বাবরাক কারমাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
বাবরাক কারমাল
ببرک کارمل
Babrak Karmal (cropped).jpg
পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব
কাজের মেয়াদ
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ – ৪ মে, ১৯৮৬
পূর্বসূরী হাফিজুল্লাহ আমিন
উত্তরসূরী মোহাম্মদ নজীবুল্লাহ
বৈপ্লবিক কাউন্সিলের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ – ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৬
পূর্বসূরী হাফিজুল্লাহ আমিন
উত্তরসূরী হাজী মোহাম্মদ চামকানি
মন্ত্রীপরিষদের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ – ১১ জুন, ১৯৮১
পূর্বসূরী হাফিজুল্লাহ আমিন
উত্তরসূরী সুলতান আলী কেশতমান্দ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম সুলতান হোসেন
(১৯২৯-০১-০৬)৬ জানুয়ারি ১৯২৯
কামারি, আফগান রাজ্য
মৃত্যু ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৬(১৯৯৬-১২-০৩) (৬৭ বছর)
মস্কো, রাশিয়া
রাজনৈতিক দল পিপলস ডেমক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান
ধর্ম ইসলাম[১]

বাবরাক কারমাল (ফার্সি: ببرک کارمل‎‎; জন্ম: ৬ জানুয়ারি, ১৯২৯ - ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৬) কামারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী আফগানিস্তানের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও স্নায়ুযুদ্ধকালীন নেতা ছিলেন।[২] ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৬ মেয়াদে সোভিয়েত মদদপুষ্ট আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বারবাক কারমাল। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান (পিডিপিএ) দল গঠন হলে কারমাল শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের একজন ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

৬ জানুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে সুলতান হোসেন নামে তাঁর জন্ম হয়।[note ১][৩] আফগান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ও পাকতিয়া প্রদেশের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ হোসেন হাশেম তাঁর বাবা ছিলেন।[৪] পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। কাবুলের অন্যতম ধনী পরিবারের একটি ছিল তাঁর পরিবার।[৩] কারমালের বাবা তাজিক জনগোষ্ঠীর লোক ছিলেন।[২] কারমাল দারি ভাষায় কথা বলতেন।[৫] জার্মানভাষী নেজাত হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন।[৩] ১৯৪৮ সালে এখান থেকেই স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। মীর আকবর খাইবারের নেতৃত্বাধীন মার্কসবাদে জড়িয়ে পড়লে পাঁচ বছর হাজতবাস করেন।[৬] কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে যায়।[৪] ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ মেয়াদে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা করেন।[২] ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিন বছর কারাভোগের পর মোহাম্মদ দাউদ খানের সহায়তায় মুক্তিলাভ করেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ মেয়াদে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন।[৪]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালে পিডিপিএ দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কারমালের নেতৃত্বে পারচম পিডিপিএ মোহাম্মদ দাউদ খানকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করে। শুরুর দিকে সম্পর্ক ভাল থাকায় দাউদ ১৯৭০-এর দশকে বামধারার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরফলে ১৯৭৭ সালে পিডিপিএ একীভূত হয়। ১৯৭৮ সালে সর বিপ্লবে পিডিপিএ ক্ষমতা গ্রহণ করে।[৭] সমাজতন্ত্রপন্থী সরকারের বিপ্লবী কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পান। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরপরই খালকিস্ট প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে। জুন, ১৯৭৮ সালে পিডিপিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় পিডিপিএ নীতি গ্রহণের অধিকার পায়।[৮] এরফলে তাঁকে প্রাগে চলে যেতে হয়।[৯] ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে প্রবেশ করলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে বিপ্লবী কাউন্সিল ও মন্ত্রী পরিষদের সভাপতি হন।[১০] ১৯৮১ সালে সুলতান আলী কেশতমান্দ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ দায়িত্ব পালন করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী আফগানিস্তানের জন্য মৌলিক নীতিগ্রহণ, নূর মোহাম্মদ তারাকি ও আমিনের শাসনামলে কারাগারে নিক্ষিপ্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের ন্যায় বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। কিন্তু আফগান জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।[১১]

নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ও সোভিয়েত আগ্রাসনের পর সোভিয়েত নেতৃত্ব কারমালের দেশ পরিচালনাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। মিখাইন গর্বাচেভের নেতৃত্বে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ কারমালের পরিবর্তে মোহাম্মদ নজিবুল্লাহকে স্থলাভিষিক্ত করে।[১২] এরপর তিনি মস্কোয় নির্বাসিত হন। ১৯৯১ সালে নজিবুল্লাহ সরকার তাঁকে দেশে ফিরে আসার অনুমোদন দেয়।[১৩] জুন, ১৯৯২ সালে দোস্তামের সাথে তিনিও বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঐ প্রতিবেদনটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।[১৪] আব্দুল রশিদ দোস্তামের সহায়তায় নজিবুল্লাহ সরকারকে উৎখাত করেন।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর, ১৯৯৬ সালের শুরুতে মস্কোর সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হসপিটালে যকৃতের ক্যান্সারে তাঁর দেহাবসান ঘটে। একটি সূত্রে তিনি ১ ডিসেম্বর[১৫][১৬] ও অন্য সূত্রে ৩ ডিসেম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।[১৭][১৮]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. His birthname has also been recorded as Sultan Hashem by certain historians.[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Kalinovsky 2011, পৃ. 97
  2. H. Kakar ও M. Kakar 1997, পৃ. 65
  3. Arnold 1983, পৃ. 19
  4. Clements 2003, পৃ. 141
  5. Arnold 1983, পৃ. 21
  6. Misdaq 2006, পৃ. 94
  7. Rasanayagam 2005, পৃ. 72–73
  8. Westad 2005
  9. Rasanayagam 2005, পৃ. 296
  10. Braithwaite 2011, পৃ. 99।
  11. Yassari 2005, পৃ. 13
  12. Kalinovsky 2011, পৃ. 95
  13. Steele 2011, পৃ. 146
  14. World IN BRIEF: AFGHANISTAN: General Denies Report of Fatal Crash
  15. Pace, Eric (৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬)। "Babrak Karmal, Afghanistan's Ex-President, Dies at 67"The New York TimesArthur Ochs Sulzberger, Jr। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১২ 
  16. "Gestorben: Babrak Karmal" [Died: Babrak Karmal]। Der Spiegel (German ভাষায়)। Spiegel Online। ৯ ডিসেম্বর ১৯৯৬। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  17. "Babrak Karmal"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  18. Whitaker, Raymond (৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬)। "Obituary: Babrak Karmal"The Independent। Independent Print Limited। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • Adamec, Ludwig (২০১১)। Historical Dictionary of AfghanistanScarecrow Pressআইএসবিএন 978-0-8108-7815-0 
  • Amtstutz, J. Bruce (১৯৯৪)। Afghanistan: The First Five Years of Soviet Occupation। DIANE Publishing। আইএসবিএন 978-0788111112 
  • Amtstutz, J. Bruce (১৯৯৪)। Afghanistan: Past and Present। DIANE Publishing। 
  • Arnold, Anthony (১৯৮৩)। Afghanistan's Two-party Communism: Parcham and KhalqHoover Pressআইএসবিএন 978-0-8179-7792-4 
  • Asthana, N.C.; Nirmal, A. (২০০৯)। Urban Terrorism: Myths and Realities। Pointer Publishers। আইএসবিএন 978-81-7132-598-6 
  • Bonosky, Phillip (২০০১)। Afghanistan–Washington's Secret WarInternational Publishersআইএসবিএন 978-0-7178-0732-1 
  • Brecher, Michael; Wilkenfeld, Jonathan (১৯৯৭)। A Study of CrisisUniversity of Michigan Pressআইএসবিএন 978-0-472-10806-0 
  • Braithwaite, Rodric (২০১১)। Afgantsy: The Russians in Afghanistan, 1979–1989Oxford University Pressআইএসবিএন 978-0-19-983265-1 
  • Clements, Frank (২০০৩)। Conflict in Afghanistan: a Historical EncyclopediaABC-CLIOআইএসবিএন 978-1-85109-402-8 
  • Garthoff, Raymond (১৯৯৪)। Détente and Confrontation: American–Soviet relations from Nixon to ReaganBrookings Institution Pressআইএসবিএন 978-0-8157-3041-5 
