রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণে বান্দরবান সদর, পটিয়া উপজেলাচন্দনাঈশ উপজেলা, পশ্চিমে বোয়ালখালীরাউজান উপজেলা, উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ও পূর্বে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইরাজস্থলী উপজেলা অবস্থিত।

আয়তন[সম্পাদনা]

৩৫২বর্গ কিলোমিটার

জনসংখ্যার[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।(প্রায়)

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মজুমদার।

ইউনিয়ন: বেতাগী ১৭ বর্গ কিলোমিটার। চন্দ্রঘোনা ১১ বর্গ কিলোমিটার। হোসনাবাদ ২৬ বর্গ কিলোমিটার। কোদালা ২১ বর্গ কিলোমিটার। মরিয়মনগর ১০ বর্গ কিলোমিটার। পদুয়া ৬৫ বর্গ কিলোমিটার। পারুয়া ৩০ বর্গ কিলোমিটার। পোমরা ২২ বর্গ কিলোমিটার। রাজানগর ৩০ বর্গ কিলোমিটার। দঃ রাজানগর ২৯ বর্গ কিলোমিটার। রাঙ্গুনিয়া ১০ বর্গ কিলোমিটার। শরফভাটা ২৮ কিলোমিটার। শিলক ২৩ বর্গ কিলোমিটার । লালানগর ১৪ বর্গ কিলোমিটার। ইসলামপুর ১৫ বর্গ কিলোমিটার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

  • মুসলমান শাসকগণও রাঙ্গুনিয়া শাসন করেছেন।
রাঙ্গুনিয়ার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। চাকমা রাজা ও রোসাং রাজাদের আদিবাস ছিলো এইখানে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৮৯.১৯%।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • রাঙ্গুনিয়ায় ৯টি কলেজ।
  • ৩৮টি উচ্চ বিদ্যালয়।
  • ১টি কামিল মাদ্রাসা।
  • ১৮টি আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা।
  • ১৮টি কঔমি মাদ্রাসা।
  • ৭৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • ১৯টি বেসরকারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
  • রাঙ্গুনিয়া কলেজ,রাঙ্গুনিয়া মডেল হাই স্কুল(১৯১৫)
  • আলমশাহ্‌পাড়া কামিল মাদ্রাসা এর মধ্যে বিখ্যাত।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিখ্যাত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান:-

  • রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৫)
  • দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫)
  • রাঙ্গিনিয়া কলেজ (১৯৬৩)।
  • কদমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৮৭)।
  • পদুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯০২)।
  • রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখিল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৭)।

পত্রিকাসমূহ[সম্পাদনা]

  • রূপালী রাঙ্গুনিয়া
  • আশার আলো

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

গুমাই বিল:-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশজুড়ে বিশাল এ মাঠের অবস্থান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী,গুমাই বিলে আবাদ করা আড়াই হাজার হেক্টর জমি থেকে ২ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়,যার আনুমানিক মূল্য ২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ বিলে চাষ করেন প্রায় সাত হাজার কৃষক। গুমাই বিল থেকে দেশের জনগোষ্ঠীর আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম।

ধান কাটার এ মৌসুমে নেত্রকোনা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রংপুর, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষিশ্রমিকেরা এখানে এসে জড়ো হন। দৈনিক ৬৫০/৭৫০ অন্যরা দুই বেলা খাবার খেয়ে এবং ৩০০/৩৫০ টাকাতে মজুরিতে গুমাই বিলে ধান কাটেন।


রাঙ্গুনিয়ায় ২টি চা-বাগান, কর্ণফুলী জুট মিল/ফোরাত কার্পেট মিল আছে। কর্ণফুলী জুট মিল থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সুতা রফতানি হয় বিভিন্না দেশে।কার্পেট মিল থেকে উৎপাদিত সুতা ইরান, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইংল্যান্ড, তুরস্ক, ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। অর্জন করছে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা।

কোদালা চা-বাগান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের 'কোদালা' চা বাগানের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয় ১৮২৮ সালে। কোদালায় ১৮২৮ সালে চা বাগান গড়ে উঠেছিল।এটি দেশের প্রথম চা বাগান।কোদালায় উৎপাদিত চা বিদেশে রফতানী করা হয়।

আগুনিয়া চা-বাগান উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার পূর্ব সীমান্তে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংলগ্ন আগুনিয়া চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন এখানে আসছেন পর্যটক। অন্যদিকে বাগানের উৎপাদিত ক্লোন চা পাতা বিদেশে রফতানি হওয়ায় দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ পরিবারের হাতে। ব্রিটিশরা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৫২ সালে বাগানটি নিলাম হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে এটির তদারকির দায়িত্ব নেন লালানগর ইউনিয়নের সমাজসেবক মীর সোলতানুল হক। তিনি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে আবার চা পাতা উৎপাদনের কাজ চালু করেন। বাগানের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'আগুনিয়া চা বাগান'।


চা-বাগানের পাশে আছে বিশাল রাবার বাগান, প্রতিদিন কাঁচা রাবার উৎপাদন হয়।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, আর সকল ধরণের শাক-সবজ্বি উৎপদিত হয়।

প্রাকৃতিক দৃশ্য[সম্পাদনা]

আমাদের রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যেকদিন ইউনিয়ন প্রাকৃতিক ভাবে সুন্দর। প্রাকতিক সৌর্ন্দযের লীলাভূমি আমাদের রাঙ্গুনিয়া,চারিদিকে পাহাড় আর পাহাড়। এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি করা হয়েছে। শেখ রাসেল এভিয়ারি এন্ড ইকো পার্ক এ প্রতিদিন বিভিন্না জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে উড়ছে হাজার হাজার পাখি । পাখিদের কলতানে মুখরিত পুরো বন। মাথার সিঁথির মতো বুনো পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনোদন পিয়াসী মানুষ। পুরো এলাকা ভরে যাচ্ছে সবুজে ।এ পার্ককে ঘিরে এলাকাটিতে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্র। ঘটছে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন ।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]


  • গুণালঙ্কার মহাস্থবির (১৮৭৪ - ১৯১৬) - জন্ম. শীলক গ্রাম, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও লেখক ।

বিবিধ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য:

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স - ০১ টি
  • বেসরকারী হাসপাতাল - ৫ টি
  • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র - ০৭ টি

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য:

  1. মসজিদ - ৩৫৯ টি
  2. মন্দির - ৪২ টি
  3. প্যাগোডা - ৪১ টি
  4. গীর্জা - ৩ টি
  5. তীর্থস্থান - ০১ টি

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]