ফটিকছড়ি উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২২°৪১′০০″ উত্তর ৯১°৪৮′১৫″ পূর্ব / ২২.৬৮৩৩° উত্তর ৯১.৮০৪২° পূর্ব / 22.6833; 91.8042

ফটিকছড়ি উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
ফটিকছড়ি
বিভাগ
 - জেলা
চট্টগ্রাম বিভাগ
 - চট্টগ্রাম জেলা
স্থানাঙ্ক ২২°৪১′০০″ উত্তর ৯১°৪৮′১৫″ পূর্ব / ২২.৬৮৩৩° উত্তর ৯১.৮০৪২° পূর্ব / 22.6833; 91.8042
আয়তন ৭৭৩.৫৫ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (1991)
 - ঘনত্ব
388013
 - ৫০২ বর্গকিমি
মানচিত্র সংযোগ: Official Map of Fatikchhari

ফটিকছড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা এর আয়তন ৭৭৩ বর্গ কিলো মিটার এবং এটি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। এই উপজেলায় ১৯৭ টি গ্রাম এবং ৯৭ টি মৌজা আছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

ফটিক অর্থ স্বচ্ছ ও ছড়ি অর্থ ঝর্ণা বা খাল। উপজেলার পশ্চিমাংশে ফটিকছড়ি খাল নামক একটি স্বচ্ছ ঝর্ণা আছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরা খালটি সীতাকুন্ড পাহাড়ী রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়ে যোগিনী ঘাটা নামক স্থানে হালদা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। একসময় ফটিকছড়ি উপজেলার অবস্থান ছিল ভূজপুরের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত এই ফটিকছড়ি নদীর তীরে। ফটিকছড়ি খাল হতেই এই থানার নামকরণ হয়।[১] এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলায় ফটিকছড়ি নামে একটি ইউনিয়ন আছে।[২]

অবস্থান[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার ২০টি উপজেলার মধ্যে একটি ফটিকছড়ি উপজেলা । ফটিকছড়ি উপজেলা ২২.৩৫ ডিগ্রি হতে ২২.৫৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯১.৩৮ ডিগ্রি হতে ৯১.৫৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এই উপজেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলালক্ষীছড়ি উপজেলা এবং মানিকছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলাকাউখালী উপজেলা এবং রাউজান উপজেলা। দক্ষিণে হাটহাজারী উপজেলা। পশ্চিমে সীতাকুন্ড পাহাড়, সীতাকুন্ড উপজেলা এবং মীরসরাই উপজেলা[৩]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি পৌরসভা এবং মোট আটারোটি ইউনিয়ন আছে। যথা:

বিবিরহাট ফটিকছড়ি উপজেলা এবং পৌরসভার সদর।

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে সংসদীয় আসন সংখ্যা ৩০০টি এবং চট্টগ্রাম জেলায় সংসদীয় আসনের সংখ্যা ১৬টি।[৪] ফটিকছড়ি উপজেলা বাংলাদেশের সংসদীয় আসন সমূহের তালিকায় ২৭৯ নম্বর এবং চট্টগ্রামের ষোলটি আসনের মাঝে হচ্ছে চট্টগ্রাম-২ আসন।[৫]

সংসদ সদস্য বৃন্দ[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা পূর্ববর্তি আইন পরিষদের সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

  • ১. খান বাহাদুর ফরিদ আহমদঃ সময় কাল ১৯৪৬-৫৪ ইংরেজী। ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভায় ফটিকছড়ি-রাউজান-হাটহাজারী আসনে পূর্ব বঙ্গীয় মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে এম,এল,এ নির্বাচিত হন।
  • ২. মরহুম এ.কে. খানঃ সময় কাল ১৯৪৬-৫৪ ইংরেজী, ১৯৬২-৬৪ ইংরেজী। ১৯৪৬ সালে তিনি ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রাম উত্তর মহকুমা আসন হতে গভর্ণর জেনারেল কর্তৃক গণ পরিষদে এম.সি.এ নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে ফটিকছড়ি-হাটহাজারী-পাঁচলাইশ-বোয়ালখালী আসন হতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম,এন,এ নির্বাচিত হন।
  • ৩. মওলানা ওবাইদুল আকবরঃ সময় কাল- ১৯৫৪-৫৮ ইংরেজী। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের ফটিকছড়ি আসনে পাকিস্তান নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যুক্ত ফ্রন্ট হতে এম.পি.এ নির্বাচনী হন।
  • ৪. শ্রী পুর্ণেন্দু দস্তিদারঃ সময় কাল- ১৯৫৪-৫৮ ইংরেজী। তিনি অল ইন্ডিয়া কমুনিষ্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রাম উত্তর মহকুমার হিন্দু আসনে এম.পি.এ নির্বাচিত হন।
  • ৫. মির্জা আবু আহমদঃ সময় কাল- ১৯৬২-৬৫ ইংরেজী, ১৯৬৫-৭০ ইংরেজী। ১৯৬২ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের ফটিকছড়ি-হাটহাজারী আসনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এম.পি.এ নির্বাচিত হন। পরবর্তী ১৯৬৫ সালেও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের ফটিকছড়ি-মিরশ্বরাই আসনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এম.পি.এ নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তি সংসদ সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

  • ১. মির্জা আবু মনসূরঃ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ২. নুরুল আলম চৌধুরীঃ ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে প্রথম বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৩. জামাল উদ্দীন আহমদঃ ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৪. নুরুল আলম চৌধুরীঃ ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৫. মজাহারুল হক শাহ্‌ চৌধুরীঃ ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাসদ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৬. নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীঃ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৭. রফিকুল আনোয়ারঃ ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের পর পর দুই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৮. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী: ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ৯. নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী: ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। [৬]

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূ-প্রকৃতি[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি খালের উপর সেতু, যার নামে ফটিকছড়ি উপজেলার নামকরণ হয়

দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত ফটিকছড়ি ভূ-প্রাকৃতিক দিক দিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ। পশ্চিম প্রান্তে সীতাকুন্ড পাহাড়ী রেঞ্জ, যার বিস্তৃতি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য হতে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম শহর পর্য্যন্ত। এই পাহাড়ের অপর পাড়ে সীতাকুন্ড উপজেলা এবং মীরসরাই উপজেলা। পূর্ব প্রান্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়। ফটিকছড়ির প্রধান নদী হালদা। হালদা নদী উপজেলার মধ্যভাগ চিরে উত্তর দিক হতে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যান্য নদী এবং খালের মধ্যে রয়েছে সীতাকুন্ড পাহাড়ী রেঞ্জ হতে উৎপন্ন হওয়া গজারিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি খাল। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে উৎপন্ন মানিকছড়ি, ধুরুং এবং সর্তা খাল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৬৬৬ খৃষ্টাব্দে দিল্লীর বাদশা আওরঙ্গজেবের শাসনকালে বাংলার শাসনকর্তা সুবেদার শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমেদ আলী খাঁ আরাকান রাজকে পরাজিত করে চট্টগ্রাম দখল করে এর নামকরন করেন ইসলামাবাদ। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য ও শান্তি শৃংখলা রক্ষাকল্পে সমগ্র এলাকাকে ৭টি চাকলায় ভাগ করে এক একটি পরগনার এক একটি নামকরণ করেন। বাংলার বার ভুইঁয়াদের অন্যতম স্বাধীনতাকামী ঈসা খাঁ এ অঞ্চলে অবস্থানকালে বাইশপুর সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ‘ইছাপুর পরগনা’ গঠন করেন। বঙ্গশার্দুল ঈসা খাঁর নামানুসারেই সাবেক ‘ইছাপুর পরগনা’ই পরবর্তিতে বর্দ্ধিত আকারে হয় বর্তমানের ফটিকছড়ি উপজেলা।[৭]

১৯১৮ সালে ফটিকছড়ি থানার সৃষ্টি হয়।[৩] ২০০৭ সালের ২১ শে জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের আই জি নূর মোহাম্মদ ফটিকছড়ি থানার মধ্যে নতূন ভূজপুর থানার উদ্বোধন করেন ।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৪১,৮৬৩ জন। পুরুষঃ ২,২৬,৩১৬ জন এবং মহিলাঃ ২,১৫,৫৪৭ জন। জনসংখ্যার ঘনত্বঃ প্রতি কিলোমিটারে ৫৭১ জন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি ডিগ্রী কলেজ

ফটিকছড়িতে সর্বমোট ৫টি কলেজ, ২টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৪৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮টি বালিকা বিদ্যালয়, ৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কামিল, আলিম,এবং দাখিল সহ মোট ৩১ টি মাদ্রাসা, ৩০০ টি এবতেদায়ী ও কওমী মাদ্রাসা, ১৩৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ টি রেজিস্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪ টি অনুমোদিত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫ টি কিন্ডারগার্টেন আছে। [১] উপজেলার সাতটি কলেজ এবং স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে। [৮]

কলেজ সমূহ[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ির আয়ের প্রধানতম উৎস হচ্ছে দেশের বাইরের অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এছাড়াও চা চাষ এবং রাবার উৎপাদন এখানকার আয়ের অন্যতম উৎস। প্রধান কৃষি ফসল: ধান, আলু, মরিচ, বেগুন, চা এবং রাবার। প্রধান রপ্তানী দ্রব্যের মধ্যে আছে চা এবং রাবার।

চা ও রাবার শিল্প[সম্পাদনা]

চা শিল্প[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে ১৭টি চা বাগা্নের অবস্থান ফটিকছড়ি উপজেলায়। [১০][১১]

  • আচিয়া চা বাগান
  • আঁধারমানিক চা বাগান
  • বারমাসিয়া চা বাগান
  • দাঁতমারা চা বাগান
  • এলাহী নূর চা বাগান
  • হালদা ভ্যালি চা বাগান
  • কৈয়াছড়া চা বাগান
  • কর্ণফুলী চা বাগান
  • মা জান চা বাগান
  • মোহাম্মদ নগর চা বাগান
  • নাছেহা চা বাগান
  • নারায়ণহাট চা বাগান
  • নিউ দাঁতমারা চা বাগান
  • উদালিয়া চা বাগান
  • চা বাগান
  • রামগড় চা বাগান
  • রাঙ্গাপানি চা বাগান

রাবার শিল্প[সম্পাদনা]

ফটিকছড়িতে তিনটি রাবার বাগান আছে। [১২] এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বিশাল আয়তনের বাগানটি (দাঁতমারা রাবার বাগান) রয়েছে এ ফটিকছড়িতে। যার আয়তন সাড়ে চার হাজার একর। [১৩]

  • দাঁতমারা রাবার বাগান (৪৫০০ একর)
  • তারাকোঁ রাবার বাগান (৩০০০ একর)
  • কাঞ্চননগর রাবার বাগান (২২০০ একর) [১৩]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

ফটিকছড়িতে বিদ্যমান কাঁচা পাকা মিলিয়ে সর্বমোট সড়ক-দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৮৮০ কিলোমিটার। তার মধ্যে পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য ৩৯ কিলোমিটার, আধা পাকা রাস্তা ১৩৩ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তার দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৭০৮ কিলোমিটার।[১৪] ফটিকছড়ির উপর দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে দুটি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং তিনটি জেলা সড়ক গিয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়ক R160 (৯৮ কিমি দীর্ঘ) হাটহাজারী পৌরসভা হতে ফটিকছড়ি পৌরসভার উপর দিয়ে খাগড়াছড়ি গিয়ে পৌঁচেছে।[১৫] আঞ্চলিক মহাসড়ক R152 (৪৮ কিমি দীর্ঘ) পেলাগাজীর দীঘির মোড় হতে কাজিরহাট, নারায়নহাট এবং হেয়াকোঁ হয়ে বারৈয়ারহাটে গিয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাথে মিলিত হয়েছে।[১৬] এছাড়াও জেলা সড়ক তিনটি হচ্ছে, Z1021 (২০ কিমি দীর্ঘ) নারায়ণহাট থেকে মীরসরাই, Z1619 (২৪ কিমি দীর্ঘ) ফটিকছড়ি পৌরসভা হতে রাউজান এবং Z1086 (২৩ কিমি দীর্ঘ) সীতাকুন্ড হতে হাজারীখীল হয়ে পেলাগাজীর দীঘি পর্য্যন্ত।

একসময় নৌকা যোগে চট্টগ্রাম শহর হতে মালামাল আনা নেয়ার জন্য হালদা নদী নৌ-পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। চাকতাই থেকে মাল বোঝাই করে নৌকা আসতো নাজিরহাট, বিবিরহাট, কাজিরহাট এবং নারায়ণহাট পর্য্যন্ত। স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা সুলভ হওয়ায় এবং হালদার নাব্যতা কমে যাবার দরুন নৌ-যোগাযোগ কমে এসেছে।

ফটিকছড়ি প্রায় বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার ও সুলভ।

ঐতিহাসিক স্থান[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি উপজেলার উল্লেখ্যোগ্য দর্শনীয়স্থান গুলো্র তালিকা।[১]

  • মাইজ ভান্ডার শরীফ, নানুপুর
  • ভূজপুর জমিদার বাড়ি এবং ফাঁসির ঘর, পূর্ব ভূজপুর[১৭]
  • মং রাজার দীঘি, পশ্চিম ভূজপুর
  • আহসান উল্লাহ খাঁ গোমস্তার মসজিদ, বক্তপুর (আনুমানিক ৪০০ বছর পুরনো)
  • জুনির বাপের মসজিদ, ফতেহপুর
  • কুন্ডুর কাচারী, জাহানপুর
  • মুরালী মসজিদ, ধর্মপুর
  • লাইল্যা-হরাইল্যার মসজিদ, আবদুল্লাহপুর
  • মুফতি গরীবুল্লাহর মসজিদ
  • পেলাগাজীর মসজিদ, পাইন্দং
  • মোর-আলী মসজিদ
  • বন্দেরাজা মসজিদ, লেলাং

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ফটিকছড়ি অনেক গুণী ব্যক্তির জন্মস্থান। [১৮]

  • জমিদারকবি কাজি হাসমত আলী (জন্ম-১৮৩২, - পূর্ব ভূজপুর) চিন ফগপুরশাহ কাব্যের রচিয়তা[১৭]
  • প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম (জন্ম ১৯৩৯, ঝিনাইদহ, আদি নিবাস নারায়নহাট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত গবেষক ও বিজ্ঞানী।
  • ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮১, বক্তপুর) ভাষাবিদ ও লেখক
  • কবি সাবিরিদ খান (জন্ম-নানুপুর) বিদ্যাসুন্দর, রসূল বিজয়, হনিফা ও কয়রাপরী কাব্যের রচিয়তা
  • আবদুল বারী চৌধুরী (জন্ম-দৌলতপুর) বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী।
  • শুভ রায় (রোসাংগিরি) বিজ্ঞানী এবং কৃত্রিম কিডনির আবিষ্কারক।
  • পূর্ণিমা (অভিনেত্রী) (রোসাংগিরি) চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
  • সুব্রত বড়ুয়া (জন্ম- ১৯৪৬, ছিলোনিয়া, পাইন্দং) কথা সাহিত্যিক
  • মওলানা সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভান্ডারী (১৮২৬-১৯০৬, জন্ম- নানুপুর) তাপস[১৯]
  • তাজুল ইসলাম (বীরপ্রতিক) (জন্ম- বাগানবাজার) বীরপ্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
  • মাওলানা গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (জন্ম- নানুপুর) তাপস
  • কবি আবদুল মজিদ পন্ডিত (জন্ম- পশ্চিম ভূজপুর) পুঁথি লেখক
  • কবি মোহাম্মদ রজা (জন্ম-বক্তপুর) পুঁথি লেখক
  • কবি মোহাম্মদ মুকিম (জন্ম- ১৮শ শতক – সুন্দরপুর) গোলে বকাওলী কাব্যের রচিয়তা
  • সৈয়দ আবদুল ওয়ারেস (১৮৬৮-১৯২৮, পূর্ব ভূজপুর) নীতি দর্পণ গ্রন্থের লেখক
  • অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুল আলম (জন্ম-১৯৪৩, ধর্মপুর) লেখক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক
  • অধ্যাপক মনসুর মুসা (জন্ম-১৯৪৫, ধর্মপুর) বাংলা একাডেমীর সাবেক মহা পরিচালক, গবেষক এবং লেখক
  • খালেদা হানুম (জন্ম- ১৯৪০, নানুপুর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং বহুমাত্রিক লেখিকা।
  • সালমা চৌধুরী (১৯৪১-২০০২)লেখিকা ও ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের কন্যা।
  • মৌলবী বদিউল আলম (জন্ম- দৌলতপুর) কবি। অমৃত নির্ঝর লেখক
  • চৌধুরী আহমদ ছফা (জন্ম- ১৯৩০-২০০৮, পূর্ব ভূজপুর) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক। কালান্তর সাহিত্যে ফটিকছড়ির এক বিস্মৃত অধ্যায় (২০০১) এর লেখক।
  • প্রফেসর মোহাম্মদ আলী (জন্ম- ১৯৩৪) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এবং লেখক।
  • একেএম এমদাদুল ইসলাম (জন্ম- ১৯৩৩, দৌলতপুর) রাজনীতিবিদ এবং লেখক
  • মোহাম্মদ লোকমান (১৯৩৪-২০০৫, রোসাঙ্গিরি) আইনজীবি ও তাত্ত্বিক লেখক।
  • ডা: তারেক মঈনুল ইসলাম (১৯৩৬-১৯৭৯, শাহনগর) লেখক, সমাজসেবক

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]