ভিলহেল্ম রন্টজেন
ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন (রন্টজেন) | |
|---|---|
ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন | |
| জন্ম | ২৭ মার্চ ১৮৪৫ |
| মৃত্যু | ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯২৩ (বয়স ৭৭) |
| জাতীয়তা | |
| মাতৃশিক্ষায়তন | ইটিএইচ জুরিখ, জুরিখ বিশ্ববিদ্যলয় |
| পরিচিতির কারণ | রঞ্জনরশ্মি |
| পুরস্কার | |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | পদার্থবিজ্ঞান |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যলয় হোয়েনহাইম গিজেন বিশ্ববিদ্যালয় ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যলয় মিউনিখ বিশ্ববিদ্যলয় |
| ডক্টরেট শিক্ষার্থী | হেরমান মার্খ |
| স্বাক্ষর | |
ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন (জার্মান: Wilhelm Konrad Röntgen; আ-ধ্ব-ব: [ˈvɪlhɛlm ˈʁœntɡən]; ; ২৭শে মার্চ, ১৮৪৫ – ১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩) (অতিপ্রচলিত বিকল্প বানান রন্টজেন) ১৯শ ও ২০শ শতাব্দীর একজন জার্মান পরীক্ষাধর্মী পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ১৮৯৫ সালে একটি বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে অবস্থিত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (রশ্মি) উৎপাদন ও আবিষ্কার করেন, যেগুলি বর্তমানে এক্স-রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত।[১][২] এই আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে তিনি সর্বপ্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।[৩] ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে রন্টগেনের আবিষ্কার এবং অবদানের স্মরণে আন্তর্জাতিক বিশুদ্ধ ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (ইউপ্যাক) ১১১ পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট তেজস্ক্রিয় ও কৃত্রিম মৌলের নামকরণ করে রন্টজেনিয়াম, যার একাধিক অস্থিতিশীল সমস্থানিক বিদ্যমান। তার নামে বিকিরণ প্রকাশের একক রন্টজেন (R) নামকরণ করা হয়েছে।

শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]তার পিতা একজন জার্মান বণিক এবং কাপড় প্রস্তুতকারক ফ্রিডরিখ কনরাড রন্টগেন এবং মাতার নাম শার্লটে কনস্টানৎস ফ্রোভাইন।[৬] রন্টগেনের বয়স যখন তিন বছর, তখন পরিবারসহ তিনি নেদারল্যান্ডসে স্থানান্তরিত হন।[৬] সেখানে তিনি উট্রেখট কারগরি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই বছর পড়াশোনা করেন।[৬][৭] ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তাকে অন্যায়ভাবে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত করা হয়, যখন তার একজন শিক্ষক অন্য একজন শিক্ষকের একটি ব্যঙ্গচিত্রে বাধা দেন, যা অন্য কেউ এঁকেছিলেন।
উচ্চ বিদ্যালয়ের সনদ ছাড়াই রন্টগেন শুধুমাত্র অভ্যাগত হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারতেন। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিয়মিত ছাত্রদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়াই উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি জুরিখে অবস্থিত ফেডারেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে ইটিএইচ জুরিখ নামে পরিচিত) ভর্তি হতে পারবেন শুনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সেখানে যন্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।[৬] ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি প্রফেসর আউগুস্ট কুনটের একজন পছন্দের ছাত্র হয়ে ওঠেন, যাকে তিনি স্ট্রাসবুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত জার্মান কায়েজার-ভিলহেলম-উনিভের্সিটেট (বর্তমান স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যালয়) পর্যন্ত অনুসরণ করেন।[৮]

কর্মজীবন
[সম্পাদনা]
১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে রন্টগেন স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক নিযুক্ত হন। ১৮৭৫ সালে তিনি ভুর্টেমবের্গ রাজ্যের হোয়েনহাইম শহরে অবস্থিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৮৭৬ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন এবং ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গিসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের [৯] এবং ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে বাভারিয়া সরকারের বিশেষ অনুরোধে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় এর বিশেষ অনুরোধে পদার্থবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় রন্টগেনের পরিবার ছিল এবং তিনি দেশত্যাগ করার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি নিউইয়র্ক শহরের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ট্রান্সআটলান্টিক টিকিট ক্রয় করেন। কর্মজীবনের বাকি সময় তিনি মিউনিখেই অতিবাহিত করেন।