  • Gladstone, Cary (২০০১)। "Afghanistan: a Country Study (edited by Blood, Baxter, Dupree, Gouttierre & Newell)"। Afghanistan RevisitedNova Publishersআইএসবিএন 978-1590334218 
  • Giustozzi, Antonio (২০০৯)। Empires of Mud: War and Warlords of AfghanistanColumbia University Pressআইএসবিএন 978-0-231-70080-1 
  • Hilali, A. Z. (২০০৫)। US–Pakistan relationship: Soviet invasion of AfghanistanAshgate Publishingআইএসবিএন 978-0-7546-4220-6 
  • Leird, Robbin; Hoffmann, Erik; Collins, Joseph (১৯৮৬)। "Chapter 18: The Soviet – Afghan War: The First Four Years"। Soviet foreign policy In a Changing WorldTransaction Publishersআইএসবিএন 978-0-202-24166-1 
  • Levite, Ariel; Jenteleson, Bruce; Berman, Larry (১৯৯২)। Foreign Military Intervention: The Dynamics of Protracted ConflictColumbia University Pressআইএসবিএন 978-0-231-07295-3 
  • Kakar, Hassan; Kakar, Mohammed (১৯৯৭)। Afghanistan: The Soviet Invasion and the Afghan Response, 1979–1982University of California Pressআইএসবিএন 978-0-520-20893-3 
  • Kalinovsky, Artemy (২০১১)। A Long Goodbye: The Soviet Withdrawal from AfghanistanHarvard University Pressআইএসবিএন 978-0-674-05866-8 
  • Kamali, Mohammad Hashim (১৯৮৫)। Law in Afghanistan: a Study of the Constitutions, Matrimonial law and the JudiciaryBRILL Publishersআইএসবিএন 978-90-04-07128-5 
  • Kanet, Roger (১৯৮৭)। The Soviet Union, Eastern Europe, and the Third WorldCambridge University Pressআইএসবিএন 978-0-521-34459-3 
  • Male, Beverley (১৯৮২)। Revolutionary Afghanistan: A ReappraisalTaylor & Francisআইএসবিএন 978-0-7099-1716-8 
  • Misdaq, Nabi (২০০৬)। Afghanistan: Political Frailty and External InterferenceTaylor & Francisআইএসবিএন 978-0415702058 
  • Tomsen, Peter (২০১১)। The Wars of Afghanistan: Messianic Terrorism, Tribal Conflicts, and the Failures of Great PowersPublicAffairsআইএসবিএন 978-1-58648-763-8 
  • Qassem, Ahmad (২০০৯)। Afghanistan's Political Stability: a Dream UnrealisedAshgate Publishingআইএসবিএন 978-0-7546-7940-0 
  • Rasanayagam, Angelo (২০০৫)। Afghanistan: A Modern HistoryI.B.Taurisআইএসবিএন 978-1850438571 
  • Rasanayagam, Angelo (২০০৫)। The Global Cold War: Third World Interventions and the Making of Our TimesI.B.Taurisআইএসবিএন 978-0-521-85364-4 
  • Rubin, Barnett (২০০২)। The Fragmentation of Afghanistan: State Formation and Collapse in the International System (2nd সংস্করণ)। Yale University Pressআইএসবিএন 978-0-300-09519-7 
  • Staff writers (২০০২)। Regional Surveys of the World: Far East and Australasia 2003Routledgeআইএসবিএন 978-1-85743-133-9 
  • Steele, Jonathan (২০১১)। Ghosts of Afghanistan: Hard Truths and Foreign MythsCounterpoint Pressআইএসবিএন 978-1-58243-787-3 
  • Wahab, Shaista; Youngerman, Barry (২০০৭)। A Brief History of AfghanistanInfobase Publishingআইএসবিএন 978-0-8160-5761-0 
  • Weiner, Myron; Banuazizi, Ali; Arnold, Anthony (১৯৯৪)। "Chapter 1: The Ephemeral Elite: The Failure of Socialist Afghanistan"। The Politics of Social Transformation in Afghanistan, Iran, and PakistanSyracuse University Pressআইএসবিএন 978-0-8156-2608-4 
  • Yassari, Nadjma (২০০৫)। The Sharīʻa in the Constitutions of Afghanistan, Iran, and Egypt: Implications for Private Law। Mohr Siebeck। আইএসবিএন 978-3-16-148787-3 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
হাফিজুল্লাহ আমিন
বৈপ্লবিক কাউন্সিলের সভাপতি
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ - ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৬
উত্তরসূরী
হাজী মোহাম্মদ চামকানি
পূর্বসূরী
হাফিজুল্লাহ আমিন
মন্ত্রীপরিষদের সভাপতি
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ - ১১ জুন, ১৯৮১
উত্তরসূরী
সুলতান আলী কেশতমান্দ
পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়
পূর্বসূরী
হাফিজুল্লাহ আমিন
পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব
২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ - ৪ মে, ১৯৮৬
উত্তরসূরী
মোহাম্মদ নজীবুল্লাহ