পিরোজপুর সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২২°৩৪′৪০″ উত্তর ৮৯°৫৯′২৪″ পূর্ব / ২২.৫৭৭৮° উত্তর ৮৯.৯৯০০° পূর্ব / 22.5778; 89.9900

পিরোজপুর সদর উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
পিরোজপুর সদর
বিভাগ
 - জেলা
বরিশাল বিভাগ
 - পিরোজপুর জেলা
স্থানাঙ্ক ২২°৩৪′৪০″ উত্তর ৮৯°৫৯′২৪″ পূর্ব / ২২.৫৭৭৮° উত্তর ৮৯.৯৯০০° পূর্ব / 22.5778; 89.9900
আয়তন ২৭৮.৩৭ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (1991)
 - ঘনত্ব
225156
 - ৮০৯ বর্গকিমি
মানচিত্র সংযোগ: Official Map of the Pirojpur Sadar Upazila

পিরোজপুর সদর বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

পিরোজপুর সদর উপজেলা শিকদারমল্লিক, কদমতলা, কলাখালী, টোনা, দূর্গাপুর, শারিকতলা, শংকরপাশা ৭টি ইউনিয়ন সমন্বয়ে গঠিত। এছাড়া ১টি পৌরসভা আছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা চারিদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর, কাউখালী, জিয়ানগর, ভান্ডারিয়া উপজেলা এবং বাগেরহাট জেলার কচুয়া ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা দ্বারা পরিবেষ্টিত। এক নজরে পিরোজপুর↓ জেলা-পিরোজপুর

উপজেলা-পিরোজপুর সদর সীমানা-উত্তরে নাজিরপুর ও কচুয়া (বাগেরহাট) উপজেলা, দক্ষিণে মঠবাড়ীয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলা, পূর্বে নেছারাবাদ, কাউখালী ও ভন্ডিারিয়া উপজেলা, পশ্চিমে মোরেলগঞ্জ ও কচুয়া (বাগেরহাট) উপজেলা । জেলা সদর হতে দূরত্ব-০ কি:মি: আয়তন-১৮৫.৮২ বর্গ কিলোমিটার জনসংখ্যা-১,৬৩,৪৭০ জন (প্রায়) পুরুষ-৮০,৭০৪ জন (প্রায়) মহিলা-৮২,৭৬৬ জন (প্রায়) লোক সংখ্যার ঘনত্ব-৯৭৯ জন প্রায় (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে) মোট ভোটার সংখ্যা-৯৯৯৪৩ জন পুরুষভোটার সংখ্যা ৪৯৩৭৪ জন মহিলা ভোটার সংখ্যা ৫০,৫৬৯ জন বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার-১.৩০% মোট পরিবার(খানা)-৩৮,০১৭ টি নির্বাচনী এলাকা-১২৭ পিরোজপুর-১(পিরোজপুর সদর,নাজিরপুর,জিয়ানগর) গ্রাম-৫৫ টি মৌজা-৬৪ টি ইউনিয়ন-০৭ টি পৌরসভা-০১ টি এতিমখানা সরকারী-০১ টি এতিমখানা বে-সরকারী-০৬টি মসজিদ-৪৬০ টি মন্দির-২১০টি নদ-নদী-৩ টি (দামোদার, বলেশ্বর,কচাঁ) হাট-বাজার-১০ টি ব্যাংক শাখা-১৫ টি পোস্ট অফিস/সাব পোঃ অফিস-১২ টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ-০১ টি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প-৪ টি তাতঁ ও ১টি বিড়ি ফ্যাক্টরী, বরফ কল ৪টি বৃহৎ শিল্প-০ টি

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

পিরোজপুর উপজেলা বা থানা পিরোজপুর জেলার ২য় বৃহত্তম উপজেরা বা থানা। পিরোজপুর উপজেলা বা থানা পিরোজপুর জেলা সদর সংশ্লিষ্ট ভূ-ভাগ নিয়ে গঠিত। পিরোজপুর উপজেলার নামেই পরে জেলার নামকরণ হয়। ১৭৯০ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ ভারতে শাসন সংস্কারের মাধ্যমে প্রশাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটান। তারই প্রেক্ষাপটে বাকেরগঞ্জে ১০টি থানা স্থাপন করা হয়। তার মধ্যে ১৭৯০ সালে পিরোজপুরের অদূরে পাড়েরহাটের নিকটবর্তী টগরা গ্রাম সংশ্লিষ্ট টগরা থানা স্থাপিত হয়। একই সংগে পিরোজপুর থানার উত্তর পার্শ্বে কলাখালীর নিকট কেওয়ারী থানা এবং কাউখালীতে কাউখালী থানা স্থাপিত হয়। পরে ১৮৫৯ সালে পিরোজপুরে মহকুমা স্থাপিত হলে মহকুমা সদরে টগরা থেকে থানা স্থানান্তরিত হয় এবং পিরোজপুর থানা হিসাবে তা গণ্য হয়। থানাগৃহ বর্তমান ঈদগা মাঠের উত্তরে শামছুন্নেছা মুসলিম হলের অবস্থানে স্থাপিত হয়। থানা গৃহের উত্তর পার্শ্বে অস্থায়ীভাবে জেলখানা গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়। গত শতাব্দীর প্রথমদিকে থানা গৃহ পিরোজপুর সদর রাস্তর বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

♥‘‘ফিরোজ শাহের আমল থেকে ভাটির দেশের ফিরোজপুর, বেনিয়া চক্রের ছোঁয়াচ লেগে পাল্টে হলো পিরোজপুর।’’♥

সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কালীগঙ্গা, বলেশ্বর, দামোদর, সন্ধ্যা বিধৌত প্রাকৃতিক সবুজের লীলাভূমি পিরোজপুর জেলা। বৈচিত্র্যে ভরপুর পিরোজপুর জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ, উত্তর-পূর্বে বরিশাল ও ঝালকাঠী, দক্ষিণ-পশ্চিমে বাগেরহাট এবং দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনা জেলা অবস্থিত। জেলার একদিকে লবণপানি অন্য দিকে মিঠা পানির অবস্থান। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে বাকেরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদী গর্ভে, মোহনায় ছোট ছোট দ্বীপাঞ্চল সৃষ্টি এবং এর দ্রুত বৃদ্ধি হতে থাকে। দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবনের জঙ্গল কাটা হলে আবাদযোগ্য ভূমির আয়তনও ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহ, পিরোজপুরের কালীগঙ্গা, কচাঁ, বলেশ্বর প্রভৃতি নদীতে মগ জলদস্যুদের উপদ্রব, বিশেষত: ঐ সকল নদীতে চুরি, ডাকাতি, লুন্ঠনসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে সাধারণ প্রশাসন এবং ভূমি প্রশাসনের সুবিধাজনক অধ্যায় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের বিচারকার্য তড়িৎ সম্পাদনের লক্ষ্যে পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। বাকেরগঞ্জ তদানীন্তন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এ.আর. আলেকজান্ডার ১৮৫৬ সালের ২৪ এপ্রিল পিরোজপুরে মহকুমা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। ১৮৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহকুমা স্থাপিত হয়। ঐ সময় বর্তমান বাগেরহাট জেলা (মোড়লগঞ্জ, কচুয়া) পিরোজপুর মহকুমার অর্ন্তগত ছিল। ১৮৬৩ সালে বাগেরহাট একটি মহকুমা হিসেবে যশোর জেলার অর্ন্তগত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই জেলা থেকে কাঠালিয়া (ঝালকাঠী), বামনা (বরগুনা), পাথরঘাটা (বরগুনা), বানারীপাড়া (বরিশাল) উপজেলা এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের সংগে সংগে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পাড়েরহাট বন্দর সংশ্লিষ্ট টগড়া হতে থানা এবং কাউখালী হতে মুন্সেফি আদালত পিরোজপুর সদরে স্থানান্তরিত করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ১৭৯০ সালে গর্ভণর জেনারেল কর্ণওয়ালিশ ভারতে শাসন সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটান। তৎপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জে ১০টি থানা স্থাপন করা হয়। তন্মধ্যে পিরোজপুরের অদূরে পাড়েরহাটের নিকটবর্তী টগরা থানা, কেওয়ারি থানা (বর্তমান নেছারাবাদ বা স্বরূপকাঠী ও বানারীপাড়া) এবং কাউখালী থানা অন্যতম। পরবর্তীতে কাউখালীতে একটি আবগারি অফিস ও সাব-রেজিষ্টার অফিস স্থাপন করা হয়। মহকুমা প্রতিষ্ঠার পর একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি কালেক্টরের উপর প্রশাসন কার্য এবং মুন্সেফের উপর দেওয়ানি বিচারের কার্যভার অর্পণ করা হয়। পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের প্রায় ৪বছর পর ১৮৬৩ সালে বেঙ্গল রেভিনিউ এবং টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে সমাপ্ত হলে কচুয়া এবং মোড়েলগঞ্জকে পিরোজপুর মহকুমা থেকে কেটে নিয়ে বাগেরহাটকে মহকুমার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়। তখন পিরোজপুরের আয়তন সীমানা নির্ধারণ করা হয় ৭২৯ বর্গ মাইল। ১৮৬৫ সালের ১ এপ্রিল পিরোজপুর সাব-রেজিষ্টার অফিস, ১৮৬৫ সালে পিরোজপুর দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৮৬৫ সালে পিরোজপুর মিনিসিপ্যালিটি, ১৮৮৭ সালে লোকাল বোর্ড, ১৮৬৫ সালে স্থাপিত মাইনর স্কুল ১৮৮২ সালে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং ১৮৯৩ সালে নারী শিক্ষার জন্য আরবান ইংলিশ গালর্স হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহাকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। ১৮৮৫ সালে পিরোজপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠির জনৈক হেলালউদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেষ বংশধর হিসেবে দাবী করেছিলেন। তাঁর মতে বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসেছিলেন এবং আত্মগোপনের এক পর্যায় নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর পারে একটি কেল্লা তৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয় এবং শাহ্ সুজা তার দুই কন্যাসহ আরাকানে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী এক শিশু পুত্রসহ থেকে যায়। পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলে এসে বর্তমান পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন। এ শিশুর নাম ছিল ফিরোজ এবং তার নাম অনুসারে নাম হয় ফিরোজপুর। কালে ভাষার পরিবর্তনে নাম হয়েছে পিরোজপুর।

‘‘পলি মাটির ঊর্বরা ক্ষেত শ্যামল সবুজ শষ্য ভরা,

মৎস্য, কৃষি, ফল সম্পদে এ জেলা তাই সবার সেরা।’’

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা-১,৬৩,৪৭০ জন (প্রায়) পুরুষ-৮০,৭০৪ জন (প্রায়) মহিলা-৮২,৭৬৬ জন (প্রায়) লোক সংখ্যার ঘনত্ব-৯৭৯ জন প্রায় (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে) মোট ভোটার সংখ্যা-৯৯৯৪৩ জন পুরুষভোটার সংখ্যা ৪৯৩৭৪ জন মহিলা ভোটার সংখ্যা ৫০,৫৬৯ জন বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার-১.৩০% মোট পরিবার(খানা)-৩৮,০১৭ টি

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার♠হারঃ ৬4.31% মহাবিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ 2৬ টি (সরকারী ও বেসরকারী) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ 534টি (সরকারী ওবেসরকারী) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ 922টি সরকারী ওবেসরকারী) মাদ্রাসার সংখ্যাঃ 276 টি (এবতেদায়ী মাদ্রাসা সহ) পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটঃ নাই মেডিক্যাল এ্যাসিসট্যোন্ট টেনিং স্কুলঃ নাই বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজঃ নাই বেসরকারি ইউনিভার্সিটিঃ নাই টিচার্স ট্রেনিং কলেজ: ১

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

পিরোজপুর জেলা শিল্প কারখানায় সমৃদ্ধ নয়। বড় ধরনের কোন শিল্প কলকারখানা এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি। জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশই কৃষিকাজে নিয়োজিত। এই জেলার কাউখালী লবন উৎপাদনে মোঘল ও বৃটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জেলায় ৪টি লবন মিল ছিল। বর্তমানে মেসার্স পল্লী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, গণমান, নেছারাবাদ নামে মিলটি চালু আছে। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরে মোট ১৬৭ টি প্লট আছে, যার মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট সংখ্যা ১৪৪টি, বরাদ্দকৃত শিল্প ইউনিট ৯৯টি, উৎপাদনরত শিল্প ইউনিট ৫৯ টি এবং ২৬টি প্লট বরাদ্দের অপেক্ষায় আছে। ২০০২ সালের তথ্যমতে দেখা যায় পিরোজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পে বিতরণকৃত শিল্প ইউনিট ১১৪টি। আয়বর্ধক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প যা ভান্ডারিয়াতে গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে বিতরণকৃত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১৪৪টি।

