নরোদম সিহানুক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
King Norodom Sihanouk
នរោត្តម សីហនុ
Norodom Sihanouk (1983).jpg
কম্বোডিয়ার রাজা
(১ম মেয়াদ)
রাজত্ব২৫ এপ্রিল ১৯৪১ – ২ মার্চ ১৯৫৫
রাজ্যাভিষেক৩ মে ১৯৪১
পূর্বসূরিসিসোয়াথ মনিভং
উত্তরসূরিনরোদম সুরামারিত
কম্বোডিয়ার রাজা
(২য় মেয়াদ)
রাজত্ব১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ – ৭ অক্টোবর ২০০৪
পূর্বসূরিচিয়া সিম
উত্তরসূরিনরোদম শিয়ামনি
জন্ম(১৯২২-১০-৩১)৩১ অক্টোবর ১৯২২
নম পেন , ফরাসি ইন্দোচীন
মৃত্যু১৫ অক্টোবর ২০১২(2012-10-15) (বয়স ৮৯)
বেইজিং, চীন
দাম্পত্য সঙ্গীনরোদম মনিনিয়াথ
(১৯৫২ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত)
বংশধর১৪ সন্তান
পূর্ণ নাম
Preah Karuna Preah Bat Sâmdach Preah Norodom Sihanouk Preahmâhaviraksat
রাজবংশনরোদম রাজবংশ
পিতানরদোম সুরামারিত
মাতাসিসোয়াথ কোসামাক
ধর্মবৌদ্ধ
স্বাক্ষরনরোদম সিহানুক স্বাক্ষর

নরোদম সিহানুক (খ্‌মের: នរោត្តម សីហនុ) কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা যিনি কম্বোডিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক দশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। তিনি শুধু তার পরিবারের নন, সমগ্র দেশ ও ইতিহাসের অংশ ছিলেন। সিহানুক জীবনের দীর্ঘ সময় রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। কম্বোডিয়ায় তাই তিনি ‘কিং ফাদার অব কম্বোডিয়া’ হিসেবে পরিচিত।[১]

জন্ম[সম্পাদনা]

Meeting in Beijing in 1956: from left Mao Zedong, Peng Zhen, Sihanouk, Liu Shaoqi.
Sihanouk visiting Romania in 1972, with Romanian President Nicolae Ceaușescu (left) and Queen Norodom Monineath (center).

সিহানুক ১৯২২ সালের ৩১ অক্টোবর কম্বোডিয়ার নমপেনে জন্মগ্রহণ করেন। কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সুরামারিত ও রানী কোসামাকের বড় সন্তান তিনি।[১] জীবনের প্রথম থেকেই শিক্ষার পাশাপাশি তিনি রাজনীতি ও দেশপ্রেমে বেশ উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এজন্য দেশকে স্বাধীন করার চিন্তা তাকে সারাক্ষণ ভাবিয়ে তুলত।তার ইচ্ছা দেশটিকে স্বাধীন করা, দেশের সার্বভৌমত্ব আদায় করা। তিনি ছিলেন দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার পক্ষের একজন দৃঢ় আত্মদানকারী রাজা।[২]

সিংহাসনে আরোহণ[সম্পাদনা]

১৯৪১ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।[১] ফরাসি উপনিবেশিক শক্তি সিহানুককে রাজ্য সিংহাসনে বসায় যদিও সিংহাসন আরোহণ তার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল না। ১৯৬০ সালে তার বাবা নরোদম সুরামারিত কম্বোডিয়ার রাজা হন। পিতার মৃত্যুর পর সিহানুকই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন।[২]

ক্ষমতাচ্যুত[সম্পাদনা]

রাষ্ট্র প্রধান হওয়ার পর দেশের ভেতর ও বাইরে নানা বাধার সম্মুখীন হন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মদতে জেনারেল লন নোলের সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চীনে নির্বাসিত হন। সেখান থেকেও তিনি স্বদেশের স্বাধীনতায় খেমাররুজ গেরিলাদের সঙ্গে গভীরভাবে নিজকে সম্পৃক্ত রাখেন। ১৯৭০-৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন। ১৯৭৫ সালে গেরিলারা রাজধানী নমপেন দখল করলে তিনি চীন থেকে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন।[২]

বন্দি অবস্থা[সম্পাদনা]

এবং এর কয়েক মাস পরই তিনি রাজধানীতে ‘প্রাসাদবন্দী’ হয়ে পড়েন। সেখান থেকেও তিনি দেশের স্বাধীনতা এবং নানা সঙ্কট সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান। ১৯৭৯ সালটি ছিল তার জন্য ফের নির্বাসনে যাওয়ার আরও একটি স্মরণীয় বছর। এ সালটিতেই তিনি ভিয়েতনামের সামরিক আগ্রাসনের প্রাক্কালে বেইজিং চলে যান এবং ১৯৮২ সালে ভিয়েতনামবিরোধী নির্বাসিত জোট সরকারের প্রধান হন। ১৯৮৯ সালে নমপেন থেকে ভিয়েতনামের সেনা প্রত্যাহার করা হলে তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ১৯৯১ সালে স্বদেশের রাজধানী নমপেনে ফিরে আসেন। ১৯৯৩ সালটি তার জন্য আরেক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন, যেখানে সেই নির্বাচনে তার ‘রাজ পরিবারপন্থী দল’ নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয়। এরপর তিনি সিংহাসন আরোহণ করেন এবং তারই ছেলে নরোদম রানারিদ্ধকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।[২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সিহানুকের মরদেহ দেশে আনার পর সপ্তাহব্যাপী শোক পালন করা হবে। জনসাধারণ সিহানুকের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবে। রাজধানী নমপেনে ওই মরদেহ তিন মাস সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। পরে আড়ম্বরপূর্ণভাবে তার শেষকৃত্য হবে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরোদম সিহানুক আর নেই,দৈনিক সকালের খবর। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  2. নরোদম সিহানুক : কম্বোডিয়ার এক কিংবদন্তি রাজা ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে,প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক আমার দেশ। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  3. কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরোদম সিহানুকের জীবনাবসান,বিবিসি ও এএফপি, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১৬-১০-২০১২ খ্রিস্টাব্দ।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]