রঞ্জন রশ্মির আবিষ্কার
[সম্পাদনা]১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুরৎসবুর্গ পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিজ পরীক্ষাগারে রন্টগেন বিভিন্ন ধরনের নির্বাত নল পরীক্ষা-সরঞ্জামের (হাইনরিশ হের্তস, ইয়োহান হিটরফ, উইলিয়াম ক্রুকস, নিকোলা টেসলা এবং ফিলিপ লেনার্ডের যন্ত্র) মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করানোর বাহ্যিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিলেন।[১০] নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনি লেনার্ডের নলগুলির একটি নিয়ে একটি পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করছিলেন, যাতে ক্যাথোড রশ্মি প্রস্থান করার মতো একটি পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের জানালা যুক্ত করা হয়েছিল, তবে ক্যাথোড রশ্মি উৎপন্নকারী শক্তিশালী স্থিরতড়িৎ ক্ষেত্রের প্রভাবে অ্যালুমিনিয়ামকে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এতে একটি কার্ডবোর্ডের আবরণ যোগ করা হয়েছিল। রন্টগেন জানতেন যে কার্ডবোর্ডের আবরণ আলোর গতিপথে বাধা প্রদান করে, তবুও তিনি লক্ষ করলেন যে অদৃশ্য ক্যাথোড রশ্মিগুলি অ্যালুমিনিয়াম জানালার কাছে রাখা বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত একটি ছোট কার্ডবোর্ডের পর্দায় প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।[৯] রন্টগেন ধারণা করলেন যে লেনার্ড নলের চেয়ে অত্যধিক ঘন কাচের প্রাচীরবিশিষ্ট ক্রুকস-হিটরফ নলও এই প্রতিপ্রভা ক্রিয়ার একটি কারণ হতে পারে।
১৮৯৫ সালের ৮ই নভেম্বরের শেষ বিকেলে নিজস্ব ধারণা পরীক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রন্টগেন যত্ন সহকারে একটি কালো কার্ডবোর্ডের আবরণ তৈরি করেন, যেমনটা তিনি লেনার্ড নলে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ক্রুকস-হিটরফ টিউবটিকে কার্ডবোর্ড দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন এবং স্থিরতড়িৎ আধান তৈরির জন্য একটি রুম্কর্ফ কুণ্ডলীর সাথে তড়িৎদ্বার সংযুক্ত করেন। তিনি বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড পর্দা স্থাপন করার পূর্বে কার্ডবোর্ডের আবরণের স্বচ্ছতা পরীক্ষা করার জন্য ঘরটিকে অন্ধকার করে নিয়েছিলেন। নলের মাধ্যমে রুম্কর্ফ কুণ্ডলী বৈদ্যুতিক আধান প্রেরণ করার সময় তিনি নিশ্চিত করেন যে আবরণীটি হালকাভাবে আঁটা ছিল এবং পরীক্ষার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত হন। এই মুহূর্তে রন্টগেন নল থেকে কয়েক ফুট দূরে একটি বেঞ্চ থেকে একটি অস্পষ্ট ঝিলমিলে আলো লক্ষ করেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি আরও বেশ কয়েক বার আধান ক্ষরণ করেন এবং প্রতিবার একই ঝিলমিলে আলো দেখেন। একটি দেশলাই ঠোকার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন যে বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড পর্দার অবস্থান থেকে ঐ ঝিলমিলে আলোটি এসেছে, যা তিনি পরবর্তীতে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
নিয়মিত ছায়ার গঠনের উপর ভিত্তি করে রন্টগেন একে "রশ্মি" বলে অভিহিত করেন।[১১] যেহেতু ৮ই নভেম্বর শুক্রবার ছিল, তাই তিনি তার পরীক্ষাসমূহ পুনরাবৃত্তি করার জন্য সপ্তাহান্তিক অবকাশের সুযোগ নিয়েছিলেন এবং তার প্রথম টীকাটি তৈরি করেন। পরের সপ্তাহগুলিতে তিনি অজানা রাশির জন্য ব্যবহৃত গাণিতিক প্রতীক ("X") ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে "এক্স-রশ্মি" নামে অভিহিত নতুন রশ্মির বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুসন্ধান করা শুরু করেন। এ সময় এ নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিদ তাঁর আহার-নিদ্রা পরীক্ষাগারেই সম্পন্ন করতেন। নতুন রশ্মিগুলি অনেক ভাষায় তার নামে "রন্টগেন রশ্মি" নামকরণ করা হয়। বাংলা ভাষায় একে "এক্স-রশ্মি" বা "রঞ্জন রশ্মি" হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ রশ্মি সংশ্লিষ্ট চিত্রকে "রঞ্জনচিত্র" (ইংরেজিতে রন্টজেনোগ্রাম) হিসেবে নামকরণ করা হয়।
এক পর্যায়ে যখন তিনি বিভিন্ন পদার্থের এই রশ্মি থামাবার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছিলেন, তখন ক্ষরণ ঘটানোর সময় রন্টগেন সীসার একটি ছোট অংশ রেখেছিলেন। রন্টগেন এইভাবে প্রথম রঞ্জনচিত্রটি দেখেছিলেন: বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড পর্দায় তার নিজের চকচকে কঙ্কাল।
তাঁর এই আবিষ্কারের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর, তিনি তার স্ত্রী আনা বার্থার হাতের উপর রঞ্জনরশ্মি ব্যবহার করে একটি চিত্র তুলেছিলেন—একটি রঞ্জনচিত্র।[২] যখন তার স্ত্রী সে ছবি প্রত্যক্ষ করেন, তিনি উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠেন যে "আমি আমার মৃত্যু দেখেছি!"[১২] তিনি পরবর্তীতে একটি অভিভাষণে তার বন্ধু শারীরতত্ত্ববিদ আলবার্ট ভন কলিকারের হাতের আরও ভালো রঞ্জনচিত্র তুলেছিলেন।
১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে ডিসেম্বর রন্টগেনের মূল গবেষণাপত্র উ্যবার আইনে নয়ে আর্ট ফন ষ্ট্রালেন (Ueber eine neue Art von Strahlen, "এক নতুন ধরনের রশ্মি") প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ই জানুয়ারি একটি অস্ট্রীয় পত্রিকা রন্টগেনের এক নতুন ধরণের বিকিরণ আবিষ্কারের সংবাদ প্রতিবেদন তুলে ধরে। রন্টগেন তার আবিষ্কারের পর ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অভ মেডিসিন উপাধি লাভ করেন। তিনি ১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ রয়েল সোসাইটি থেকে ফিলিপ লেনার্ডের সাথে যৌথভাবে রামফোর্ড পদক অর্জন করেন। রামফোর্ড ইতিমধ্যেই দেখিয়েছিলেন যে ক্যাথোড রশ্মির একাংশ ধাতুর (উদাহরণস্বরূপ অ্যালুমিনিয়াম) পাতলা ঝিল্লির মধ্য দিয়েও চলাচল করতে পারে।[৯] ১৮৯৫ হতে ১৮৯৭ সালের মধ্যে রন্টগেন রঞ্জনরশ্মি সংক্রান্ট মোট তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।[১৩] বর্তমানে রন্টগেনকে রোগনির্ণায়ক রঞ্জনবিদ্যার (চিকিৎসা বিষয়ক ক্ষেত্র যাতে রোগ নির্ণয়ের জন্য রঞ্জনচিত্রণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়) জনক হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
পুরস্কার এবং সম্মান
[সম্পাদনা]- ১৮৯৬: যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটির রামফোর্ড পদক
- ১৮৯৬: আকাদেমিয়া নাৎসিওনালে দেল্লে সিয়েনৎসের মাতেউচি পদক
- ১৮৯৭: ফ্রাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের ইলিয়ট ক্রেসন পদক
- ১৯০০: কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানে অনবদ্য অবদানের জন্য বার্নার্ড পদক
- ১৯০১: রঞ্জন রশ্মি আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার
১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে রন্টগেন প্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে "অসাধারণ রশ্মি, যা পরবর্তীকালে তার নামকরণ করা হয়, আবিষ্কারের মাধ্যমে তিনি যে অসাধারণ সেবা প্রদান করেছেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ" প্রদান করা হয়।[১৪] অভিভাষণে লাজুক রন্টগেন নোবেল বক্তৃতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।[১১]:৩৯ নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৫০,০০০ সুইডিশ ক্রোনা তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়, ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য দান করে দেন। মারি এবং পিয়ের ক্যুরির মতো রন্টগেনও তাঁর রঞ্জনরশ্মি আবিষ্কারের সাথে সম্পর্কিত কৃতিস্বত্বটি নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন যে সমগ্র মানবসমাজ এই ঘটনার ব্যবহারিক প্রয়োগ থেকে উপকৃত হোক। এছাড়াও রন্টগেন ১৯০০ সালে বিজ্ঞানে মেধাবী সেবার জন্য বার্নার্ড পদকে ভূষিত হন।[১৫]
১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির একজন আন্তর্জাতিক সদস্য নির্বাচিত হন।[১৬] তিনি ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে রয়েল নেদারল্যান্ডস একাডেমি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের একজন বিদেশী সদস্য নির্বাচিত হন।[১৭]
২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বিশুদ্ধ ও ফলিত রসায়ন সংস্থা রন্টগেনের সম্মানে ১১১ পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলিক পদার্থের রন্টজেনিয়াম (Rg) নামকরণ করেন। আন্তর্জাতিক বিশুদ্ধ ও ফলিত পদার্থ সংস্থা (IUPAP) ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে নামটি গ্রহণ করে।
উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]মেরিল্যান্ডে অবস্থিত বেথেসডার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে তার গবেষণাপত্রের একটি সংগ্রহ রাখা হয়েছে।[১৮]
রন্টগেনের জন্মস্থান জার্মানির ডুসেলডর্ফ হতে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে রেমশাইড-লেনেপ শহরে ডয়চে রন্টগেন জাদুঘরটি অবস্থিত।[১৯]