অনেক পূর্বে পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি টেক্সাইল মিল নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। জেলার একমাত্র বিসিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নেছারাবাদ উপজেলার কৌড়িখাড়াতে। সেখানে নারিকেল ছোবড়া থেকে উৎপন্ন পাপোশ, দড়ি ও ছোবড়া এলাকার তথা দেশের বহুল চাহিদা মেটায়। অনেকের মতে এই ছোবড়া শিল্পটি ১০০ বছরেরও পুরনো। ১৯৬৬ সলে নেছারাবাদ উপজেলায় পাকিস্তান সরকার ‘কয়ার ইন্ডাষ্ট্রি’ নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। বর্তমানে ‘রানা-রাববী ইন্ডাস্ট্রি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চলছে। এ শিল্প এলাকায় আরও পাঁচটি ছোবড়া শিল্পের আধুনিক কারখানা গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ছোবড়ার জায়গা ক্রমশ: দখল করে নিচ্ছে প্লাষ্টিক ও ফোম। ভান্ডারিয়া উপজেলায় ছোবড়া, হোগলা, চাচবুনন আর জালবুননের ক্ষুদ্র শিল্পও গড়ে উঠেছে। নেছারাবাদে ছোট ও মাঝারী মানের নৌযান তৈরির তিন চারটি ডক-ইয়ার্ড আছে। ডক ইয়ার্ডগুলোর একটি সরকারী পর্যায়ে ও বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য নৌযান এখান থেকে তৈরি হয়।

কাউখালীতে সমবায়ভিত্তিক একটি শীতল পাটি তৈরির প্রকল্প আছে। শীতল পাটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়। নেছারাবাদে স্থানীয় কামারদের দ্বারা তৈরি লোহার পেরেক এবং হস্তচালিত তাঁত কারাখানা প্রসিদ্বি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

মঠবাড়ীয়াতে বাঁশ বেতের হস্তশিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া জেলার বহুস্থানে চালের কল, আটার কল, করাত কল, বরফ কলের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে।

