তাকি উসমানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুহাম্মদ তাকি উসমানি থেকে পুনর্নির্দেশিত)

তাকি উসমানি

تقی عثمانی
রঙিন ছবি
২০১৬ সালে লন্ডনে তাকি উসমানি
বিচারক, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট
কাজের মেয়াদ
১৯৮২ – ২০০২
নিয়োগদাতামুহাম্মদ জিয়া-উল-হক
বিচারক, ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট
কাজের মেয়াদ
১৯৮০ – ১৯৮২
নিয়োগদাতামুহাম্মদ জিয়া-উল-হক
সদস্য, ইসলামি আদর্শ পরিষদ
কাজের মেয়াদ
১৯৭৭ – ১৯৮১
নিয়োগদাতামুহাম্মদ জিয়া-উল-হক
সভাপতি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তান
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
পূর্বসূরীআব্দুর রাজ্জাক ইস্কান্দার
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1943-10-03) ৩ অক্টোবর ১৯৪৩ (বয়স ৭৯)
দেওবন্দ, সাহারানপুর, আগ্রা ও অবধের যুক্তপ্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
জাতীয়তাপাকিস্তানি
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ব্যক্তিগত
সন্তানইমরান উসমানি
পিতামাতা
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
প্রধান আগ্রহফিকহ, তাফসির, হাদিস, ইসলামি অর্থনীতি, ইসলামি আইন, ইসলাম ও আধুনিকতা, ইসলামে রাজনীতি, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব
উল্লেখযোগ্য কাজ
আত্মীয়
স্বাক্ষরউর্দু স্বাক্ষর
ঊর্ধ্বতন পদ
শিক্ষকশফি উসমানি, ইদ্রিস কান্ধলভি, রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি, ওয়ালি হাসান টঙ্কি, সলিমুল্লাহ খান, জাকারিয়া কান্ধলভি
এর শিষ্যআবদুল হাই আরিফী, মাসিহুল্লাহ খান
যার দ্বারা প্রভাবিত
যাদের প্রভাবিত করেন
পুরস্কার
সাহিত্যকর্মইসলাম ও যুক্তির নিরিখে জন্ম নিয়ন্ত্রণ (১৯৬১), দ্য নোবেল কুরআন (২০০৭), তাওযীহুল কুরআন (২০০৮), ইসলাম ও আধুনিকতা (বই) (১৯৯০), ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতি (১৯৯৮), সুদ নিষিদ্ধের উপর ঐতিহাসিক রায় (২০০০), তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম (১৯৯৪), উলুমুল কুরআন (১৯৭৬), ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআবিয়া রা. (১৯৭১), দরসে তিরমিযী (১৯৯৩), তাকরিরে তিরমিযী (১৯৯৯), ইনআমুল বারী (২০০৯), হাদিসের প্রামাণ্যতা (১৯৯০), মাযহাব কী ও কেন? (১৯৭৬), বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়া মুআসিরা (২০০৪), আল মুদাওয়ানাতুল জামিয়া (২০১৮), ফিকহি মাকালাত (২০১২), ইসলাম ও রাজনীতি (২০০৯), ইসলাম ও আধুনিক রাজনীতি (২০০৮), ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি (২০১১), ইসলাম ও আধুনিক অর্থনৈতিক সমস্যা (২০০৮), ফতোয়ায়ে উসমানী (২০০৪), ফিকহুল বুয়ু (২০১৪), সুদবিহীন ব্যাংকিং (২০০৯), উসুলুল ইফতা (২০১০), আরও দেখুন
ওয়েবসাইটmuftitaqiusmani.com

মুহাম্মদ তাকি উসমানি (উর্দু: محمد تقی عثمانی‎‎; জন্ম: ৩ অক্টোবর ১৯৪৩) এস.আই., ও.আই., একজন পাকিস্তানি বিচারক; কুরআন, হাদিস, ইসলামি আইন, ইসলামি অর্থনীতিতুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের একজন নেতৃস্থানীয় পণ্ডিত।[১] তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত ইসলামি আদর্শ পরিষদের সদস্য,[২] ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন।[৩][৪] ২০২০ সালের জরিপে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন।[৫] ইসলামি জ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তাকে শাইখুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।[৬] তাকে সমসাময়িক দেওবন্দ আন্দোলনের প্রধান বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার মতামত ও ফতোয়াকে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা সহ বিশ্বব্যাপী দেওবন্দি আলেমরা চূড়ান্ত শব্দ হিসেবে গ্রহণ করে।[৭] ২০২১ সাল থেকে তিনি পাকিস্তানের দেওবন্দি মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৮] তার পিতা শফি উসমানি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি, যিনি দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবারে পাকিস্তানে চলে যান।