ভুরৎসবুর্গ (যেখানে তিনি রঞ্জনরশ্মি আবিষ্কার করেছিলেন) শহরে একটি অলাভজনক সংস্থা তাঁর পরীক্ষাগার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত আছে। সেখানে রন্টগেন স্মারকস্থলে নির্দেশনাসমৃদ্ধ পর্যটনের সুযোগ আছে।[২০]
বিশ্ব রঞ্জনবিদ্যা দিবস
[সম্পাদনা]বিশ্ব রঞ্জনবিদ্যা দিবস একটি বার্ষিক দিবস, যে দিন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক চিত্রণের ভূমিকার প্রচার-প্রচারণা করা হয়ে থাকে। এটি প্রতি বছর ৮ নভেম্বর পালিত হয়। দিবসটি প্রথম ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় রঞ্জনবিদ্যা সমাজ, উত্তর আমেরিকা রঞ্জনবিদ্যা সমাজ এবং মার্কিন রঞ্জনবিদ্যা মহাবিদ্যালয়ের একটি যৌথ উদ্যোগ হিসাবে শুরু হয়।
স্মারক ডাকটিকিট
[সম্পাদনা]রন্টগেনকে রঞ্জন রশ্মির আবিষ্কারক হিসাবে স্মরণ করে ৪০টি দেশ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৫৫টি ডাকটিকিট জারি করা হয়েছে।[২১][২২]
ভৌগোলিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুর নামকরণ
[সম্পাদনা]অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের রন্টজেন শিখরটিকে ভিলহেল্ম রন্টগেনের নামে নামকরণ করা হয়েছে।[২৩]
গৌণ গ্রহরাশি ৬৪০১ রন্টজেন তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।[২৪]
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Novelize, Robert. Squire's Fundamentals of Radiology. Harvard University Press. 5th ed. 1997. আইএসবিএন ০-৬৭৪-৮৩৩৩৯-২ p. 1.
- 1 2 Stoddart, Charlotte (১ মার্চ ২০২২)। "Structural biology: How proteins got their close-up"। Knowable Magazine। ডিওআই:10.1146/knowable-022822-1। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২২।
- ↑ "Wilhelm Röntgen (1845–1923) – Ontdekker röntgenstraling"। historiek.net। ৩১ অক্টোবর ২০১০।
- ↑ Kevles, Bettyann Holtzmann (১৯৯৬)। Naked to the Bone Medical Imaging in the Twentieth Century। Camden, NJ: Rutgers University Press। পৃ. ১৯–২২। আইএসবিএন ০৮১৩৫২৩৫৮৩।
- ↑ Sample, Sharron (2007-03-27)। %5b%5bওয়েব্যাক মেশিন|ওয়েব্যাক মেশিনে%5d%5d %5bhttps://web.archive.org/web/20181225030005/https://science.hq.nasa.gov/kids/imagers/ems/xrays.html%20 আর্কাইভকৃত%5d ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে%5b%5bবিষয়শ্রেণী:ওয়েব আর্কাইভ টেমপ্লেটে ওয়েব্যাক সংযোগ%5d%5d "X-rays"। The electromagnetic spectrum। NASA। সংগ্রহের তারিখ 2007-12-03।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য);|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য) - 1 2 3 4 "Wilhelm Röntgen"। University of Washington: Department of Radiology। ৭ জানুয়ারি ২০১৫। ৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Rosenbusch, Gerd। Wilhelm Conrad Röntgen: The Birth of Radiology। পৃ. ১০।
- ↑ Trevert, Edward (১৯৮৮)। Something About X-Rays for Everybody। Madison, Wisconsin: Medical Physics Publishing Corporation। পৃ. ৪। আইএসবিএন ০-৯৪৪৮৩৮-০৫-৭।
- 1 2 3 চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। । ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ২৩ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৬৯৪।
- ↑ Agar, Jon (২০১২)। Science in the Twentieth Century and Beyond। Cambridge: Polity Press। পৃ. ১৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৪৫৬-৩৪৬৯-২।
- 1 2 Pais, Abraham (২০০২)। Inward bound: of matter and forces in the physical world (Reprint সংস্করণ)। Oxford: Clarendon Press [u.a.]। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮৫১৯৯৭-৩।
- ↑ Landwehr, Gottfried (১৯৯৭)। Hasse, A (সম্পাদক)। Röntgen centennial: X-rays in Natural and Life Sciences। Singapore: World Scientific। পৃ. ৭–৮। আইএসবিএন ৯৮১-০২-৩০৮৫-০।
- ↑ Wilhelm Röntgen, "Ueber eine neue Art von Strahlen. Vorläufige Mitteilung", in: Aus den Sitzungsberichten der Würzburger Physik.-medic. Gesellschaft Würzburg, pp. 137–147, 1895; Wilhelm Röntgen, "Eine neue Art von Strahlen. 2. Mitteilung", in: Aus den Sitzungsberichten der Würzburger Physik.-medic. Gesellschaft Würzburg, pp. 11–17, 1896; Wilhelm Röntgen, "Weitere Beobachtungen über die Eigenschaften der X-Strahlen", in: Mathematische und Naturwissenschaftliche Mitteilungen aus den Sitzungsberichten der Königlich Preußischen Akademie der Wissenschaften zu Berlin, pp. 392–406, 1897.
- ↑ See https://www.nobelprize.org/prizes/physics/1901/rontgen/facts/ and Jost Lemmerich: Röntgen Rays Centennial 1895–1995, Würzburg 1995, আইএসবিএন ৩-৯২৩৯৫৯-২৮-১.
- ↑ "Award of Bernard Medal"। Columbia Daily Spectator। খণ্ড XLIII নং 57। New York City। ২৩ মে ১৯০০। ২১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৮।
- ↑ "APS Member History"। search.amphilsoc.org। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "W.C. Röntgen (1845–1923)"। Royal Netherlands Academy of Arts and Sciences। ২১ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৫।
- ↑ "Fundamental contributions to the X-ray: the three original communications on a new kind of ray / Wilhelm Conrad Röentgen, 1972"। National Library of Medicine।
- ↑ Deutsches Röntgen-Museum at roentgen-museum.de
- ↑ Röntgen Memorial Site at wilhelmconradroentgen.de
- ↑ Guzei, Ilia (২০২৩)। "Wilhelm Conrad Röntgen - on international postage stamps"। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ Munk, Peter L.; Peh, Wilfred C.G. (২০২৩)। "Rontgen and the Discovery of X rays on stamps"। The Canadian Philatelist। ৭৪ (1): ১৪–১৯।
- ↑ Röntgen Peak. SCAR Composite Antarctic Gazetteer
- ↑ "(6401) Roentgen"। (6401) Roentgen In: Dictionary of Minor Planet Names। Springer। ২০০৩। পৃ. ৫৩০। ডিওআই:10.1007/978-3-540-29925-7_5844। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫৪০-২৯৯২৫-৭।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Nobelprize.org-এ ভিলহেল্ম রন্টজেন
- Annotated bibliography for Wilhelm Röntgen from the Alsos Digital Library ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে
- Wilhelm Conrad Röntgen Biography
- The Cathode Ray Tube site
- First X-ray Photogram
- The American Roentgen Ray Society
- Deutsches Röntgen-Museum (German Röntgen Museum, Remscheid-Lennep)
- কর্তৃক কাজ বা সম্পর্কে তথ্য ভিলহেল্ম রন্টজেন ইন্টারনেট আর্কাইভে
- লিব্রিভক্সের পাবলিক ডোমেইন অডিওবুকসে
Wilhelm Conrad Röntgen - Röntgen Rays: Memoirs by Röntgen, Stokes, and J.J. Thomson (circa 1899)
- The New Marvel in Photography, an article on and interview with Röntgen, in McClure's magazine, Vol. 6, No. 5, April 1896, from Project Gutenberg
- Röntgen's 1895 article, on line and analyzed on BibNum ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ মে ২০১৬ তারিখে [click 'à télécharger' for English analysis]
- ১৮৪৫-এ জন্ম
- ১৯২৩-এ মৃত্যু
- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী
- নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী
- এলিয়ট ক্রেসন পদক বিজয়ী
- জার্মান নোবেল বিজয়ী
- রয়্যাল নেদারল্যান্ডস কলা ও বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য
- স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ
- পরীক্ষণমূলক পদার্থবিজ্ঞানী
- কণা পদার্থবিজ্ঞানী
- ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত জার্মান ব্যক্তি
- মাতেউচি পদক বিজয়ী
- জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মার্কিন ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির আন্তর্জাতিক সদস্য