কবীর চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অধ্যাপক কবীর চৌধুরী
জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩
ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলা
মৃত্যু ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১
নয়াপল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পেশা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
যে জন্য পরিচিত জাতীয় অধ্যাপক, লেখক,
পুরস্কার বাংলা একাডেমী পুরস্কার
একুশে পদক
স্বাধীনতা দিবস পদক

কবীর চৌধুরী বাংলাদেশের প্রকজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। তিনি সরকার কর্তৃক দেশের জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছেন।[১] ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামের মুন্সী বাড়ি। পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী এবং মা আফিয়া বেগম। তার পুরো নাম আবুল কালাম মোহাম্মদ কবীর। তবে তিনি অধ্যাপক কবীর চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত; তার ডাকনাম মাণিক। কবীর চৌধুরীর ছোট ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী[২] জীবন, শিল্প, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি নানা বিষয় নিয়ে ভাবেন ও লিখে থাকেন। কবীর চৌধুরী ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ নয়াপল্টন ঢাকায় নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন ।[৩]

শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কবীর চৌধুরীর পড়াশোনায় হাতেখড়ি হয় নিজ গৃহেই। পরিবারের সাহচর্যে তিনি প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকে সপ্তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৪০ সালে ঢাকা ইন্টামিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্সে ১৯৪৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ শ্রেণীতে ১৯৪৪ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পরে ১৯৫৭-৫৮ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তিধারী হিসেবে আমেরিকার মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন সাহিত্য সম্পর্কে এবং ১৯৬৩-৬৫ সালে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন সম্পর্কে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন এবং দীর্ঘ জীবন বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন। স্বেচ্ছায় সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজীর অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন৷ ১৯৯৮ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক পদ লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে "কালচার স্টাডিজ" কোর্সে গ্রাজ্যুয়েট স্তরে শিক্ষা দান করেছেন তিনি৷[৪]

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

কবীর চৌধুরী ১৯৪৫ সালের জুন মাসে মেহের কবিরকে বিয়ে করেন। মেহের কবীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

প্রকাশিত বই[সম্পাদনা]

  • রূপকথার কাহিনী (১৯৫৯)
  • ব্ল্যাক টিউলিপ (১৯৮৯)
  • কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো (১৯৮৯)
  • গবেষণা-প্রবন্ধ : ইউরোপের দশ নাট্যকার (১৯৮৫)
  • শেক্সপীয়র ও তাঁর মানুষেরা (১৯৮৫)
  • শেক্সপীয়র ও গ্লোব থিয়েটার (১৯৮৭)
  • অভিব্যক্তিবাদী নাটক (১৯৮৭)
  • এ্যাবসার্ড নাটক ( ১৯৮৫)
  • ফরাসী নাটকের কথা (১৯৯০)
  • ছয় সঙ্গী (১৯৬৪)
  • আধুনিক মার্কিন সাহিত্য (১৯৮০)
  • প্রাচীন ইংরেজী কাব্য সাহিত্য (১৯৮০)
  • শেক্সপীয়র থেকে ডিলান টমাস (১৯৮১)
  • আমেরিকার সমাজ ও সাহিত্য (১৯৬৮)
  • সপ্তরথী (১৯৭০)
  • মার্কিন উপন্যাস ও তার এতিহ্য (১৯৭০)
  • অবিস্মরণীয় বই (১৯৬০)
  • মানুষের শিল্পকর্ম (২০০৬)।

বাংলা অনুবাদ[সম্পাদনা]

  • শেখভের গল্প (১৯৬৯)
  • সমুদ্রের স্বাদ (১৯৭০)
  • গ্রেট গ্যাটসবি (১৯৭১),
  • দি গ্রেপস অব র‌্যথ (১৯৮৯)
  • রূপান্তর (১৯৯০)
  • বেউলফ (১৯৮৫)
  • অল দি কিংস মেন (১৯৯২)
  • দি গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়ার রিং (২০০৭)
  • গল্প উপন্যাসে প্রতিকৃতি চিত্র (২০০৭)

নাটকের অনুবাদ ও রূপান্তর[সম্পাদনা]

  • আহবান (১৯৫৬)
  • শত্রু (১৯৬২)
  • পাঁচটি একাঙ্কিকা (১৯৬৩)
  • অচেনা (১৯৬৯)
  • শহীদের প্রতীক্ষায় (১৯৫৯)
  • হেক্টর (১৯৬৯)
  • ছায়া বাসনা (১৯৬৬)
  • সেই নিরালা প্রান্তর (১৯৬৬)
  • সম্রাট জোনস (১৯৬৪)
  • অমা রজনীর পথে (১৯৬৬)
  • প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৭০)
  • লিসিসস্ট্রাটা (১৯৮৪)

কাব্যনুবাদ[সম্পাদনা]

  • ভাৎসারোভের কবিতা (১৯৮০)
  • আধুনিক বুলগেরীয়া কবিতা (১৯৮০)
  • রিস্তো বোতেভর কবিতা (১৯৮৮)
  • রিস্তো স্নির্নেনস্কির কবিতা (১৯৮৯)
  • কাহলিল জিবরানের কবিতা (১৯৯২)
  • সচিত্র প্রেমের কবিতা (২০০০)

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান গর্ভনর স্বর্ণপদক,
  • হাবিব ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার
  • ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ পুরস্কার,
  • ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান সাহিত্য পুরস্কার,
  • ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সম্মাননা পদক,
  • ১৯৮২ সালে কাজী মাহবুবউল্লাহ ও বেগম জেবুন্নেসা স্বর্ণপদক,
  • ১৯৮৫ সালে অলক্ত স্বর্ণপদক ও সাহিত্য পুরস্কার,
  • ১৯৮৬ সালে নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক,
  • ১৯৮৯ সালে শেরে বাংলা পুরস্কার,
  • ১৯৯০ সালে আমরা সূর্যমুখী পুরস্কার,
  • ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার,
  • ১৯৯১ সালে একুশে পদক [৫],
  • ১৯৯৩ সালে লোকনাট্যদল স্বর্ণপদক,
  • ১৯৯৪ সালে উইলিয়াম কেরী স্বর্ণপদক, ভারত,
  • ১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার,
  • ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার[৬],
  • ১৯৯৭ সালে খালেদ দাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার,
  • ১৯৯৮ সালে সুফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার,
  • ১৯৯৯ সালে শামসুল হক মালিহা খাতুন পুরস্কার,
  • ১৯৯৯ সালে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী জাতীয় পুরস্কার,
  • ১৯৯৯ সালে কবি জসীমউদ্দীন পুরস্কার,
  • ২০০০ সালে রবীন্দ্র শিল্পী সংস্থার সম্মাননা,
  • ২০০১ সালে থিয়েটার এর সম্মাননা পদক,
  • ২০০১ সালে বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন পুরস্কার,
  • ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদের সম্মাননা,
  • ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক,
  • ২০০৩ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার,
  • ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড,
  • ২০০৫ সালে নাগরিক নাট্যাঙ্গন সম্মাননা,
  • ২০০৬ সালে বিশ্ব নাটক দিবস সম্মাননা,
  • বৈশাখী নাট্য গোষ্ঠীর গুনীজন সম্মাননা,
  • ভারতের ট্যাগোর পীস অ্যাওয়ার্ড,
  • ২০১০ সালে গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক লাভ করেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বইওয়ালা
  2. নোয়াখালী ওয়েব
  3. Death of Kabir Chowdhury
  4. গুণিজন
  5. বিডিনিউজ ২৪ ডট কম
  6. মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ
  7. দৈনিক সমকাল

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]