উসমানি দারুল উলুম করাচি, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ১৯৬০ থেকে দারুল উলুম করাচিতে শিক্ষকতা শুরু করেন।[৯][৩] তিনি ১৯৬৭ থেকে উর্দু সাময়িকী আল বালাগ এবং ১৯৭৬ থেকে ইংরেজি সাময়িকী আল বালাগ আন্তর্জাতিক সম্পাদনা করছেন।[৩] ইসলামি আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি একজন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি ওআইসির অঙ্গসংগঠন আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য ও সাবেক সহ-সভাপতি এবং মক্কায় অবস্থিত বিশ্ব মুসলিম লীগের সদস্য।[৯] ১৭ বছর বয়সে রচিত ইসলাম ও যুক্তির নিরিখে জন্ম নিয়ন্ত্রণ তার প্রথম গ্রন্থ।[১০] আরবি, ইংরেজি ও উর্দুতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ১৪৩টি বইয়ের লেখক; ইসলামি অর্থনীতিতে অবদানের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত যাতে তিনি পাকিস্তান এবং বিদেশে অর্থ ও ব্যাংকিং শিল্পকে ইসলামিকরণের জন্য অগ্রণী প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।[৯][৭] ১৯৯৮ সালে তার রচিত ইসলামি অর্থায়নের ভূমিকাকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।[৯] ইসলামি অর্থনীতিতে তার ব্যাপক কাজের ফলে তাকে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের বাহরাইন ভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং সংস্থার সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।[৯] ২০১৪ সালে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সভাপতি মনোনীত হন।[১১] তিনি মিজান ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সভাপতি সহ এক ডজনেরও বেশি ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১২][৭] ইসলামি অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৪ সালে তিনি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক পুরস্কার লাভ করেন।[১৩] তার তত্ত্বাবধানে মাআরিফুল কুরআনের ইংরেজি অনুবাদ সম্পন্ন হয়। তিনি ইংরেজি ও উর্দু, উভয় ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা রচনা করেছেন, যা দ্য নোবেল কুরআনতাওযীহুল কুরআন নামে প্রকাশিত। উলুমুল কুরআন সহ কুরআন অধ্যয়নে এগুলো তার প্রধান অবদান।[১] ফিকহ শাস্ত্রে তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে ফতোয়ায়ে উসমানী, ফিকহুল বুয়ু, ফিকহি মাকালাত, ইসলাম ও আধুনিক অর্থনৈতিক সমস্যা, বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়া মুআসিরা অন্যতম।[১৪] ৬ খণ্ডে সমাপ্ত সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম তার সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা।[১৫] তার তত্বাবধানে হাদিস বিশ্বকোষ আল মুদাওয়ানাতুল জামিয়া সংকলিত হয়।[১৬] হাদিস শাস্ত্রে তার অন্যান্য কাজের মধ্যে ইনআমুল বারী, দরসে তিরমিযী, হাদিসের প্রামাণ্যতা অন্যতম।[১৭] জনসেবায় অবদান রাখায় ২০১৯ সালে তাকে পাকিস্তানের বেসামরিক পুরস্কার সিতারা-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয়।[১৮] ২০১০ সালে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ তাকে অর্ডার অব ইন্ডিপেন্ডেন্সে ভূষিত করেন।[১৯] ২০২২ সালে তিনি আমেরিকান আন্তর্জাতিক আস্তিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টর অব লেটার্স পান।[২০]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

তাকি উসমানি ১৯৪৩ সালের ৩ অক্টোবর মোতাবেক ১৩৫২ হিজরির ৫ শাওয়াল ভারতের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দের উসমানি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[২১] তার পিতা শফি উসমানি ও দাদা ইয়াসিন উসমানি। তিনি ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফফানের বংশধর। একারণে তার নামের সাথে উসমানি শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তার বংশের আরেকটি উপাধি হল মিয়াজী, অর্থ শিক্ষক। তার পিতা ও দাদা উভয়ই দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষক ছিলেন।[২২] তার মায়ের নাম নাফিসা খাতুন। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।[২৩] তার পিতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সদস্য হিসেবে পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। এজন্য নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে ইসলামি সংবিধান তৈরির লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালে সপরিবারে তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে হিজরত করেন। তখন তাকি উসমানির বয়স হয়েছিল পাঁচ বছর।[২৪] ১ মে দেওবন্দ থেকে যাত্রা শুরু করে তারা ৬ মে করাচিতে পৌঁছেন।[২৫]

