অঁরি মোয়াসঁ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অঁরি মোয়াসঁ
Henri Moissan HiRes.jpg
জন্মফের্দিনঁ-ফ্রেদেরিক-অঁরি মোয়াসঁ
(১৮৫২-০৯-২৮)২৮ সেপ্টেম্বর ১৮৫২
প্যারিস, ফ্রান্স
মৃত্যু২০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৭(1907-02-20) (বয়স ৫৪)
প্যারিস, ফ্রান্স
জাতীয়তাফরাসি
কর্মক্ষেত্ররসায়ন
প্রতিষ্ঠানসরবন
প্রাক্তন ছাত্রকোলেজ দ্য মো
একল প্রাতিক দে ওত এতুদ
পিএইচডি উপদেষ্টাপিয়ের পোল দ্যএরাঁ
পিএইচডি ছাত্ররাপোল ল্যবো
মোরিস মেলঁস
পরিচিতির কারণফ্লোরিন নামক মৌলিক পদার্থ পৃথক করার জন্য
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
ডেভি পদক (১৮৯৬)
এলিয়ত ক্রেসোঁ পদক (১৮৯৮)
রসায়নে নোবেল পুরস্কার (১৯০৬)
স্ত্রী/স্বামীমারি লেওনি লুগঁ মোয়াসঁ (বিবাহ. ১৮৮২; ১টি সন্তান)
স্বাক্ষর

ফের্দিনঁ-ফ্রেদেরিক-অঁরি মোয়াসঁ (ফরাসি: Ferdinan-Frédéric-Henri Moissan) (২৮শে সেপ্টেম্বর ১৮৫২, প্যারিস, ফ্রান্স - ২০শে ফেব্রুয়ারি, ১৯০৭, প্যারিস, ফ্রান্স) একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ। তিনি সর্বপ্রথম ফ্লোরিন নামক গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থটি গবেষণাগারে পৃথক করে এটির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। বর্তমান আধুনিক যুগে ফ্লোরিন গ্যাসটি বহু বিচিত্র ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া তিনি মোয়াসঁ বৈদ্যুতিক চুল্লী উদ্ভাবনের জন্যও পরিচিত। রসায়নে বিভিন্ন অবদানের জন্য তিনি ১৯০৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক ভর কমিটির একজন মূল সদস্য ছিলেন।[১]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মোয়াসঁ ১৮৭৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় (Université de Paris, ইউনিভের্সিতে দ্য পারি) থেকে স্নাতক হন। এরপর তিনি প্যারিসের একল সুপেরিয়র দ্য ফার্মাসি-তে (École Supérieure de Pharmacie, "উচ্চতর ঔষধবিদ্যা বিদ্যালয়") পড়াশোনা করে ১৮৭৯ সালে প্রথম শ্রেণীর ঔষধবিদ হিসেবে উত্তীর্ণ হন। ১৮৮০ সালে সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ডক্টরেট সনদ লাভ করেন। ১৮৮৬ সালে তিনি একল সুপেরিয়র দ্য ফার্মাসিতে বিষবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং ১৮৮৯ সালে একই প্রতিষ্ঠানে খনিজ রসায়নের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন ও এর এক বছর পরে সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভৌত রসায়ন বিভাগের সভাপতি নিযুক্ত হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

এর আগে ১৮৮৪ সাল থেকে তিনি ফ্লোরিনের যৌগগুলির ব্যাপারে গবেষণাকাজ শুরু করেন। এর দুই বছর পর ১৮৮৬ সালে তিনি হাইড্রোফ্লোরিক অ্যাসিডে পটাসিয়াম ফ্লোরাইডের একটি দ্রবণকে তড়িৎ-বিশ্লেষিত করে ফ্লোরিন গ্যাস প্রস্তুত করতে সমর্থ হন। এরপর তিনি মৌলটির বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য মৌলসমূহের সাথে এটির ক্রিয়া-বিক্রিয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাকাজ সম্পাদন করেন। মোয়াসঁ-র এই কাজ ও সাফল্য বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রথমত, অন্যান্য রসায়নবিদরা যেখানে বিষাক্ত ফ্লোরিন গ্যাসের উপর দুরূহ গবেষণাকাজে বারংবার ব্যর্থতার কারণে হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন, সেখানে তিনি অধ্যবসায় ও উদ্ভাবনকুশলতার পরিচয় দেন। মোয়াসঁ নিজেও ফ্লোরিন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলিতে ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্লাটিনামের তৈরি ইংরেজি ইউ-আকৃতির নল ব্যবহার করে দুইটি ফ্লোরাইড যৌগের মধ্যে শক্তিশালী বিক্রিয়া সংবরণ করতে সক্ষম হন। ফ্লোরাইড যৌগ দুইটি ছিল শুষ্ক পটাসিয়াম ফ্লোরাইড (KF) এবং শুষ্ক, পানিহীন হাইড্রোফ্লোরিক অ্যাসিড (HF)। এই সরঞ্জামটি ব্যবহার করেই তিনি ১৮৮৬ সালে ফ্লোরিন পৃথক করতে সক্ষম হন।[২][৩] দ্বিতীয়ত, মোয়াসঁ-র এই সাফল্য ভবিষ্যতের রসায়ন শিল্পে ফ্লোরিনের বহু ব্যবহারিক যৌগের দ্বার উন্মোচন করে। মোয়াসঁ তার এই কাজের জন্য ১৯০৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নোবেল পুরস্কার সমিতি লেখে যে "আপনি যে অসাধারণ পরীক্ষা চালানোর দক্ষতা দেখিয়ে এই বন্যজন্তুসম মৌলিক পদার্থটির উপরে গবেষণা চালিয়েছেন, তা সারা বিশ্ব প্রশংসার চোখে দেখে।"[টীকা ১] শেষজীবনের ফরাসি সরকার তাকে কোমঁদর দ্য লা লেজিওঁ দোনর (Commandeur de la Legion d'honneur) আখ্যায় ভূষিত করে।

