বিষয়বস্তুতে চলুন

তারিক মাসউদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুফতি

মুফতি তারিক মাসউদ
مفتی طارق مسعود
২০২১ সালে তারিক মাসুদ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম১০ জানুয়ারি, ১৯৭৫
ধর্মইসলাম
জাতীয়তা পাকিস্তানি
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
প্রধান আগ্রহফিকহ
তাফসীর
যেখানের শিক্ষার্থীজামিয়া তুর রশীদ, করাচী
কাজইসলামি পণ্ডিত
ইউটিউব তথ্য
চ্যানেল
কার্যকাল২০১৯–বর্তমান
সদস্য4.98 মিলিয়ন
মোট ভিউ৩৪৩,২১৭,৫৬২
১,০০,০০০ সদস্য ২০১৯
১০,০০,০০০ সদস্য ২০২০
১৮ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সদস্য এবং মোট ভিউ সংখ্যা হালনাগাদকৃত
মুসলিম নেতা
শিক্ষকরশিদ আহমদ লুধিয়ানভি
মুফতি আব্দুর রহিম
আবু লুবাবা শাহ মনসুর
মুফতী শহীদুল্লাহ
ওয়েবসাইটwww.muftitariqmasood.com

মুফতি তারিক মাসুদ (উর্দু: مفتی طارق مسعود; জন্ম: ১৯৭৫ খ্রি.) হলেন একজন পাকিস্তানি আলেম, মুফতি, লেখক ও ধর্মীয় বক্তা। তিনি তিনি করাচির জামিয়াতুর রশীদের দরসে নিজামির একজন অধ্যাপকমুফতি। তাকে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।[] প্রাতিষ্ঠানিক সক্রিয়তার বাইরে তিনি ইউটিউবসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উপদেশফতোয়া প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি করাচির মসজিদে ফালাহিয়ার ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারিক মাসুদ একাধিক বিবাহের কঠোর প্রবক্তা হিসেবে পরিচত এবং তিনি এই বিষয়ে "এক সে যায়েদ শাদিয়োঁ কি জরুরত কিউঁ" (একাধিক বিবাহের প্রয়োজন কেন?) নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন। উক্ত গ্রন্থে তিনি ইসলামি আইনশাস্ত্রের সূত্রে বহুবিবাহের বৈধতা ব্যাখ্যা করেন এবং এটিকে তিনি সমাজের একাধিক জটিল সমস্যার বিকল্প সমাধান হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।[]

তারিক মাসুদ ১৯৭৫ সালে পাঞ্জাবের সার্গোদায় জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে প্রাথমিকমাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের পর তিনি প্রচলিত দারসে নিজামি পাঠক্রমে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় তিনি ফিকহফতোয়ায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠেন। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা জামিয়াতুর রশিদ করাচিতে অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে সেখানেই দারুল ইফতায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।[]

তারিক মাসুদকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছে তাঁর উর্দু ভাষায় প্রদত্ত বক্তৃতাবয়ান, যেখানে তিনি পারিবারিক আইন, সামাজিক নৈতিকতা, মুসলিম সমাজব্যবস্থার সংকট ও সমাধান, আধুনিক জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন বিতর্কিত প্রশ্ন ও মুসলিমদের সমসাময়িক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন।[] তাঁর বক্তৃতাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; বিশেষ করে ইউটিউবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।[]

তিনি দাওয়াতি কাজে জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন।[][] ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সেমিনারে বয়ান ও বক্তৃতা প্রদান করেন।[][][]

এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। [১০]

প্রাথমিক ও শিক্ষাজীবন

[সম্পাদনা]

তারিক মাসুদ ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোদায় একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[১১][১২] ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার পাকিস্তানে হিজরত করে। তাঁর পিতা পেশায় একজন নৌ-কর্মকতা ছিলেন। তারিক মাসুদের জন্মের পর তার পরিবার করাচিতে স্থানান্তরিত হয়।[১২]

