আহমদ শাহ মাসউদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আহমদ শাহ মাসউদ
ডাকনাম"পাঞ্জশিরের সিংহ" (ফার্সি: شیر پنجشیر‎‎)
জন্ম(১৯৫৩-০৯-০২)২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩
বাজারক, পাঞ্জশির, আফগানিস্তান
মৃত্যু৯ সেপ্টেম্বর ২০০১(২০০১-০৯-০৯) (৪৮ বছর)
তাখর প্রদেশ, আফগানিস্তান
সার্ভিস/শাখা মুজাহিদিন
আফগান সামরিকবাহিনী
ইউনাইটেড ইসলামিক ফ্রন্ট
কার্যকাল1978–2001
পদমর্যাদাকমান্ডার
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
উপরাষ্ট্রপতি
নেতৃত্বসমূহProminent Mujahideen commander during the সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ
Defense Minister of Afghanistan and commander of the anti-Taliban United Islamic Front
যুদ্ধ/সংগ্রামসোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ
আফগান গৃহযুদ্ধ 
পুরস্কারআফগানিস্তানের জাতীয় বীর

আহমদ শাহ মাসউদ (দারি ফার্সী: احمد شاه مسعود;[১] ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২ - ৯ সেপ্টেম্বর ২০০১) হলেন একজন আফগান রাজনীতিবিদ ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং একই সময়ের গৃহযুদ্ধের বছরগুলোতে একজন শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার দায়িত্বপালন করেন।

মাসউদ উত্তর আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের তাজিক থেকে এক সুন্নি মুসলিম পরিবার থেকে আসেন। তিনি ১৯৭০ এর দশকে কাবুল পলিটেকনিক ইউনিভিার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করেন, তখন তিনি কমিউনিস্ট বিরোধী মুসলিম আন্দোলনের ইসলামপন্থি আফগান নেতা বোরহানউদ্দিন রব্বানীর সান্নিধ্যে আসেন। তিনি মোহাম্মদ দাউদ খান সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সমর্থিত ব্যর্থ বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[২] ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তার ভুমিকার জন্য তার অণুসারীরা তাকে "পাঞ্জশিরের সিংহ" (ফার্সি: شیر پنجشیر‎‎) নামে ডাকা শুরু করে। ১৯৯২ সালের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ সরকারকে প্রতিস্থাপনের জাতিসংঘ পরিকল্পনায় তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।[৩] ফলে তাকে পেশোওয়ারের একোর্ডের মাধ্যমে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়, যা ছিল কমিউন্সিট পরবর্তী ইসলামিক আফগানিস্তানে শক্তি ও শান্তির সমঝোতা চুক্তি।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

কমিউনিস্টবিরোধী যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে তাঁকে ‘শেরে পানশির’ বা পানশিরের সিংহ নামে ডাকা হয়। আহমদ শাহ মাসউদ ১৯৫৩ সালের ২রা জানুয়ারি পানশিরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা দোস্ত মুহাম্মদ খান আফগান রয়্যাল আর্মিতে কর্নেল ছিলেন। আহমদ শাহ কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন সয্‌মান-ই জোওয়ানান-ই মুসলমান (Organization of Muslim Youth)- এ যুক্ত হন। তখন জামায়াতে ইসলামির আমীর ছিলেন অধ্যাপক বুরহানউদ্দিন রব্বানী। ১৯৭৫ সালের দিকে জামায়াতে ইসলামি ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিয্‌বে ইসলামির মধ্যে বিরোধ শুরু। এ-সময় হিয্‌বে ইসলামির কর্মীরা আহমদ শাহকে হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৯৭৮ সালের ২৭ এপ্রিল পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান (মার্ক্সবাদী) এবং সেনাবাহিনীর একটি দল প্রেসিডেন্ট দাউদ খানকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।

রুশ-আফগান যুদ্ধ[সম্পাদনা]

তারা সমাজতন্ত্রের বিস্তার এবং সেভাবে নীতি নির্ধারণ করতে চাইলে দেশের ইসলামি দলগুলোর সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ-সময় সমাজতন্ত্রী সেনাদের হাতে সারাদেশ পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ নিহত হয়। ১৯৭৯ সালে ২৪ টি প্রদেশে সংঘাত শুরু হয়। অর্ধেকের বেশি সৈনিক সেনাবাহিনীর থেকে পালিয়ে যায়। ৬ই জুলাই আহমদ শাহ মাসউদ পানশিরে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সম্মুখ যুদ্ধে সফল না হয়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। এ-বছরেই ২৪ শে ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্যে সেনা প্রেরণ করে। সরকারবিরোধীদের তারা নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। আহমদ শাহ সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং প্রতিরোধ যুদ্ধের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেন। ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করে। তারপরও পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সরকার মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। আহমদ শাহ সরকারবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখেন। দেশে চরম দুরবস্থা বিরাজমান রেখে ১৯৯২ সালে ১৭ই এপ্রিল এ-সরকার ক্ষমতা ত্যাগ করে।

ইসলামিক রিপাবলিক আফগানিস্তান[সম্পাদনা]

২৪ শে এপ্রিল পেশোয়ারে সমাজতন্ত্রবিরোধী দলগুলোর মধ্যে শান্তি ও ক্ষমতাবণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ-চুক্তিতে বুরহান উদ্দিন রব্বানী প্রেসিডেন্ট, আহমদ শাহ মাসউদকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গুল্বুদ্দিন হেকমতিয়ারকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। কিন্তু হেকমতিয়ার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে অবশ্য চালাকি করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আংশিক সরকারি সুবিধা নিয়েই জামায়াতে ইসলামী তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। চরম গৃহযুদ্ধাবস্তায় তালিবানের উত্থান হয় বিদেশী শক্তির মদদে। ১৯৯৬ সালে ২৭শে সেপ্টেম্বর তালেবান ক্ষমতা দখল করে। হেকমতিয়ার এবং আহমদ শাহ মাসউদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। আহমদ শাহ মাসউদ তালিবান বিরোধী জোট গঠন করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। আহমদ শাহ মাসউদ ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আন অফিসিয়াল সামরিক শাখা।

শাহদাত বরণ[সম্পাদনা]

২০০১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর (টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে) উত্তর আফগানিস্তানর তাখার প্রদেশে খাজা বাহাউদ্দিন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আহমদ শাহ মাসউদ নিহত হন। এ হামলার জন্যে আল-কায়েদাকে অভিযুক্ত করা হয়। কারণ ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিলো। এর আগে বহুবার কেজিবি, আইএসআই আফগান কমিউনিস্ট কেএইচএডি, তালেবান ও আল-কায়েদা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে । কিন্তু তাদের সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাঁর জন্মস্থান বাজারাকেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনিই একমাত্র আফগান নেতা যিনি কখনো আফগানিস্তানের বাইরে থাকেন নি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ফার্সি উচ্চারণ: [ʔæhmæd ʃɒːh mæsʔuːd]
  2. "Mohammed Daoud Khan"History in an Hour। ১৮ জুলাই ২০১২। 
  3. Clements, Frank (২০০৩)। "Civil War"Conflict in Afghanistan: A Historical Encyclopedia Roots of Modern Conflict। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 49। আইএসবিএন 9781851094028। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]