বৈদ্যুতিক আর্ক চুল্লী ব্যবহার করে মোয়াসঁ কৃত্রিম হীরা প্রস্তুতির চেষ্টা করছেন

মোয়াসঁ কৃত্রিম উপায়ে হীরা তৈরির ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন।[৪] এর সূত্র ধরে তিনি ১৮৯২ সালে মোয়াসঁ বৈদ্যুতিক আর্ক চুল্লী নামের একটি সরল চুল্লী উদ্ভাবন করেন এবং এটি ব্যবহার করে বহুসংখ্যক নতুন রাসায়নিক যৌগ প্রস্তুত করেন। এছাড়া তিনি চুল্লীটির সাহায্যে এমন সমস্ত পদার্থ বাষ্পীভূত করতে সক্ষম হন যেগুলিকে অতীতে গলনের অযোগ্য বলে গণ্য করা হত। মোয়াসঁ তার চুল্লীতে লোহা ও অঙ্গারায়িত চিনিকে সংযুক্ত করেন, ফলে কার্বন গলন্ত লোহাতে দ্রবীভূত হয়। এই দ্রবণটিকে ঠান্ডা পানিতে দ্রুত শীতল করলে লোহাটি অত্যন্ত উচ্চচাপে কঠিন রূপ ধারণ করে এবং এর ভেতরে আণুবীক্ষণিক কার্বন কণাগুলি হীরার মত ধর্ম প্রদর্শন করে। ১৮০৩ সালে মোয়াসঁ তাই দাবী করেন যে তিনি তার চুল্লীতে কৃত্রিম হীরা সংশ্লেষণ করতে পেরেছেন, তবে বর্তমানে তার এই সাফল্যকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। তবে অনুরূপ কৌশল ব্যবহার করে তিনি ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন নামক যৌগটিকে লাভজনকভাবে বিপুল পরিমাণে শিল্পোৎপাদনের একটি পদ্ধতি বের করেন।

রচনাকর্ম[সম্পাদনা]

মোয়াসঁ-র বৈজ্ঞানিক রচনাবলির মধ্যে ল্য ফুর এলেক্‌ত্রিক্‌ (Le Four électrique, ১৮৯৭; “বৈদ্যুতিক চুল্লী”), ল্য ফ্লুয়র এ সে কোঁপোজে (Le Fluor et ses composés, ১৯০০; "ফ্লোরিন ও তার যৌগসমূহ") এবং ৫ খণ্ডের ত্রেতে দ্য শিমি মিনেরাল (Traité de chimie minérale, ১৯০৪-১৯০৬; " খনিজ রসায়ন আলোচনাগ্রন্থ") উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মোয়াসঁ ১৯০৭ সালে রসায়নবিদ্যায় তার নোবেল পুরস্কারটি গ্রহণ করে সুইডেন থেকে ফ্রান্সে ফেরত আসার ঠিক পরেই হঠাৎ তীব্র অ্যাপেন্ডিসাইটিসের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কেননা তখন রোগটির কোনও ভাল চিকিৎসা ছিল না।

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Richard Toon (০১ সেপ্টেম্বর ২০১১), The discovery of fluorine, The Royal Society of Chemistry  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) অনুযায়ী নোবেল সমিতি লেখে যে "...in recognition of the great services rendered by him in his investigation and isolation of the element fluorine. The whole world has admired the great experimental skill with which you have studied that savage beast among the elements."

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Fechete, Ioana (২০১৬)। "Ferdinand Frédéric Henri Moissan: The first French Nobel Prize winner in chemistry or nec pluribus impar"। Comptes Rendus Chimie19 (9): 1027–32। doi:10.1016/j.crci.2016.06.005 
  2. H. Moissan (১৮৮৬)। "Action d'un courant électrique sur l'acide fluorhydrique anhydre" [The action of an electric current on anhydrous hydrofluoric acid]। Comptes rendus hebdomadaires des séances de l'Académie des sciences (French ভাষায়)। 102: 1543–1544। 
  3. H. Moissan (১৮৮৬)। "Sur la décomposition de l'acide fluorhydrique par un courant électrique" [On the decomposition of hydrofluoric acid by an electric current]। Comptes rendus hebdomadaires des séances de l'Académie des sciences (French ভাষায়)। 103: 202। 
  4. Moissan, Henri (১৮৯৩)। "Le diamant : conférence faite à la Société des amis de la science le 17 mai 1893" [The diamond: lecture to the Society of Friends of Science May 17, 1893] (French ভাষায়)। Europeana। ২০১৩-০২-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-২৭ 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে: