মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানভি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শহিদ খতমে নবুয়ত

মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানভি
মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানভি.jpg
ব্যক্তিগত
জন্ম১৯৩২
মৃত্যু১৮ মে ২০০০(2000-05-18) (বয়স ৬৭–৬৮)
ধর্মইসলাম
ধর্মীয় মতবিশ্বাসসুন্নি ইসলাম
আন্দোলনআলমি মজলিস তাহাফফুজ খতমে নবুয়াত

মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানভি (১৯৩২ – ২০০০) ছিলেন একজন পাকিস্তানি সুন্নি মুসলিম পন্ডিত, লেখক, মুহাদ্দিস,[১] মজলিস-ই-আহরার-ই-ইসলামের নেতা, এবং আলমি মজলিস তাহাফ্ফুজ খতমে নবুওয়াতের সহসভাপতি। তিনি ভারতের পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ মে ২০০০ সালে জোহরের নামাজের পূর্বে অফিসে যাবার সময় নুমাইশ চৌরঙ্গীতে তাকে হত্যা করা হয়। [২][৩][৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

ইউসুফ লুধিয়ানভি ১৯৩২ সালে ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার ইসাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার পিতা আল্লাহ বকশ ছিলেন 'নাম্বার দার' বা গ্রামের প্রধান। তার পিতা তৎকালীন ধর্মীয় নেতা আব্দুল কাদের রায়পুরীর অনুসারী ছিলেন। ইউসুফ লুধিয়ানভি ব্রিটিশ ভারতের লুধিয়ানায় প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন এবং মুলতানে খায়ের মুহাম্মদ জলন্ধরীর অধীনে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। পরবর্তিতে তিনি প্রথমে ফয়সালাবাদ ও সাহিওয়ালে এবং পরে করাচির জামিয়া বিন্নুরিয়ায় হাদিস শিক্ষক নিযুক্ত হন।[২]

ইউসুফ লুধিয়ানভি ১০০ টিরও বেশি বই লিখেছেন যেগুলি বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। আপকে মাসাইল আওর উনকা হল (হানাফি ফিকহ বিষয়ক বই) এবং ইখতিলাফে উম্মত ও সিরাত-ই-মুস্তাকীম (উম্মাহর দলসমূহ এবং সরল পথ) তার স্মরণীয় রচনাগুলির মধ্যে অন্যতম। [২][৪]

আল-বায়ায়িনাতের সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি তিনি আলমি মজলিস তাহাফফুজ খতমে নবুয়ত (আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত রক্ষা পরিষদ) এবং ইকরা স্কুল চেনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। [১] তিনি পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম মাদ্রাসা করাচিতে জামিয়া উলুমুল-ইসলামিয়ায় হাদীস পড়াতেন। [২]

তার ধর্মীয় জ্ঞান এবং দক্ষতার কারণে জামিয়া বিন্নুরিয়ার সভাপতি মুহাম্মদ ইউসুফ বিন্নুরী তাকে 'খতম-এ-নুবুওয়াত' (সাপ্তাহিক পত্রিকা) এবং 'আল-বাইয়াইনাত' (মাসিক পত্রিকা)-এর সম্পাদক নিযুক্ত করেছিলেন। [১][৪]

হত্যার আগে ইউসুফ লুধিয়ানভি সুন্নি ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে চলমান সহিংসতা অবসানের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। [২] তিনি ইসলামের সুন্নি সম্প্রদায়ের একজন সুপরিচিত আলেম ছিলেন এবং পুরো পাকিস্তানে তার সহস্রাধিক অনুসারী ছিলেন। তার শত শত সমর্থক তার হত্যার প্রতিবাদ করতে করাচির রাস্তায় নেমে এসেছিল এবং তার হত্যার সংবাদটিও দিন শেষে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকে হ্রাস পেয়েছিল। [৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mujib-ur-Rehman Inquilabi (২৪ মে ২০১৬)। "Profile of Muhammad Yusuf Ludhianvi (in Urdu language)"Daily Pakistan (newspaper)। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২০ 
  2. "Sunni scholar killed in Karachi"BBC News। ১৮ মে ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২০ 
  3. Anwar Iqbal (১৮ মে ২০০০)। "Muslim scholar's murder triggers violence in Pakistan"United Press International (UPI) news agency। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২০ 
  4. "Renowned Scholar Maulana Yusuf Ludhianvi Martyred in Karachi"albalagh.net website। ১৮ মে ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২০ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]