দেওবন্দ থাকাবস্থায় ফুফু আম্মাতুল হান্নানের পারিবারিক মক্তবে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়।[২৬] পাকিস্তানের করাচিতে হিজরত করার পর শিক্ষালাভের জন্য বাড়ির কাছে কোনো মাদ্রাসা না থাকায় পরিবারেই তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল। উর্দু ভাষার প্রথম কিতাব হিসেবে মায়ের কাছে তিনি বেহেশতী জেওরসীরাতে খাতামুল আম্বিয়া পড়েছেন।[২৭] পিতার কাছে ফার্সি ভাষার জ্ঞান লাভ করেন। পরবর্তীতে তার পিতা দারুল উলুম করাচি প্রতিষ্ঠা করলে সেখানেই ভর্তি হন। কিছুদিন উর্দু ও ফার্সি অধ্যয়নের পর ১৩৭২ হিজরির ৫ শাওয়াল তিনি তিনি দরসে নেজামি বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল আট বছর। ১৯৫৯ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভ করে তিনি দরসে নেজামির সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি তার পিতার তত্ত্বাবধানে ফিকহশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে তিনি দারুল উলুম করাচি থেকে ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিরাজনীতিতে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া ইংরেজি সাহিত্যেও তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।[২৮]

তার শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হলেন তার পিতা শফি উসমানি, যিনি পাকিস্তানের প্রধান মুফতি ছিলেন। তার সহিহ বুখারীর শিক্ষক হলেন মুফতি রশিদ আহমদ। তার অন্যান্য শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন: ওয়ালি হাসান টঙ্কি, সলিমুল্লাহ খান, আকবর আলী, মুহাম্মদ রেআয়তুল্লাহ, সাহবান মাহমুদ, শামসুল হক প্রমুখ।[২৯] এছাড়াও তিনি ইদ্রিস কান্ধলভি, রশিদ আহমদ লুধিয়ানভিজাকারিয়া কান্ধলভি কাছ থেকে হাদিস বর্ণনার অনুমতি পেয়েছেন। আত্মশুদ্ধি অর্জনে তিনি আশরাফ আলী থানভীর খলিফা আব্দুল হাই আরেফীর সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। মৃত্যুর দশদিন আগে আরেফী তাকে খেলাফত প্রদান করেন। তার মৃত্যুর পর তিনি থানভীর আরেক খলিফা মাসিহুল্লাহ খান শরণাপন্ন হন।[৩০]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত পাকিস্তানের সাংবিধানিক উপদেষ্টা সংস্থা ইসলামি আদর্শ পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত তিনি ফেডারেল শরিয়ত কোর্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে যোগ দেন, ২০০২ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।[৩১] ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামাবাদের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ইকোনমিক্সের সদস্য ছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামাবাদের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন।[৩১] তিনি পাকিস্তানের অর্থনীতি ইসলামীকরণ কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৩১] এছাড়াও তিনি যেসকল ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়া বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক ডাউ জোন্স ইসলামিক ইনডেক্স, জেদ্দা ভিত্তিক সৌদি আমেরিকান ব্যাংক, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইসলামিক হাউস অব ব্রিটেন পিএলসি, দুবাই ভিত্তিক এইচএসবিসি আমানাহ ফাইন্যান্স, দুবাই ব্যাংক, আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংক, লুক্সেমবার্গ ভিত্তিক রবার্ট ফ্লেমিং ওসিস ফান্ড, বাহরাইন ভিত্তিক সিটি ইসলামিক ইনভেসমেন্ট ব্যাংক, সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক সুইস রি-তাকাফুল, পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যাংক ইসলামি, পাক-কুয়েত তাকাফুল, পাক-কাতার তাকাফুল, জেএস ইনভেস্টমেন্টস ইসলামিক ফান্ড, জেএস ইসলামিক পেনশন সেভিংস ফান্ড। তিনি যেসকল ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়া বোর্ডের সদস্য ছিলেন তার মধ্যে রয়েছে: বাহরাইন ভিত্তিক এবিসি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড ব্যাংক অব কুয়েতের ইসলামি ইউনিট, সৌদি আরব ভিত্তিক আল-বারাকা গ্রুপ, পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যাংক অব খাইবার, ফয়সাল ব্যাংক লিমিটেড।[৩১]

