বিষয়বস্তুতে চলুন

দাওয়াতে ইসলামী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দাওয়াতে ইসলামী
دعوت اسلامی
নীতিবাক্যআমাকে নিজের এবং সারা দুনিয়ার মানুষের সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে, ইনশা আল্লাহ।
গঠিত২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৮১
প্রতিষ্ঠাতাশায়খ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী
সদরদপ্তরকরাচী পাকিস্তান
অবস্থান
  • ফয়জান-এ-মদিনা — গ্লোবাল ইসলামিক সেন্টার ('আলামি মাদানী মারকাজ)
ওয়েবসাইটwww.dawateislami.net

দাওয়াতে ইসলামী একটি অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন, যা কুরআনসুন্নাহ প্রচারের উদ্দেশ্যে ১০০টিরও অধিক বিভাগে বিশ্বের ২০০+ দেশে আপন মাদানী মারকাযের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর খিদমাত করে যাচ্ছে। কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে মাদানী কাজের বিভিন্ন বিভাগ তৈরী করা হয়েছে। আমীরে আহলে সুন্নাত, মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী ১৯৮১ সালে দাওয়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।[]


স্থানীয় দাতব্য কার্যক্রমের পাশাপাশি দাওয়াতে ইসলামী ইসলামি অধ্যয়নের উপর অনলাইন কোর্স প্রদান করে এবং মাদানী চ্যানেল নামে একটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বরে করাচিতে প্রখ্যাত আলেমগণ কর্তৃক দাওয়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যাঁরা ইলইয়াসকে এর প্রধান নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন।[][][]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুন্নি হানাফী আলেম, ওয়াহাবীদের খন্ডনে উর্দুতে যালযালা বইয়ের রচয়িতা মাওলানা আরশাদুল কাদেরী,বিশিষ্ট আলেম শাহ আহমদ নুরানী (যিনি ১৯৭৩ সাল থেকে জমিয়তে ওলামায়ে পাকিস্তান জেইউপির প্রধান ছিলেন) এবং অন্যান্য সুন্নি আলেম ওলামা মাশায়েখদের সম্মিলিত উদ্যোগে ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে করাচীর দারুল উলুম আমজাদিয়া মাদ্রাসায় তৎকালীন তরুণ ছাত্র ইলইয়াস আত্তার কাদেরীকে দাওয়াতে ইসলামীর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।[][] ১৯৮১ সালের ০২ সেপ্টেম্বর দাওয়াতে ইসলামী তার অস্তিত্ব লাভ ও কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে অনেক ওয়াহাবি সালাফী সংগঠন,প্রতিষ্ঠান ও তাদের চিন্তাধারাকে দূর্বল করার জন্যে দাওয়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[] []

বিস্তার

[সম্পাদনা]

দাওয়াতে ইসলামী ২৬,০০০ জনেরও বেশি মুবাল্লিগ কর্মী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক এবং ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে বিশ্বের ১৯৪ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় ইসলামের বার্তা প্রচার করছে। দাওয়াতে ইসলামীর দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হল মাদানী কাফেলা এবং নেক আমল। অনুসারীরা মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে ভ্রমণ করেন। দাওয়াতে ইসলামীর মাদানী চ্যানেল নামে নিজস্ব একটি টিভি চ্যানেল রয়েছে। এটি পাকিস্তানের মুলতানে (২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত), ভারতের মুম্বাই এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ২০১৫ সাল ও রাজধানী ঢাকায় ২০১৬ সাল থেকে ইজতেমা বা মুসলমানদের একটি বার্ষিক ধর্মীয় সভার আয়োজন করে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

[সম্পাদনা]

বর্তমানে এপর্যন্ত পাকিস্তান,বাংলাদেশ, ভারত,নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান সহ বিশ্বের অসংখ্য দেশগুলোতে দাওয়াতে ইসলামী শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের অংশ হিসেবে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছে। যার মধ্যে মাদ্রাসা, স্কুল ও অনলাইন একাডেমী রয়েছে। দাওয়াতে ইসলামীর অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ হলো