নবগঠিত জিয়ানগর উপজেরার পাড়েরহাট একটি বর্ধিষ্ণু ও উল্লেযোগ্য স্থান। এখানে জেলার সর্ববৃহৎ মাছের হাট অবস্থিত।উল্লেখ্য পিরোজপুরে মোট মাছের উৎপাদন ২৯,৩০০ মেট্রি্ক টন।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • সৈয়দ হাবিবুর রহমান-দুর্গাপুর-(-১৯৬৬)-আইন বিষয়ে বিখ্যাত,
  • খান বাহাদুর হাশেম আলী খান-নেছারাবাদ-(১৮৮৮-১৯৬২)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-পৌরসভা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন-বাংলার নির্যাতিত কৃষক সমাজের জনদরদী ও সংগ্রামী নেতা,
  • তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া-ভান্ডারিয়া-(১৯১১-১৯৬৯)-সাংবাদিকতা ও রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-পিটি আই-এর পরিচালক-ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা,
  • মাওলানা নেছার উদ্দীন-নেছারাবাদ-(১৮৭২-১৯৫২)-ইসলাম ধর্ম বিষয়ে বিখ্যাত-বহু ইসলামী গ্রন্থ প্রণেতা ও শর্ষিণা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা,
  • কবি আহসান হাবীব-শংকরপাশা-(১৯১৭-১৯৮৫)-সাহিত্য বিষয়ে বিখ্যাত-স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পদক-রাত্রিশেষে, ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলেছে চৈত্রে যাবো, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ প্রভৃতি কাব্য গ্রন্থ রচয়িতা,
  • মহিউদ্দিন আহমেদ-মঠবাড়িয়া-(১৯২৫-১৯৯৭)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠাতা,
  • বেগম মতিয়া চৌধুরী-নাজিরপুর-(১৯৪২-)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-বর্তমান কৃষি মন্ত্রী-‘দেয়াল দিয়ে ঘেরা’ বই রচনা করেন। আপোষহীন,দৃঢ় চেতনাদীপ্ত নিরহংকার নেত্রী হিসাবে সাধারণ জনগনের নেত্রী হিসেবে পরিচিত।
  • নিরোদ বিহারী নাগ-নাজিরপুর-(১৯৩২-১৯৯১)-রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে বিখ্যাত-পুষ্প নিরোধ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা,
  • খান সাহেব হাতেম আলী জমাদার-মঠবাড়িয়া-(১৮৭২-১৯৮২)-বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য-মঠবাড়িয়া কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা,
  • এনায়েত হোসেন খান-স্বরূপকাঠী-(১৯৩৩-১৯৭৯)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-সাবেক এম পি-ইউনিয়ন অফ ক্লারিক্যাল এ্যাসিট্যান্স অফ সেক্রেটারিয়েট ইন ইস্ট পাকিস্তান নামক এক শক্তিশালী সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন।
  • মোয়াজ্জেম হোসেন-ডুমুরিতলা-(১৯৩২-১৯৭১)-লেঃ কমান্ডার-স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা দেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে তিনি একটি গুপ্ত বিপ্লবী সেল গঠন করেন।
  • মেজর জিয়াউদ্দিন আহমদ-পিরোজপুর-(১৯৫০-)-নবম সেক্টরের সাব- সেক্টর কমান্ডার-সাবেক পৌর চেয়ারম্যান, আফতাব উদ্দিন কলেজ প্রতিষ্ঠাতা,
  • আনোয়ার হোসেন মঞ্জু-ভান্ডারিয়া-(১৯৪৪-)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী-জাতীয় পার্টি (জেপি) এর সভাপতি,
  • মইনুল হোসেন-ভান্ডারিয়া-(১৯৪০-)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-সাবেক উপদেষ্টা-সাবেক সংসদ সদস্য,
  • আফতাবউদ্দিন আহমেদ-ভান্ডারিয়া-(১৮৯৬-১৯৭৬)-আইনজীবী-সাবেক পৌর চেয়ারম্যান-গণ শিক্ষা নামক পুস্তক প্রকাশ, সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল হল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,
  • ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডল-নাজিরপুর-(১৯৩৯-)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-সাবেক এমপি-সাবেক কৃষি ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
  • মোঃ জয়নুল আবেদীন-স্বরূপকাঠী-(১৯০৬-১৯৯০)-আইনজীবী-রাজনীতি-মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
  • মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহীম-কাউখালী-(১৯১৮-১৯৮৭)-ইসলামী চিন্তাবিদ-বাংলা ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে ৬০ খানা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে,
  • নূর হোসেন-মঠবাড়িয়া-যুবক খালি গায়ে ও পিঠে স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।
  • শহীদুল আলম নিরু-পিরোজপুর-(১৯৪৬-২০০৫)-রাজনীতি ও আইনজীবী-ভাসানী ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক,
  • খান মোহাম্মাদ মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ-মঠবাড়িয়া-(১৩২০ বাংলা -)-কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক-প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টি,
  • আলী হায়দার খান-পিরোজপুর-(১৯৪০-)-রাজনীতি ও আইনজীবী-ন্যাপ (মো) কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা,
  • মেজর (অবঃ) মেহেদী আলী ইমাম বীরবিক্রম-মঠবাড়িয়া-(-১৯৯৬)-সাহেব সাব-সেক্টর কমান্ডার-স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করে।
  • মোস্তফা জামাল হায়দার-নাজিরপুর-(১৯৪২-)-রাজনীতি বিষয়ে বিখ্যাত-সাবেক মন্ত্রী-জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য,
  • মোঃ রুস্ত্তম আলী ফরাজী-মঠবাড়িয়া-রাজনীতি ও চিকিৎসক-সাবেক এমপি-দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
  • জুয়েল আইচ-পিরোজপুর-যাদু শিল্পী-অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার-আন্তর্জাতিক যাদুশিল্পী,
  • খালিদ হাসান মিলু-পিরোজপর-কণ্ঠশিল্পী-জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত-রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র কণ্ঠশিল্পী,
  • দিলীপ বিশ্বাস-পিরোজপুর-বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক-জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত-বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পিরোজপুর জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ : কাউখালী | নাজিরপুর | নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) | পিরোজপুর সদর | ভাণ্ডারিয়া | মঠবাড়িয়া