১৯৬০ থেকে তিনি দারুল উলুম করাচিতে শিক্ষকতা শুরু করেন, বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি ও শায়খুল হাদিস।[৩][৩১] তিনি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের বাহরাইন ভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৯] ২০১৪ সালে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান।[১১] আব্দুর রাজ্জাক ইস্কান্দারের মৃত্যুর পর ২০২১ সালের ১৫ জুন তিনি পাকিস্তানের দেওবন্দি মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতির দায়িত্ব পান।[৮] তিনি ওআইসির অঙ্গসংগঠন আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য ও সাবেক সহ-সভাপতি এবং মক্কায় অবস্থিত বিশ্ব মুসলিম লীগের সদস্য।[৯] তিনি রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক টথের ফেলো।[৩১] ১৯৯১ থেকে তিনি সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস পাকিস্তানের সভাপতি। তিনি আরিফ হাবিব ইনভেস্টমেন্টস-পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফান্ড, বাহরাইন ভিত্তিক আর্কাপিটা ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং মিজান ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সভাপতি। এছাড়াও তিনি জেদ্দা ভিত্তিক ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের ইউনিফাইড শরিয়াহ বোর্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেন্স ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের শরিয়া বোর্ডের সদস্য।[৩১]

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

তাকি উসমানির ১২ বছর বয়সে দৈনিক জং পত্রিকায় তার তিনটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখা তিনটির শিরোনাম ছিল: নারীসমাজ ও কাব্যচর্চা, সহশিক্ষা, নোটে ছবি প্রসঙ্গ[৩২] তার পিতা শফি উসমানি রমজান মাসে তাহাজ্জুদের জামাত সম্পর্কিত একটি ফতোয়া প্রদানের জন্য তাকে তথ্য-উপাত্ত জমা করার দায়িত্ব দেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তার পিতার অনুমতিক্রমে ফতোয়াটি তিনি নিজেই রচনা করেন, যা তার পিতার সত্যায়ন সহকারে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল তার প্রথম ফিকহি রচনা, তখন তার বয়স হয়েছিল ১৫ বছর।[৩৩] ইমদাদুল ফতওয়ার নতুন সংস্করণ প্রকাশ উপলক্ষে তার পিতার নির্দেশে তিনি ১৯৫৯ সালে কিতাবের লেখক আশরাফ আলী থানভীর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী রচনা করেন, এটি ছিল কিতাবে মুদ্রিত তার প্রথম রচনা।[৩৪] ১৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রচারিত জন্ম নিয়ন্ত্রণপরিবার পরিকল্পনা নিয়ে ইসলাম ও যুক্তির নিরিখে জন্ম নিয়ন্ত্রণ রচনা করেন, এটি তার রচিত প্রথম গ্রন্থ।[৩৫] এসময় তিনি আরবি সাহিত্যের একটি ভূমিকাও সংকলন করেন, যা তিনি করাচিতে আবুল হাসান আলী হাসানী নদভীকে দেখিয়ে আনার পথে হারিয়ে যায়।[৩৬] ১৯৬৭ সালে শফি উসমানি দারুল উলুম করাচি থেকে একটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে আল বালাগ প্রকাশ করেন, তখন থেকে তাকি উসমানি এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৩৭] ১৯৭৬ থেকে তিনি এর ইংরেজি সংস্করণ আল বালাগ আন্তর্জাতিক সম্পাদনা করছেন।[৩] আরবি, ইংরেজি ও উর্দুতে তার রচিত ও তার বক্তৃতা, প্রবন্ধ থেকে সংকলিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪৩।[৭] তার মধ্যে রয়েছে:[৩৮]

শিরোনাম মূল নাম প্রকাশকাল ভাষা
তাফসির শাস্ত্র
তাওযীহুল কুরআন آسان ترجمہ قرآن, توضیح القران ২০০৮ উর্দু
দ্য নোবেল কুরআন: মিনিং উইথ এক্সপ্লেইনেটোরি নোটস The Noble Quran: Meaning With Explanatory Notes ২০০৭ ইংরেজি
উলুমুল কুরআন علوم القرآن ১৯৭৬ উর্দু
হাদিস শাস্ত্র
তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম تکملة فتح الملهم بشرح صحیح مسلم ১৯৮৪ আরবি
দরসে তিরমিযী درس ترمذی ১৯৮০ উর্দু
তাকরিরে তিরমিযী تقریر ترمذی ১৯৯৯ উর্দু
ইনআমুল বারী انعام الباری ২০০৯ উর্দু
হাদিসের প্রামাণ্যতা The Authority of Sunnah ১৯৯০ ইংরেজি
আল মুদাওয়ানাতুল জামিয়া المدونة الجامعة ২০১৮ আরবি
ফিকহ শাস্ত্র
উসুলুল ইফতা أصول الإفتاء وآدابه‎‎ ২০১০ আরবি
ফতোয়ায়ে উসমানী فتاوی عثمانی ২০০৪ উর্দু
ফিকহি মাকালাত فقہی مقالات ২০১২ উর্দু
বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়া মুআসিরা بحوث في قضايا فقهية معاصرة ২০০৪ আরবি
ফিকহুল বুয়ু فقہ البیوع‎ ২০১৪ আরবি
মাযহাব কী ও কেন? تقلید کی شرعی حیثیت ১৯৭৬ উর্দু
ইসলাম ও যুক্তির নিরিখে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ضبط ولادت عقلی اور شرعی حیثیت سے ১৯৬১ উর্দু
ইসলামি অর্থনীতি
ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতি An Introduction To Islamic Finance ১৯৯৮ ইংরেজি
ইসলাম ও আধুনিক অর্থনৈতিক সমস্যা اسلام اور جدید معاشی مسائل ২০০৮ উর্দু
ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি اسلام اور جدید معیشت و تجارت ২০১১ উর্দু
সুদ নিষিদ্ধ : পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় The Historic Judgment on Interest Delivered in the Supreme Court of Pakistan ২০০০ ইংরেজি
সুদবিহীন ব্যাংকিং غیر سودی بینکاری ২০০৯ উর্দু
ইসলামি রাজনীতি
ইসলাম ও আধুনিক রাজনীতি اسلام اور سیاسی نظریات ২০০৮ উর্দু
ইসলাম ও রাজনীতি اسلام اور سیاست حاضرہ ২০০৯ উর্দু
ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআবিয়া রা. حضرت معاویۃ اور تاریخی حقائق ১৯৭১ উর্দু
বিবিধ
ইসলাম ও আধুনিকতা اسلام اور جدت پسندی‎ ১৯৯০ উর্দু

অবদান[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের সংসদের একটি সাংবিধানিক উপদেষ্টা সংস্থা ইসলামি আদর্শ পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি হুদুদ অধ্যাদেশের খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন, যাতে পাকিস্তানি দণ্ডবিধিতে কিছু ফৌজদারি অপরাধের জন্য শরিয়া আইনের প্রবর্তন করা হয়।[৯] সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে পাকিস্তানে সব ধরনের সুদ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার ঐতিহাসিক রায়ে প্রভাবশালী ছিলেন।[৯]

ইসলামি অর্থনীতিতে অবদানের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত যাতে তিনি পাকিস্তান এবং বিদেশে অর্থ ও ব্যাংকিং শিল্পকে ইসলামিকরণের জন্য অগ্রণী প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।[৯][৭] ১৯৯৮ সালে তার রচিত ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতিকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত অর্থায়নের বিভিন্ন উপকরণ সহ ইসলামি অর্থনীতির মৌলিক নীতিগুলি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।[৯]

স্বীকৃতি ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম প্রদত্ত আমির মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম পুরস্কার লাভ করেন।[৩৯] ২০১০ সালে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ তাকে অর্ডার অব ইন্ডিপেন্ডেন্সে ভূষিত করেন।[১৯] ২০১১ সালে উপসাগরীয় আর্থিক শিল্পের অন্যতম প্রধান পুরস্কার ইসলামিক বিজনেস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ডসের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আসরে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।[৪০] একই বছর তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ পুরস্কার লাভ করেন।[৩৯] ২০১৪ সালে তিনি ইসলামি অর্থনীতির সর্বোচ্চ পুরস্কার ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক পুরস্কার লাভ করেন।[১৩] শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক ফাইন্যান্স ফোরাম অব সাউথ এশিয়া পুরস্কারের ২০১৬ আসরে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।[৪১] ২০১৭ সালে তাকে পাকিস্তানের সিওএমএসএটিএস বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ইসলামিক ফাইন্যান্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।[৪২] ২০১৯ সালে দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিম ২০২০-এ তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।[৫] জনসেবায় অবদান রাখায় ২০১৯ সালে তাকে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার সিতারা-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয়।[১৮] ২০২২ সালে তিনি আমেরিকান আন্তর্জাতিক আস্তিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টর অব লেটার্স পান।[৪৩] নানা সময় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাকে মূল্যায়ন করে যেসকল মন্তব্য করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

  • পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে মুসলিম বিশ্ব ও পাকিস্তানের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন।[৪৪]
  • সিরিয়ান মুসলিম ব্রাদারহুডের তৃতীয় সর্বোচ্চ উপদেষ্টা আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ তার লিখিত তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম পড়ে তাকে তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, বিদগ্ধ মুহাদ্দিস, বিজ্ঞ ফকিহ ও স্বভাবজাত সাহিত্যিক হিসেবে বর্ণনা করেন।[৪৫]
  • কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মিশরীয় ইসলামি পণ্ডিত ইউসুফ আল কারযাভি তাকে মূল্যায়ন করে বলেন, "আমি তার মাঝে একজন বিজ্ঞ-বিদগ্ধ ফকিহের নিদর্শন দেখতে পাই। যিনি শরিয়তের দলিল-প্রমাণের গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং সে আলোকে মাসায়েল আহরণ করতে পারেন। যিনি একাধিক মতের মাঝে সঠিক মত নিরুপণ করতে সক্ষম। যিনি সমসাময়িক সমস্যা ও মতবাদ সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। যিনি ইসলামি বিধি-বিধান বাস্তবায়নে বদ্ধ-পরিকর এবং মুসলিম দেশে বিচার কাজ করতে আগ্রহী।" তিনি তাকি উসমানির লিখিত তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম পড়ে বলেন, "আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে মুহাদ্দিসের দক্ষতা, ফকিহের যোগ্যতা, শিক্ষকের দর্শন, বিচারকের বিচক্ষণতা ও সমসাময়িক আলেমের অন্তর্দৃষ্টি ইত্যাদি গুণাবলী একই সাথে বিদ্যমান দেখতে পেয়েছি। আমি সহীহ মুসলিমের নতুন-পুরাতন অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখেছি। কিন্তু মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির কিতাবের ন্যায় দেখিনি।[৪৬]
  • তাকি উসমানির পিতা মাআরিফুল কুরআনের রচয়িতা শফি উসমানি তার ছেলের লিখিত উলুমুল কুরআন পড়ে মন্তব্য করেন, "আমার মনে হয়েছে, আমি যদি আমার সুস্থতার সময়ও এমন একটি কিতাব লেখার ইচ্ছা করতাম, তাহলে আমি এমন কিতাব লিখতে পারতাম না।"[৪৭]
  • ভারতীয় ইসলামি ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক তাকে বিশ্বের দুইজন শ্রেষ্ঠ ইসলামি অর্থনীতিবিদের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেন।[৪৮]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।[৯] ২০০২ সালে দারুল উলুম করাচির শিক্ষক লোকমান হাকিম মুহাম্মদ তাকি আল উসমানি: আল-কাজী আল-ফকিহ ওয়া আল-দাঈয়াহ আল-রাহালাহ শিরোনামে একটি জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন, যা দামেস্কের দারুল কলম থেকে প্রকাশিত হয়।[৪৯] ২০১১ সালে মালয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শায়খ মুহাম্মদ তাকি উসমানির "বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিল মুআসিরা"-এর মাধ্যমে তার ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি শীর্ষক পিএইচডি অভিসন্দর্ভ প্রকাশিত হয়।[৫০] ২০১৭ সালে তাকি উসমানি ইঁয়াদে নামে একটি আত্মজীবনী রচনা করেন, যা বাংলা ভাষায়আমার জীবনকথা শিরোনামে অনূদিত হয়েছে।[৫১] ২০১৮ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত আধুনিক ইসলামি কর্তৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তন শীর্ষক গ্রন্থের ৯ম অধ্যায়ে তার জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।[৫২] ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুনান আম্পেল স্টেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সুরাবায়ার একটি স্নাতক অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল মুহাম্মদ মুফতি তাকি উসমানি কর্তৃক কুরআনের সূরা আল বাকারার ইংরেজি অনুবাদে নির্দেশমূলক বক্তৃতা[৫৩] একই বছর তুরস্কের ডিকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল মুহাম্মদ তাকি উসমানি ও তার আইনশাস্ত্র[৫৪] ২০২০ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ব্যবসা ও প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে বিকল্প বাণিজ্যিক ও অপারেশনাল সমাধান: মুফতি তাকি উসমানির অবদান শীর্ষক লেকচার প্রদান করা হয়।[৫৫] ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া থেকে তাকি উসমানির উপর গবেষণা করে ইউসুফ আজিম সিদ্দিকী পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন, তার অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল সম্মিলিত ইজতিহাদের সাথে শরিয়া অনুগত অর্থায়ন, তুলনামূলক অধ্যয়নে প্রয়োগকৃত বিক্রয় চুক্তির নিয়ম শনাক্তকরণে মুফতি তাকি উসমানির অবদান[৫৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নাবি, জহারুদ্দিন; মারজুকি, জুনাইদাহ মুহাম্মদ (৩০ জুন ২০১৭)। "মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি এবং কুরআন অধ্যয়নে তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান"আল ইরশাদ: জার্নাল অফ ইসলামিক অ্যান্ড কনটেম্পোরারি ইস্যু (ইংরেজি ভাষায়)। (১): ৯৪। আইএসএসএন 2550-1992ডিওআই:10.53840/alirsyad.v2i1.29। ৩ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  2. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ৪৪।
  3. "জাস্টিস মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি" (PDF)ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট, পাকিস্তান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০২১ 
  4. পেম্বারটন, কেলি (২০০৯)। "An Islamic Discursive Tradition on Reform as Seen in the Writing of Deoband's Mufti Muḥammad Taqi Usmani" [দেওবন্দের মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির লেখায় সংস্কারের উপর একটি ইসলামি আলোচনামূলক ঐতিহ্য]। দ্য মুসলিম ওয়ার্ল্ড (ইংরেজি ভাষায়)। ৯৯ (৩): ৪৫২। আইএসএসএন 1478-1913ডিওআই:10.1111/j.1478-1913.2009.01280.x 
  5. "বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব মুফতি তাকি উসমানি"দৈনিক ইনকিলাব। ২ অক্টোবর ২০১৯। ৫ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  6. বিন আলাউদ্দিন, ইলিয়াস (২০২২)। ফিকহি মাকালাত। বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০: মাকতাবাতুল ইসলাম। পৃষ্ঠা ১১। আইএসবিএন 978-984-91049-1-9 
  7. শ্লেইফার, আবদুল্লাহ, সম্পাদক (২০২০)। The World’s 500 Most Influential Muslims [বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিম]। আম্মান, জর্ডান: দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার। পৃষ্ঠা ৪১। আইএসবিএন 9789957635459 
  8. "পাকিস্তানের মাদরাসা বোর্ডের সভাপতি হলেন মুফতি তাকি উসমানি"কালের কণ্ঠ। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  9. ইউনুস, সালমান (২০২২)। Uthmānī, Muḥammad Taqīঅক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ওয়ার্ল্ড: ডিজিটাল কালেকশন (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 978-0-19-766941-9। ১৫ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২২ 
  10. উসমানি, মুহাম্মদ তাকি (২০২১)। আমার জীবনকথা। মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আবুল বাশার কর্তৃক অনূদিত। বাংলাবাজার, ঢাকা: মাকতাবাতুল আশরাফ। পৃষ্ঠা ২২৭–২২৮। আইএসবিএন 9789849173038। ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২২ 
  11. "Maulana Taqi Usmani appointed as Chairman of Shariah Board" [মাওলানা তাকি উসমানিকে শরিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে]। দ্য মিল্লি গেজেট। ৬ মার্চ ২০১৪। ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০২২ 
  12. "আমাদের সম্পর্কে"মিজান ব্যাংক। ২০২০-০৮-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১১-১৬ 
  13. "Taqi Usmani, Rodney Wilson share IDB prize" [তাকি উসমানি, রডনি উইলসন আইডিবি পুরস্কার পেয়েছেন]। আরব নিউজ। ৯ মে ২০১৪। ১২ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  14. উল্লাহ, মুহাম্মদ (২০১৮)। The Contribution of Deoband School to Hanafi Fiqh A Study of Its Response to Modern Issues and Challenges [হানাফি ফিকহে দেওবন্দিদের অবদান : আধুনিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি অধ্যয়ন] (গবেষণাপত্র)। ভারত: জামিয়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ১৬৬। hdl:10603/326073 
  15. লোকমান হাকীম, মাওলানা (২০১৪)। জাস্টিস মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী জীবন ও কর্ম। বাংলাবাজার, ঢাকা: মাকতাবাতুল হেরা। পৃষ্ঠা ৮৪–৮৫। আইএসবিএন 9789849112310 
  16. "المدونة الجامعة للأحاديث المروية عن النبي الكريم ﷺ" [আল মুদাওয়ানাতুল জামিয়াতু লিল আহাদিসিল মারবিয়াতি আনিন নাবিয়্যিল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]। muftitaqiusmani.com (আরবি ভাষায়)। ২৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২২ 
  17. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ১০০।
  18. "President confers 116 civil awards" [রাষ্ট্রপতি ১১৬টি বেসামরিক পুরস্কার প্রদান করেছেন]। দি ন্যাশন। ১৪ আগস্ট ২০১৯। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  19. "জর্ডানের সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত আমর খালেদ"আল আনবা (আরবি ভাষায়)। ১০ এপ্রিল ২০১০। ১৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২২ 
  20. খান, আজমত (১২ অক্টোবর ২০২২)। "আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় ৩ জন পাকিস্তানি স্কলারকে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেছে"এলার্ট ডটকম পাকিস্তান। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২২ 
  21. উসমানি ২০২১, পৃ. ৪০–৪১, ১ম খণ্ড।
  22. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ১৪–১৫।
  23. উসমানি ২০২১, পৃ. ৫১–৫২, ১ম খণ্ড।
  24. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ২৫–২৬।
  25. উসমানি ২০২১, পৃ. ১০৩, ১ম খণ্ড।
  26. উসমানি ২০২১, পৃ. ৮৯, ১ম খণ্ড।
  27. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ২২।
  28. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ২৬–২৮।
  29. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ২৯–৩২।
  30. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ২৮–২৯।
  31. "Profile" [প্রোফাইল]। muftitaqiusmani.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২২ 
  32. উসমানি ২০২১, পৃ. ২২৭, ২য় খণ্ড।
  33. উসমানি ২০২১, পৃ. ৩৩১, ১ম খণ্ড।
  34. উসমানি ২০২১, পৃ. ৩৩৬, ১ম খণ্ড।
  35. উসমানি ২০২১, পৃ. ২২৭–২২৮, ২য় খণ্ড।
  36. উসমানি ২০২১, পৃ. ৫৪, ২য় খণ্ড।
  37. উসমানি ২০২১, পৃ. ২৪৯, ২য় খণ্ড।
  38. হুমা, জিল (২০১৯)। "مفتی محمد تقی عثمانی کی معروف تصنیفات و تالیفات کا تعارفی جائزہ:" [মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির শীর্ষস্থানীয় বই ও রচনাবলির ব্যাখ্যা]। রাহাতুল কুলুব (উর্দু ভাষায়)। (১): ১৯৭–২২৪। আইএসএসএন 2521-2869ডিওআই:10.51411/rahat.3.1.2019.66 
  39. "عن الشيخ" [শায়খ সম্পর্কে]। muftitaqiusmani.com (আরবি ভাষায়)। ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২২ 
  40. "Double First For The Top Winners At The Islamic Business & Finance Awards 2011" [ইসলামিক বিজনেস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১১-এ শীর্ষ বিজয়ীদের জন্য ডাবল ফার্স্ট]। মার্কেট বাজ আন্তর্জাতিক। ১৪ ডিসেম্বর ২০১১। ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  41. "Meezan Bank receives multiple awards at Islamic Finance Forum of South Asia"মিজান ব্যাংক। ১৫ আগস্ট ২০১৬। ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  42. "Islamic Finance Excellence Awards 2017"সিওএমএসএটিএস বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  43. খান, আজমত (১২ অক্টোবর ২০২২)। "আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় ৩ জন পাকিস্তানি স্কলারকে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেছে"এলার্ট ডটকম পাকিস্তান। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২২ 
  44. "তাকি উসমানী পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের অমূল্য সম্পদ: ইমরান খান"যুগান্তর। ২২ মার্চ ২০১৯। ২ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  45. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ৮৬।
  46. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ৮৭।
  47. লোকমান হাকীম ২০১৪, পৃ. ৯৫।
  48. নায়েক, জাকির (২৪ অক্টোবর ২০২১)। The Islamic Scholars Dr Zakir Naik Refers to for Fiqh Issues [ফিকহি বিষয়ে জাকির নায়েকের সাজেশন] (ভিডিও) (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২২ 
  49. ওসিএলসি ৭৫৬২১০৮৬৬
  50. ওসিএলসি ৯৬৩০৩০২৯৭
  51. "আমার জীবনকথা সমগ্র"মাকতাবাতুল আশরাফ। ২০২২-১১-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১১-১৭ 
  52. জেস্টোর 10.3366/j.ctv7n0978
  53. মুহাম্মদ, মাহেন্দ্র (১৯ ডিসেম্বর ২০১৯)। Directive Speech Acts Found On English Translation Of Quran Surah Al Baqarah By Muhammad Mufti Taqi Usmani [মুহাম্মদ মুফতি তাকি উসমানি কর্তৃক কুরআনের সূরা আল বাকারার ইংরেজি অনুবাদে নির্দেশমূলক বক্তৃতা] (স্নাতক) (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্দোনেশিয়া: সুনান অ্যাম্পেল স্টেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সুরাবায়া। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 
  54. বিঙ্গোল, আব্দুর রহিম (২০১৯)। Muhammed Takî Osmânî ve fıkıhçılığı [মুহাম্মদ তাকি উসমানি ও তার আইনশাস্ত্র] (এম.এ.) (তুর্কী ভাষায়)। দিয়ারবাকির: ডিকল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৩ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২২ 
  55. ডিওআই:10.1007/978-3-030-69221-6_130
  56. সিদ্দিকী, ইউসুফ আজিম (২০২১)। Contribution Of Mufti Taqi Usmani In Identifying Rulings Of The Sale Contract Applied In Syari'ah Compliant Financing Comparative Study With Collective Ijhtihad [সম্মিলিত ইজতিহাদের সাথে শরিয়াহ অনুগত অর্থায়ন, তুলনামূলক অধ্যয়নে প্রয়োগকৃত বিক্রয় চুক্তির নিয়ম শনাক্তকরণে মুফতি তাকি উসমানির অবদান] (পিএইচডি) (ইংরেজি ভাষায়)। আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]