তিনি স্কুলে প্রাথমিকমাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর সিন্ধ মুসলিম গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজে ভর্তি হন। তবে কিছুদিন পর তিনি কলেজ ত্যাগ করে পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। সেই লক্ষ্যে জামিয়াতুর রশিদ করাচিতে ভর্তি হয়ে প্রাচীন ধর্মীয় পাঠ্যক্রম দরসে নিজামি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি হাদিসশাস্ত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং শেখ আবু লুবাবা শাহ মনসুরের অধীনে ইসলামি ফিকহে বিশেষায়িত শিক্ষা অর্জন করেন। [১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

জামিয়াতুর রশিদে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষে সেখানেই তিনি দারুল ইফতায় মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ফতোয়া ও গবেষণার পাশাপাশি সেখানে তিনি এক দশকেরও অধিক সময় ধরে দারস-ই-নিজামি পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন। এছাড়াও তিনি করাচির মসজিদে ফালাহিয়ায় ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। [১৮][১৯] [২০][২১] ৯০ এর দশকের শুরুতে তিনি জুমার খুতবা এবং বিভিন্ন স্থানে ইসলামি আলোচনা শুরু করেছিলেন। এসব আলোচনায় তিনি পারিবারিক জীবন, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিষয়ে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন এবং দ্রুতই তা মানুষদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৪ সালে তাঁর নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় এবং সেখানে তার বয়ান, খুতবা, বক্তৃতা ও লেকচার নিয়মিত আপলোড করা হতে থাকে। ইউটিউবফেসবুক চালু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই সেসবে তাঁর আলোচনা প্রচারিত হওয়া শুরু হলেও ২০১৭ সালে তাঁর নামে ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করা হয়। বর্তমান তাঁর সকল খুতবা, বক্তৃতা ও লেকচার রেকর্ড করা হয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে তাঁর আলোচনা খুবই দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকইউটিউবের মাধ্যমে পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই তাঁর বক্তৃতা ও আলোচনা শ্রবণ করা হয়।[২২]

২০২৪ সালের মার্চে তিনি করাচির স্যার সৈয়দ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে এক পরামর্শ সভা (কাউন্সেলিং সেশন) পরিচালনা করেন এবং সেখানে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে বিজ্ঞানধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক, আধুনিক সমাজে ইসলামি নৈতিকতার ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিজীবনে ধর্মীয় দিকনির্দেশনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।[২৩] ২০২৫ সালের মে মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত "বুনিয়ান-উন-মারসুস" সম্মেলনে তিনি বক্তব্য দেন, যেখানে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ আলেমরা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।[২৪]

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

তারিক মাসুদ দাওয়াতি কাজের অংশ হিসেবে আমেরিকা, ইউরোপআফ্রিকার কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। এসব ভ্রমণে তারিক মাসুদ পাকিস্তানিসহ উপমহাদেশীয় প্রবাসী মুসলিমদের মাঝে ধর্মীয় বক্তৃতা প্রদান করেন।[][] ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আফ্রিকার কয়েকটা দেশ ভ্রমণ করেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি নয় দিনের এক বক্তৃতা সফরে বাংলাদেশে আসেন। এই সফরে তিনি ঢাকা, সিলেট, কক্সবাজারমৌলভীবাজারফেনীতে একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক বক্তৃতা প্রদান করেন। তার কর্মসূচির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিশেষ বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি তিনি কয়েকটি বড় জনসমাবেশেও তিনি বক্তৃতা প্রদান করেন। [২৫][২৬][২৭]

অনলাইন উপস্থিতি

[সম্পাদনা]

মুফতি মাসুদের খুতবা ও বক্তৃতা নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, বিশেষত ইউটিউবে। তার প্রধান ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। এছাড়া তার বক্তৃতাগুলো অনেক অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলেও প্রকাশিত হয়।[২৮][২৯][৩০]

২০২৪ সালে জার্মান ভাষায় প্রকাশিত একটি একাডেমিক গবেষণায় তাকে পাকিস্তানি ধর্মীয় বক্তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের ইউটিউবের বক্তৃতায় ইহুদি ও জায়নবাদবিরোধী তীব্র বক্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।[৩১]

২০২৪ সালে তিনি প্রসিদ্ধ ইসলামি দাঈ জাকির নায়েকের ইউটিউব মনিটাইজেশন সংক্রান্ত এক বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন যে, জায়েজ ও বৈধ বিষয়বস্তুর মাধ্যমে ইউটিউবে আয় করা বৈধ। তবে নিষিদ্ধ বা হারাম পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে ইউটিউব থেকে আয়ের একটি বিশেষ ক্ষুদ্র অংশ সদকা বা দান করা জরুরি।[৩২]

পাণ্ডিত্য মূল্যায়ন

[সম্পাদনা]

২০২৩ সালে ডে গ্রুইটার কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণায় মুফতি তারিক মাসুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বয়ান-শৈলী বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণা বলা হয় যে, তার প্রভাব কেবল ধর্মীয় যোগ্যতার কারণে নয়, বরং বক্তৃতায় পারদর্শিতা থেকেও উদ্ভূত। এতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যে, তিনি প্রায়ই রসিকতা, দেহভঙ্গি ও মুখোমুখি বা প্রখর সমালোচনামূলক ভঙ্গি ব্যবহার করেন—বিশেষত উদারপন্থী মহল (ধর্মনিরপেক্ষবাদী) ও ‘আওরাত মার্চের’ সমালোচনায় এবং এসবই তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। গবেষণার উপসংহারে বলা হয় যে, বক্তৃতা ও আলোচনায় তিনি সমসাময়িক পাকিস্তানের সর্বাধিক প্রভাবশালী দেওবন্দি বক্তাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।[৩৩]

২০২৩ সালে পাকিস্তানে ডিজিটাল মিডিয়া ও ধর্মীয় বয়ান সম্পর্কে 'দ্য ডায়লগে' প্রকাশিত একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় যে, যারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় জ্ঞান প্রচার করেছেন, মুফতি মাসুদ তাঁদের মধ্যে একজন।[৩৪]

২০২৪ সালে "ইউনিভার্সিটি অফ চিতরাল জার্নাল অব লিঙ্গুইস্টিক্স অ্যান্ড লিটারেচারে" প্রকাশিত এক গবেষণায় ইউটিউবে প্রকাশিত বক্তৃতা ও পডকাস্টসমূহকে কার্যকরী ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়। উক্ত গবেষণায় দেখা যায় যে তার বক্তৃতায় উপদেশ, নির্দেশনা ও প্ররোচনামূলক বাক্য প্রাধান্য পায়। এতে আরও বলা হয় যে, তার নরম ও রসিক ভঙ্গি তাকে অন্যান্য ইসলামপন্থী বক্তা থেকে আলাদা করে তোলে। গবেষকরা আরো বলেন, এই যোগাযোগ শৈলী বিশেষত তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানি সমাজে সামাজিক সংহতি ও সহনশীলতা জোরদার করতেও বেশ ভূমিকা রাখে।[৩৫]

২০২৪ সালে "কনটেম্পোরারি ইসলামে" প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তাবলিগ জামাতের পরিবর্তিত বয়ান-পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তারেক মাসুদসহ কিছু বক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দাওয়াতের ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণাটি আরও বলে যে, অন্যান্য আলেম, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের পাশাপাশি মাসুদও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ধর্মীয় আলোচনাকে যুক্তি, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেন।[৩৬]

২০২৫ সালে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইউটিউব পডকাস্টকে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় তাকে বহুল আমন্ত্রিত ধর্মীয় বক্তাদের একজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার অংশগ্রহণে বিবাহ, লিঙ্গভূমিকা ও হিজাব-পর্দা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে আলোচিত হয়, তা বিশ্লেষণ করা হয়। [৩৭]

মুফতি তারিক মাসুদের বয়ান জনসাধারণের পক্ষ থেকে দারুল উলূম দেওবন্দের অনলাইন ফতোয়া পোর্টাল 'দারুল ইফতা দেওবন্দ ডটকমে' (Darulifta-Deoband.com) জমা দেওয়া ধর্মীয় প্রশ্ন-উত্তরগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তার বক্তব্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট মুফতিরা স্পষ্টভাবে সমর্থনও করেন, যা দেওবন্দি পরিমণ্ডলে তার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।[৩৮][৩৯][৪০]

রচনাবলী

[সম্পাদনা]

তারিক মাসুদ উর্দু ভাষায় বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা করেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো “এক সে যায়েদ শাদিয়োঁ কি জরুরত কিউঁ?” (“বহুবিবাহের প্রয়োজন কেন?”)।[৪১] এতে তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে ইসলামে বহুবিবাহ ধর্মীয়ভাবে বৈধ এবং প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে এটি সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক সমাজে দেরিতে বিয়ে হওয়া, অতিরিক্ত যৌতুকের চাপ, বিধবাতালাকপ্রাপ্তা নারীদের সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদি সমস্যা মোকাবিলায় বহুবিবাহ একটি সামাজিক সমাধান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।[৪২]

তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, তিনি এসবের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নানা বিষয়ে আরো বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, উপপুস্তিকা ও বুকলেট প্রকাশ করেছেন, যেখানে পারিবারিক জীবন, মুসলিম সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনা ও সমসাময়িক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর আলোচিত হয়েছে।[৪৩]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

একাধিক বিবাহের প্রবক্তা হিসেবে তারিক মাসুদ নিজেও চার বিবাহ করেছেন। ২০২৫ সালে একটি পডকাস্টে তিনি নিজের দাম্পত্যজীবন ও সন্তানসন্ততি সম্পর্কে আলাপ করেন। তাঁর ছেলে ও মেয়ে উভয় মিলে ২০ জন সন্তান রয়েছে।[১৩]

দৃষ্টিভঙ্গি ও বিতর্ক

[সম্পাদনা]

তারিক মাসুদের খুতবা ও বক্তব্য মূলত ফিকহ, পারিবারিক আইন, সামাজিক নীতি–নৈতিকতা ও সমসাময়িক মুসলিম সমাজকে ঘিরে নানা প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তবে তাঁর বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি পাকিস্তানের বাইরেও উল্লেখযোগ্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।[৪৪][৪৫] বিভিন্ন মহলে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সমালোচনাও দেখা যায়, বিশেষত যখন সামাজিক ইস্যু বা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয়সমূহে তিনি সরাসরি বা রসাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন।

ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম কয়েকবার তাঁর বক্তব্যকে আলোচনায় এনেছে। "দ্য প্রিন্টের" এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বেলুচিস্তানের একটি হিন্দু মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি হিন্দুদের গায়ের রঙ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ সালে লাহোরের মিনারে পাকিস্তানে টিকটকার আয়েশা আকরামের ওপর সংঘটিত গণযৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত ঘটনায় মুফতি মাসুদের মন্তব্যকে অনেকে 'অপরাধীর সমালোচনা' (ভিক্টিম ব্লেইমিং) হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন।[৪৬]

২০২০ সালে তিনি এক খুতবায় স্পষ্ট করেন, তিনি জনপ্রিয় তুর্কি টেলিভিশন সিরিজ “দিরিলিশ: এরতুগ্রুলের” বিরোধী নন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, তাঁর নামে ছড়ানো নেতিবাচক খবর একটি পুরনো ও ভিন্ন প্রসঙ্গের ভিডিও ক্লিপের ভুল ব্যাখ্যার ফল। উক্ত ভিডিওতে তিনি ইসলামবিরোধী অশ্লীল সিনেমা ও ভিডিও দেখাকে হারাম বলেছিলেন এবং তাঁর সেই বক্তব্যের সাথে "দিরিলিশ" সিরিয়ালের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি বলেন, দিরিলিশ সিরিয়াল সম্পর্কে তিনি সেখানে কোনো আলোচনাই করেননি।[৪৭]

ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে মতামত

২০২৩ সালে একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় ইউটিউবে তার বক্তৃতাগুলোর পর্যালোচনা করে বলা হয় যে, তারিক মাসুদের মতে, ইসলামি ব্যাংকগুলোর নেওয়া মুনাফা প্রচলিত সুদ (রিবা) থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। গবেষণায় সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি ইসলামি ব্যাংকের কর্মকাঠামোকে মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারাবাই আল-সালামের মতো চুক্তির ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেন। এই গবেষণায় আরো জানানো হয়, তিনি বাস্তবিক কিছু সমস্যার কথাও আলোচনায় এনেছেন; যেমন: একটি ব্যাংকের তার নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে অস্বীকৃতি জানানো বা ব্যাংকের আরোপিত জরিমানা ইত্যাদি। গবেষণার সারসংক্ষেপে বলা হয়, মাসুদ বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকিংকে সুদভিত্তিক প্রচলিত অর্থব্যবস্থার তুলনায় “দুটি পাপের মধ্যে অপেক্ষাকৃত লঘু পাপ” হিসেবে দেখেন।[৪৮]

সুফি উপাধি বিষয়ে মতামত

তারিক মাসুদ সুফি উপাধি "গাউসে আযম" ( যা আবদুল কাদির জিলানীর উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়) বিষয়ে বক্তব্য দেন যে, বর্তমান যুগে এই উপাধির ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এটি "শিরকে" লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। ২০২২ সালে "ইসলামিক স্টাডিজ" জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা এই অবস্থানকে দেওবন্দি ধারার ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সম্পর্কিত করে ব্যাখ্যা করে। [৪৯]

শান্তির বয়ান ও বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী অবস্থান

মাসুদ কয়েকবার পাকিস্তান সরকারসমর্থিত চরমপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ-বিরোধী আয়োজনে উপস্থিতি হয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চে তিনি সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পায়গাম-ই-পাকিস্তান শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন। সেখানে বক্তৃতাকালে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামে বিশ্বাস বা মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার কোনো অনুমতি নেই এবং এর সমর্থনে তিনি পাকিস্তানের পাঁচ হাজারেরও বেশি আলেমের সর্বসম্মত একটি ঘোষণাপত্রের উদ্ধৃতি দেন। তিনি পাকিস্তানকে একটি ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন, যার একটি সুস্পষ্ট চরমপন্থাবিরোধী নীতি রয়েছে এবং ইসলামকে তিনি শান্তির ধর্ম হিসেবে তুলে ধরেন।[৫০]

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে জামায়াতে নামাজ বিষয়ে অবস্থান (২০২০)

২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়লে সরকার কর্তৃক সম্মিলিত নামাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি সাময়িকভাবে মসজিদ বন্ধ রাখার পক্ষে বক্তব্য দেন। দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মুসলিমদের ঘরে নামাজ পড়ার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, “আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করো”। কারণ ভাইরাসটি বাস্তবিক অর্থে এক গুরুতর হুমকি ছিল, যার বিরুদ্ধে সতর্কতা গ্রহণ জরুরি ছিল। তবে তার এ অবস্থান তাকি উসমানীর পরামর্শের বিপরীত ছিল। তিনি সীমিত উপস্থিতিতে জামায়াত চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।[৫১] [৫২][৫৩]

চীনা শ্রমনীতি সম্পর্কে মন্তব্য (২০১৯)

২০১৯ সালের জুলাই মাসে 'ফরেন পলিসি' এক প্রতিবেদনে জানায় যে, মুফতি মাসুদ পাকিস্তানের একটি কারখানায় চীনা তত্ত্বাবধায়কদের সমালোচনা করেন, যারা স্থানীয় শ্রমিকদের ডিউটির সময় নামাজ পড়তে বাধা দিয়েছিল। তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়: তাদের বলো, এটি তোমাদের পিতৃপুরুষের জমি নয়। ডিউটির সময় নামাজ পড়তে বাধা দিলে তাদের প্রতি নরম ভাব দেখাবে না”। ঘটনাটিকে "চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে' একটি শ্রম ও সাংস্কৃতিক উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।[৫৪] [৫৫]

গৃহ-নির্যাতন বিল (২০২১)

২০২১ সালের জুলাই মাসে মুফতি তারিক মাসুদ প্রস্তাবিত গৃহ-নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিলের বিরোধিতা করেন এবং বিলটি ইসলামি চিন্তাধারা পরিষদে পাঠানোর আহ্বান জানান।[৫৬] তবে বিষয়টি নিলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হলে পরবর্তী বক্তৃতায় তিনি তা আরো স্পষ্ট করেন। মাসুদ জানান যে, ইসলামি আইন কোনোভাবেই স্বামীকে তার স্ত্রীকে আঘাত করার অনুমতি দেয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে এমনভাবে মারে যে তার হাড় ভেঙে যায় বা দাঁত ভেঙে যায়, তাহলে কিসাস বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। কারণ ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে এমন অপরাধে নারী-পুরুষের মাঝে কোনো প্রকার বৈষম্য করা হয় না; বরং উভয়ের জন্যই একই আইনি বিধান প্রযোজ্য।[৫৭]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  • ইউটিউবে তারিক মাসউদের চ্যানেল
  • "আস-সালামু আলাইকুম, মুফতি তারিক মাসউদের নিকট স্বাগতম", muftitariqmasood.com, ৪ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২১

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Exclusive Interview Mufti Tariq Masood - Full & Complete"। ২ জুলাই ২০১৮। ৬ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২১
  2. Hamza, Muhammad (২৩ মার্চ ২০১৯)। "Paigham-e-Pakistan at Isra University, Hyderabad"Weekly Technology Times। ২৭ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০
  3. 1 2 3 "Mufti Tariq Masood Wife, Biography, Life, Education, And Contributions | Islam For All" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  4. "মুফতি তারিক মাসুদ কেন এত জনপ্রিয়?"{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  5. 1 2 "Bayan In Maryland, USA - 2025 | Mufti Tariq Masood Speeches 🕋 | Mufti Tariq Masood Podcast"MTM। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
  6. 1 2 "Bayan In Japan | Mufti Tariq Masood Speeches 🕋 | Mufti Tariq Masood Podcast"MTM। ৪ জানুয়ারি ২০২৪।
  7. নিউজ, সময়। "৯ দিনের সফরে বাংলাদেশে এলেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি তারিক মাসুদ | ধর্ম"Somoy News। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  8. "বাংলাদেশ সফরে আসছেন বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানি দাঈ মুফতি তারেক মাসউদ"দৈনিক নয়া দিগন্ত। ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  9. bvnews24.com। "বুয়েটের পর এবার টিএসসিতে পাকিস্তানের জনপ্রিয় মুফতি তারিক মাসুদের বয়ান"BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  10. Salam, Hamza Azhar; Shah, Murtaza Ali (২৬ মার্চ ২০২০)। "Pakistani clerics divided despite Al Azhar's fatwa to suspend congregational prayers"The News International। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০
  11. "Mention of place of birth and year of birth in a news report"MM News (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৫
  12. 1 2 "Mufti Tariq Masood Biography, Life, Education, and Contributions"Islam For All। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  13. 1 2 "مجھے محسوس ہوا کہ میں ہی وزیراعظم ہوں، کئی شادیاں کرنے والے مفتی طارق مسعود کی زندگی کے کچھ ایسے پہلو جو بہت کم لوگ جانتے ہیں" [I felt like I was the Prime Minister, some aspects of the life of Mufti Tariq Masood, a polygamist, that very few people know]HamariWeb (উর্দু ভাষায়)। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  14. "Maulana Tariq Masood"RIS Convention (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  15. "Mufti Tariq Masood"Kulya Tush Shariah – Jamia Tur Rasheed (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  16. "درس نظامی کے قابل ذکر فضلا" [Notable alumni of Dars Nizami]Jamia Tur Rasheed (উর্দু ভাষায়)। ১৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  17. "مفتی طارق مسعود پر توہین اسلام کا الزام، حقیقت کیا ہے؟" [Blasphemy charge against Mufti Tariq Masood: What is the truth?]MM News (উর্দু ভাষায়)। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  18. "Maulana Tariq Masood"RIS Convention (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  19. "Mufti Tariq Masood"Kulya Tush Shariah – Jamia Tur Rasheed (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  20. "درس نظامی کے قابل ذکر فضلا" [Notable alumni of Dars Nizami]Jamia Tur Rasheed (উর্দু ভাষায়)। ১৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  21. "مفتی طارق مسعود پر توہین اسلام کا الزام، حقیقت کیا ہے؟" [Blasphemy charge against Mufti Tariq Masood: What is the truth?]MM News (উর্দু ভাষায়)। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  22. "Mufti Tariq Masood Biography, Life, Education, and Contributions"Islam For All। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  23. "Session with Religious Scholar Mufti Tariq Masood"SSUET (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২০ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  24. "Bunyan-un-Marsoos Conference calls for unity"The Express Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  25. "ঢাকায় পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম, বক্তব্য দেবেন বুয়েট ও ঢাবিসহ বিভিন্ন স্থানে" [Renowned Pakistani scholar in Dhaka, to speak at BUET and University of Dhaka]Kaler Kantho। ২৩ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫
  26. "বাংলাদেশ সফরে আসছেন বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানি দাঈ মুফতি তারেক মাসউদ" [World-renowned Pakistani preacher Mufti Tariq Masood to visit Bangladesh]Daily Naya Diganta। ২০ জুন ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫
  27. "মুফতি তারিক মাসুদ এতো জনপ্রিয় কেন?" [Why is Mufti Tariq Masood so popular?]Dhaka Today। ৩০ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫
  28. "Mufti Tariq Masood Speeches's YouTube Statistics"Social Blade। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫
  29. "Ask Mufti Tariq Masood's YouTube Statistics"Social Blade। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫
  30. "Mufti Tariq Masood's YouTube Statistics"Social Blade। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫
  31. Hübscher, Monika; von Mering, Sabine, সম্পাদকগণ (১৭ জুন ২০২৪)। Antisemitismus in den Sozialen Medien (1 সংস্করণ)। Verlag Barbara Budrich। পৃ. ১৬৮। ডিওআই:10.2307/jj.16148256আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৮৪৭৪-১৯৫০-১জেস্টোর jj.16148256
  32. "ইউটিউব থেকে আয় করা যাবে কি না; যা বললেন মুফতি তারেক মাসুদ" [Is it permissible to earn from YouTube? What Mufti Tariq Masood said]Jago News 24। ১০ অক্টোবর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫
  33. Sajjad, Mohammad Waqas (১৮ ডিসেম্বর ২০২৩), Akca, Ayşe Almıla; Feise-Nasr, Mona; Stenske, Leonie; Süer, Aydın (সম্পাদকগণ), "Mufti Tariq Masood and the Performance of Religious Speech: Social Media and Religious Discourses in Pakistan", Practices of Islamic Preaching: Text, Performativity, and Materiality of Islamic Religious Speech (ইংরেজি ভাষায়), De Gruyter, পৃ. ২৩৭–২৫৬, ডিওআই:10.1515/9783110788334-012, আইএসবিএন ৯৭৮-৩-১১-০৭৮৮৩৩-৪, সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫
  34. Tabassum, Nabila (এপ্রিল–জুন ২০২৩)। "Islamic Preaching: Using Digital Media to Approach Pakistani Users"The Dialogue (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (2): ৭৫। আইএসএসএন 1819-6470। ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫
  35. Sagheer, Iram; Fatima, Emaan; Khan, Zoya; Ali, Khadija (২০২৪)। "A Pragmatic Analysis of Pakistani Religious Podcast (Mufti Tariq Masood)"University of Chitral Journal of Linguistics & Literature (1)। University of Chitral: ২৮৮–৩০২। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫
  36. Lone, Rameez Ahmad (১ অক্টোবর ২০২৪)। "Navigating Islamophobia, COVID-19 bans, and ideology: a study of Tablighi Jamaat's apolitical movement and jihad in a complex world"Contemporary Islam (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (3): ৫০৮। ডিওআই:10.1007/s11562-024-00565-wআইএসএসএন 1872-0226
  37. Idrees, Faiza; Noor, Rabia (৩০ মার্চ ২০২৫)। "Podcasting Faith: Exploring Socio-Religious Discourse in Influential Pakistani YouTube Content"Online Media and Society (1): ১১–১২। ডিওআই:10.71016/oms/55b1r688আইএসএসএন 2790-1882
  38. "فتویٰ: کھلے پیسے ہونے کے باوجود کہنا کھلے پیسے نہیں ہیں؟" [Fatwa: Claiming not to have change despite possessing it]Darulifta-Deoband.com (উর্দু ভাষায়)। ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৫
  39. "امام کو اجتماعی دعا سنتوں کے بعد کرنی چاہیے یا فرض نماز کے فورا بعد؟" [Should the imam lead collective supplication after sunnah or after fard prayers?]Darulifta-Deoband.com (উর্দু ভাষায়)। ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৫
  40. "تراویح کی اجرت لینا کیسا ہے؟" [Is it permissible to take payment for Tarawih?]Darulifta-Deoband.com (উর্দু ভাষায়)। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  41. Masood, Tariq। Aik Say Zaid Shadiyon Ki Zaroorat Kyun?। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০ archive.org এর মাধ্যমে।
  42. "مجھے محسوس ہوا کہ میں ہی وزیراعظم ہوں، کئی شادیاں کرنے والے مفتی طارق مسعود کی زندگی کے کچھ ایسے پہلو جو بہت کم لوگ جانتے ہیں" [I felt like I was the Prime Minister, some aspects of the life of Mufti Tariq Masood, a polygamist, that very few people know]HamariWeb (উর্দু ভাষায়)। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  43. "Mufti Tariq Masood Books"Mufti Tariq Masood Official। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫
  44. "Mufti Tariq Masood Biography, Life, Education, and Contributions"Islam For All। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  45. Chakraborty, Debdutta (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "Pakistani cleric endorsed blasphemy killings. Then he said the Prophet didn't write Quran"ThePrint। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  46. Bikhchandani, Raghav (১ অক্টোবর ২০২১)। "This Pakistani maulvi said he hadn't seen fair-skinned Hindus. He got a tough lesson online"ThePrint। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫
  47. "Mufti Tariq Masood clarifies stance about hit Turkish series "Ertugrul""24 News HD (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ মে ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫
  48. Suhaib, Abdul Quddus; Haanurat, Ifayani; Mahmood, Tariq (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। "Theme of some selected scholars' views regarding Islamic banking (analytical study of Youtube videos)"AMCA Journal of Religion and Society (ইংরেজি ভাষায়)। (2): ১–২, ৪। ডিওআই:10.51773/ajrs.v3i2.293আইএসএসএন 2775-2550
  49. Jafar, Imad (২০২২)। "The History of the Epithet al-Ghawth al-Aʿzam in South Asian Islamic Discourse"Islamic Studies৬১ (3): ২৬৬–২৬৭। ডিওআই:10.52541/isiri.v61i3.2442আইএসএসএন 0578-8072জেস্টোর 27236434
  50. "Islam has no room for any form of extremism, moot told"Dawn (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ মার্চ ২০১৯। ২৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  51. Salam, Hamza Azhar; Shah, Murtaza Ali (২৬ মার্চ ২০২০)। "Pakistani clerics divided despite Al Azhar's fatwa to suspend congregational prayers"The News International (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৫
  52. Salam, Hamza Azhar; Shah, Murtaza Ali (২৬ মার্চ ২০২০)। "Pakistani clerics divided despite Al Azhar's fatwa to suspend congregational prayers"The News International। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০
  53. Fatima, Komal (৭ এপ্রিল ২০২০)। "'Ya Allah Madad' BOL's Special Transmission On Coronavirus"Bol News। ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০
  54. Khattak, Daud (১০ অক্টোবর ২০১৯)। "Belt and Road Tests China's Image in Pakistan"Foreign Policy। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৫
  55. "Namaz Banned For Muslim Employees of Chinese Companies in Pakistan, Old Video of Cleric Slamming Beijing Resurfaces"Latestly। ৩০ জুন ২০২০। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২১
  56. Nasir, Abbas (২৫ জুলাই ২০২১)। "De-programming the robot"Dawn। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫
  57. Jabbar, Ms Almees; Qureshi, Dr Hafsa Ayaz (২৪ অক্টোবর ২০২৩)। "Physical Abuse in Pakistan: An Islāmic Perspective on Violence in Interpersonal Relationships"Al-Hameed Islamic Studies Research Journal (ইংরেজি ভাষায়)। (2): ২৫। আইএসএসএন 2959-1767। ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত