দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(দেলোয়ার হোসেন সাঈদী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সহকারী আমির
শাইখ, আল্লামাউলামা
পিরোজপুর-১-এর জন্য
সংসদ সদস্য
কার্যালয়ে
১২ জুন ১৯৯৬ – ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮
পূর্বসূরী শুধাংশু শেখর হালদার
উত্তরসূরী একেএমএ আওয়াল (সাইদুর রহমান)
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম পিরোজপুর, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী
সন্তান রাফিক বিন সাঈদী, শামীম সাঈদী, মাসঊদ সাঈদী, নাসিম সাঈদী
জীবিকা রাজনীতি, ইসলাম, দাওয়াত
পেশা ইসলামী বাগ্মী
ধর্ম ইসলাম

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পূর্বনামঃ দেলোয়ার শিকদার; ইংরেজি: Delwar Hossain Sayeedi) একজন বাংলাদেশী মুসলিম রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন সংসদ সদস্য, ইসলামি শিক্ষাবিদ ও বক্তা[১]; যাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকার বাহিনী-এর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার[২][৩][৪][৫][৬][৭] অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির বা ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৯৬ সালের সাধারন নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০১১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার বিরূদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের জোড়পূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ দফা অভিযোগ আনা হয়। [৮] আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রদত্ত বিচারের রায়ে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দু'টি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।[৬][৭][৯][১০][১১][১২]। তার ফাঁসীর রায় ঘোষণা হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সহিংসতা শুরু করেছিল।[১৩][১৪][১৫][১৬] এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়।

১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদাণ করে।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর জন্ম পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে, ১লা ফেব্রুয়ারী, ১৯৪০ সালে। তার বাবা ইউসুফ সাঈদী একজন ইসলামী পণ্ডিত বা আলেম ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় লোকদের কাছে দেলোয়ার শিকদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়।[১৭]

তিনি ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও পরবর্তিতে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তরিত হন।[১৭] ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর সাঈদী স্থানীয় গ্রামে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মুসলমান আলেম বা মওলানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবাতাবিরোধী কর্মকান্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে।[১৮] যাইহোক, তার পুত্র মাসঊদ সাঈদীর মতে তিনি ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি যশোরে বসবাস করছিলেন।[১৭]

সাঈদী বাংলা, উর্দূ, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে।[১৭]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমান পাকিস্তান) ও পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মধ্যে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়। ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালীর উপর অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশীকে সেই রাতে হত্যা করে যা ইতিহাসে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা পায়।[১৯][২০] দেলওয়ার হোসেন সাঈদী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেন।[২১][২২] তিনি সেসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করার দায়ে অভিযুক্ত।[২৩] পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাযার্থে সেসময় বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা হয়, আধাসামরিক বাহিনী রাজাকারের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সাঈদীর বিরোদ্ধে হত্যা, লুন্ঠন, নির্যাতন ও জোড়পূর্বক সংখ্যালঘু হিন্দুদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে।[৬][৭][৯][১৭][১৮][২২] তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয়ভাবে 'দেইল্যা রাজাকার' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।[২৪] যাইহোক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার আইনজীবী তার পক্ষে বলেন, ১৯৭১ সালের দেলওয়ার হোসাইন শিকদার ওরুফে 'দেইল্যা রাজাকার' এক ব্যক্তি নন; কুখ্যাত 'দেইল্যা রাজাকারকে' স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধারা আটক করেন ও হত্যা করেন। [২৫] এর পূর্বে যুদ্ধাপরাধের অপর একটি মামলায় তার দল জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার পক্ষেও একই কথা বলা হয়েছিল যে, কাদের মোল্লা ও 'কসাই' কাদের একই ব্যক্তি নন।[২৬] যদিও আদালতের রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকের প্রথমদিকে সাঈদী সাড়াদেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্য দানের ক্ষমতার জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; এসময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।[১] তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় সংসদ-এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১৭]

আফগানিস্তান ২০০১ যুদ্ধের সমালোচনা[সম্পাদনা]

সাঈদী ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র শক্তি দ্বারা পরিচালিত আফগানিস্তানের তালেবান সরকার উৎক্ষাত ও আল কায়েদা নির্মূল অভিযানের ব্যাপক সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে একটি স্বাধীন মুসলমান রাষ্ট্রের সরকারের উপর হস্তক্ষেপের বিরোধীতা করেন। আল কায়েদাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ হামলার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে।

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সাঈদীর চরমপন্থী মতবাদের জন্য ২০০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেরোরিস্ট স্ক্রিনিং সেন্টার (টিএসসি) সাঈদীকে তাদের নো ফ্লাই তালিকায় যুক্ত করে অর্থাৎ এই তালিকার নাগরিকেরা কোন দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।[২৭]

বিদেশ ভ্রমণ বিতর্ক[সম্পাদনা]

২০০৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের যথাযথ কতৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদনের পর সাঈদী যুক্তরাজ্যে যান লন্ডন ও লুটনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখার জন্য। [২৮] অনেক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য তার এই ভ্রমণকে বিতর্কিত হিসেবে গণ্য করে। কিছু ফাঁস হওয়া ইমেইল নিয়ে দি টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখান থেকে জানা যায় যে একজন উপদেষ্টা, এরিক টেইলর বলেছেন, "যুক্তরাজ্যে সাঈদীর পূর্ববর্তী ভ্রমণেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তার অনুসারীদের আক্রমণাত্নক আচরণের জন্য।" [২৯]

২০০৬ সালের ১৩ই জুলাই ব্রিটিশ সাংবাদিক একটি ডকুমেন্টরি প্রকাশ করেন যার শিরোনাম ছিল “হু স্পিকস ফর মুসলিম?” এখানে সাঈদীকেও যুক্ত করা হয় এবং তাকে চরমপন্থী মতবাদদাতা বলে উল্লেখ করা হয়।[৩০] ব্রিটিশ বাংলাদেশী সম্প্রদায়ে সাঈদীর বড় একটি অনুসারী অংশ রয়েছে। তিনি ১৪ই জুলাই ২০০৬ সালে পূর্ব লন্ডন মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হন; পরবর্তিতে ব্রিটেরে মুসলিম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আব্দুল বারী তারা এই আমন্ত্রন সমর্থন করেন।[৩১]

২০০৯ সালের ২৪শে জুলাই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সাঈদীকে বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেন। তার বিদেশ ভ্রমণের উপর সরকারের এই বিধিনিষেধ আরোপকে অস্বীকার করে সাঈদী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন ফাইল করেন ২৭শে জুলাই। চেম্বার জজের সামনে এটর্নী জেনারেল বিধিনিষেধের সপক্ষে যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে সাঈদী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন এবং সাঈদীকে যদি বিদেশ যেতে বাধা না দেওয়া হয় তাহলে তিনি যুদ্ধাপরাধীদেরকে আদালতে অভিযুক্ত করার সরকারের যে উদ্যোগ, এর বিরূদ্ধে বিদেশে প্রচারণা চালাতে পারেন। [২]

ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বৃটিশ মিডিয়া যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সাঈদীর ভিসা বাতিলের জন্যে অনুরোধ জানায়। [৩২]

গ্রেফতার[সম্পাদনা]

"ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে" মর্মে অভিযোগে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২১ মার্চ তারিখে দায়েরকৃত বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর মামলার প্রেক্ষিতে ঐ বছর ২৯ জুন তারিখে রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে পুলিশ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করে।[৩৩]

যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অভিযোগ[সম্পাদনা]

  • অভিযোগ রয়েছে যে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী তৎকালীন সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার ফায়জুর রহমান কে হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন।[৩৪]
  • ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত একটি গণ তদন্ত প্রতিবেদনে সাঈদী কে আল বদর বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের সাথে যুক্ত থাকার জন্য অভিযুক্ত করা হয়।[৩৫] মানিক পশারী নামে একজন ২০০৯ সালের ১২ই আগস্ট পিরোজপুরে সাঈদী সহ আরও চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। [৩৬] মানিক পশারী অভিযোগ করেন যে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছিল এবং বাড়ির তত্বাবধায়ক কে হত্যা করা হয়েছিল।[৩৭]
  • আরও একটি মামলা পিরোজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার নামে দায়ের করা হয়। এ মামলা দায়ের করেন মহিউদ্দীন আলম হাওলাদার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা।[৩৮][৩৯]
  • দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী দাবী করেন আদালত ফতোয়া (ধর্মীয় অনুশাসন) নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং ফতোয়াই আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করবে।[৪০].
  • তাবলীগি কর্মকান্ডের আড়ালে তিনি বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন।[৪১].
  • ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সাঈদীর ভূমিকার কথা লেখার কারনে তিনি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার পিরোজপুরের স্থানীয় সাংবাদদাতাদের হুমকি দেন।[৪২]

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়[সম্পাদনা]

তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্মান্তর করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে[৪৩] এর মধ্যে দুটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।[৪৪][৪৫] ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন।[৪৬] সাঈদীর বিরুদ্ধে থাকা ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬, ১৯ নম্বর অভিযোগ। এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়।[৪৭][৪৮][৪৯][৫০] এই জন্য ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল।[৫১][৫২] তবে,তার বিরুদ্ধে আনা অন্য ১২টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে সেগুলো থেকে খালাস দেওয়া হয়।[৪৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ সাইদখালির শিকদার যেভাবে হলেন সাঈদী
  2. ২.০ ২.১ A report on New Age National , The Daily Newspaper, published on August 13, 2009.
  3. 30-yr-old Delu punished
  4. http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-21611769
  5. Bangladesh party leader accused of war crimes in 1971 conflict | World news | The Guardian
  6. ৬.০ ৬.১ ৬.২ REUTERS, 28th February, 2013
  7. ৭.০ ৭.১ ৭.২ "Seeking war crimes justice, Bangladesh protesters fight 'anti-Islam' label", CNN.com, 27 February 2013
  8. http://www.hindustantimes.com/world-news/Bangladesh/Bangladesh-1971-war-crimes-trial-begins/Article1-771835.aspx
  9. ৯.০ ৯.১ "Bangladesh war crimes trial: Delwar Hossain Sayeedi to die"। BBC। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ৫ মার্চ ২০১৩ 
  10. "Bangladesh Jamaat leader sentenced to death"। Al Jazeera। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  11. Tanim, Ahmed (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Sayedee to hang"bdnews24। সংগৃহীত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  12. "সাঈদীর ফাঁসির আদেশ"। বিডিনিউজ২৪.কম। 
  13. Julfikar Ali Manik; Jim Yardley (১ মার্চ ২০১৩)। "Death Toll From Bangladesh Unrest Reaches 44"New York Times। সংগৃহীত ১ মার্চ ২০১৩ 
  14. Arun Devnath; Andrew MacAskill (১ মার্চ ২০১৩)। "Clashes Kill 35 in Bangladesh After Islamist Sentenced to Hang"। Bloomberg। সংগৃহীত ১ মার্চ ২০১৩ 
  15. Naim-Ul-Karim (২ মার্চ ২০১৩)। "4 dead, hundreds injured as riots continue in Bangladesh"। Xinhua। সংগৃহীত ২ মার্চ ২০১৩ 
  16. "Bangladesh deaths rise as Jamaat protest strike begins"। BBC। ৩ মার্চ ২০১৩। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০১৩ 
  17. ১৭.০ ১৭.১ ১৭.২ ১৭.৩ ১৭.৪ ১৭.৫ সাইদখালির শিকদার যেভাবে হলেন সাঈদী - BBC Bangla - খবর
  18. ১৮.০ ১৮.১ http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=270941
  19. Zunaid Kazi। "History : The Bangali Genocide, 1971"। Virtual Bangladesh। ২৩ জুলাই ২০১১-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২৩ জুন ২০১১ 
  20. Rummel, Rudolph। "Chapter 8: Statistics of Pakistan's Democide Estimates, Calculations, And Sources"। Statistics of Democide: Genocide and Mass Murder since 1900। পৃ: ৫৪৪। আইএসবিএন 978-3-8258-4010-5। ""...They also planned to indiscriminately murder hundreds of thousands of its Hindus and drive the rest into India. ... This despicable and cutthroat plan was outright genocide'." 
  21. "Bangladesh war crimes trial: Delwar Hossain Sayeedi to die"BBC News। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। 
  22. ২২.০ ২২.১ "Bangladesh party leader accused of war crimes in 1971 conflict"The Guardian (London)। ৩ অক্টোবর ২০১১। 
  23. "Delwar Hossain Sayedee, Bangladesh Islamic Party Leader, Sentenced To Death Over War Crimes"Huffington Post। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ১৪ এপ্রিল ২০১৩ 
  24. http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=a10e1e1d41e5f6c80b98614eb5ff4298&nttl=28022013177782
  25. "Sayedee to hang"bdnews24। সংগৃহীত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  26. "Quader Molla was "innocent": Imran Khan"bdnews24.com। ১৭ Dec ২০১৩। সংগৃহীত ১৭ এপ্রিল ২০১৪ 
  27. ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত "Bangladesh lawmaker in US 'no fly list'", Yahoo News.
  28. A report on Daily Mail , by Benedict Brogan, published on July 13, 2006.
  29. A report on The Times, By Richard Ford, Nicola Woolcock and Sean O’Neill , published on July 14, 2006.
  30. Bright, Martin (১৩ জুলাই ২০০৬)। "Delwar Hossein Sayeedi"New Statesman 
  31. article The Times 14 July 2006. Retrieved 2010-08-22.
  32. "Preaching Hatred : Jamaat MP Saidee in UK hot soup", Julfikar Ali Manik and Bishawjit Das
  33. "নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদী গ্রেপ্তার", নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৯-০৬-২০১০
  34. Report on the findings of the People's Inquiry Commission on the activities of the war criminals and the collaborator.
  35. A South Asia Analysis Group report. Paper no. 232..
  36. "SC stays Sayedee bail in war crime case"। The Daily Star। 
  37. "পিরোজপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের সংবাদ"। প্রথম আলো। 
  38. Bangladesh2day: an online news portal, September 01, 2009.
  39. A report on the newspaper The Daily Star, published on September 01, 2009.
  40. God willing: the politics of Islamism in Bangladesh, by Ali Riaz, p. 3.
  41. Genocide 1971, An Account Of The Killers And Collaborators Genocide’71, published by Muktijuddha Chetana Bikash Kendra, p. 100.
  42. An article by BangladeshCenter for Development, Journalism and Communication, published on May 13, 2002.
  43. "সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২৮-০২-২০১৩। 
  44. ৪৪.০ ৪৪.১ "মানবতাবিরোধী অপরাধে সাঈদীর ফাঁসি"দৈনিক প্রথম আলো। ২৮-০২-২০১৩। 
  45. "রাজাকার সাঈদীর ফাঁসির আদেশ"। বিডিনিউজ। ২৮-০২-২০১৩। 
  46. "সাঈদীর ফাঁসির রায়"দৈনিক ইত্তেফাক। ২৮-০২-২০১৩। 
  47. "বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাঈদীর ফাঁসির রায়"। বিবিসি বাংলা। ২৮-০২-২০১৩। 
  48. "Bangladesh Jamaat leader sentenced to death"। আল জাজিরা। ২৮-০২-২০১৩। 
  49. "Bangladesh sentences Jamaat-e-Islami leader to death for war crimes"। গার্ডিয়ান। ২৮-০২-২০১৩। 
  50. "সাঈদীর ফাঁসি"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২৮-০২-২০১৩। 
  51. "সাঈদীর ফাঁসি"বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর। ২৮-০২-২০১৩। 
  52. "সাঈদীর ফাঁসির আদেশ"সময় টিভি। ২৮-০২-২০১৩।