  • জামিয়াতুল মদীনা : ইলমে দ্বীন বা ধর্মীয় জ্ঞাব প্রচারের (আলিম ও আলিমা কোর্স করানোর) জন্য ছেলে ও মেয়েদের আলাদা আলাদা জামেয়াতুল মদীনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪২৫ টি (১ হাজার ৪ শত পঁচিশটি) জামিয়াতুল মদীনা (পুরুষ ও মহিলা পৃথক) প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, যাতে প্রায় ৯৬,৯২১জন (৯৬ হাজার ৯ শত একুশ) ছাত্র ও ছাত্রী দরসে নিজামী (আলিম ও আলিমা কোর্স, ফয়যানে শরীয়াত কোর্স) ফ্রি করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬,১১৭জন (১৬ হাজার ১ শত সতের) আলিম ও আলিমা কোর্স, ফয়যানে কোর্স সম্পন্ন করে নিয়েছে, লাখো হাফেজ, ক্বারী, ইমাম, মুবাল্লিগ ও মুবাল্লিগা, আলেম ও মুফতী প্রস্তুত করার পাশাপাশি উম্মতের সংশোধন ও চরিত্র গঠনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। জামিয়াতুল মদীনার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার আংশিক মিল রয়েছে। তবে জামিয়াতুল মদীনায় তরজমায়ে কুরআন কানযুল ঈমান, বাহারে শরীয়ত, এহইয়াউ উলুমিদ্দীন ও ফতোয়ায়ে রজভীয়া ইত্যাদি গ্রন্থসমূহ পড়ানো হয়ে থাকে।


  • মাদরাসাতুল মদীনা : ছোট ছেলে ও মেয়েদের (Boys & Girls) আলাদা আলাদাভাবে কুরআনের শিক্ষা দেয়ার জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯৪৬টি (৫ হাজার ৯ শত ছেচল্লিশ) মাদরাসাতুল মদীনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
  • দারুল মদীনা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সিস্টেম
  • ফয়জান ইসলামিক স্কুল সিস্টেম
  • দারুল মদীনা কলেজ
  • দারুল মদীনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশে দাওয়াতে ইসলামী

[সম্পাদনা]

মুদ্রণ ও প্রকাশনা

[সম্পাদনা]

মাদানী চ্যানেল

[সম্পাদনা]

অনুষ্ঠানাদী ও বার্ষিক জমায়েত

[সম্পাদনা]

সোশ্যাল মিডিয়া

[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২১ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৪
  2. Akram, Nafees (২০১২)। Imam Ahmed Raza Khan and the Dawat-e-Islami Movement: Islamic Revival through social reform (Ph.D)। University of Bristol।
  3. Gugler, Thomas K. (২০১০), "The New Religiosity of Tablīghī Jamāʿat and Daʿwat-e Islāmī and the Transformation of Islam in Europe", Anthropos, ১০৫ (1): ১২১–১৩৬, ডিওআই:10.5771/0257-9774-2010-1-121, জেস্টোর 25734742
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "crossasia-repository.ub.uni-heidelberg.de" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. The Milli Gazette, OPI, Pharos Media। "Who is to be blamed?, The Milli Gazette, Vol. 3 No. 11"। Milligazette.com। ১২ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  6. http://crossasia-repository.ub.uni-heidelberg.de/142/1/Gugler_Politics_of_Difference.pdf ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৫-০৯-২৮ তারিখে [অনাবৃত ইউআরএল পিডিএফ]
  7. Imtiaz Gul (৮ নভেম্বর ২০১২)। Pakistan: Before and After Osama। Roli Books Private Limited। পৃ. ১৯০–। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫১৯৪-০২৮-৯
  8. Archived at Ghostarchive and the Wayback Machine: "Dawateislami Day | 2nd September Youme Dawateislami Day | Dawateislami 40 Years Of Struggle #shorts"YouTube। ২৫ আগস্ট ২০২১।