কৃষিকার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কৃষিকার্য বা কৃষি (ইংরেজি: Agriculture) মানবজাতির আদিমতম পেশা হিসেবে চিহ্নিত। মানুষের জীবনধারনের জন্য শষ্য উৎপাদন কিংবা গৃহপালিত পশু রক্ষণাবেক্ষনের জন্যে যথোচিত খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল উৎপাদন ও সরবরাহসহ বহুবিধ উদ্দশ্যে প্রতিপালনের লক্ষ্যে কৃষিকার্য নির্বাহ করা হয়। যিনি কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট তিনিই কৃষক

কৃষিকার্য প্রচলনের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। আধুনিক পর্যায়ে এসে কৃষির উন্নয়ন ও উত্তরণ বহুমূখী জলবায়ু, সংস্কৃতি এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সবধরনের কৃষিকাজই উপযুক্ত কলা-কৌশল প্রয়োগ ও ভূমির উপযুক্ততা নিরূপণপূর্বক ব্যবহার উপযোগী ফসল বপনের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে সময়ে সময়ে ফসল বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনীয় সেচও প্রয়োগ করতে হয়।

ফসল বৃদ্ধিকল্পে আধুনিক চাষাবাদে কীটনাশক, উদ্ভিদের পরাগায়ণ, সার প্রয়োগ এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর প্রাণপন প্রয়াস চালানো হচ্ছে। এরফলে, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতাসহ জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসাযজ্ঞ দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক ও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।[১]

উৎপাদিত কৃষি পণ্য[সম্পাদনা]

উৎপাদিত কৃষি পণ্যকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তন্মধ্যে খাদ্য, তন্তুজাত পদার্থ, জ্বালানী এবং কাঁচামাল সামগ্রী অন্যতম। একবিংশ শতাব্দীতে এসে উদ্ভিদের সাহায্যে জৈবজ্বালানী, জৈবঔষধ, জৈবপ্লাস্টিকজাত পণ্য[২] উৎপাদনসহ ঔষধ শিল্পে[৩] ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে দানাদার শষ্য, শাকসব্জী, ফলমূল এবং মাংস; তন্তুজাত দ্রব্যের মধ্যে তুলা, উল, দড়ি, রেশম এবং ফ্লাক্স; কাঁচামালের মধ্যে এবং বাঁশ অন্যতম। অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্ভিদজাত পণ্যের মধ্যে রেজিন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। জৈবজ্বালানী হিসেবে মিথেন, ইথানল এবং বায়োডিজেল রয়েছে। এছাড়া, ফুল বিক্রয়, চারাগাছ, পোষা প্রাণী, বিশেষ প্রজাতির মাছ, পাখি কৃষি পণ্য হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা ও লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও জল ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে উত্তরোত্তর বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।[৪]

২০০৭ সালে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ লোক কৃষির সাথে জড়িত ছিলেন। সেবা খাত হিসেবে কৃষিকে অর্থনৈতিক খাতে নিয়েছেন যাতে বিশ্বের অধিকাংশ লোক বিনিয়োজিত রয়েছেন।[৫] কিন্তু এর বিশাল কর্মক্ষেত্রতা, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন প্রভৃতি বিষয় থাকা স্বত্ত্বেও বৈশ্বিক মোট উৎপাদনশীলতায় এর অবদান ৫%-এর চেয়েও কম।

জ্বালানী ও কৃষি[সম্পাদনা]

১৯৪০-এর দশক থেকে কৃষি উৎপাদন অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল জ্বালানী নির্ভর যান্ত্রিক পরিবহন, সার এবং কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার। তন্মধ্যে এ খাতে সবচেয়ে বেশী জ্বালানী এসেছে জীবাশ্ম বা কয়লাজাত জ্বালানী থেকে।[৬]

কৃষি নীতি[সম্পাদনা]

কৃষি নীতির মাধ্যমে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন, বিপণন, সরবরাহ পদ্ধতির উপর দিক-নির্দেশনা থাকে। সচরাচর কৃষিকার্যের নীতিমালা প্রণয়নের সময় নিম্নোক্ত প্রধান বিষয়াবলীর দিকে আলোকপাত করা হয় -

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Human Health Issues | Pesticides | US EPA"। Epa.gov। 28 June 2006। সংগৃহীত 26 November 2009 
  2. Brickates Kennedy, Val (16 October 2007)। "Plastics that are green in more ways than one"The Wall Street Journal (New York)।  একের অধিক |work= এবং |newspaper= উল্লেখ করা হয়েছে (সাহায্য)
  3. "Growing Plants for Pharmaceutical Production vs. for Food and Feed Crops"bio.org। Washington DC: Biotechnology Industry Organization। সংগৃহীত 2 October 2009 [অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Reengaging in Agricultural Water Management: Challenges and Options"। The World Bank। পৃ: 4–5। সংগৃহীত 30 October 2011 
  5. "Key Indicators of the Labour Market Programme"। International Labour Organization। 7 September 2009। 
  6. "World oil supplies are set to run out faster than expected, warn scientists". The Independent. 14 June 2007.
  7. Record rise in wheat price prompts UN official to warn that surge in food prices may trigger social unrest in developing countries
  8. Trumbull, Mark (24 July 2007). "Rising food prices curb aid to global poor", The Christian Science Monitor (Boston).

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • Alvarez, Robert A. (2007). "The March of Empire: Mangos, Avocados, and the Politics of Transfer". Gastronomica, Vol. 7, No. 3, 28–33. Retrieved on 12 November 2008.
  • Bolens, L. (1997). "Agriculture" in Selin, Helaine (ed.), Encyclopedia of the history of Science, technology, and Medicine in Non Western Cultures. Kluwer Academic Publishers, Dordrecht/Boston/London, pp. 20–22.
  • Collinson, M. (ed.) A History of Farming Systems Research. CABI Publishing, 2000. ISBN 978-0-85199-405-5
  • Crosby, Alfred W.: The Columbian Exchange: Biological and Cultural Consequences of 1492. Praeger Publishers, 2003 (30th Anniversary Edition). ISBN 978-0-275-98073-3
  • Davis, Donald R.; Riordan, Hugh D. (2004). "Changes in USDA Food Composition Data for 43 Garden Crops, 1950 to 1999". Journal of the American College of Nutrition, Vol. 23, No. 6, 669–682.
  • Duplessis, Robert. S. (1997). "Transitions to Capitalism in Early Modern Europe." Cambridge University Press.
  • Friedland, William H.; Barton, Amy (1975). "Destalking the Wily Tomato: A Case Study of Social Consequences in California Agricultural Research". Univ. California at Sta. Cruz, Research Monograph 15.
  • Mazoyer, Marcel; Roudart, Laurence (2006). A history of world agriculture : from the Neolithic Age to the current crisis. Monthly Review Press, New York. ISBN 978-1-58367-121-4
  • Saltini A. Storia delle scienze agrarie, 4 vols, Bologna 1984–89, ISBN 978-88-206-2412-5, ISBN 978-88-206-2413-2, ISBN 978-88-206-2414-9, ISBN 978-88-206-2414-9
  • Watson, A.M. (1974). "The Arab agricultural revolution and its diffusion", in The Journal of Economic History, 34.
  • Watson, A.M. (1983). Agricultural Innovation in the Early Islamic World, Cambridge University Press.
  • Wells, Spencer (2003). The Journey of Man: A Genetic Odyssey. Princeton University Press. ISBN 978-0-691-11532-0
  • Wickens, G.M. (1976). "What the West borrowed from the Middle East", in Savory, R.M. (ed.) Introduction to Islamic Civilization. Cambridge University Press.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

Farmer Power: The Continuing Confrontation between Subsistence Farmers and Development Bureaucrats by Tony Waters at Ethnography.com [১]