মৃত সাগর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডেড সি(মৃত সাগর)
Dead sea.jpg
As captured by the MODIS on the orbiting Terra satellite
স্থানাঙ্ক ৩১°৩০′ উত্তর ৩৫°৩০′ পূর্ব / ৩১.৫০০° উত্তর ৩৫.৫০০° পূর্ব / 31.500; 35.500স্থানাঙ্ক: ৩১°৩০′ উত্তর ৩৫°৩০′ পূর্ব / ৩১.৫০০° উত্তর ৩৫.৫০০° পূর্ব / 31.500; 35.500
ধরণ এন্ডোরেয়িক
হাইপার-স্যালাইন
প্রাথমিক অন্তর্প্রবাহ জর্দান নদী
প্রাথমিক বহিঃপ্রবাহ বাষ্পায়ন
অববাহিকা ৪০,৬৫০ কিমি (২৫,২৫৮ sq mi)[১]
অববাহিকার দেশসমূহ জর্ডান
ইসরায়েল
সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৬৭ কিমি
সর্বাধিক প্রস্থ ১৫ কিমি (৯.৩ মা)[২]
পৃষ্ঠতলীয় ক্ষেত্রফল ৮১০ কিমি
গড় গভীরতা ১২০ মিটার (৩৯৪ ft)
সর্বাধিক গভীরতা ৩৩০ মিটার (১,০৮৩ ফিট)
পানির আয়তন ১৪৭ কিমি (৩৫ cu mi)
উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিমি(৮৪ মাইল)
পৃষ্ঠতলীয় উচ্চতা -−৪৩০ মি (−১,৪১১ ফু)[৩][সন্দেহপূর্ণ ]
উপকূলের দৈর্ঘ্যের সংজ্ঞায়িত পরিমাপ হয় না

মৃত সাগর (হিব্রু ভাষায়: יָם הַמֶּלַח‎, Yam ha-Melah, "Sea of Salt", আবার হিব্রু ভাষায়: יָם הַמָּוֶת‎, Yam ha-Mavet, "The Sea of Death", এবং আরবি: البحر الميتএই শব্দ সম্পর্কে Al-Bahr al-Mayyit ), এর পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল , পূর্বে জর্ডানজিবুতির আসাল হ্রদের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লবণাক্ত পানির প্রাকৃতিক আধার। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার(১,৩৭৮ ফিট) নিচে এটি পৃথিবীর নিম্নতম স্থলভূমি ।[৪] এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০ ভাগ এবং এটি সমুদ্রের পানির চাইতে ৮.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত ।[৫]

প্রাকৃতিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

স্যাটেলাইট থেকে নেয়া মৃত সাগরের ছবি

প্রায় তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে বর্তমান জর্দান নদী, মৃত সাগর এবং ওয়াদি আরাবাহ অঞ্চল লোহিত সাগরএর পানিতে বারবার প্লাবিত হত। এর ফলে একটি সরু উপসাগরের সৃষ্টি হয়। উপসাগরটি জেজরিল উপত্যকায় একটি সরু সংযোগের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত ছিল ।

প্রাকৃতিক তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরএর মধ্যবর্তী স্থলভাগ যথেষ্ট উচ্চতা লাভ করে। ফলে মহাসাগরের প্লাবনে এই অঞ্চলে সৃষ্ট উপসাগরটি পরিবেষ্টিত হয়ে হ্রদে পরিণত হয়।

এইন গেদির নিকটবর্তী অঞ্চলে তোলা ছবি , মৃত সাগর তীরে জমে উঠা লবণ

৭০,০০০ বছর পূর্ব থেকে ১২,০০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত ডেড সি'র পানির উচ্চতা বর্তমান উচ্চতার চাইতে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার বেশি ছিল। ২৬,০০০ বছর পূর্বে এটির পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে। প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে এর পৃষ্ঠ উচ্চতা নাটকীয় ভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে, যা সম্ভবত বর্তমান পৃষ্ঠ উচ্চতার চাইতেও কম ছিল। গত কয়েক হাজার বছর ধরে এর পানির পৃষ্ঠ উচ্চতা মোটামুটি ৪০০ মিটারের আশেপাশে অবস্থান করছে।

রাসায়নিক উপাদান[সম্পাদনা]

উচ্চ লবণাক্ততার ফলে সৃষ্ট প্লবতায় ভেসে আছেন এক পর্যটক

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে , মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর পার্থক্য আছে । মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াল ক্লোরাইড , ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড , ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে ।

অনেকে বিশ্বাস করেন , ডেড সি এর কাদা অনেক ধরণের রোগ নিরাময়ে সহায়ক

এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০% । ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার ।উচ্চ প্লবতার দরুন যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে । এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউটাহ তে অবস্থিত গ্রেট সল্ট লেক এর মত

স্বাস্থ্যগত প্রভাব[সম্পাদনা]

মৃত সাগর অঞ্চলটি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণাস্থল হয়ে উঠেছে । এর মূলে রয়েছে হ্রদের পানিতে খনিজ দ্রব্যাদির বিপুল উপস্থিতি, বাতাসে এলার্জি উৎপাদক দ্রব্য এবং পরাগরেণুর স্বল্পতা , উচ্চ ভূ-মণ্ডলীয় চাপ, সৌর বিকিরণে অতি বেগুনি উপাদানের কম উপস্থিতি । উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ , শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।[৬]

চর্মরোগ সোরিয়াসিস( psoriasis) এর জন্য দীর্ঘসময় সূর্যস্নান বেশ উপকারী । এ অঞ্চলে অতি বেগুনি রশ্মির স্বল্পতা সূর্যস্নানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে । এছাড়া রোগটি নিরাময়ে জন্য মৃত সাগরের লবণও বেশ উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।[৭]

জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র[সম্পাদনা]

প্রভাতে দেখা ডেড সি

এ হ্রদে কোন উদ্ভিদ বা মাছ বাঁচে না বলেই মূলত একে মৃত সাগর বলা হয়ে থাকে । কেবল সামান্য কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক অণুজীবের সন্ধান পাওয়া যায় ।[৮]

মৃত সাগর তীরবর্তী পাহাড়ী অঞ্চলে উট, খরগোশ , খেকশিয়াল এমনকি চিতাবাঘ দেখতে পাওয়া যায়। অতীতে জর্দান নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে প্যাপিরাস এবং পাম গাছে সমৃদ্ধ বনভূমির অবস্থান ছিল । জোসেফাস তার লেখনীতে জেরিকো কে জুদিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে উর্বরভূমি রুপে উল্লেখ করেন । রোমান এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সময় ইক্ষু , সিকামোর এবং হেনা এ অঞ্চলের উদ্ভিদ বৈচিত্রে সমৃদ্ধি এনে দেয় । জেরিকোতে বালসাম গাছের রস থেকে প্রস্তুত করা হত উন্নত মানের পারফিউম এবং সুগন্ধি । ১৯ শতকের মধ্যে জেরিকোর উর্বরতা অতীত ইতিহাসে পরিণত হয়।

বর্তমানে মানব বসতি[সম্পাদনা]

মৃত সাগরের তীরবর্তী এলাকায় একাধিক ক্ষুদ্র জনবসতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যেে এইন গেদি, নেভে যোহার এবং মিজিলট রিজিওনাল কাউন্সিলের অন্তভূক্ত কালইয়া, মিজপে, শালেম ও আভনাতের ইসরায়েরী জনবসতিগুলো উল্লেখযোগ্য। এইন গেদিতে একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার ও একাধিক হোটেল রয়েছে যেগুলো নেভে যোহারের নিকটবর্তী এইন বোকেক শহরের দক্ষিণপশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এছাড়াও ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ রাস্তা ও বিশ্বের সবচেয়ে নিচু হাইওয়ে ‘হাইওয়ে ৯০’ ইসরায়লী সীমানার মধ্যে উত্তর-দক্ষিণে মিচুলা শহর থেকে লেবাননের সীমান্ত ঘেঁষে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে ৫৬৫ কি.মি. (৩৫১ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে লোহিত সাগরের তীরবর্তী মিশরের ইলাত বন্দরে গিয়ে শেষ হয়। এটি সমুদ্র সমতল থেকে ৩৯৩ মিটার নিচে অবস্থিত। মৃত সাগরের তীরে জর্ডান অধ্যসিত এলাকায় পোতাস সিটি ও সুয়েইমা সহ বেশ কয়েকটি শহর রয়েছে। জর্ডানের ‘হাইওয়ে ৬৫’ উত্তর-দক্ষিন বরাবর জর্ডান সীমানার মাঝে মৃত সাগর পার দিয়ে আকাবা বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইসরায়েলের আরাদ এর নিকটবর্তী অঞ্চলে প্রধান হোটেলগুলোর নির্মাণ শুরু হয় বিশ শতকের ৬০ এর দশক থেকে। সমসাময়িককালে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ফলে জর্ডান উপকূলও ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

মানব ইতিহাসে মৃত সাগর[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টীয় আমল[সম্পাদনা]

গ্রীক ও রোমান শাসনামল[সম্পাদনা]

বাইজেনটাইন শাসনামল[সম্পাদনা]

আধুনিক কাল[সম্পাদনা]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. van der Leeden, Troise, and Todd, eds., The Water Encyclopedia. Second Edition. Chelsea, MI: Lewis Publishers, 1990. page 196.
  2. "Virtual Israel Experience: The Dead Sea"। Jewish Virtual Library। সংগৃহীত ২১ জানুয়ারি ২০১৩ 
  3. "Monitoring of the Dead Sea"। Israel Marine Data Center (ISRAMAR)। 
  4. Israel Marine Data Center (ISRAMAR)
  5. Goetz, P.W. (ed.) The New Encyclopaedia Britannica (15th ed.). Vol. 3, p. 937. Chicago, 1986
  6. "Asthma, Cystic Fibrosis, Chronic Obstructive Lung Disease"Dead Sea Research Center। সংগৃহীত ২০০৭-০৫-২২ 
  7. S. Halevy et al. "Dead sea bath salt for the treatment of psoriasis vulgaris: a double-blind controlled study", Journal of the European Academy of Dermatology and Venereology, Volume 9, Issue 3: 237-242.
  8. Is it true that nothing can live in the Dead Sea?

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]