. J. (২০০৭)। Nebuchadnezzar And Jerusalem (ইংরেজি ভাষায়)। Brill। আইএসবিএন 978-90-474-2072-9 
  65. Malamat, A. (1975, January). The twilight of Judah: in the Egyptian-Babylonian maelstrom. In Congress Volume Edinburgh 1974 (pp. 123–145). Brill.
  66. Geoffrey Wigoder, The Illustrated Dictionary & Concordance of the Bible Pub. by Sterling Publishing Company, Inc. (2006)
  67. "Cuneiform tablet with part of the Babylonian Chronicle (605-594 BC)"British Museum। ৩০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৪ 
  68. "Chronicle Concerning the Early Years of Nebuchadnezzar II"www.livius.org। ৫ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১৯ 
  69. The Oxford History of the Biblical World, ed. by Michael D Coogan. Published by Oxford University Press, 1999. p. 350
  70. Lipschits, Oded (১৯৯৯)। "The History of the Benjamin Region under Babylonian Rule"Tel Aviv26 (2): 155–190। আইএসএসএন 0334-4355ডিওআই:10.1179/tav.1999.1999.2.155The destruction of Jerusalem by the Babylonians (586 B.C.E.) is the most traumatic event described in biblical historiography, and in its shadow the history of the people of Israel was reshaped. The harsh impression of the destruction left its mark on the prophetic literature also, and particular force is retained in the laments over the destruction of Jerusalem and the Temple in its midst. [...] most of Judah's inhabitants remained there after the destruction of Jerusalem. They concentrated chiefly in the Benjamin region and the northern Judean hill country. This area was hardly affected by the destruction, and became the centre of the Babylonian province with its capital at Mizpah. [...] The archaeological data reinforce the biblical account, and they indicate that Jerusalem and its close environs suffered a severe blow. Most of the small settlements near the city were destroyed, the city wall was demolished, and the buildings within were put to the torch. Excavation and survey data show that the western border of the kingdom also sustained a grave onslaught, seemingly at the time when the Babylonians went to besiege Jerusalem. 
  71. Finkelstein, Israel; Silberman, Neil Asher (২০০২)। The Bible Unearthed: Archaeology's New Vision of Ancient Israel and the Origin of Its Sacred Texts। New York: Free Press। পৃষ্ঠা 307। আইএসবিএন 0-684-86912-8ওসিএলসি 44509358Intensive excavations throughout Jerusalem have shown that the city was indeed systematically destroyed by the Babylonians. The conflagration seems to have been general. When activity on the ridge of the City of David resumed in the Persian period, the-new suburbs on the western hill that had flourished since at least the time of Hezekiah were not reoccupied. 
  72. "The Exilarchs"। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  73. Nodet 1999, p. 25.
  74. Soggin 1998, p. 311.
  75. Frei 2001, পৃ. 6।
  76. "Jewish religious year"। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৪ 
  77. Jack Pastor Land and Economy in Ancient Palestine, Routledge (1997) 2nd.ed 2013 আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৭২২৬৪-৮ p.14.
  78. Miller 1986, p. 458.
  79. Wylen 1996, p. 25.
  80. Grabbe 2004, pp. 154–5.
  81. Arnold, William R. (১৯১২)। "The Passover Papyrus from Elephantine"Journal of Biblical Literature31 (1): 1–33। জেস্টোর 3259988ডিওআই:10.2307/3259988 


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "Notes" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="Notes"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি