মুফতি মাহমুদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাওলানা মুফতি মাহমুদ
Maulana Mufti Mahmud

Minister
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৯৭২ – ১৯৭৩
পূর্বসূরীসরদার বাহাদুর খান
উত্তরসূরীইনয়াতুল্লাহ খান গানাপুর
আমির জামিয়াত এলেম-ই ইসলাম
কাজের মেয়াদ
১৯৬৮ – ১৯৮০
পূর্বসূরীমাওলানা আব্দুল্লাহ ডার্কভাবাসি
উত্তরসূরীমাওলানা ফজল-উদ-রেহমান
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯১৯
কুলাচি, ডেরা ইসমাইল খান জেলা
মৃত্যু১৯৮০ (বয়স ৬১)
কুলাচি, ডেরা ইসমাইল খান জেলা
জাতীয়তাপাকিস্তানি
রাজনৈতিক দলভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (সদস্য)
জামিয়াত এলেম-ই ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা)
সন্তানমাওলানা ফজল-উদ-রেহমান
মাওলানা লুৎফ উর রেহমান
আতা-উর-রেহমান
পেশারাজনীতিবিদ
ধর্মইসলাম

মুফতি মাহমুদ (পশতু: مولانا مفتى محمود), (১৯১৯–১৯৮০) ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর একজন সদস্য, এবং পাকিস্তানের ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন জামিয়াত উলেমা-ই ইসলাম এর অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।[১]

প্রাথমিক জীবন এবং কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯১৯ সালের জানুয়ারীতে তিনি খান জেলার ডেরা ইসমাইলের আব্দুল খেলের মারভাত পশতুন সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে জন্ম নেন। তিনি ভারতের মোরাদাবাদে জামিয়া কাসিমিয়া থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৪১ সালে তিনি আইশেহেল, মিয়ানওয়ালিতে একজন শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিকভাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর একজন কর্মী ছিলেন এবং ১৯৪০-এর দশকের দিকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিভাজনে বিশ্বাসী ছিলেননা তাই প্রাথমিকভাবের এর বিরোধিতা শুরু করেন এবং মুসলিম লীগের বিরুদ্ধেও প্রচার প্রচারনা শুরু করেন।[১]

পাকিস্তানে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৫০ শতকের শুরুর দিকে তিনি পাঞ্জাবের মুবারান প্রদেশের একটি মাদ্রাসা কাসিম-উল উলুমের একজন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীকালে তিনি তার অসাধারণ মেধার সুবাদে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রধান মুদাররেস, প্রধান মুফতি, শাইখ-উল-হাদীস ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় প্রায় ২৫,০০০ এর মত ফতোয়া দেন।[১] তিনি আইয়ুব খানের জারী করা 'ওয়ান স্কিল স্কিম' এর বিরোধিতা করেন। মুফতি মাহমুদ আইয়ুব খানের 'মৌলিক গণতন্ত্র কার্যক্রম' এর অধীনে প্রথমবার জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে তিনি তার সমস্ত প্রতিপক্ষদের পরাজিত করেন।[১]

  • ১৯৬৮ সালের 8 জানুয়ারি তারিখে পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকায় মুফতি মাহমুদ জামহুরি মজলিস-ই-আমালের প্রধান নেতা ছিলেন যিনি আইয়ুব খানের শাসনের প্রতি বিরোধিতা করেছিলেন।
  • ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে, মুফতি মাহমুদ ডেরা ইসমাইল খান নির্বাচনী আসনের জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।[১]

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের পরে, তিনি শাবির আহমেদ উসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জামিয়াত এলেম-ই-ইসলামের সভাপতি নির্বাচিত হন।এরপর তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য জাতীয় আওয়ামী পার্টি ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির সাথে নিয়ে একটি জোট গঠন করে।১৯৭০ এর দশকে জামিয়াত এলেম-ই-ইসলাম সৌদি আরব থেকে গুরুত্বপূর্ণভাবে আর্থিক অনুদান লাভ করে।[২]

১৯৭২ সালের ১লা মার্চ তারিখে, পাকিস্তানের জুলাফিকার আলী ভুট্টো শাসনামলে তিনি খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, তিনি বেলুচিস্তানে ন্যাপ-জুই(এ) জোট সরকারের বরখাস্তের প্রতিবাদে তিনি তার মন্ত্রিসভার থেকে পদত্যাগ করেন।[১]

মৃত্যু এবং উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

১৯৮০ সালের ১৪ই অক্টোবর তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে তার নিজ শহর আব্দুল খেল, পানিয়ালা, দেরা ইসমাইল খান জেলার কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। তার সন্তান মাওলানা ফজল-উর-রেহমান বর্তমানে একজন উল্লেখযোগ্য রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং ২০১৭ সাল অবধি তিনি পাকিস্তানে জমিয়াত এলেমা-ই-ইসলাম পার্টির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://storyofpakistan.com/mufti-mehmood#prettyPhoto, Profile of Mufti Mahmud on storyofpakistan.com website, Updated 5 Jan 2009, Retrieved 23 Jan 2017
  2. Halverson, Jeffry R. (২০১০)। Theology and Creed in Sunni Islam: The Muslim Brotherhood, Ash'arism, and Political Sunnism। Palgrave Macmillan। পৃষ্ঠা 118। আইএসবিএন 9781137473578By the 1970s, the JUI, under the leadership of Mawlana Mufti Mahmud (d. 1980) was a chief recipient of the aforementioned Wahhabite-Athari support from the Gulf monarchies, chiefly Saudi Arabia. 
  3. http://tribune.com.pk/story/792378/in-defence-of-taliban-fazls-remarks-spark-furore-in-afghanistan/, The Express Tribune newspaper, Published 17 November 2014, Retrieved 23 January 2017

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
সরদার বাহাদুর খান
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী
১৯৭২ – ১৯৭৩
উত্তরসূরী
ইনয়াতুল্লা গানাপুর
পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়
পূর্বসূরী
মাওলানা আব্দুল্লাহ ডার্কভাবাসি
জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম
{{{years}}}
উত্তরসূরী
মাওলানা ফজল-উদ-রেহমান